আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘নিরুদ্দেশ’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

“একটা আশ্চর্য ব্যাপার দেখেছ?” – কে, কাকে এ কথা বলেছে? এই বিষয়কে ‘আশ্চর্য’ বলার প্রকৃত কারণটি ব্যাখ্যা করো।
রবীন্দ্র-পরবর্তী বিখ্যাত কবি ও ছোটোগল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তির বক্তা হলেন গল্পকথক। তিনি তাঁর সঙ্গী সোমেশকে এ কথা বলেছেন।
কারণ – গল্পকথক শীতকালের এক বাদল দিনে খবরের কাগজের পাতা ওলটাতে ওলটাতে হঠাৎ প্রত্যক্ষ করেন একসঙ্গে সাত-সাতটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন। এই ঘটনা তাঁর কাছে ‘একটা আশ্চর্য ব্যাপার’। কারণ তিনি জানেন, এই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলি পুরোপুরি অর্থহীন, বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বাড়ি ফিরে আসে।
“সোমেশ কোনো কৌতূহলই প্রকাশ করিল না।” – সোমেশ কোন্ প্রসঙ্গের প্রতি কোনো কৌতূহল প্রকাশ করল না? সোমেশের উদাসীনতার কারণ কী হতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
প্রসঙ্গ – ছোটোগল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে গল্পকথক খবরের কাগজে প্রকাশিত একসঙ্গে সাতটা নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের প্রতি বন্ধু সোমেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সোমেশ সেই প্রসঙ্গের প্রতি কোনো কৌতূহলই দেখায়নি।
উদাসীনতার কারণ – ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের এক ট্র্যাজিক চরিত্র সোমেশ। আলোচ্য গল্পের শেষাংশ থেকে অনুমান করা যায় সোমেশ আসলে শোভন, যে একটা সময় নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অনেকদিন পর সে বাড়ি ফিরে এলেও কেউ তাকে চিনতে পারেনি, তাই মুত্যুপথযাত্রী মায়ের কাছে তাকে সন্তানের অভিনয় করতে হয়। নিরুদ্দেশকে কেন্দ্র করে তার জীবনে এক বেদনাদায়ক, ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে, তাই সেই সমস্ত বিষয় উত্থাপিত হলে সে এড়িয়ে যায়, নির্লিপ্ত থাকে।
সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে ছেলেটির বাবা প্রথমেই কোন্ ব্যক্তির সাক্ষাৎ পান? সেখানে তাঁর কী ধরনের অভিজ্ঞতা হয়?
উক্ত ব্যক্তি – গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ ছোটোগল্পে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে কথক বর্ণিত কাহিনিতে নিখোঁজ ছেলেটির বাবা বিজ্ঞাপনের অফিসঘরে ঢুকে নিরীহ চেহারার এক ভদ্রলোকের সাক্ষাৎ পান।
অভিজ্ঞতা – কাগজের অফিসের জটিল ব্যাপার বুঝতে না পেরে ছেলেটির বাবা এদিক-ওদিক বিমূঢ়ভাবে ঘুরে এক নিরীহ চেহারার লোককে বেছে সাহস করে বিজ্ঞাপনের কথা বলেন। খবরের কাগজে একটি খবর ছাপার কথা বললে, অফিসের নিরীহ লোকটি তাকে ব্যঙ্গ করেন। অসহায় বাবাকে হতভম্ব হতে দেখে প্রথম দর্শনে অনুমেয় রূঢ় প্রকৃতির অপর এক ভদ্রলোক সহানুভূতির স্বরে তাকে বসতে বলেন এবং ছেলের পরিচয় জেনে নেন। তিনি বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তারাই বিজ্ঞাপনের বয়ান তথা ফিরে আসার অনুরোধ লিখবেন এবং তাদের অশ্রুসজল লেখা পড়ে ছেলে কেঁদে ভাসিয়ে দেবে।
“বিজ্ঞাপন ক্রমশ হতাশ হাহাকার হয়ে উঠল।” – কোন্ বিজ্ঞাপনের কথা এখানে বলা হয়েছে? এই হাহাকার ভরা বিজ্ঞাপনের বর্ণনা উদ্ধৃতি-সহ লেখো।
বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথকের বন্ধু সোমেশের গল্পানুযায়ী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া শোভনকে ঘরে ফেরানোর জন্য সংবাদপত্রে ধারাবাহিকভাবে যে বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল, উদ্ধৃতাংশে সেই বিজ্ঞাপনের কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের বর্ণনা – নিরুদ্দিষ্ট শোভনকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য তার বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তাতে আড়ষ্ট ও অস্পষ্ট ভাষায় মায়ের আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয়। পরবর্তী বিজ্ঞাপনে মায়ের শয্যাশায়ী অবস্থার কথা বিবৃত করে তার বাবার গম্ভীর স্বর শোনা যায়। এরপর যে বিজ্ঞাপন বেরোয় তাতে শোভনের বাবার আর্তস্বর তাকে ফিরে আসার মিনতি জানায়। কিন্তু তখনও শোভন ফিরে না এলে বিজ্ঞাপন সাধারণ পুরস্কারের বিজ্ঞপ্তি হয়ে যায়। শোভনের চেহারার বর্ণনা দিয়ে বলা হল, সন্ধান দিলে পুরস্কৃত করা হবে। এরপর হঠাৎ একদিন কাগজে বের হয় – “শোভন, তোমার মার সঙ্গে আর তোমার বুঝি দেখা হলো না।” তারপরই বিজ্ঞাপন স্তব্ধ হয়ে যায়।
শোভন কতদিন বাদে ঘরে ফেরে? সেখানে কোন্ ঘটনা শোভনের আশঙ্কার বাইরে ছিল?
রবীন্দ্র-পরবর্তী বিখ্যাত ছোটোগল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের শোভন বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় দু-বছর পর হঠাৎ একদিন তার নিজের বাড়িতে হাজির হয়।
শোভনের আশঙ্কা – শোভন সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে ছিল না। তাদের প্রাচীন জমিদারি অনেক দুর্দিনের ভিতর দিয়ে এসেও সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়নি। শোভন তার একমাত্র উত্তরাধিকারী। দীর্ঘ দু-বছরের স্বাধীন জীবনের দুঃখকষ্ট গ্রাহ্য না করলেও এর প্রভাব শোভনের উপর পড়েছে। তার চেহারাও অনেকখানি বদলে গিয়েছে। কিন্তু সে এতটা আশঙ্কা করতে পারেনি যে, তাদের বাড়ির কর্মচারীরা তাকে চিনতে পারবে না।
“শোভন এবার অধীরভাবে বলে উঠল, ‘আপনারা কী বলতে চান স্পষ্ট করে বলুন’!” – ‘আপনারা’ কারা? তাঁরা শোভনের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছিল?
আলোচ্য উদ্ধৃতিটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের অন্তর্গত। এখানে ‘আপনারা’ বলতে শোভনদের জমিদারি সেরেস্তার কর্মচারী ও নায়েবমশাইকে বোঝানো হয়েছে।
শোভনের প্রতি আচরণ – নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার প্রায় দু-বছর পর কৌতূহলবশত শোভন নিজের বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু এই দু-বছর তার জীবনে ও চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসে। তাই বাড়ি পৌঁছোনোর পর নায়েবমশাই, খাজাঞ্চিমশাই এবং অন্যান্য নতুন কর্মচারীরা কেউই তাকে চিনতে পারেননি। এ ছাড়া যেহেতু শোভনের মৃত্যুসংবাদ আগেই বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল, তাই কেউ তাকে বিশ্বাস করেনি। এই কারণে তারা শোভনকে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করার অনুমতি দেননি।
“একবার শুধু আমি মা-বাবার সঙ্গে দেখা করব।” – কে, কার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে? এতে বাধাটা কী?
ছোটোগল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে ঘরছাড়া শোভন নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার প্রায় দু-বছর পর বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি এসেই সে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল।
বাধা – দীর্ঘ দু বছর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পর দেশে ফিরে শোভন তার বাড়ি এসে প্রথম বাধা পায় তাদের পুরোনো নায়েবমশাইয়ের কাছে এমনকি বৃদ্ধ খাজাঞ্চি ও অন্যান্য কর্মচারীরাও তাকে বাধা দেন। এর কারণ মূলত তিনটি –
- দীর্ঘ দু-বছরের ঝড়ঝাপটা সামলাতে গিয়ে শোভনের চেহারার পরিবর্তন হয়েছে।
- সাতদিন আগে শোভনের মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে পৌঁছেছিল এবং হাসপাতালও এই ঘটনা সমর্থন করেছে।
- সম্পত্তির লোভে এর আগেও শোভন পরিচয়ে দুজন দাবিদার এসে ফিরে গেছে, যাদের একজনের সঙ্গে জড়ুলের পর্যন্ত মিল ছিল।
শোভনকে তারই মৃত্যুসংবাদ কে শোনান? শোভন কীভাবে সে-কথা শোনে?
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে দু-বছর পর বাড়ি ফিরে শোভন নায়েবমশাইকে বাবা-মায়ের সঙ্গে একবার মাত্র দেখা করবার কাতর অনুরোধ করে। তখন নায়েবমশাই তাকে বলেন যে, শোভন সাতদিন আগে মারা গেছে এবং সেই মৃত্যুসংবাদ তারা পেয়েছেন।
শোভন যেভাবে শোনে – নিজের মৃত্যুসংবাদ শুনে শোভন একদিকে হতাশ হয় অন্যদিকে সে হেসে ফেলে। নায়েবের কাছে বিদ্রুপ করে জানতে চায় যে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তাতে নায়েবমশাই জানান গাড়ি চাপা পড়ে অপঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে, তবে নাম-ধাম পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ায় ডাক্তারের বর্ণনাতেও তার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এভাবেই শোভন তার নিজের মৃত্যুসংবাদ শোনে।
“সেই জন্যই বুঝি তিনি মৃত্যুতেও শান্তি পেতে পাচ্ছেন না।” – ‘তিনি’ কে? কেন তিনি মৃত্যুতেও শান্তি পাচ্ছেন না?
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের উক্ত উদ্ধৃতিতে ‘তিনি’ বলতে শোভনের মা-কে বোঝানো হয়েছে।
মৃত্যুতেও শান্তি না পাওয়ার কারণ – নিরুদ্দিষ্ট শোভনের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে সন্তানহারা মায়ের বেদনার্তি তাকে বিচলিত করতে এবং ফিরিয়ে আনতে পারেনি। সন্তানের অপেক্ষায় কাতর মা মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়েও আশা ছাড়েননি। এরপর হঠাৎই শোভনের মৃত্যুসংবাদ আসে এবং হাসপাতাল মারফত সেই সংবাদ সমর্থন পায়। মৃত্যুপথযাত্রী মাকে ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানানো হয় না। তিনি অপেক্ষা করে রয়েছেন শোভনের ফিরে আসার জন্য। তাঁর এই আশা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই কারণে তিনি মৃত্যুতে শান্তি পাচ্ছেন না।
“মৃত্যুপথযাত্রীকে এই শেষ সান্ত্বনাটুকু দেবার জন্যে জমিদার নিজে তাঁকে কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন।” – ‘মৃত্যুপথযাত্রী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং এখানে ‘তাঁকে’ বলতে কাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে? অনুরোধটি কী ছিল, তা বুঝিয়ে দাও।
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত ‘নিরুদ্দেশ’ ছোটোগল্পে ‘মৃত্যুপথযাত্রী’ বলতে শোভনের মা-কে বোঝানো হয়েছে।
এখানে ‘তাঁকে’ বলতে দু-বছর পর সদ্য বাড়িতে আসা শোভনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শোভনকে করা অনুরোধ – শোভনকে অনুরোধ করা হয়েছিল, মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের সঙ্গে তার ‘হারানো ছেলে’ হয়ে একবার দেখা করার। নায়েবমশাই ভেবেছিলেন অসুস্থ মায়ের নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে ছেলের চেহারার পার্থক্য ধরা পড়বে না। তাঁকে বোঝাতে হবে, যে তাঁর ছেলে বেঁচে আছে এবং সে ঘরে ফিরে এসেছে।
সোমেশের গল্পশেষে কথকের কী প্রতিক্রিয়া হয়?
কথকের প্রতিক্রিয়া – প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র সোমেশের বলা এক নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া ছেলের গল্প শুনে কথক নিশ্চুপ সোমেশকে উদ্দেশ করে বলেন – ‘সোমেশ তোমার কানের কাছে একটা জড়ুল আছে।’ এ কথায় সোমেশ হেসে উত্তর দেয় যে, এ কারণেই তার গল্পটা বানিয়ে বলতে সহজ হয়েছে। কিন্তু কথকের তা বিশ্বাস হয় না, মনে হয় সব কিছুই কেমন যেন রহস্য, তিনি স্বগতোক্তি করেন – ‘শীতের বাদলের এই শীতল প্রায়ান্ধকার অস্বাভাবিক অপরাহ্নে তার হাসিটাই বিশ্বাস করিতে আমার প্রবৃত্তি হইল না।’
“আমি অবশেষে বলিলাম – ‘সোমেশ তোমার কানের কাছে একটা জড়ুল আছে’।” – ‘আমি’ কে, ‘অবশেষে’ বলতে কার বা কীসের শেষে বোঝানো হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ ছোটোগল্পের আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ‘আমি’ হলেন গল্পকথক তথা সোমেশের বন্ধু।
সোমেশের বলা নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত একটি গল্পের পরিসমাপ্তিকে ‘অবশেষে’ বলা হয়েছে।
তাৎপর্য – গল্পকথক তার বন্ধু সোমেশকে খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন নিয়ে গতানুগতিক মজার গল্প শোনায়। এরপরই নিখোঁজ হওয়া বিষয়ে একটি গল্প বলে, যার প্রধান চরিত্র – “দোহারা ছিপছিপে একটি বছর ষোলো-সতেরোর ছেলে। পরিচয়-চিহ্ন ঘাড়ের দিকে ডান কানের কাছে একটি বড়ো জড়ুল।” সোমেশের দেহেও ওইরূপ একটি জড়ুল ছিল, যা গল্পকথক সোমেশকে স্মরণ করিয়ে দেন। আসলে কথক বুঝতে পেরেছিলেন গল্পের শোভনই আসলে সোমেশ।
সুতরাং তিনি জেনে শুনে মিথ্যে আর বলতে পারেন না। কে, কেন মিথ্যে বলতে পারেন না?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পের আলোচ্য অংশে রাত করে বাড়ি ফিরে আসা ছেলেটির মায়ের মিথ্যে না বলতে পারার কথা বলা হয়েছে।
মিথ্যা কথা বলতে না পারার কারণ – সংবাদপত্রের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখে কথক বলেছেন যে, ধরা যাক একটি ছেলে মাঝেমধ্যেই রাত করে থিয়েটার দেখে বাড়ি ফেরে। এরকম এক রাতে খেতে বসে ছেলেটির বাবা খোঁচা দিয়ে মার কাছে গুণধর পুত্র – টির খবর জানতে চান। যেহেতু মা নিজেই ছেলের পীড়াপীড়িতে লুকোনো পুঁজি থেকে তাকে থিয়েটার দেখার জন্য টাকা দিয়েছেন, তাই তিনি মিথ্যে বলতে পারেন না, চুপ করে থাকেন।
এই মৌখিক আস্ফালনেই হয়তো ব্যাপারটা শেষ হতে পারত। — মৌখিক আস্ফালন কী ছিল? সেখানেই কি ব্যাপারটা শেষ হয়েছিল?
মৌখিক আস্ফালনের পরিচয় – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে ছেলে গভীর রাতেও বাড়ি না ফেরায় বাবার প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করতে গিয়ে কথক এ কথা বলেন। আগের বছর ফেল করা ছেলে এবারেও যে ভালো ফল করবে না এই চিন্তায় ক্রুদ্ধ বাবা বলেন যে নবাবপুত্তুর ছেলে তাঁর অর্থের অপচয় করছে। তিনি ছেলেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন।
ব্যাপারটির শেষ হওয়া – তখনই ছেলে বাড়ি ফিরলে বাবা ঝোঁকের মাথায় তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। ছেলেও বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তাই ব্যাপারটা মৌখিক আস্ফালনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
ছেলে বিশাল পৃথিবীতে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
মন্তব্যের বিশ্লেষণ – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে গভীর রাতে থিয়েটার দেখে বাড়ি ফেরায় বাবা ছেলের ওপরে রেগে যান। আগের বছর ফেল করা ছেলের যে এ-বছরও ভালো ফল করা সম্ভব নয়, তা তিনি বেশ বুঝতে পারেন এবং অর্থের অপচয় করা ছেলেকে বের করে দেওয়ার কথাও বলেন। এইসময়েই ছেলে বাড়ি ঢুকলে ক্রুদ্ধ বাবা নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন, ছেলেও সঙ্গে সঙ্গেই বাবার কথায় নিরুদ্দেশযাত্রা করে।
এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো। — কে কখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে?
অথবা, এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো। — কোন্ অশান্তির কথা বলা হয়েছে?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছিলেন নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবা
সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় – বেশি রাত করে বাড়ি ফেরায় বাবা ছেলেকে বেরিয়ে যেতে বলাতে ছেলেও তক্ষুনি বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এদিকে পুত্রশোকে মা খাওয়া বন্ধ করে দেন। পরদিন সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে ফিরে বাবা দেখেন যে মা বিছানা থেকে উঠবেন না বলে পণ করেছেন। এই সমস্ত ঘটনায় বিব্রত হয়েই বাবা এমন মন্তব্য করেন।
খবরের কাগজের অফিসের ব্যাপারটা বড়ো জটিল। কোন্ গল্পের অংশ? এমন ভাবনার কারণ কী?
উৎস – প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পের অংশ।
এমন ভাবনার কারণ – নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ছেলের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে কোন্ দিকে কী করতে হবে তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। কেউ সহজভাবে সাহায্যও করছিল না। দীর্ঘ চেষ্টার পরে একজনের সহযোগিতায় তিনি বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের ব্যবস্থা করতে সমর্থ হন। এর ফলেই খবরের কাগজের জটিলতার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন।
আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি! — কে, কেন মন্তব্যটি করেছে?
বক্তা – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছিলেন খবরের কাগজের অফিসের এক নিরীহ চেহারার ভদ্রলোক।
মন্তব্যের কারণ – কোনো-একটি ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তার মা খাওয়া-দাওয়া ত্যাগ করেন এবং বিছানা নেন। বিব্রত বাবা খবরের কাগজের অফিসে গিয়ে হাজির হন এবং সেখানে এক কর্মী ভদ্রলোককে জানান যে তিনি তাঁদের কাগজে একটা খবর বের করতে চান। তাতে সেই নিরীহ চেহারার ভদ্রলোকটি ব্যঙ্গের সুরে বলেন যে তাঁদের খবরগুলো বুঝি ছেলেটির বাবার পছন্দ হচ্ছে না। একইসঙ্গে তীব্র শেষে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটিও করেন তিনি।
এই বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্যকার ট্র্যাজিডি থাকে। — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
ব্যাখ্যা – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে কথক খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে বলেন যে এই নিরুদ্দিষ্টরা অনেক সময়ই রাগের মাথায় বা অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে, তারপরে কিছুদিন বাদে রাগ আর অভিমান কমলে বাড়ি ফিরেও আসে। কিন্তু বন্ধু সোমেশের মনে হয় বিষয়টি এত সহজ নয়। বহু নিরুদ্দেশের ঘটনার পিছনেই থাকে জীবন থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সেসব ক্ষেত্রে হয় ফিরে আসা সম্ভব হয় না, বা ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
সে বিজ্ঞাপন নয়, সম্পূর্ণ একটি ইতিহাস। — কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? বিজ্ঞাপনকে ইতিহাস বলা হয়েছে কেন?
প্রসঙ্গ – নিরুদ্দেশ গল্পে সোমেশ বহুদিন আগে খবরের কাগজে দিনের পর দিন প্রকাশিত একটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছে।
বিজ্ঞাপনকে ইতিহাস বলার কারণ – দিনের পর দিন পড়ে গেলে সেই বিজ্ঞাপনে সম্পূর্ণ একটি কাহিনিই যেন প্রকাশিত হয়। ছাপার অক্ষরে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে। ছেলের ফিরে আসার জন্য মা-র কাতর অনুরোধ, তারপরে দীর্ঘশ্বাস, পিতার আহ্বান, সেই আহ্বান কাতরতায় বদলে যাওয়া। তারপর পুরস্কারের প্রলোভন। বিজ্ঞাপনে এভাবেই যেন ধারাবাহিক এক কাহিনিকে তুলে ধরা হয়েছে।
যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে। মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
ব্যাখ্যা – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে পুরোনো খবরের কাগজে বহুদিন ধরে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি নিরুদ্দেশের। একজন মা কাতরভাবে ছেলেকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেখানে অস্পষ্ট আড়ষ্ট ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে মায়ের মনের আকুলতা। একসময়ে সেই আকুলতা মিলিয়ে যায় ৷ এরপর সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় ভেসে ওঠে পিতার কম্পিত, ধীর এবং শান্ত স্বর—যেখানে মা-র অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছেলেকে ফিরে আসতে বলা হয়। এইসব অনুরোধ, আবেদনই আর্তনাদের মতো শোনায়।
পুরস্কারের পরিমাণ ক্রমশই বাড়তে লাগল খবরের কাগজের পাতায়। – প্রসঙ্গটি আলোচনা করো।
উদ্দিষ্ট প্রসঙ্গ – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে শোভন বাড়ি ছাড়ার পরে তাকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে দিনের পর দিন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন বেরোয়। প্রথমে মা-র কাতর অনুনয়, এরপর বাবার ফিরে আসার আহ্বান সবই ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন চেহারা বয়স ইত্যাদির একটা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার কথাও থাকে। ছেলের সন্ধান না আসায় পুরস্কারের পরিমাণও ক্রমেই বেড়ে যেতে থাকে।
তার ভেতরেই সে পেয়েছে মুক্তির স্বাদ। – কে, কীভাবে মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত নিরুদ্দেশ গল্প থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত উদ্ধৃতিটিতে ষোলো-সতেরো বছরের নিরুদ্দিষ্ট ছেলে শোভনের কথা বলা হয়েছে।
মুক্তির স্বাদ – জমিদার-সন্তান শোভন ছিল একেবারেই নির্লিপ্ত মনের। বাবা-মায়ের স্নেহ তাকে বাঁধতে পারেনি। কোনো কারণ ছাড়াই একদিন সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। সংবাদপত্রে তার প্রতি বাবা-মায়ের কাতর আবেদন তাই সে হয়তো দেখেও দেখেনি। নিরুদ্দেশের জীবন অনেক অসুবিধার ও অনিশ্চিতের বলেই হয়তো সে তাতেই মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল।
বিজ্ঞাপন ক্রমশ হতাশ হাহাকার হয়ে উঠল। — কীভাবে বিজ্ঞাপন হতাশ হাহাকার হয়ে উঠল?
হতাশাজনক পরিণতি – নিরুদ্দেশ গল্পে শোভন নামের ছেলেটি যখন নিরুদ্দিষ্ট হল তখন প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে দেখা গেল ছেলের ফিরে আসার জন্য মায়ের কাতর ব্যাকুলতা। সেই ব্যাকুলতা অতি দ্রুত হতাশ দীর্ঘশ্বাসে রূপান্তরিত হল। তারপরে মা-র অসুস্থতার খবর দিয়ে বাবার ছেলেকে ফিরে আসার আহ্বান। শেষপর্যন্ত শুধুই কাতর আবেদন।এভাবেই বিজ্ঞাপন হতাশ হাহাকার হয়ে উঠেছিল।
শোভনের কাছে নায়েবমশাই – এর গলার স্বর কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হলো। — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
ব্যাখ্যা – দু-বছর নিরুদ্দেশ থাকার পরে শোভন বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু নায়েবমশাই তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে বারবাড়িতে বিশ্রাম নিতে বলেন। বারবাড়িতে নায়েবমশাই খাজাঞিমশাইকে যে কন্ঠস্বরে শোভনের বাড়ির ভিতরে যেতে চাওয়ার কথা বলেন, সেটাই অস্বাভাবিক লাগে শোভনের। আসলে নিজেকে শোভন বলে মিথ্যে দাবি করে এর আগে দুজন সেখানে উপস্থিত হওয়ায় এবং শোভনের মৃত্যুসংবাদ চলে আসায় তার শোভন হিসেবে উপস্থিতি নায়েবমশাই বিশ্বাস করেননি।
হঠাৎ শোভনের কাছে সমস্ত ব্যাপারটা ভয়ংকরভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠল – কোন্ ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে উঠল?
উদ্দিষ্ট ব্যাপার – প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ গল্পে নিরুদ্দেশ থেকে ফিরে শোভন বাড়িতে ঢুকতে গেলে পুরোনো নায়েবমশাই তাকে বাধা দেন। মা ভালো আছেন কিনা বা তাঁর কিছু হয়েছে কিনা—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয় না তাকে। এমনকি খাজাঞিমশাইয়ের গলার স্বরও কেমন অস্বাভাবিক মনে হয় তার। শোভন জোর করে ভিতরে যেতে চাইলে নায়েবমশাই বলেন – মিছিমিছি কেলেংকারি করে লাভ নেই। আর এতেই শোভনের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই লোকগুলি তাকে বাড়ির নিরুদ্দিষ্ট ছেলে শোভন বলে মেনে নেয়নি।
শোভন এই অবস্থাতে না হেসে পারলে না। — শোভনের হাসির কারণ কী ছিল?
শোভনের হাসির কারণ – শোভন মা-বাবার কাছে যেতে চাইলে নায়েবমশাই তাকে নিবৃত্ত করার জন্য বলেন যে, তাঁদের কাছে খবর আছে শোভন সাত দিন আগেই মারা গিয়েছে। উদ্ভ্রান্ত শোভন এই কথা শুনেই হেসে ফেলে। সে নিজে সশরীরে উপস্থিত, আর তাকেই কিনা তার মৃত্যুসংবাদ শোনানো হচ্ছে —এই ঘটনা শোভনকে হাসতে বাধ্য করে। কণ্ঠস্বরে বিদ্রুপ মিশিয়ে তাই সে জানতে চায় শোভন কীভাবে মারা গেল।
সে মুখের বেদনাময় বিমূঢ়তা শোভনের বুকে ছুরির মতো বিঁধল। — কোন্ মুখের কথা বলা হয়েছে?
মুখের কথার পরিচয় – নিরুদ্দেশ গল্পের উল্লিখিত অংশে শোভনের বৃদ্ধ বাবার মুখের বেদনাময় বিমূঢ়তার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গ – বৃদ্ধ নায়েবমশাই যখন নিরুদ্দিষ্ট শোভনকে তারই মৃত্যুসংবাদ শোনাচ্ছিলেন সেইসময় সে তার বাবাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখে। বাবাকে দেখে তার ঝড়ে ভাঙা গাছের মতোই বিধ্বস্ত মনে হয়৷ সকলে কিছু বোঝার আগেই শোভন দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। বাবা বলে বৃদ্ধকে ডাকে। আর সেই গলার আওয়াজ শুনে বৃদ্ধ থমকে দাঁড়ান। তখন তার প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করতে গিয়েই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
শোভনকে একটা কাজ করতে হবে। — কোন্ কাজের কথা বলা হয়েছে?
উদ্দিষ্ট কাজ – নায়েবমশাই গলার আওয়াজে মিনতি আর হাতে অনেকগুলো টাকার নোট নিয়ে শোভনকে বলেছিলেন এই কাজ – এর কথা। তা হল বাড়ির কর্ত্রী মৃতপ্রায়। ছেলের মৃত্যুসংবাদ তিনি শোনেননি। তাই ছেলেকে দেখার আশা নিয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন। শোভনকে তাঁর হারানো ছেলে হয়ে একবার দেখা দিতে হবে, কারণ তার সঙ্গে হারানো ছেলেটির প্রকৃতই মিল আছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘নিরুদ্দেশ’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন