এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘বাষ্পমোচন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

বাষ্পমোচন (Transpiration) কাকে বলে? উদ্ভিদদেহে প্রধান তিনপ্রকার বাষ্পমোচন পদ্ধতি সম্পর্কে লেখো।
বাষ্পমোচন (Transpiration) – প্রোটোপ্লাজম নিয়ন্ত্রিত যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বাষ্পাকারে বায়বীয় অঙ্গসমূহের (পত্ররন্ধ্র, কিউটিকল এবং লেন্টিসেল) মাধ্যমে পরিবেশে নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
উদ্ভিদদেহে প্রধানত তিনপ্রকার বাষ্পমোচন দেখা যায়। যথা –
- পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচন,
- কিউটিকিউলার বাষ্পমোচন ও
- লেন্টিসেলীয় বাষ্পমোচন।
পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচন (Stomatal Transpiration) –
যে পদ্ধতিতে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণাধীনে পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহের প্রয়োজন অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে দেহের বাইরে নির্গত হয়, তাকে পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচন বলে।
পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচনের বৈশিষ্ট্য –
- উদ্ভিদদেহে শোষিত জলের প্রায় 80 – 90% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
- সাধারণত পত্ররন্ধ্র দিনেরবেলা খোলা থাকে, সেকারণে এই প্রকার বাষ্পমোচন প্রধানত দিনেরবেলাতেই সংঘটিত হয়।

ত্বকীয় বা কিউটিকিউলার বাষ্পমোচন (Cuticular transpi-ration) –
যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদের পাতা বা কাণ্ডের বহিস্তক সংলগ্ন কিউটিকলের সাহায্যে জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়, তাকে ত্বকীয় বা কিউটিকিউলার বাষ্পমোচন বলে।
ত্বকীয় বাষ্পমোচনের বৈশিষ্ট্য –
- এই প্রকার বাষ্পমোচনে প্রায় 10% জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
- এপিডারমিসের ওপরে যে মোমের আস্তরণ থাকে, তাকে কিউটিকল বলে। এটাতে যে ফাটল দেখা দেয় তার মাধ্যমে ত্বকীয় বাষ্পমোচন ঘটে।
লেন্টিসেলীয় বাষ্পমোচন (Lenticular transpiration) –
যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কাষ্ঠল অপরিণত কান্ড ও ফলত্বকে উপস্থিত লেন্টিসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহের অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়, তাকে লেন্টিসেলীয় বাষ্পমোচন বলে।
লেন্টিসেলীয় বাষ্পমোচনের বৈশিষ্ট্য –
- গুল্ম ও বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদের কাষ্ঠল কান্ডের বাকলে, ফলত্বকে যে বিশেষ রন্ধ্র দেখা যায়, তাকে লেন্টিসেল বলে। কাণ্ডের গৌণ বৃদ্ধির সময় এই রন্ধ্র তৈরি হয়।
- মোট বাষ্পমোচনের মাত্র 0.1% জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
- খরার সময় এই প্রকার বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়।

উদ্ভিদের জলশোষণ ও বাষ্পমোচনের মধ্যে সম্পর্ক সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উদ্ভিদের জলাশাষণ ও বাষ্পমোচনের মাধ্য সম্পর্ক –
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে জল শোষণ করে।
- শোষিত জল মূল ও কাণ্ডের জাইলেম বাহিকার মধ্যে দিয়ে অভিকর্ষের বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখে বাহিত হয় এবং পাতায় পৌঁছায়।
- পাতার মেসোফিল কলায় প্রচুর সংখ্যক স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা উপস্থিত থাকে। এই সমস্ত কোশগুলি আন্তঃকোশীয় স্থানে উন্মুক্ত হয়।
- স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোশগুলি কোশপ্রাচীরে একটি পাতলা জলস্তর গঠন করে।
- এই জলস্তর থেকে জল জলীয়বাষ্পরূপে প্রথমে আন্তঃকোশীয় স্থানে এবং পরে উপপত্ররন্দ্রীয় স্থানে (Substomatal space) সঞ্চিত হয়।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ার দ্বারা এই জলীয়বাষ্প পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাইরের পরিবেশে নির্গত হয়।
- পত্ররন্ধ্র ছাড়া উদ্ভিদদেহে শোষিত জল, জলীয়বাষ্পরূপে অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল ও কিউটিকলের মাধ্যমে পরিবেশে নির্গত হয়।
- উদ্ভিদদেহে উপস্থিত অসংখ্য পাতা এইভাবে বাষ্পমোচন করে এবং জাইলেম বাহিকা থেকে জল পাতার শিরায় টেনে তোলে। একে বাষ্পমোচন টান বলে।
সুতরাং, উদ্ভিদদেহে জল শোষণ ও বাষ্পমোচন পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।


পত্ররন্ধ্র কীভাবে বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণ করে তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
পত্ররন্ধ্র দ্বারা বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণ –
- উদ্ভিদদেহে 80-90 ভাগ জল পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচনের মাধ্যমে পরিবেশে নির্গত হয়।
- দিনেরবেলা পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলে বাষ্পমোচন ঘটে এবং রাত্রিবেলা পত্ররন্ধ্র বন্ধ হলে বাষ্পমোচন বন্ধ হয়ে যায়।
- রক্ষীকোশের রসস্ফীতি বা চুপসে যাওয়ার ওপরে পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া নির্ভর করে।
- দিনেরবেলা, সালোকসংশ্লেষের ফলে রক্ষীকোশে কার্বোহাইড্রেটের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সহায়ক কোশ থেকে রক্ষীকোশে জল প্রবেশ করে ও রক্ষীকোশ ফুলে যায়।
- রক্ষীকোশের পত্ররন্ধ্রের দিকের প্রাচীর বেশি পুরু হওয়ায় এর বিপরীতদিকের পাতলা প্রাচীর ফুলে গিয়ে উত্তলাকার গঠন তৈরি করে ও পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়।
- রাত্রিবেলা সালোকসংশ্লেষ ঘটে না ফলে রক্ষীকোশে শর্করার ঘনত্ব কমে যায়। এই অবস্থায় রক্ষীকোশ থেকে জল বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে ও রক্ষীকোশ চুপসে যায়। এর ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

বাষ্পমোচনের তাৎপর্যগুলি আলোচনা করো।
বাষ্পামাচনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য –
বাষ্পমোচনের উপকারী ভূমিকা –
- জলের শোষণ প্রক্রিয়া – বাষ্পমোচনের দরুন উদ্ভিদের জাইলেম বাহিকায় টান উৎপন্ন হয় ফলে, মূলরোমের কর্টেক্স অংশে শোষণ চাপ সৃষ্টি হয়। এই শোষণ চাপের প্রভাবে মূলরোমের দ্বারা জলের বিশোষণ ঘটে।
- রসের উৎস্রোত – বাষ্পমোচনের ফলে যে চোষণ বল (Suction force) ও বাষ্পমোচন টান (Transpiration pull) তৈরি হয় তার প্রভাবে জাইলেম বাহিকার মধ্যে দিয়ে অভিকর্ষের বিপরীতে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ (রস বা Sap) ঊর্ধ্বমুখে বাহিত হয় ও পাতায় শোষিত হয়।
- জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পরিবহণ – বাষ্পমোচন উদ্ভিদদেহে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণের দ্রুত স্থানান্তরে সাহায্য করে।
- খাদ্যের পরিবহণ – বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন কলাকোশে খাদ্য পরিবহণে সহায়তা করে।
- খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া – বাষ্পমোচনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় অবিরাম জল সরবরাহ বজায় থাকে, ফলে উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন সহজ হয়।
- জলের ভারসাম্য রক্ষা – মূলরোম দ্বারা শোষিত জলের মাত্র 0.1% জল উদ্ভিদ জৈবনিক কাজে ব্যবহার করে। বাকি জল বাষ্পমোচনের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে নির্গত হয়। ফলে উদ্ভিদদেহে জলের ভারসাম্য বাষ্পমোচন প্রক্রিয়ার দ্বারা রক্ষিত হয়।
- শীতল রাখা – বাষ্পমোচন পাতার পরিধিতলের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে প্রখর সূর্যালোকেও উদ্ভিদদেহ শীতল থাকে।
বাস্পামাচনের অপকারী বা ক্ষতিকারক ভূমিকা –
- অবনমন বা উইলটিং – জল শোষণের তুলনায় বাষ্পমোচন হার বেশি হলে উদ্ভিদদেহে জলের অভাব ঘটে, ফলে উদ্ভিদ নেতিয়ে পড়ে বা অবনমিত (Wilting) হয় এবং মারা যায়।
- বৃদ্ধি থেমে যাওয়া – অতিরিক্ত বাষ্পমোচনের ফলে উদ্ভিদ দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়।
- শক্তির অপচয় – শোষিত জলের 98% বাষ্পাকারে উদ্ভিদদেহ থেকে নির্গত হয়। এক্ষেত্রে এই পরিমাণ জল শোষণে উদ্ভিদ যে শক্তি খরচ করে তার অপচয় ঘটে।
বাষ্পমোচন হার নিয়ন্ত্রণকারী শর্তগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
বাষ্পমোচনের হার কতকগুলি ভৌতপ্রভাবক বা বহিঃশর্ত এবং কতকগুলি শারীরবৃত্তীয় প্রভাবক বা অন্তঃশর্ত দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই সমস্ত শর্তগুলি হল –
বহিঃ প্রভাবক বা বহিঃশর্ত –
- সূর্যালোক – পত্ররন্ধ্রের খোলা বা বন্ধ হওয়া আলোক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায়, আলো প্রত্যক্ষভাবে বাষ্পমোচনের হারকে প্রভাবিত করে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়।
- তাপমাত্রা – পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে জলের বাষ্পায়ন ত্বরান্বিত হয়। ফলে বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়। অনুরূপভাবে তাপমাত্রা হ্রাস পেলে বাষ্পমোচনও হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। প্রধানত 20°C – 25°C তাপমাত্রা পত্ররন্ধ্রের বন্ধ হওয়া ও উন্মোচনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- CO₂ -এর ঘনত্ব – পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্বের ওপর নির্ভরশীল। কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের (0.03%) থেকে হ্রাস পেলে বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বাষ্পমোচন হ্রাস পায়। সুতরাং, কার্বন ডাইঅক্সাইডের আপেক্ষিক পরিমাণ পত্ররন্ধ্র খোলা বা বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
4. বায়ুর আর্দ্রতা – বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম হলে পত্ররন্ধ্র থেকে জলের বাষ্পায়ন তথা বাষ্পমোচন ত্বরান্বিত হয়। আবার আর্দ্রতা বাড়লে বাষ্পমোচনের হারও কম হয়।
5. বায়ুপ্রবাহ – বায়ুপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডল থেকে জলীয়বাষ্প অপসারিত হয় এবং বাষ্পমোচনের হার বাড়ে। আবার কম বায়ুপ্রবাহে বাষ্পমোচনের হার বাড়লেও অধিক বায়ুপ্রবাহের ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে গিয়ে বাষ্পমোচনের হার কম হয়।
বায়ুপ্রবাহ ∝ বাষ্পমোচনের হার
অন্তঃপ্রভাবক বা অন্তঃশর্ত সমূহ –
1. পত্রফলকের গঠন – বাষ্পমোচন পত্রকের গঠনের ওপর নির্ভরশীল থাকে, প্রসারিত পত্রফলকে পত্ররন্ধ্র ভালোভাবে উন্মুক্ত থাকে, তাই বাষ্পমোচনের হার বেশি হয় আর কুণ্ডলীকৃত পত্রকে পত্ররন্ধ্র ঢাকা থাকায় বাষ্পমোচনের হার অনেক কম হয়।
পাতার আয়তন ∝ বাষ্পমোচনের হার
2. পত্ররন্ধ্রের অবস্থান – পাতার ওপরের ত্বকে অবস্থিত পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাষ্পমোচন বেশি হবার সুযোগ থাকে, কিন্তু পাতার নিম্নত্বকের পত্ররন্ধ্র এবং নিবেশিত পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাষ্পমোচন অনেক কম হয়।
3. পত্ররন্ধ্রের গঠন ও সংখ্যা – পাতার গঠন এবং পত্ররন্ধ্রের গঠন উভয়ই বাষ্পমোচনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন – পত্ররন্ধ্র বড়ো হলে জলীয়বাষ্প নির্গত হওয়ার সুযোগ ভালো থাকে, ফলে { বাষ্পমোচন বেশি হয়, আবার পত্ররন্ধ্র খুব ছোটো হলে, জলীয়বাষ্প নির্গমনের পথে বাধা থাকায় বাষ্পমোচনও অনেক কম হয়। পাতার ত্বকে পত্ররন্ধ্র বেশি থাকলেও বাষ্পমোচন বেশি হয়, কম পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাষ্পমোচনও কম হয়।
4. প্রোটোপ্লাজম – কোশের প্রোটোপ্লাজমের ঘনত্ব বেশি হলে কোশে শোষণ চাপের সৃষ্টি হয়, ফলে উদ্ভিদদেহে জল সরবরাহ অবিরাম চলতে থাকে এবং বাষ্পমোচনের হার বাড়ে। প্রোটোপ্লাজমের ঘনত্ব কমে গেলে বাষ্পমোচনও অনেক কম হয়।
প্রোটোপ্লাজমের ঘনত্ব ∝ বাষ্পমোচনের হার
5. হরমোন – সাইটোকাইনিন, অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড প্রভৃতি হরমোন রক্ষীকোশের ভেদ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে পত্ররন্দ্রের খোলা বা বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রিত হয়, যা বাষ্পমোচনের হারকে নিয়ন্ত্রণ করে।
বেলজারের সাহায্যে বাষ্পমোচনের পরীক্ষা সম্পর্কে লেখো।
উপকরণ –
- একটি টবসহ সতেজ চারাগাছ,
- একটি বেলজার,
- কিছুটা রবার ক্লথ,
- সুতো,
- ভেসলিন ও
- ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড (CaCl₂)।
পরীক্ষা পদ্ধতি –
- রৌদ্রপূর্ণ স্থানে একটি টেবিলের ওপর টবসহ গাছটি রাখা হল। টবের মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দেওয়া হল।
- টবের মাটি একটি পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে এমনভাবে ঢেকে কান্ডের গোড়ায় বাঁধা হল যাতে টবের মাটি থেকে জলীয়বাষ্প বাইরে বের হতে না পারে।
- এবার টবটিকে বেলজার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল। বেলজার মধ্যস্থ বায়ু থেকে জলীয়বাষ্প শোষণ করার জন্য ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড (CaCl₂) ব্যবহৃত হল।
- টেবিল-বেলজারের সংযোগস্থলে ভেসলিন প্রলেপ দিয়ে বায়ুনিরুদ্ধ (air tight) করা হল। সমগ্র ব্যবস্থাটিকে সূর্যালোকপূর্ণ স্থানে রাখা হল।

পর্যবেক্ষণ – কয়েক ঘণ্টা পর দেখা যাবে যে বেলজারের ভিতরের গায়ে বিন্দু বিন্দু জলকণা জমা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত – টবের মাটি ঢাকা থাকায় মাটির জল বাষ্পীভূত হতে পারেনি। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র চারাগাছটির পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল বাষ্পীভূত হয়েছে এবং বেলজারের ঠান্ডা বায়ুর সংস্পর্শে এসে জলকণায় পরিণত হয়েছে।
পোটোমিটার কী? বাষ্পমোচনের হার নির্ণয়ে পোটোমিটারের ভূমিকা লেখো।
পোটোমিটার – যে যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদদেহে বাষ্পমোচনের হার নির্ণয় করা হয়, তাকে পোটোমিটার (Potometer; potos = drink, meter = measure) বলে।
বাষ্পমোচনের হার নির্ণয়ে পোটোমিটারের ভূমিকা –
গ্যানং পোটোমিটার (Ganong’s Potometer)-এর বর্ণনা –
- অংশাঙ্কিত (marked) একটি গ্লাসনলের বাঁকানো প্রান্ত একটি জলের পাত্রে ডোবানো থাকে এবং অন্য প্রান্তটি একটি উল্লম্ব নলাকার গঠন তৈরি করে। এই প্রান্তটি কর্কযুক্ত হয়।
- অনুভূমিকভাবে অবস্থানরত নলটি আর একটি জলপাত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

পরীক্ষা পদ্ধতি –
- সমগ্র যন্ত্রটি জল দ্বারা পূর্ণ করা হয়।
- একটি কর্তিত গাছের ডগা (কয়েকটি পাতাযুক্ত) কর্কের সাহায্যে উল্লম্ব নলে এমনভাবে আটকানো হল যাতে কাটা প্রান্তটি নলে জলের মধ্যে ডুবে থাকে।
- কয়েক ফোঁটা ইওসিন দিয়ে জলাধারের জলকে রঙিন করা হল।
- বাষ্পমোচন শুরু হলে অনুভূমিক নলে রঙিন জল প্রবেশ করতে শুরু করে।
- এরপর অনুভূমিক নলের বাঁকানো প্রান্তটি সরিয়ে একটি বুদবুদ প্রবেশ করানো হল।
- পুনরায় অনুভূমিক নলের বাঁকানো প্রান্তটিকে জলাধারের রঙিন জলে ডুবিয়ে দেওয়া হল।
পর্যবেক্ষণ –
- অনুভূমিক নলে বুদবুদের স্থান পরিবর্তন ঘটে এবং এটি কর্তিত চারাগাছের দিকে অগ্রসর হয়।
- বুদবুদ কতটা স্থান পরিবর্তন করেছে তা লিপিবদ্ধ করা হল।
সিদ্ধান্ত –
উদ্ভিদ পাতা দিয়ে বাষ্পমোচনের ফলে নিম্নাংশে জলে যে টান পড়ে, তার দ্বারা বায়ু বুদবুদটি অনুভূমিক নলের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়।
বাষ্পমোচনের হার নির্ণয় –
মনে করা হল, বায়ু বুদবুদের প্রথম স্থান = x cm।
নির্দিষ্ট সময় পর বায়ু বুদবুদের পরিবর্তিত স্থান = y cm।
সুতরাং, বায়ু বুদবুদের স্থান পরিবর্তন = (y-x) cm।
নির্দিষ্ট সময়ে বাষ্পাকারে নির্গত জলের পরিমাণ = πr²(y – x) mL
(যেখানে, πr² = অংশাঙ্কিত নলের ক্ষেত্রফল)
mL/sq cm/min
এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘বাষ্পমোচন’ অংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন