এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘গড়াই নদীর তীরে’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল ___ রয়েছে ঘিরে। (পাতায় / মায়ায় / শাখায়)
উত্তর – মায়ায়।
মাচানের পরে ___ আর লাউ-কুমড়ার ঝাড়। (সিম-লতা / ঝাউ-লতা / বুনো-লতা)
উত্তর – সিম-লতা।
___ নটে শাক মেলিছে রঙের ঢেউ। (বড়ো / কচি / লাল)
উত্তর – লাল।
মটরের ডাল, ___ ডাল, কালিজিরা আর ধনে। (মুগের / মসুরের / ছোলার)
উত্তর – মসুরের।
___ সকালের রঙিন মেঘেরা এখানে বেড়াতে এসে। (সাঁঝ / রোজ / আজ)
উত্তর – সাঁঝ।
শূন্যস্থান পূরণ করো
উঠানের কোণে বুনো ___ হেসে হয় কুটি কুটি।
উত্তর – উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।
___ মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে।
উত্তর – ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে।
গাছের শাখায় বনের পাখিরা ___ গান ধরে।
উত্তর – গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে।
জিরা ও ধনের রঙের পাশেতে ___ আঁকা যার।
উত্তর – জিরা ও ধনের রঙের পাশেতে আলপনা আঁকা যার।
___ যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।
উত্তর – কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
কবি জসীমউদ্দীন কী অভিধায় অভিহিত?
কবি জসীমউদ্দীন ‘পল্লিকবি’ অভিধায় অভিহিত।
কবি জসীমউদ্দীনের লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
কবি জসীমউদ্দীন রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হলো – ‘নকশীকাঁথার মাঠ’ ও ‘রাখালী’।
কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম কী?
কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম হলো গড়াই নদী।
মাচানের পরে কী আছে?
মাচানের উপর আছে সিমলতা আর লাউ-কুমড়োর ঝাড়।
মানুষের বসত করার কথা এখানে কারা বোঝেনি?
মানুষের বসত করার কথা এখানে গাছের শাখায় গানে মত্ত থাকা বনের পাখিরা বোঝেনি।
উঠানেতে কী কী শুকোচ্ছে?
উঠোনে মটর ডাল, মসুর ডাল, কালোজিরা, ধনে, লঙ্কা ও মরিচ রোদে শুকোচ্ছে।
বাড়িটিকে ভালোবেসে কারা বেড়াতে এলে কিছুক্ষণ থেমে রয়?
বাড়িটিকে ভালোবেসে সন্ধ্যা ও সকালের রঙিন মেঘেরা বেড়াতে এলে আকাশে কিছুক্ষণ থেমে রয়।
কুটিরটিকে কে, কীভাবে ঘিরে রয়েছে?
কুটিরটিকে প্রকৃতির লতাপাতা ও ফুল যেন মায়ায় ঘিরে রয়েছে।
লাল শাড়ি কে রোদে দিয়ে যায়?
লাল শাড়ি গড়াই নদীর তীরের কুটিরের কোনো বধূ রোদে দিয়ে যায়।
‘ডাহুক মেয়েরা’ কোথা থেকে কুটিরে বেড়াতে আসে?
ডাহুক মেয়েরা পল্লির এঁদো ডোবা থেকে কুটিরে বেড়াতে আসে।
জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘গড়াই নদীর তীরে’ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে? তাঁর অপর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘গড়াই নদীর তীরে’ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে। কবির অপর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম হলো ‘বালুচর’।
উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি কী করে?
উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি সকাল-সন্ধ্যায় ফুটে যেন মনের আনন্দে হেসে কুটি কুটি হয়।
বনের পাখিরা কোথায়, কীভাবে গান ধরে?
বনের পাখিরা গড়াই নদীর তীরের কুটিরের গাছের শাখায় নির্ভয়ে গান ধরে।
উঠোনে কী দিয়ে আলপনা আঁকা হয়?
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের লেখা ‘গড়াই নদীর তীরে’ নামক কবিতায় গড়াই নদীর তীরের কুটিরটির উঠোনে শুকোতে দেওয়া লঙ্কা, মসুর-মটর ডাল আর জিরা ও ধনে দেখে মনে হয়, এদের রং দিয়ে যেন আলপনা আঁকা হয়েছে।
ব্যাকরণ
নীচের বাক্যগুলি থেকে ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো –
কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে।
উত্তর – পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।
উত্তর – সাধারণ বর্তমান কাল।
লংকা-মরিচ রোদে শুকাইছে উঠানেতে সযতনে।
উত্তর – ঘটমান বর্তমান কাল।
জিরা ও ধনে রঙের পাশেতে আলপনা আঁকা কার!
উত্তর – সাধারণ বর্তমান কাল।
কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।
উত্তর – পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো –
লাল শাড়িখানি রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – লাল শাড়িখানি যে রোদে দিয়ে গেছে সে এ বাড়ির কোনো বধূ।
ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে। (চলিত গদ্যে)
উত্তর – ডাহুক মেয়েরা গানে গানে কথা বলে বেড়াতে আসে।
গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – গাছের শাখায় বনের পাখিদের গান ধরতে কোনো ভয় থাকে না।
এখনো তাহারা বোঝেনি হেথায় মানুষ বসত করে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – হেথায় মানুষ বাস করে, কিন্তু তাহারা এখনো বোঝেনি।
নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো –
(কুমড়া, কালিজিরা, উঠান, সযতনে, আখর, সাঁঝ)
| প্রদত্ত শব্দ | ধ্বনি পরিবর্তন | পরিবর্তনের নিয়ম |
| কুমড়া | কুমড়ো > কুমড়া | স্বরসংগতি |
| কালিজিরা | কালোজিরা > কালিজিরা | স্বরসংগতি |
| উঠান | সং – অঙ্গন > উঠান | স্বরসংগতি |
| সযতনে | সযত্নে > সযতনে | স্বরভক্তি |
| আখর | সং – অক্ষর > আখর | ধ্বনিলোপ |
| সাঁঝ | সন্ধ্যা > সাঁঝ | নাসিক্যীভবন |
কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো –
গড়াই নদীর তীরে।
উত্তর – অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।
উত্তর – কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি ‘গুলি’ বহুবচন যোগে।
গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে।
উত্তর – কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।
যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি।
উত্তর – করণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা এখানে বেড়াতে এসে।
উত্তর – কর্তৃকারকে ‘এরা’ বিভক্তি।
নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন্ শ্রেণির বিশেষ্য তা নির্দেশ করো –
(মানুষ, আনন্দ, ফুলগুলি, আলপনা)
| শব্দ | বিশেষ্য পদ |
| মানুষ | জাতিবাচক বিশেষ্য |
| আনন্দ | ভাববাচক বিশেষ্য |
| ফুলগুলি | জাতিবাচক বিশেষ্য |
| আলপনা | ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য |
নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন্ শ্রেণির সর্বনাম তা নির্দেশ করো –
(যার, কেউ, তাহারা, তার)
| শব্দ | সর্বনাম |
| যার | ব্যক্তিবাচক |
| কেউ | অনির্দেশক |
| তাহারা | ব্যক্তিবাচক |
| তার | ব্যক্তিবাচক |
এঁদো, লাল, বুনো, রঙিন – বিশেষণগুলির সাহায্যে নতুন শব্দবন্ধ তৈরি করো।
| বিশেষণ | শব্দবন্ধ |
| এঁদো | এঁদো পুকুর |
| লাল | লাল ঝুঁটি |
| বুনো | বুনো ফল |
| রঙিন | রঙিন স্বপ্ন |
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘গড়াই নদীর তীরে’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment