এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘শ্বসন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

দহন (Combustion) কাকে বলে?
দহন (Combustion) – যে অনিয়ন্ত্রিত ভৌত-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জৈব ও অজৈব বস্তুর (দাহ্য পদার্থ) অন্তর্নিহিত সমস্ত স্থিতিশক্তি তাপ ও আলোকশক্তিরূপে অতিদ্রুত নির্গত হয়, তাকে দহন বলে।
শ্বসনকে ‘নিয়ন্ত্রিত দহন’ বলা হয় কেন?
বিজ্ঞানী ল্যাভয়শিয়ার -এর মতে শ্বসন একপ্রকার নিয়ন্ত্রিত দহন। শ্বসন এবং দহনে সংঘটিত প্রক্রিয়াগুলি হল –
- অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে-কোনো জটিল জৈবপদার্থের বিশ্লেষণ ঘটে।
- জৈবযৌগ বিশ্লিষ্ট হয়ে H₂O ও CO₂ উৎপন্ন করে এবং শক্তি নির্গত হয়।
কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়া দহনের মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে না। শ্বসন হল উৎসেচক এবং প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রক্রিয়া। শ্বসনে শক্তির মুক্তি ধীরে ধীরে ও ধাপে ধাপে ঘটে। এজন্যই শ্বসনকে ‘নিয়ন্ত্রিত দহন’ বলা হয়।
শ্বসনকে অপচিতি বিপাক বলে কেন?
শ্বসন প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু (জৈবযৌগ) অক্সিজেন ও উৎসেচকের সাহায্যে জারিত হয়ে সরল উপাদানে (অজৈব বা জৈবযৌগ) পরিণত হয়। এর ফলে কোশের প্রোটোপ্লাজমের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়। একারণে শ্বসনকে অপচিতি বিপাক বলা হয়।
শ্বসনকে তাপমোচী বিক্রিয়া বলা হয় কেন?
শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোশস্থ খাদ্যবস্তুর মধ্যে আবদ্ধ স্থৈতিকশক্তির মুক্তি ঘটে এবং প্রায় 40% শক্তি ATP -র মধ্যে রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত হয়। বাকি 60% শক্তি গতিশক্তি বা তাপশক্তিরূপে মুক্ত হয়। শ্বসন প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি উৎপন্ন হয় বলে, একে তাপমোচী বিক্রিয়া বলে।
প্রত্যক্ষ শ্বসন বলতে কী বোঝো?
এককোশী এবং কিছু সরল জীবদেহে পরিবেশ ও কোশের মধ্যে সরাসরি গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে এবং কোশস্থ খাদ্যবস্তুর জারণ ঘটে। এই প্রকার শ্বসনকে প্রত্যক্ষ শ্বসন বলে। উদাহরণ – অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম প্রভৃতি প্রোটোজোয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ শ্বসন ঘটে।
পরোক্ষ শ্বসন কাকে বলে?
এই শ্বসন প্রক্রিয়ায় উন্নত ও জটিল জীবদেহে পরিবেশ ও দেহকোশের মধ্যে সরাসরি গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে না। পরিবেশ থেকে শ্বাসঅঙ্গ, শ্বাসঅঙ্গ থেকে পরিবহণ মাধ্যম ও পরিশেষে পরিবহণ বা সংবহন মাধ্যমের সঙ্গে দেহকোশের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। এই প্রক্রিয়াকে পরোক্ষ শ্বসন বলে। উদাহরণ – আরশোলা, শামুক, মাছ, পাখি, মানুষ প্রভৃতির দেহে সংঘটিত শ্বসন।
বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই কাকে বলে?
প্রধানত আঁইশাকার আবরণীকলা দ্বারা গঠিত যে-সমস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক প্রকোষ্ঠ ফুসফুসের কার্যগত এককরূপে কাজ করে, তাদের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই (Alveoli) বলে। মানুষের ফুসফুসে প্রায় 300 মিলিয়ন বায়ুথলি থাকে।
শ্বাসকার্যে বায়ুথলির ভূমিকা উল্লেখ করো।
বায়ুথলিগুলির আবরণীকলার বাইরের দিক ফুসফুসীয় রক্তজালক দ্বারা সম্পূর্ণরূপে আবৃত থাকে। এর দ্বারা ফুসফুসীয় বায়ুথলি এবং ফুসফুসীয় রক্তজালকের মধ্যে O₂ ও CO₂ -এর আদানপ্রদান ঘটে ও বহিঃশ্বসন সংঘটিত হয়।
প্লুরা পর্দার কাজ কী?
প্লুরা পর্দার কাজ –
- বাহ্যিক আঘাত থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করে।
- প্রশ্বাস কাজের সময় ফুসফুসের প্রসারণে সাহায্য করে।
রাত্রিবেলা গাছের নীচে শুলে তোমার কী অসুবিধা হবে?
রাত্রিবেলা সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষ বন্ধ থাকে। ফলে অক্সিজেন নির্গত হয় না। কিন্তু রাত্রিবেলা শ্বসন ক্রিয়া চলে ফলে CO₂ নির্গত হয় এবং পরিবেশ থেকে O₂ গৃহীত হয়। CO₂ গ্যাস বাতাসের তুলনায় ভারী বলে গাছের নীচে জমে থাকে এবং এই সময় গাছের নীচে শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে।
মানুষের দেহে কোন্ পথে পরিবেশ থেকে O₂ ফুসফুসে প্রবেশ করে তা শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
মানুষের দেহে O₂ প্রবেশের পথ – বায়ুমণ্ডলের বেশি O₂ যুক্ত বায়ু → বহিঃনাসারন্ধ্র → নাসাপথ → অন্তঃনাসারন্ধ্র → নাসাগলবিল → গ্লটিস → স্বরযন্ত্র → শ্বাসনালি → ব্রঙ্কাস → ব্রঙ্কিওল → অ্যালভিওলার ডাক্ট → বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই (ফুসফুস)।
মানুষের দেহ থেকে কোন্ পথে CO₂ পরিবেশে নির্গত হয় তা শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও। *
মানুষের দেহ থেকে CO₂ নির্গমনের পথ – বায়ুথলির (ফুসফুস) বেশি CO, যুক্ত বায়ু → অ্যালভিওলার ডাক্ট → ব্রঙ্কিওল → ব্রঙ্কাস → শ্বাসনালী → স্বরযন্ত্র → গ্লটিস → নাসাগলবিল → অন্তঃনাসারন্ধ্র → নাসাপথ → বহিঃনাসারন্ধ্র → পরিবেশ।
শ্বাস অনুপাত (Respiratory Quotient) কী?
শ্বসনে বর্জিত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) -এর ঘনমান ও গৃহীত অক্সিজেনের (O₂)-র ঘনমানের অনুপাতকে শ্বাস অনুপাত বা শ্বাসহার বা RQ বলে।
দুটি শ্বাসপেশির নাম লেখো।
দুটি শ্বাসপেশির নাম –
- মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম এবং
- ইন্টারকস্টাল পেশি।
দুটি শ্বাসস্নায়ুর নাম লেখো।
দুটি শ্বাসস্নায়ুর নাম –
- ফ্রেনিক স্নায়ু এবং
- ইন্টারকস্টাল স্নায়ু।
মধ্যচ্ছদা কাকে বলে? এটি কীভাবে শ্বাসক্রিয়ায় সাহায্য করে?
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে অনৈচ্ছিক পেশি ও টেনডন দ্বারা গঠিত যে ব্যবধায়ক পর্দা উপস্থিত থাকে, তাকে মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম (Diaphragm) বলে।
মধ্যচ্ছদা সংকোচনের মাধ্যমে প্রশ্বাস ক্রিয়ায় এবং শিথিলতার মাধ্যমে নিশ্বাস ক্রিয়ায় সাহায্য করে।
শ্বসন ও শ্বাসকার্যের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করো।
শ্বসন ও শ্বাসকার্যের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা –
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় O₂ ব্যবহৃত হয় যা শ্বাসকার্যের প্রশ্বাস ক্রিয়ায় জীবদেহে গৃহীত হয়। অর্থাৎ, শ্বসন সম্পূর্ণরূপে শ্বাসকার্যের ওপর নির্ভরশীল।
- শ্বসনের সময় কোশে CO₂ উৎপন্ন হয় যা সংবহনের মাধ্যমে শ্বাসঅঙ্গে প্রেরিত হয়। শ্বাসকার্যের নিশ্বাসক্রিয়ার সময় এই CO₂ দেহ থেকে নির্গত হয়। সুতরাং, নিশ্বাস ক্রিয়া শ্বসন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, শ্বসন ও শ্বাসকার্য পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
কোশীয় শ্বসনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
কোশীয় শ্বসনের বৈশিষ্ট্য –
1. গ্লুকোজের ভাঙন – কোশের সাইটোপ্লাজমে 10টি ধারাবাহিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ অণু আংশিকভাবে জারিত হয় এবং 3 কার্বনযুক্ত 2 অণু পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে।
2. উৎসেচক – খাদ্যবস্তু ভাঙনের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট উৎসেচকের প্রয়োজন হয়।
3. ATP রূপে শক্তির উৎপাদন – গ্লুকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে 686 kcal শক্তি উৎপন্ন করে। এই শক্তির 40% ATP-র মধ্যে আবদ্ধ হয় ও শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।
শ্বসনবস্তু কাকে বলে?
কোশীয় শ্বসনকালে কোশস্থ যে-সমস্ত জৈবযৌগ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, তাদের শ্বসনবস্তু বলে। যেমন – গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড প্রভৃতি।
সবাত শ্বসন কাকে বলে? সবাত শ্বসনের রাসায়নিক সমীকরণটি লেখো।
সবাত শ্বসন (Aerobic Respiration) – যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বায়ুজীবী জীবের কোশস্থ শ্বসনবস্তু (গ্লুকোজ) মুক্ত অক্সিজেন ও উৎসেচকের সাহায্যে সম্পূর্ণ রূপে জারিত হয়ে জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে এবং শ্বসনবস্তুস্থিত শক্তির সম্পূর্ণ মুক্তি ঘটায়, তাকে সবাত শ্বসন বলে।
সবাত শ্বসনের সমীকরণ –
C6H12O6 + … →6CO2 + …. + 38ATP বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করো। সম্পূর্ণ বিক্রিয়াটি কোন্ প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে? বিক্রিয়াটি থেকে কোন্ কোন্ বৈশিষ্ট্য তুমি জানতে পারো?
বিক্রিয়াটি সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
বিক্রিয়াটির বৈশিষ্ট্য –
- এক অণু গ্লুকোজ, 6 অণু অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে 6 অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, 6 অণু জল ও 38 অণু ATP উৎপন্ন করে।
- গৃহীত O₂ -এর সমপরিমাণ CO₂ নির্গত হয়।
অবাত শ্বসন কাকে বলে? অবাত শ্বসন কোথায় ঘটে?
অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration) – যে শ্বসন পদ্ধতিতে জীবকোশে শ্বসনবস্তু (প্রধানত গ্লুকোজ) অক্সিজেনযুক্ত অজৈব যৌগের অক্সিজেনের সাহায্যে অসম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, জল ও অক্সাইড যৌগ উৎপন্ন করে এবং শ্বসন বস্তু মধ্যস্থ স্থৈতিক শক্তির আংশিক মুক্তি ঘটায়, তাকে অবাত শ্বসন বলে।
অবাত শ্বসনের রাসায়নিক সমীকরণ – (ব্যাকটেরিয়া কোশে)
অবাত শ্বসনের সংঘটন স্থান – অবায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া (যেমন – নাইট্রোব্যাকটার), ছত্রাক, পরজীবী প্রাণী (যেমন – ফিতাকৃমি, গোলকৃমি, মনোসিস্টিস প্রভৃতি)।
কোহল সন্ধান (Alcoholic Fermentation) কাকে বলে? এটির রাসায়নিক সমীকরণটি লেখো।
কোহল সন্ধান – যে সন্ধান প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ইস্ট নিঃসৃত জাইমেজ উৎসেচকের সাহায্যে গ্লুকোজ অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে এবং খাদ্যমধ্যস্থ শক্তির আংশিক মুক্তি ঘটায়, তাকে কোহল সন্ধান (Alcoholic Fermentation) বলে।
কোহল সন্ধানের রাসায়নিক সমীকরণ –
ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান (Lactic Acid Fermentation) কাকে বলে? এর রাসায়নিক সমীকরণটি লেখো।
ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান – যে সন্ধান প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া (ল্যাকটোব্যাসিলাস) এবং পেশিকোশে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে উৎসেচকের প্রভাবে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয় এবং খাদ্যমধ্যস্থ শক্তির আংশিক মুক্তি ঘটে, তাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান বলে।
ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধানের সমীকরণ –
সন্ধান কাকে বলে? সন্ধান কত প্রকার ও কী কী?
সন্ধান (Fermentation) – যে জৈবনিক প্রক্রিয়ায় বায়ুজীবী বা অবায়ুজীবী জীবকোশে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে নির্দিষ্ট উৎসেচকের সাহায্যে শ্বসনবস্তু অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে বিভিন্ন জৈবযৌগ (যেমন – ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক অ্যাসিড প্রভৃতি) উৎপন্ন করে এবং শ্বসনবস্তু মধ্যস্থ স্থৈতিক শক্তির আংশিক মুক্তি ঘটায়, তাকে সন্ধান বলে।
উৎপন্ন পদার্থের ওপর ভিত্তি করে সন্ধান প্রধানত দু-প্রকার। যথা –
- কোহল সন্ধান এবং
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান।
কোহল সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব লেখো।
কোহল সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব হল –
- অ্যালকোহল উৎপাদন – ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) নামক এককোশী ছত্রাক নিঃসৃত জাইমেজ উৎসেচকের সাহায্যে গ্লুকোজ দ্রবণের সন্ধান ঘটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে অ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়।
- বেকারি শিল্পে – পাঁউরুটি, কেক, বিস্কুট প্রভৃতি প্রস্তুতিতে কোহল সন্ধান ব্যবহৃত হয়।

ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব লেখো।
ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব –
- দুগ্ধশিল্পে – ল্যাকটোব্যাসিলাস ল্যাকটিস ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দুধ থেকে দই, পনির, ছানা, চিজ প্রভৃতি দুগ্ধজাত সামগ্রী উৎপন্ন করা হয়।
- ভিনিগার উৎপাদনে – অ্যাসিটোব্যাকটর অ্যাসেটি অ্যালকোহল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ইথাইল ভিনিগার উৎপন্ন করা হয়।

‘সন্ধান প্রক্রিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম’ – উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির সত্যতা প্রমাণ করো।
কোহল সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব হল –
- অ্যালকোহল উৎপাদন – ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) নামক এককোশী ছত্রাক নিঃসৃত জাইমেজ উৎসেচকের সাহায্যে গ্লুকোজ দ্রবণের সন্ধান ঘটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে অ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়।
- বেকারি শিল্পে – পাঁউরুটি, কেক, বিস্কুট প্রভৃতি প্রস্তুতিতে কোহল সন্ধান ব্যবহৃত হয়।
ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধানের দুটি ব্যাবহারিক গুরুত্ব –
- দুগ্ধশিল্পে – ল্যাকটোব্যাসিলাস ল্যাকটিস ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দুধ থেকে দই, পনির, ছানা, চিজ প্রভৃতি দুগ্ধজাত সামগ্রী উৎপন্ন করা হয়।
- ভিনিগার উৎপাদনে – অ্যাসিটোব্যাকটর অ্যাসেটি অ্যালকোহল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ইথাইল ভিনিগার উৎপন্ন করা হয়।
গ্লাইকোলাইসিস-কে EMP পথ বলে কেন?
গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক বিক্রিয়াগুলি বিজ্ঞানী এম্বডেন, মেয়ারহফ ও পারনাস (Embden, Mayerhof, Parnas) অবিষ্কার করেন বলে, তাঁদের নামানুসারে গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়াকে EMP পথ বলে।
গ্লাইকোলাইসিসের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
গ্লাইকোলাইসিসের বৈশিষ্ট্য –
- গ্লাইকোলাইসিস হল সমস্ত শ্বসন প্রক্রিয়ার সাধারণ (Common) পর্যায়।
- পদ্ধতিটি নির্দিষ্ট উৎসেচক নির্ভর।
- পদ্ধতিটি অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে কোশের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।
- 1 অণু গ্লুকোজের আংশিক জারণের ফলে 2 অণু পাইরুভিক অ্যাসিড ও 2 অণু ATP উৎপন্ন হয়।
গ্লাইকোলাইসিসের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।
গ্লাইকোলাইসিসের তাৎপর্য –
- গ্লাইকোলাইসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড ক্রেবস চক্র ও সন্ধান প্রক্রিয়ায় মুখ্য যৌগরূপে ব্যবহৃত হয়।
- গ্লাইকোলাইসিসের শেষে মোট 2 অণু ATP উৎপন্ন হয়।
- অবাত শ্বসনকারী জীবদের ক্ষেত্রে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন 2 অণু NADH₂ অন্যান্য বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
- গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন ডাইহাইড্রক্সিঅ্যাসিটোন ফসফেট থেকে গ্লিসারল সংশ্লেষিত হয়।
- গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড (কিটো অ্যাসিড) থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি হয়।
ক্রেবস চক্রের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
ক্রেবস চক্রের বৈশিষ্ট্য –
- ক্রেবস চক্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ -এর সম্পূর্ণ জারণ ঘটে।
- প্রক্রিয়াটি মাইটোকনড্রিয়ায় উৎসেচকের উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়।
- এই চক্রাকার বিক্রিয়াপথে যে-সমস্ত অন্তর্বর্তী জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন হয় সেগুলি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ সংশ্লেষে ব্যবহৃত হয়।
- ক্রেবস চক্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ ছাড়াও অন্যান্য শ্বসনবস্তুর জারণ ঘটে ও শক্তি উৎপন্ন হয়।
ক্রেবস চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র ও TCA চক্র বলে কেন?
ক্রেবস চক্রে প্রথম উৎপাদিত জৈব অ্যাসিডটি হল সাইট্রিক অ্যাসিড। একারণে ক্রেবস চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র বলে।
ক্রেবস চক্রে প্রথম উৎপন্ন জৈব অ্যাসিডটি হল সাইট্রিক অ্যাসিড। এই সাইট্রিক অ্যাসিডে তিনটি কার্বক্সিল (-COOH) গ্রুপ বর্তমান থাকে বলে, ক্রেবস চক্রকে TCA (Tricarboxylic acid) চক্র বলে।
একটি সজীব কোশ থেকে সমস্ত মাইটোকনড্রিয়া অপসারিত করলে কোন্ কাজটি ব্যাহত হবে?
একটি সজীব কোশ থেকে সমস্ত মাইটোকনড্রিয়া অপসারিত করলে সবাত শ্বসনের ক্রেবস চক্র পর্যায়টি ব্যাহত হবে। সামগ্রিকভাবে কোশে শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে কোশের বিপাকীয় কাজগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কোশটির মৃত্যু ঘটবে।
ক্রেবস চক্রের তাৎপর্যগুলি লেখো।
ক্রেবস চক্রের তাৎপর্য –
- ক্রেবস চক্র হল শর্করা, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিডের জারণের সাধারণ (Common) পথ।
- জীবকোশে উৎপাদিত বেশিরভাগ বিজারিত সহউৎসেচক NADH + H+ ও FADH₂ ক্রেবস চক্রের সময় সংশ্লেষিত হয়।
- ক্রেবস চক্রে সৃষ্ট বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ সংশ্লেষে ব্যবহৃত হয়। যেমন – সাকসিনিল CoA, ক্লোরোফিল, হিমোগ্লোবিন প্রভৃতি সংশ্লেষে সাহায্য করে।
- ক্রেবস চক্রে উৎপাদিত NADH₂ ও FADH₂ থেকে 22 অণু ATP এবং GTP থেকে 2 অণু ATP উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ, মোট 24 অণু ATP উৎপন্ন হয়।
- ক্রেবস চক্র গ্লাইঅক্সিলেট চক্রের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে।
- α-কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড ও অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড নাইট্রোজেন বিপাকের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
বায়ুজীবী জীব ও অবায়ুজীবী জীব বলতে কী বোঝায়?
বায়ুজীবী জীব – যে সকল জীব বাতাসের মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে খাদ্যবস্তুর (শ্বসনবস্তু) জারণ ঘটায়, তাদের বায়ুজীবী জীব বলে। এরা মুক্ত অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। যেমন – উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণী।
অবায়ুজীবী জীব – যে সকল জীব বাতাসের মুক্ত অক্সিজেনের পরিবর্তে অক্সিজেনযুক্ত যৌগ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে খাদ্যবস্তুর (শ্বসনবস্তু) জারণ ঘটায়, তাদের অবায়ুজীবী জীব বলে। এরা মুক্ত অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া।
উন্নত জীবের অবাত শ্বসন ঘটে না কেন?
উন্নত জীবের দৈহিক ও শারীরবৃত্তীয় কাজের জটিলতার জন্য জীবনধারণের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়। অবাত শ্বসনে খাদ্যবস্তুর আংশিক জারণ ঘটে ও আংশিক শক্তির মুক্তি ঘটে, ফলে এর দ্বারা অধিক শক্তির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। একারণে উন্নত জীবে অবাত শ্বসন ঘটে না।
দুটি সন্ধানকারী জীবের নাম লেখো।
ইস্ট (স্যাকারোমাইসিস সেরিভিসি) – কোহল সন্ধান। ল্যাকটোব্যাসিলাস ল্যাকটিস – ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান।
অবাত শ্বসনকারী দুটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ও সালফার ব্যাকটেরিয়া।
অবাত শ্বসনকারী একটি এককোশী ও বহুকোশী প্রাণীর নাম লেখো।
অবাত শ্বসনকারী এককোশী প্রাণী হল মনোসিস্টিস এবং বহুকোশী প্রাণী হল ফিতাকৃমি।
অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন কাকে বলে?
সবাত শ্বসনের শেষ পর্যায়ে ইলেকট্রন স্থানান্তরকরণ পদ্ধতিতে ইলেকট্রন ও হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর আণবিক অক্সিজেনের (O₂) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে ATP উৎপাদনের পদ্ধতিকে অক্সিডেটিভফসফোরাইলেশন (Oxidative phosphorylation) বলে।
সাবস্ট্রেট লেভেল ফসফোরাইলেশন কাকে বলে?
উৎসেচকের উপস্থিতিতে শ্বসনবস্তুর জারণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দ্বারা ATP উৎপাদনকে সাবস্ট্রেট লেভেল ফসফোরাইলেশন বলে।
শ্বাসরঞ্জক কাকে বলে?
শ্বাসবায়ু পরিবহণে সাহায্যকারী রঞ্জক কণিকাদের শ্বাসরঞ্জক বলে। যেমন – হিমোগ্লোবিন, হিমোসায়ানিন ইত্যাদি।
বন্ধ জমা জলে কেরোসিন তেল ঢেলে দিলে মশার লার্ভার কোন্ জৈবিক কাজ ব্যাহত হবে? এর দ্বারা মানুষ কীভাবে উপকৃত হয়?
মশার লার্ভার শ্বাসকার্য ব্যাহত হবে। কারণ বদ্ধ জমা জলে কেরোসিন তেল ঢেলে দিলে তেল জলের উপরিতলে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে লার্ভার শ্বাসঅঙ্গের (সাইফন) খোলা ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং লার্ভা বাতাস থেকে সরাসির অক্সিজেন নিতে পারে না ও মারা যায়।
এর দ্বারা মশার বংশবিস্তার রোধ হয় এবং মানুষ মশাবাহিত রোগের হাত থেকে রেহাই পায়।
ব্যাঙের মুখ হাঁ করিয়ে রাখলে কোন্ জৈবিক কাজটি ব্যাহত হবে এবং কেন?
ব্যাঙের শ্বাসকার্য ব্যাহত হবে। কারণ ব্যাং মুখ বন্ধ রেখে গৃহীত বাতাসকে ফুসফুসে ঠেলে দেয়। মুখ হাঁ করিয়ে রাখলে এদের ফুসফুসে বাতাস সঠিক ভাবে প্রবেশ করে না ফলে শ্বাসকার্য ব্যাহত হয় ও ব্যাং মারা যায়।
পেশির ক্লান্তি বলতে কী বোঝো? কীভাবে এই ক্লান্তি দূরীভূত হয়?
জীবের কায়িক পরিশ্রম, যেমন – ব্যায়াম, দৌড়াদৌড়ি বেশি হলে ঐচ্ছিক পেশিতে অক্সিজেনের সরবরাহ না হওয়ায় অবাত শ্বসন চলতে থাকে এবং কোশে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমতে থাকে। ফলে, পেশি অম্ল হয় এবং সংকুচিত হওয়ার ক্ষমতা হারায়। এই অবস্থাকে পেশির ক্লান্তি বলে।
কিছুক্ষণ বিশ্রাম গ্রহণ করলে পেশিকোশ থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড দূরীভূত হয় এবং পেশি আবার কার্যক্ষমতা ফিরে পায়।
শ্বাসকার্যে মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামের ভূমিকা লেখো।
শ্বাসকার্যে মধ্যচ্ছদার বা ডায়াফ্রামের ভূমিকা –
- মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়ে উদর গহ্বরের দিকে নেমে যায়। এরফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় ও স্থিতিস্থাপক ফুসফুস প্রসারিত হয়। এই সময় ফুসফুসের মধ্যেকার বায়ুর চাপ কমে যায় ও প্রশ্বাস ঘটে।
- অপরপক্ষে মধ্যচ্ছদার প্রসারণ ঘটে বক্ষগহ্বরের দিকে উঠে যায়। এর ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে ও ফুসফুস সংকুচিত হয়। এই সময় ফুসফুসের মধ্যেকার বায়ুচাপ বৃদ্ধি পায় ও নিশ্বাস ঘটে।
শ্বাসকার্যে ইন্টারকস্টাল পেশির ভূমিকা উল্লেখ করো।
ইন্টারকস্টাল পেশি দুটি পঞ্জরাস্থির মাঝখানে পাশাপাশি তির্যকভাবে অবস্থান করে। এই সমস্ত পেশিদের সংকোচনের ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে ও প্রশ্বাস ঘটে এবং এদের প্রসারণ ঘটলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে ও নিশ্বাস ঘটে।
ETS -এর সম্পূর্ণ নাম লেখো। এটি কোথায় অবস্থিত?
ETS = Electron Transport System (ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম)।
ETS মাইটোকনড্রিয়া অন্তঃপর্দায় উপস্থিত থাকে।
একটি আরশোলার দেহের দুপাশে ভেসলিনের প্রলেপ দিয়ে ছেড়ে দিলে তার কোন্ জৈবিক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
আরশোলার দেহের উভয় পার্শ্বে ভেসলিনের প্রলেপ লাগালে আরশোলার শ্বাসকার্য তথা শ্বসনক্রিয়া ব্যাহত হবে। কারণ, আরশোলার প্রতিটি দেহখণ্ডকের উভয় পার্শ্বে একটি করে মোট দশজোড়া শ্বাসছিদ্র থাকে। এই শ্বাসছিদ্র বা স্পাইরাকলগুলি শ্বাসনালীর সঙ্গে যুক্ত থেকে বাতাস থেকে শ্বাসবায়ু সংগ্রহ করে দেহের ভিতর পাঠিয়ে দেয়।
তাই শ্বাসছিদ্রগুলি ভেসলিন দ্বারা বন্ধ হয়ে গেলে শ্বাসবায়ু প্রবেশ করতে পারবে না এবং শ্বাসকার্য ব্যাহত হওয়ার কারণে আরশোলাটির মৃত্যুও ঘটতে পারে।
নিষ্ক্রিয় ধূমপায়ীদের কাছে ধূমপান অধিক ক্ষতিকর কেন?
নিষ্ক্রিয় ধূমপায়ীদের কাছে ধূমপান অধিকতর ক্ষতিকর, কারণ তারা দুই ধরনের ধোঁয়া, যেমন – এক, ধূমপায়ীদের ত্যাগ করা ও দুই, সিগারেট পোড়ার ধোঁয়া গ্রহণ করেন। এই ধরনের ধোঁয়ার মধ্যে কিছু কারসিনোজেন (Carcinogens) থাকে, যেমন – বেঞ্জিন 1-3 বিউটাডাইন, বেঞ্ঝোপাইরিন প্রভৃতি এবং কিছু টক্সিন থাকে যেমন – নিকোটিন। এরা বাতাসের সঙ্গে মিশে লঘু হয়ে সহজেই রক্তের সঙ্গে মিশে যায় এবং বাতাসেও অনেকক্ষণ ধরে এর প্রভাব থাকে, যা নিষ্ক্রিয় ধূমপায়ীদের ফুসফুস ও তার O₂ level -কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে, শিশুদের মধ্যে SIDS (Sudden Infant Death Syndrome), ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা, মেনিনজাইটিস ও কাশি প্রভৃতি রোগ দেখা যায়।
শ্বাস ব্যায়াম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত হালকা প্রকৃতির ব্যায়াম করার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের গতি প্রায় 60-80% বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব হয়, তাদের শ্বাস ব্যায়াম বলে। যেমন – অনুলোম-বিলোম, কপালভাতি প্রভৃতি প্রাণায়াম, এরোবিক্স, সাঁতার কাটা প্রভৃতি।
হাইপারভেন্টিলেশন বলতে কী বোঝো?
বারবার বেলুন ফোলানো বা ইচ্ছাকৃত ভাবে জোরে প্রশ্বাস গ্রহণ ও নিশ্বাস ত্যাগ করার হালকা শ্বাস ব্যায়ামকে হাইপারভেন্টিলেশন বলে।
হাইপারভেন্টিলেশনের মাধ্যমে ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
পাখিদের শ্বসনকে দ্বিশ্বসন বলে কেন?
পাখিদের দুটি ফুসফুসে মোট 9টি বায়ুথলি যুক্ত থাকে। আকাশে ওড়ার সময় এরা বায়ুথলির মধ্যে সঞ্চিত বায়ুর অক্সিজেনকে ব্যবহার করে। প্রশ্বাস ও নিশ্বাস উভয় সময়কালেই ফুসফুসের মধ্যে দিয়ে দুবার গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে বলে এদের শ্বসনকে ‘দ্বিশ্বসন’ বলা হয়।
মানুষের শ্বাসনালীতে বায়ু না থাকলেও চুপসে যায় না কেন?
উত্তর। মানুষের শ্বাসনালীতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর 16-20টি তরুণাস্থি নির্মিত C-আকৃতির ট্রাকিয়াল রিং বর্তমান। এই রিংগুলির অবস্থানের কারণে শ্বাসনালীর প্রাচীর দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক হয় এবং বায়ুশূন্য বা বায়ু না থাকলেও শ্বাসনালী চুপসে যায় না।
এপিগ্লটিস কোথায় অবস্থিত? কাজ কী?
ইলাস্টিক তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত পত্রাকার এপিগ্লটিস গ্লটিস ছিদ্রের ওপর অবস্থান করে।
কাজ – গলাধঃকরণের সময় খাদ্য কণাকে শ্বাসনালীতে ঢুকতে না দেওয়া।
উদ্ভিদের শ্বাসঅঙ্গের নাম ও তাদের অবস্থান ছকের মাধ্যমে উল্লেখ করো। এদের কাজ কী?
| উদ্ভিদের শ্বাসঅঙ্গ | অবস্থান |
| পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা | পাতার ত্বক, সমাঙ্কপৃষ্ঠ পাতার উভয়ত্বকে এবং বিষমপৃষ্ঠ পাতার নিম্নতলে অবস্থান করে। |
| লেন্টিসেল | বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদের কান্ডের ত্বকে। |
| শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর | সুন্দরী, গরাণ প্রভৃতি লবণাম্বু উদ্ভিদের শাখামূল। |

উদ্ভিদের শ্বাসঅঙ্গের কাজ – বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বর্জন করা।
প্রাণীদেহে বর্তমান শ্বাসঅঙ্গগুলি সম্পর্কে ধারণা দাও।
| প্রাণী | শ্বাসঅঙ্গ |
| অ্যামিবা | দেহতল (কোশপর্দা), নির্দিষ্ট শ্বাসঅঙ্গ বিহীন |
| কেঁচো, জোঁক | সিক্ত ও রক্তজালকপূর্ণ দেহত্বক |
| শ্বাসনালী বা ট্রাকিয়া | ঘাসফড়িং, আরশোলা |
| মাছ, চিংড়ি, ঝিনুক প্রভৃতি | ফুলকা |
| ব্যাং (পূর্ণাঙ্গ) | ফুসফুস, ত্বক এবং মুখবিবর – গলবিল |
| সরীসৃপ, পক্ষী এবং স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত সমস্ত প্রাণী | ফুসফুস |
প্রাণীদের দেহতল ও ত্বক কীভাবে শ্বাসকার্যে সাহায্য করে?
এককোশী প্রাণী (অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম ইত্যাদি) এবং স্পঞ্জ, হাইড্রা ইত্যাদি প্রাণী সমগ্র দেহতল দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। কেঁচোর ত্বক ভিজে ও রক্তজালকপূর্ণ হয় এবং কিউটিকল (Cuticle) নামক পাতলা আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ত্বকের রক্তজালকে প্রবেশ করে এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ত্বক থেকে নির্গত হয়ে যায়। এছাড়া কেঁচোর দেহে রক্তরসে উপস্থিত হিমোগ্লোবিন নামক শ্বাসরঞ্জক রক্তে অক্সিজেন পরিবহণে সাহায্য করে। ব্যাঙের ভিজে চামড়াও অসংখ্য রক্তজালকপূর্ণ হওয়ায় ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদানপ্রদানে সক্ষম। বিশেষ করে ব্যাঙের শীতঘুমের সময় ফুসফুসীয় শ্বসনের হার কমে যায় এবং দেহতলের সাহায্যে শ্বসনের হার বৃদ্ধি পায়।

জলজ প্রাণীর শ্বাসকার্যে ফুলকার ভূমিকা কী?
জলজ প্রাণীর শ্বাসকার্যে ফুলকার ভূমিকা –
- মাছ, ব্যাঙাচি, চিংড়ি প্রভৃতি জলজ প্রাণীর প্রধান শ্বাসঅঙ্গ হল ফুলকা।
- চিরুনির দাঁড়ার মতো দুটি সারিতে বিন্যস্ত ফুলকা ফিলামেন্ট দ্বারা ফুলকা গঠিত হয়।
- প্রতিটি ফুলকা ফিলামেন্ট অসংখ্য ফুলকা ল্যামেলা দ্বারা গঠিত।
- অস্থি দ্বারা নির্মিত ফুলকা রড ও ফুলকা রেকাবের সঙ্গে ফুলকা ফিলামেন্ট যুক্ত থাকে।
- ফুলকাগুলি রক্তজালক সমৃদ্ধ হওয়ায় জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুলকার রক্তজালকের রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড একইভাবে ফুলকার মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

শ্বাসছিদ্র ও শ্বাসনালী কীভাবে পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণীদের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে?
শ্বাসছিদ্র ও শ্বাসনালীর শ্বাসকার্যে ভূমিকা –
- আরশোলা, প্রজাপতি, ফড়িং প্রভৃতি পতঙ্গশ্রেণির প্রাণীদের প্রধান শ্বাসঅঙ্গ হল শ্বাসছিদ্র ও শ্বাসনালী।
- দুটি বক্ষদেশীয় ও আটটি উদরদেশীয় শ্বাসছিদ্র বা স্পাইরাকলের সাহায্যে বাতাসের O₂ দেহে প্রবেশ করে এবং প্রথমে শ্বাসনালী ও পরে ট্রাকিওলের সাহায্যে কোশে পৌঁছায়।
- কোশে যে CO₂ উৎপন্ন হয় তার অল্প কিছুটা শ্বাসনালী ও শ্বাসছিদ্রের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়। বেশিরভাগ CO₂ সরাসরি ত্বকের সাহায্যে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

বুকগিল ও বুকলাং কী?
বুকগিল (Book Gill) – রাজকাঁকড়া (Limulus), চিংড়ি ইত্যাদি জলজ সন্ধিপদী প্রাণীদের শ্বাসঅঙ্গ হল বুকগিল। বুকগিল বইয়ের পাতার মতো রক্তজালকপূর্ণ ল্যামেলা দ্বারা গঠিত যা দেহের উদর অংশের দুপাশে অবস্থিত। রক্তজালকপূর্ণ হওয়ায় জল থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O₂ গ্রহণ করে ও CO₂ ত্যাগ করে।
বুকলাং (Book Lung) – মাকড়সা, কাঁকড়াবিছার শ্বাসঅঙ্গ হল বুকলাং, যা অসংখ্য বইয়ের পাতার মতো অংশ (ল্যামেলি) দ্বারা গঠিত। এই ল্যামেলিগুলি রক্তজালকপূর্ণ হয় এবং ব্যাপন পদ্ধতিতে গ্যাসীয় বিনিময়ে (O₂ ও CO₂) অংশগ্রহণ করে।
ফুসফুসের কার্যকরী মডেলের সাহায্যে মানুষের শ্বাসপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
উপকরণ –
- চওড়া প্লাস্টিকের বোতল,
- একটি Y আকৃতির কাচনল,
- রবার স্টপার,
- রবারের পাতলা চাদর (Sheet),
- সুতো,
- দুটি একই আকারের বেলুন।

পরীক্ষা পদ্ধতি –
- একটি চওড়া প্লাস্টিক বোতলের (= বক্ষগহ্বর) নীচের অংশটি কেটে তার ভিতর একটি Y আকৃতির নল খুব সাবধানে এমনভাবে প্রবেশ করানো হল যাতে Y -এর দুটি বাহু নীচের দিকে থাকে। বোতলের ওপরের দিকে একটি রবার স্টপার লাগানো হল।
- নলের দুই প্রান্তে ছোটো দুটি বেলুন (= ফুসফুস) আটকানো হল। বোতলের নীচে রবারের পাতলা চাদর (ডায়াফ্রাম) শক্ত করে আটকানো হল।
- রবারের চাদরটি (ডায়াফ্রাম) টেনে নীচে নামালে বোতলের মুখ দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে বেলুন ফুলে উঠবে (প্রশ্বাস ক্রিয়া)। রবারের চাদরটি ছেড়ে দিলে তা বোতলের ভিতর দিকে প্রবেশ করবে। ফলে বোতলের মুখ দিয়ে বায়ু নির্গত হবে এবং বেলুন দুটি চুপসে যাবে (নিশ্বাস ক্রিয়া)।
বহিঃশ্বসন ও অন্তঃশ্বসন বলতে কী বোঝো?
বহিঃশ্বসন (External Respiration) – শ্বাসঅঙ্গের পরিধিতলের মাধ্যমে প্রশ্বাস বায়ুর সঙ্গে রক্তজালকস্থিত রক্তের O₂ ও CO₂ আদানপ্রদানকে বহিঃশ্বসন বলে।
অন্তঃশ্বসন (Internal Respiration) – কলাকোশ, কলারস ও রক্তের মধ্যে O₂ ও CO₂ -এর আদানপ্রদানকে অন্তঃশ্বসন বা কলাশ্বসন বলে।
রক্ত থেকে O₂ কলারসে এবং কলারস থেকে CO₂ রক্তে প্রবেশ করে। কলারসে CO₂ ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণ হল কোশীয় শ্বসনের ফলে উৎপন্ন CO₂ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কলারসে এসে সঞ্চিত হয়।
জীবের বেঁচে থাকার জন্য কোশীয় শ্বসন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- সজীব কোশে শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি ATP -এর মধ্যে আবদ্ধ হয় এবং এনার্জি কারেন্সিরূপে ব্যবহৃত হয়।
- জীবের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ হল ATP। জীবদেহের যাবতীয় জৈবিক, শারীরবৃত্তীয় এবং বিপাকীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। ATP এই শক্তির জোগান দেয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় CO₂ উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশে নির্গত হয়। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় এই CO₂ পরিবেশ থেকে গ্রহণ করে। খাদ্যের মধ্যে সৌরশক্তি স্থৈতিকশক্তি (রাসায়নিক শক্তি) রূপে আবদ্ধ হয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের জারণের মাধ্যমে এই স্থৈতিকশক্তিই গতিশক্তিরূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বেঁচে থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলি ঘটাতে সাহায্য করে।
শ্বাসকার্যের হার কাকে বলে? ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায় কেন?
শ্বাসক্রিয়ার হার – বিশ্রামরত অবস্থায় প্রতিমিনিটে যতবার শ্বাসক্রিয়া ঘটে (প্রশ্বাস ক্রিয়ার সংখ্যা ও নিশ্বাসক্রিয়ার সংখ্যা), তাকে শ্বাসকার্যের হার বলে।
প্রতি মিনিটে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির শ্বাসক্রিয়ার হার হল 14-15 বার অর্থাৎ, গড়ে 16 বার।
- ব্যায়ামের সময় কলাকোশে O₂ -র চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ব্যায়ামের ফলে যে অতিরিক্ত পরিশ্রম হয় তার জন্য বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। বেশি শক্তির চাহিদা পূরণ করার জন্য বেশি খাদ্যবস্তু জারণের প্রয়োজন ঘটে এবং খাদ্যবস্তু জারণের জন্য প্রয়োজন হয় বেশি অক্সিজেনের (O₂)1
- অন্যদিকে কোশে বেশি হারে শ্বসনক্রিয়ার ফলে বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয় যা নিশ্বাস ক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত করা হয়।
- সুতরাং, বেশি অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ (প্রশ্বাস) ও অন্যদিকে, বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের দ্রুত নির্গমনের (নিশ্বাস) জন্য সামগ্রিকভাবে শ্বাসক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায়।
ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা কত? ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে শ্বাসব্যায়ামের ভূমিকা লেখো।
ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা 4.5 লিটার বা 4500 মিলিমিটার।
- প্রতিদিন শ্বাসব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। যোগাসন ও ধ্যানকে অন্যতম প্রধান শ্বাসব্যায়ামরূপে গণ্য করা হয়।
- বৃক্ষাসন, উষ্ট্রাসন প্রভৃতি যোগাসনের মাধ্যমে ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- প্রাণায়াম-এর সময় গভীর শ্বাসকার্য অর্থাৎ, বলপূর্বক শ্বাসগ্রহণ ও শ্বাসবর্জন বায়ুধারণ ক্ষমতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- জগিং, সাঁতার, অ্যারোবিক্স প্রভৃতি দ্বারাও ফুসফুসের বায়ুধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

শ্বসন নিয়ন্ত্রণকারী বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শর্তগুলি কী কী?
বাহ্যিক শর্তাবলি –
- অক্সিজেন – অক্সিজেনের পরিমাণ কমলে শ্বসনের হার কমে।
- কার্বন ডাইঅক্সাইড – কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়লে শ্বসনের হার কমে।
- উষ্ণতা – 45°C -এর উচ্চ তাপমাত্রায় শ্বসনের হার কমে যায়।
অভ্যন্তরীণ শর্তাবলি –
- খাদ্য – গ্লুকোজজাতীয় খাদ্য বা সাবস্ট্রেটের পরিমাণ বাড়লে শ্বসনের হার বাড়ে।
- কোশের প্রোটোপ্লাজম – সজীব ও সক্রিয় প্রোটোপ্লাজমে শ্বসনের হার দ্রুত হয়।
- জল – কোশে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বসনের হার বৃদ্ধি পায়।
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসন কীভাবে একসঙ্গে হয়, তা আলোচনা করো।
সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসনের সম্পর্ক – সালোকসংশ্লেষ এবং শ্বসন দুটি বিপরীতধর্মী প্রক্রিয়া, একে অপরের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল।
- দিবারাত্রি শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে CO₂ উৎপন্ন হয়। এই CO₂ সালোকসংশ্লেষে প্রয়োজন হয়। সুতরাং, সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া CO₂ -এর জন্য শ্বসনের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
- শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জীবের O₂ -এর প্রয়োজন হয়। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় এই O₂ উৎপন্ন হয়। তাই প্রয়োজনীয় O₂ সংগ্রহের জন্য শ্বসন প্রক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষের ওপর নির্ভরশীল।
- আবার সালোকসংশ্লেষে উৎপাদিত গ্লুকোজ শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট ও জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।

সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসনকে পরস্পর বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া কেন বলা হয়? তা বুঝিয়ে লেখো
নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসনকে বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া বলা হয় –
- সালোকসংশ্লেষ উপচিতিমূলক, কিন্তু শ্বসন অপচিতিমূলক বিপাক।
- সালোকসংশ্লেষে কোশে গ্লুকোজ অণুর সংশ্লেষ ঘটে, কিন্তু শ্বসনে কোশে সঞ্চিত গ্লুকোজ অণু ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- সালোকসংশ্লেষে উপজাত বস্তুরূপে যে O₂ নির্গত হয়, তা শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ অণুর দহনে ব্যবহৃত হয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন CO₂ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ অণুর গঠনে ব্যবহৃত হয়।
শ্বসন প্রক্রিয়ার তাৎপর্যগুলি আলোচনা করো।
শ্বসন প্রক্রিয়ার তাৎপর্য –
- শক্তির মুক্তি ও রূপান্তর –
- শ্বসন প্রক্রিয়ার সাহায্যে খাদ্য মধ্যস্থ স্থৈতিক শক্তি গতিশক্তিরূপে মুক্ত হয়। এই শক্তির কিছুটা অংশ ATP -র মধ্যে আবদ্ধ হয় এবং এনার্জি কারেন্সিরূপে ব্যবহৃত হয়।
- উৎপাদিত শক্তি জোনাকি এবং গভীর সমুদ্রের প্রাণীর দেহে (যেমন – সেপিয়া, ললিগো প্রভৃতি) জৈব আলোতে রূপান্তরিত হয় এবং আলো বিকীর্ণ করে।
- ইলেকট্রিক রে মাছের দেহে উৎপাদিত বিদ্যুৎও শ্বসনে উৎপাদিত শক্তির রূপান্তর বিশেষ।
- প্রাণীদেহে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ – উষ্ণশোণিত প্রাণীর দেহে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে শ্বসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পরিবেশে O₂-CO₂ ভারসাম্য রক্ষা – শ্বসনে উৎপাদিত CO₂ পরিবেশে নির্গত হয় এবং উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত হয়। অন্যদিকে উদ্ভিদ O₂ ত্যাগ করে এবং জীব শ্বাসকার্যের মাধ্যমে তা গ্রহণ করে ও শ্বসন ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, পরিবেশে O₂-CO₂ ভারসাম্য রক্ষায় শ্বসন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।
“শক্তির মুক্তি” ও “O₂-CO₂ ভারসাম্য রক্ষায়” শ্বসনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
শ্বসনে শক্তির মুক্তি ঘটে –
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে এবং সৌরশক্তি স্থৈতিক শক্তিরূপে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ হয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের জারণ ঘটে এবং স্থৈতিক শক্তি গতিশক্তিরূপে মুক্ত হয়।
- নির্গত শক্তির 40% ATP উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এবং 60% তাপশক্তিরূপে দেহ থেকে মুক্ত হয়।
- ATP জীবদেহের যাবতীয় কার্যাবলি (যেমন – পুষ্টি, বৃদ্ধি, চলন, গমন, জনন প্রভৃতি) সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়।
- জোনাকি, সেপিয়া, ললিগো প্রভৃতি প্রাণীদের দেহে শ্বসনে উৎপন্ন শক্তি উত্তাপবিহীন আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রিক রে নামক সামুদ্রিক মাছের দেহে শ্বসনে উৎপন্ন শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
O₂-CO₂ ভারসাম্য রক্ষায় স্বসন প্রক্রিয়া –
- বায়ুমণ্ডলে O₂ -র স্বাভাবিক মাত্রা হল 20.60% এবং CO₂ -র স্বাভাবিক মাত্রা হল 0.03%।
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যের জারণের জন্য O₂ গৃহীত হয় এবং খাদ্য জারণের ফলে পরিবেশে CO₂ নির্গত হয়।
- অন্যদিকে পরিবেশ থেকে অপসারিত O₂ পূরণ করে সবুজ উদ্ভিদ (সালোকসংশ্লেষ) এবং নির্গত CO₂ খাদ্য তৈরির জন্য সবুজ উদ্ভিদ দ্বারা গৃহীত হয়।
- এভাবে শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষ এই দুই বিপরীতধর্মী বিপাকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে O₂- CO₂ ভারসাম্য বজায় থাকে।

শ্বাসমূল কাকে বলে? এর কাজ কী?
লবণাম্বু বা হ্যালোফাইট উদ্ভিদের যে-সমস্ত শাখামূলগুলি অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপর উঠে আসে এবং শ্বাসকার্যে অংশগ্রহণ করে, তাদের শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর বলা হয়।
শ্বাসমূলের বৈশিষ্ট্য –
- মূলগুলি খোঁটা বা গোঁজের মতো গঠনযুক্ত এবং খাড়াভাবে মাটির ওপরে উঠে আসে।
- মূলগুলির বাইরে কাষ্ঠল আবরণ থাকে।
- শ্বাসমূলের অগ্রভাগে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে।
শ্বাসমূলের কাজ – লবণাম্বু উদ্ভিদ অধিক লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়। এই মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকার জন্য উদ্ভিদ মূলের শ্বাসকার্য ব্যাহত হয়। এই অসুবিধা দূর করার উদ্দেশ্যে লবণাম্বু উদ্ভিদের শাখাপ্রশাখামূলগুলি মাটির ওপরে উঠে আসে এবং শ্বাসকার্যে অংশগ্রহণ করে। শ্বাসছিদ্রযুক্ত শ্বাসমূলগুলি সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে।
অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র কাকে বলে? এর প্রয়োজনীয়তা লেখো।
অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র (Accessory Respiratory Organ) – কই, শিঙি, মাগুর প্রভৃতি জিয়ল মাছেদের দেহে ফুলকা ছাড়াও বায়ু থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করার জন্য যে বিশেষ শ্বাসঅঙ্গ থাকে, তাকে অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র বলে।
অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্রের গঠন –
- কইমাছের অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গটি গোলাপফুলের মতো দেখতে হয়। এটি মাথার উভয় পাশে ফুলকার কাছে উপস্থিত থাকে।
- শিঙিমাছের অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গটি নলাকার গঠনযুক্ত হয়। এটি দেহের দুপাশে ফুলকার পিছন থেকে শুরু করে পৃষ্ঠপাখনা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
- মাগুরমাছের অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গটি শাখাপ্রশাখাযুক্ত বৃক্ষের মতো (শ্বাসবৃক্ষ) দেখতে হয়। এটি ফুলকা সংলগ্ন থাকে।
অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা –
- কই, শিঙি, মাগুর প্রভৃতি জিওল মাছেরা কর্দমাক্ত জলে বসবাস করে ফলে প্রয়োজনের তুলনায় এরা কম অক্সিজেন পায়। অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে এরা সরাসরি বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে চাহিদা মেটায়।
- অনেক সময় গ্রীষ্মকালে ছোটো ছোটো জলাশয়ের জল শুকিয়ে যায়, এই সময় অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র এদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘শ্বসন’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন