এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘বাষ্পমোচন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

বাষ্পমোচন কখন হয়?
বাষ্পমোচন প্রধানত দিনেরবেলায় ঘটে, কারণ বেশিরভাগ উদ্ভিদের পাতার পত্ররন্ধ্রগুলি দিনেরবেলাতে খোলা থাকে।
বাষ্পমোচনের স্থানগুলি উল্লেখ করো।
বাষ্পমাচনের স্থান –
- পত্ররন্ধ্র,
- কিউটিকল ও
- লেন্টিসেল।
পত্ররন্ধ্র (Stomata) কী?
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতার নিম্নতলে ও একবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতার উভয় তলের ত্বকে, রক্ষীকোশ দ্বারা বেষ্টিত যে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে, তাদের পত্ররন্ধ্র (Stomata) বলে।
পত্ররন্ধ্রের গঠন সংক্ষেপে লেখো।
পত্ররন্ধ্রের গঠন –
- প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি পরস্পর সংলগ্ন বৃক্কাকার রক্ষীকোশ দ্বারা বেষ্টিত থাকে।
- প্রতিটি পত্ররন্ধ্রের ঠিক নীচে বায়ুগহ্বর থাকে।
- রক্ষীকোশ ঘন সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, ক্লোরোপ্লাস্ট যুক্ত হয়। রক্ষীকোশগুলিকে বেষ্টন করে যে কোশগুলি থাকে, তাদের সহকারী বা আনুষঙ্গিক কোশ বলে।
কিউটিকল (Cuticle) কী?
উদ্ভিদের পাতা ও কচি কাণ্ডের বহিস্তক বা এপিডারমিসের ওপর কিউটিন নির্মিত যে মোমের আস্তরণ থাকে, তাকে কিউটিকল বলে।
কিউটিকল-এ উপস্থিত ফাটলের মাধ্যমে কিউটিকিউলার বাষ্পমোচন ঘটে।
লেন্টিসেল (Lenticel) কী?
গুল্ম ও বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদের কাষ্ঠল কাণ্ডের বাকলে, ফলত্বকে যে বিশেষ লেন্স আকৃতির রন্ধ্র দেখা যায়, তাকে লেন্টিসেল বলে।
হাইডাথোড বা জলরন্ধ্র কাকে বলে? এর কাজ কী?
জলরন্ধ্র – কিছু কিছু বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদের পাতার কিনারায় ও অগ্রভাগে উপস্থিত যে-সমস্ত বহুকোশী বহিস্থ গ্রন্থি জল ও জলে দ্রবীভূত লবণের বহিঃক্ষরণ ঘটায়, তাদের জলরন্ধ্র বা হাইডাথোড (Hydathodes) বলে। যেমন – কচু, টম্যাটো পাতায় জলরন্ধ্র দেখা যায়।
কাজ – উদ্ভিদে মূলজ চাপ বৃদ্ধি পেলে এবং বাষ্পমোচন বন্ধ থাকলে বা কমে গেলে জলরন্ধ্রের মাধ্যমে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ উদ্ভিদদেহের বাইরে পরিত্যক্ত হয়।
বাষ্পমোচনের সঙ্গে রসের উৎস্রোতের সম্পর্ক লেখো।
বাষ্পমোচনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় বাষ্পমোচন টান -এর সৃষ্টি হয়। এই টানের প্রভাবে মূলরোম দ্বারা শোষিত জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ বা রস (Sap) জাইলেম বাহিকার মধ্যে দিয়ে ঊর্ধ্বমুখে বাহিত হয়ে পাতায় পৌঁছায়। একে রসের উৎস্রোত (Ascent of Sap) বলে। অর্থাৎ, বাষ্পমোচনের সঙ্গে রসের উৎস্রোতের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বর্তমান।
গাছ বসানোর সময় কিছু পাতা কেটে ফেলা হয় কেন?
গাছ বসানোর সময় কিছু পাতা কেটে ফেলার কারণ হল বাষ্পমোচন হার কমিয়ে দেওয়া। সদ্য মাটিতে বসানো গাছে বেশি বাষ্পমোচন ঘটলে গাছটি জলাভাবে মারা যেতে পারে।
ক্যাকটাসের পাতাগুলি কাঁটায় পরিণত হওয়ায় কী সুবিধা হয়েছে?
ক্যাকটাস মরুভূমির শুষ্ক অঞ্চলে জন্মায়। এদের পাতাগুলি কাঁটায় পরিণত হওয়ার ফলে এদের পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কমে যায় এবং বাষ্পমোচন হার অনেক কমে যায়। বাষ্পমোচন কম হওয়ার দরুন এদের দেহে জল সংরক্ষিত হয় এবং উদ্ভিদদেহ সতেজ থাকে। এছাড়া পত্রকণ্টক এদের আত্মরক্ষাতেও সাহায্য করে।

ফটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন বলতে কী বোঝো?
দিনেরবেলা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয় এবং বাষ্পমোচন ঘটে। আলোক প্রভাবজনিত এইরূপ বাষ্পমোচনকে ফটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন (Photoactive transpiration) বা আলোক বাষ্পমোচন বলে। যেমন – আম, জাম প্রভৃতি বেশিরভাগ উদ্ভিদে ফটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন ঘটে।
স্কোটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন কাকে বলে?
কিছু কিছু উদ্ভিদে দিনেরবেলা পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকে এবং রাত্রিবেলা পত্ররন্ধ্র খোলা থাকে। ফলে রাত্রিবেলা বাষ্পমোচন ঘটে। এরূপ অন্ধকার প্রভাবজনিত বাষ্পমোচনকে স্কোটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন (Scotoactive transpiration) বা অন্ধকার বাষ্পমোচন বলে। যেমন – পাথরকুচি, ঘৃতকুমারী প্রভৃতি উদ্ভিদে স্কোটোঅ্যাকটিভ বাষ্পমোচন ঘটে।
অবনমন বা উইলটিং কাকে বলে?
গ্রীষ্মকালে প্রখর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে উদ্ভিদদেহে জলশোষণ অপেক্ষা বাষ্পমোচন বেশি হলে উদ্ভিদের পাতা ও কচি কাণ্ডে রসস্ফীতি কমে যায় এবং অঙ্গগুলি নেতিয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে অবনমন বা উইলটিং (Wilting) বলে।

জলজ উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্র বেশি থাকে কেন?
জলজ উদ্ভিদ সমস্ত দেহ দ্বারা জলশোষণ করে। ফলে, এদের দেহে জলশোষণের হার অনেক বেশি থাকে। শোষিত অতিরিক্ত জলকে উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের করে দেওয়ার জন্যই পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা বেশি থাকে।
মরুভূমি অঞ্চলের উদ্ভিদরা কীভাবে বাষ্পমোচন হার কমায়?
মরুভূমি অঞ্চলের উদ্ভিদের বাষ্পমোচন হার কম হওয়ার কারণ হল –
- পাতা পত্রকণ্টকে রূপান্তরিত হয়।
- কিছু কিছু উদ্ভিদের পাতায় নিবেশিত পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পাতা ও কাণ্ডের বহিত্বকের বাইরে কিউটিকলের আবরণ থাকে।
পাতা ঝরে গেলেও পর্ণমোচী গাছেরা কীভাবে বেঁচে থাকে?
সমস্ত পাতা ঝরে গেলেও পর্ণমোচী গাছেরা বেঁচে থাকে। কারণ –
- জীবনক্রিয়া চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান আসে মূল ও কাণ্ডে সঞ্চিত খাদ্য থেকে।
- ক্লোরেনকাইমা কলার সাহায্যে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- কাণ্ডের লেন্টিসেল ও কিউটিকলের মাধ্যমে বাষ্পমোচন করে।
নিঃস্রাবণ বা গাটেশন কাকে বলে?
যে পদ্ধতিতে বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদে উচ্চ মূলজ চাপ ও কম বাষ্পমোচনের ফলে পাতার কিনারা ও অগ্রভাগে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ জলবিন্দুর আকারে জলরন্ধ্রের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে নিঃস্রাবণ বা গাটেশন (Guttation) বলে। যেমন – টম্যাটো, কচু, আলু প্রভৃতি উদ্ভিদে ঘটে।

চোয়ান বা ব্লিডিং (Bleeding) কী?
উদ্ভিদের কর্তিত স্থান থেকে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণের বিন্দু বিন্দু আকারে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে চোয়ান বা ব্লিডিং বলে। যেমন – পাইনগাছের কাণ্ডে ক্ষতস্থান থেকে রজন ক্ষরণ।
রাত্রিবেলা বাষ্পমোচন ঘটে এমন দুটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
রাত্রিবেলা বাষ্পমোচন ঘটে এমন দুটি উদ্ভিদের নাম – পাথরকুচি ও ঘৃতকুমারী।
বাষ্পমোচন বা প্রস্বেদন টান কী?
বাষ্পমোচনের ফলে উদ্ভিদদেহের অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে বেরিয়ে গেলে উদ্ভিদের জাইলেম বাহিকায় জল-অণুস্তম্ভে যে টান অনুভূত হয়, তাকে বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান বলে।
পাতার মধ্যে দিয়ে অধিকাংশ বাষ্পমোচন হয় কেন?
পাতার মধ্যে দিয়ে অধিকাংশ বাষ্পমোচন হয় কারণ –
- প্রশস্ত পত্রতল বহুসংখ্যক ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্রযুক্ত হয়।
- প্রশস্ত পত্রতলের সমগ্র অংশে পতিত সূর্যালোক জলের বাষ্পমোচন ত্বরান্বিত করে।
স্টোমাটা (Stomata) কী? বাষ্পমোচন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া কেন?
পাতার ত্বকে বর্তমান যে সূক্ষ্ম ছিদ্রের মাধ্যমে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ও বাষ্পমোচন ঘটে, তাকে স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র বলে।
যেহেতু বাষ্পমোচন উদ্ভিদকোশের প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
বাষ্পমোচনের হার দিনে বেশি হয় কেন?
দিনেরবেলা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে উষ্ণ পরিবেশে জলের বাষ্পীভবন ত্বরান্বিত হয়। ফলে দিনেরবেলা বাষ্পমোচনের হার বেশি হয়।
বর্ষাকালে উদ্ভিদের বাষ্পমোচনের হারের কী পরিবর্তন ঘটবে ও কেন?
বর্ষাকালে পরিবেশের আর্দ্রতা বেশি হওয়ার দরুন পত্ররন্ধ্র থেকে জলের বাষ্পীভবন তথা বাষ্পমোচনের হার কমে যায়।
মরুভূমি অঞ্চলের উদ্ভিদগুলি খর্বাকৃতির হয় কেন?
মরুভূমি অঞ্চলে প্রখর সূর্যালোকে বাষ্পমোচনের হার খুব বেশি হয়। ফলে, ওই অঞ্চলের উদ্ভিদগুলি বৃদ্ধির জন্য অনেক কম পরিমাণ জল পায়, এই কারণে উদ্ভিদগুলি খর্বাকৃতির হয়।
গ্রীষ্মের দুপুরে উদ্ভিদগুলি নেতিয়ে পড়ে কেন?
গ্রীষ্মের দুপুরে প্রখর সূর্যালোকে জল শোষণের তুলনায় বাষ্পমোচনের হার খুব বেশি হয়। ফলে, উদ্ভিদগুলি রসশিথিল হয় ও নেতিয়ে পড়ে।
রক্ষীকোশ কাকে বলে?
পত্ররন্ধ্র গঠনকারী অর্ধচন্দ্রাকৃতি বা উপবৃত্তাকার ও ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোশদুটিকে রক্ষীকোশ বলা হয়।
বাষ্পীভবন কী?
যে ভৌত প্রক্রিয়ায় সজীব কোশের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ঘরের তাপমাত্রায় বা সাধারণ উষ্ণতায় কোনো তরলের উপরিতল থেকে ধীরে ধীরে জল বাষ্পীভূত হয়, তাকে বাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন বলে।
বাষ্পীভবন ও বাষ্পমোচনের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য উল্লেখ করো।
বাষ্পীভবন ও বাষ্পমোচনের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য –
- উভয়ক্ষেত্রেই সংঘটন স্থান থেকে জলীয় বাষ্পের নির্গমন ঘটে।
- উভয়ক্ষেত্রেই সংঘটন স্থান ঠান্ডা হয় এবং উভয়ক্ষেত্রেই বায়ুপ্রবাহের বৃদ্ধি ঘটলে প্রক্রিয়া দুটির হার বৃদ্ধি পায়।
বাষ্পমোচন কয় প্রকার ও কী কী?
বাষ্পমোচন প্রধানত ও প্রকারের হয়, যথা –
- পত্ররন্দ্রীয় বাষ্পমোচন (Stomatal transpiration),
- কিউটিকিউলার বাষ্পমোচন (Cuticular transpiration),
- লেন্টিসেলীয় বাষ্পমোচন (Lenticular transpiration)।
“বাষ্পমোচন একটি প্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক পদ্ধতি” – ব্যাখ্যা করো।
বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis, 1926) বাষ্পমোচনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক পদ্ধতি’ (Essential Evil) রূপে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ –
- বাষ্পমোচনের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রয়োজনাতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে বাইরে নির্গত হয়। গ্রীষ্মকালে বেশি গরমে দুপুরবেলা অতিরিক্ত জল বেরিয়ে গেলে বীরৎজাতীয় উদ্ভিদ রস শিথিল (Flaccid) হয়ে পড়ে এবং গাছ নেতিয়ে পড়ে (Wilting)। এর ফলে গাছের মৃত্যু ঘটে।
- অতিরিক্ত বাষ্পমোচনের ফলে কোশরসের ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয় যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
- বাষ্পমোচনের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহ শীতল হয় ও রসের উৎস্রোত ঘটে এবং জল ও খনিজ লবণের পরিবহণ প্রভৃতি প্রয়োজনীয় কাজগুলি সম্পন্ন হলেও অতিরিক্ত বাষ্পমোচন উদ্ভিদদেহে সমস্যা তৈরি করে বলেই স্বল্পমোচনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক পদ্ধতি’রূপে গণ্য করা হয়।
উদ্ভিদদেহে বাষ্পমোচন কমানোর জন্য কী কী ধরনের অভিযোজন দেখা যায়?
বাষ্পমোচন হ্রাসে উদ্ভিদের অভিযোজন –
- পুরু কিউটিকল – পাতার এপিডারমিসের বাইরে পুরু কিউটিকলের আবরণ থাকে। যেমন – বটপাতা।
- পত্রকণ্টক – পাতা কণ্টকে রূপান্তরিত হয়। যেমন – ক্যাকটাসের পত্রকণ্টক।
- সরু পাতা – পত্রফলকের আকার সরু হলে বাষ্পমোচন কম হয়। যেমন – পাইন পাতা।
- নিমজ্জিত পত্ররন্ধ্র – পত্ররন্ধ্র ত্বককোশের গভীরে নিমজ্জিত থাকে এবং রোম দ্বারা আবৃত হয়। যেমন – করবীপাতার পত্ররন্ধ্র।
- পত্ররন্দ্রের সংখ্যা হ্রাস – জাঙ্গল উদ্ভিদগুলিতে বাষ্পমোচনের হার কমানোর জন্য পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। ফলে পাতা না থাকায় পত্ররন্ধ্রের সংখ্যাও অনেক কমে যায়। তাই এদের বাষ্পমোচনও কম হয়।
- কাণ্ডে মোমের আবরণ – ফণীমনসাজাতীয় গাছগুলি বাষ্পমোচন কমাবার জন্য কাণ্ডে মোমের আবরণ তৈরি করে।

বাষ্পমোচন প্রতিরোধক কী? এর কাজ লেখো।
বাষ্পমোচন প্রতিরোধক – যে-সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে উদ্ভিদদেহে বাষ্পমোচন হার কমিয়ে দেওয়া হয়, তাদের বাষ্পমোচন প্রতিরোধক বলে। যেমন – প্লাস্টিক, সিলিকন, তেল ও মোমের প্রলেপ, ফিনাইল-মারকিউরিক অ্যাসিটেট (PMA) প্রভৃতি।
কাজ – PMA -এর প্রয়োগের ফলে উদ্ভিদদেহে বাষ্পমোচন হ্রাস পায়। বায়ুমণ্ডলের উচ্চ CO₂ ঘনত্ব (0.05%) বাষ্পমোচনের হার কমায় এবং বাষ্পমোচন প্রতিরোধকরূপে কাজ করে।
প্রদত্ত কোন্ বস্তুগলি বাষ্পমোচন হার বৃদ্ধি করে? সাইটোকাইনিন, \(HCO3−HCO_3^-\) , বাতাসের জলীয়বাষ্প, K+, গ্লুকোজ, ইথিলিন, Cl-, স্বল্প সান্দ্রতাযুক্ত মোম।
প্রদত্ত বস্তুগুলির মধ্যে সাইটোকাইনিন, K+ (পটাশিয়াম আয়ন) এবং গ্লুকোজ বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- সাইটোকাইনিন – সাইটোকাইনিন হরমোন পত্ররন্ধ্রের উন্মোচন ঘটিয়ে বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি করে।
- K+ – রক্ষীকোশে K+ -এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায় বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়।
- গ্লুকোজ – পাতার রক্ষীকোশে সঞ্চিত গ্লুকোজের সঙ্গে বাষ্পমোচনের হার সরাসরি সম্পর্কিত। গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে পত্ররন্ধ্রের দ্রুত উন্মোচন ঘটে ও বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়।
খেতে গিয়ে বিষম লাগে কেন? তখন কী করা উচিত?
কথা বলার সময় স্বরযন্ত্রের ওপরে বর্তমান গ্লটিসের ঢাকনা অর্থাৎ এপিগ্লটিস খোলা থাকে। কিন্তু খাবার সময়ে এপিগ্লটিস গ্লটিসকে ঢেকে রাখে। ফলে এই সময় খাবারের কণা স্বরযন্ত্র ও শ্বাসনালীতে ঢুকতে পারে না। কিন্তু খাবার খেতে খেতে কথা বললে এপিগ্লটিস সরে গিয়ে গ্লটিস ছিদ্রটিকে উন্মুক্ত করে দেয়। এর ফলে খাবারের টুকরো গ্লটিসের মধ্য দিয়ে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। তখন শ্বাসনালীর অন্তঃপ্রাচীর গাত্রে অবস্থিত সিলিয়াযুক্ত আবরণী কলাস্তর এই প্রবিষ্ট খাদ্যকণাকে নিশ্বাস বায়ুর সঙ্গে বাইরে বের করার চেষ্টা করে। এর ফলে কাশির উদ্রেক ঘটে এবং বারংবার চেষ্টার পর খাদ্যকণা নাসাপথে বের হয়ে আসে। এই অস্বস্তিকর শারীরিক অবস্থাকে বিষম লাগা বলে।
এই অবস্থায় সামান্য জল খেয়ে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বজায় রেখে বাধাহীন ভাবে কাশলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয়।
এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘বাষ্পমোচন’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন