এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘খনিজ পুষ্টি’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

অপরিহার্য মৌল বলতে কী বোঝো? এর শ্রেণিবিভাগ করো এবং উদাহরণ দাও।
অপরিহার্য মৌল – জীবদেহের পুষ্টি, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, দেহগঠন, জনন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের জন্য যেসকল মৌলগুলির জীবদেহে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োজন হয়, তাদের অপরিহার্য মৌল বা অপরিহার্য পরিপোষক (Essential Nutrients) বলে।
অপরিহার্য মৌলের শ্রেণিবিভাগ –
উদ্ভিদের পুষ্টিতে মৌলগুলির ভূমিকা অনুযায়ী অপরিহার্য পরিপোষক বা পুষ্টি পদার্থগুলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
- অতিমাত্রিক মৌল বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Macronutrient) – যে-সমস্ত পুষ্টি সহায়ক মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য বেশিমাত্রায় প্রয়োজন হয়, তাদের অতিমাত্রিক মৌল বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। যেমন – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০), নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) প্রভৃতি।
- স্বল্পমাত্রিক মৌল বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micronutrient) – যে-সমস্ত পুষ্টি সহায়ক মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে স্বল্পমাত্রায় উপস্থিত থাকে এবং উদ্ভিদদেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে স্বল্পমাত্রায় ব্যবহৃত হয়, তাদের স্বল্পমাত্রিক মৌল বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। যেমন – লোহা (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), বোরন (B), তামা (Cu), মলিবডেনাম (Mo) প্রভৃতি।
উদ্ভিদদেহে অপরিহার্য খনিজ মৌলের বা পদার্থের সাধারণ কাজগুলি লেখো।
উদ্ভিদদেহে অপরিহার্য খনিজ মৌলের বা পদার্থের সাধারণ কাজ –
- প্রোটোপ্লাজম গঠন – প্রোটোপ্লাজম গঠনে নাইট্রোজেন মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এ ছাড়া কার্বন, সালফার ও ফসফরাস প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, ফসফোলিপিড, ভিটামিন, হরমোন ও রঞ্জক পদার্থ গঠনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এগুলিই প্রোটোপ্লাজমের প্রধান উপাদান।
- উৎসেচক গঠন – প্রোটিনধর্মী উৎসেচক গঠনে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) (শ্বসন-উৎসেচক), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) -এর ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও উৎসেচকের সক্রিয়তায় লোহা, জিংক, তামা, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি প্রয়োজন। এছাড়াও ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম উৎসেচকের কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- জারণ-বিজারণ ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ – উদ্ভিদদেহে সালোকসংশ্লেষ, শ্বসন প্রভৃতি বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়া জারণ-বিজারণ ক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে NADP H+ গ্রহণ করে NADPH গঠন করে। আবার CO₂ বিজারণের মাধ্যমে গ্লুকোজ গঠন করে। তাই জারণ-বিজারণে H+ -এর ভূমিকা অপরিহার্য। এছাড়া, Fe (Fe2+ এবং Fe3+), Cu (Cu+ এবং Cu2+) প্রভৃতি বিভিন্ন যোজ্যতাযুক্ত মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে জারণ-বিজারণ ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইলেকট্রন বাহকরূপে কাজ করে।
- জলসাম্য নিয়ন্ত্রণ – পটাশিয়াম (K) উদ্ভিদদেহে জলসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। কোশরসে উপস্থিত বিভিন্ন খনিজ মৌল (পটাশিয়াম, ক্লোরিনের আয়ন) ও জৈবযৌগের ঘনত্বের ওপর উদ্ভিদকোশের অভিস্রবণ বিভব (Osmotic potential) নির্ভর করে। জল শোষণ ও কোশের রসস্ফীতি চাপ বজায় রাখতে অভিস্রবণ বিভব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক্লোরোফিল সংশ্লেষ – ক্লোরোফিল সংশ্লেষে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ম্যাগনেশিয়াম, নাইট্রোজেন, লোহা প্রয়োজন হয়। এছাড়াও তামা, জিংক ও কপারের ভূমিকা আছে।
- কোশের অম্লতা নিয়ন্ত্রণ এবং বাফার ক্রিয়া – কোশরসের pH দ্বারা মাটি থেকে খনিজ মৌলের শোষণ নিয়ন্ত্রিত হয়। ফসফেট ও কার্বনেট যৌগগুলি কোশরসে বাফাররূপে কাজ করে ও প্রোটোপ্লাজমের pH পরিবর্তনে বাধা দেয়।
উদ্ভিদদেহে অপরিহার্য মৌল উপাদানগুলি কী কী? মৌলগুলির উৎস ছকের সাহায্যে লেখো।
অতিমাত্রিক মৌল বা পরিপোষক –
| অপরিহার্য মৌল উপাদান (Essential Element) | উৎস (Source) |
| কার্বন (C) | বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড (\(CO_2\)) উদ্ভিদরা পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে বাতাস থেকে শোষণ করে। |
| হাইড্রোজেন (H) | প্রধানত জল (\(H_2O\)) থেকে মূল দ্বারা শোষণ করে। |
| অক্সিজেন (O) | বায়ুমণ্ডল থেকে \(O_2\) রূপে। |
| নাইট্রোজেন (N) | মাটির নাইট্রেট (\(NO_3^-\)) লবণরূপে, অ্যামোনিয়া (\(NH_4^+\)) রূপে। |
| পটাশিয়াম (K) | মাটিতে (\(K^+\)) পটাশিয়াম আয়নরূপে। |
| ফসফরাস (P) | মাটিতে ফসফেট (\(PO_4^{3-}\)) এবং (\(HPO_4^{2-}\)) আয়নরূপে। |
| ম্যাগনেশিয়াম (Mg) | মাটির ম্যাগনেশিয়াম (\(Mg^{2+}\)) আয়নরূপে। |
| ক্যালশিয়াম (Ca) | মাটির ক্যালশিয়াম (\(Ca^{2+}\)) আয়নরূপে। |
| সালফার (S) | মাটিতে সালফেট (\(SO_4^{2-}\)) আয়নরূপে। |
উদ্ভিদের পুষ্টিতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের কার্যকারিতা ও অভাবজনিত লক্ষণগুলি উল্লেখ করো।
| মৌল উপাদান | কার্যকারিতা | অভাবজনিত লক্ষণ |
| কার্বন (C) | 1. সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে। 2. প্রোটোপ্লাজম গঠনের প্রধান মৌলিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। 3. কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, উৎসেচক, ভিটামিন, হরমোন সংশ্লেষে সাহায্য করে। | 1. অসম্পূর্ণ দেহগঠন। 2. বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। |
| হাইড্রোজেন (H) | 1. সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে। 2. প্রোটোপ্লাজম গঠনে সাহায্য করে। 3. কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সংশ্লেষে সাহায্য করে। | 1. বিপাকীয় কার্য হ্রাস পায়। 2. দেহগঠন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। |
| অক্সিজেন (O) | 1. শ্বসন ক্রিয়ার সময় খাদ্যবস্তু জারণে সাহায্য করে। 2. অঙ্গার আত্তীকরণে সাহায্য করে। 3. কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সংশ্লেষে সাহায্য করে। | 1. দেহের সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ ব্যাহত হয়। |
উদ্ভিদের পুষ্টিতে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়াম মৌলের কার্যকারিতা ও অভাবজনিত লক্ষণগুলি উল্লেখ করো।
| মৌল উপাদান | কার্যকারিতা | অভাবজনিত লক্ষণ |
| ম্যাগনেশিয়াম (Mg) | 1. ক্লোরোফিলের সাংগঠনিক উপাদানরূপে ব্যবহৃত হয়। 2. ক্লোরোফিল সংশ্লেষে ও সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে। 3. প্রোটিন সংশ্লেষের সময় রাইবোজোম বন্ধনে সাহায্য করে। 4. শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদে অর্বুদ সৃষ্টিতে, বৃদ্ধি ও বিপাকে সাহায্য করে। | 1. ক্লোরোফিলের সংশ্লেষের অভাবে উদ্ভিদদেহের পাতায় ক্লোরোসিস রোগ হয়। 2. শর্করা গঠন বিঘ্নিত হয়। 3. উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটে। |
| ক্যালশিয়াম (Ca) | 1. ভাজক কলার ক্রিয়াকলাপে ও বিপাকে সাহায্য করে। 2. কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সৃষ্টিতে ও বেমতন্তু গঠনে সাহায্য করে। 3. কোশপ্রাচীর গঠনে সাহায্য করে। 4. কোশপর্দার ভেদ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে। | 1. কোশ বিভাজন ব্যাহত হয়। 2. বীজ ও ফলের বৃদ্ধি ঘটে না। 3. পাতার কিনারা কুঁকড়ে যায় ও নেক্রোসিস দেখা যায়। |
উদ্ভিদদেহে সালফার ও আয়রন মৌলের কাজ ও অভাবজনিত লক্ষণগুলি ছকের আকারে লেখো।
| মৌলের নাম | কার্যকারিতা | অভাবজনিত লক্ষণ |
| সালফার (S) | 1. উদ্ভিদদেহ গঠনে সাহায্য করে ও উদ্ভিদের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 2. অ্যামিনো অ্যাসিড সংশ্লেষে সাহায্য করে। 3. বিভিন্ন উৎসেচক, ভিটামিন উৎপাদনে সাহায্য করে। 4. শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদে অর্বুদ তৈরিতে ও মূলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। | 1. বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 2. কাণ্ড দুর্বল ও সরু হয়। 3. মূলের অর্বুদ গঠন বাধাপ্রাপ্ত হয়। 4. পাতা হলুদ ও বিবর্ণ হয় এবং পাতায় নেক্রোসিস ও ক্লোরোসিস দেখা যায়। |
| আয়রন বা লোহা (Fe) | 1. ক্লোরোফিল সংশ্লেষ ও ক্যারোটিনয়েডের গঠনে সাহায্য করে। 2. সালোকসংশ্লেষে ইলেকট্রন বাহকরূপে ব্যবহৃত হয়। 3. বিভিন্ন আয়ন শোষণে সাহায্য করে। | 1. ক্লোরোসিস হয়, ধীরে ধীরে সমস্ত পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 2. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 3. শর্করা সংশ্লেষ ব্যাহত হয়। |
উদ্ভিদদেহের পুষ্টিতে বোরন ও মলিবডেনাম মৌলের ভূমিকা ও এই মৌলের অভাবে কী ঘটে লেখো।
| মৌলের নাম | কার্যকারিতা | অভাবজনিত লক্ষণ |
| বোরন (B) | 1. পাতার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 2. মূলের অর্বুদ গঠনে সাহায্য করে। | 1. পাতার কিনারা শুকিয়ে কুঁকড়ে যায়। 2. কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে পচন ধরে। মূল স্ফীত হয়। 3. বিট, গাজর উদ্ভিদে হার্ট রট ও আপেলে ড্রট স্পট রোগ হয়। |
| মলিবডেনাম (Mo) | 1. উদ্ভিদ ও জীবাণুতে নাইট্রেট থেকে নাইট্রাইটের বিজারণে এরা ইলেকট্রন স্থানান্তরণে কাজ করে। 2. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড সংশ্লেষে সাহায্য করে। | 1. পত্রফলকের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 2. নাইট্রোজেনের বিপাকে বিঘ্ন ঘটে। 3. ফুলের প্রস্ফুটন বন্ধ হয়ে যায়। 4. পাতায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। 5. ফুলকপির হুইপটেল রোগ হয়। |
উদ্ভিদদেহে তামা ও দস্তা মৌলের কাজ ও অভাবজনিত লক্ষণগুলি ছকের আকারে লেখো।
| মৌলের নাম | কার্যকারিতা | অভাবজনিত লক্ষণ |
| তামা বা কপার (Cu) | 1. উদ্ভিদের কাণ্ডের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 2. নাইট্রিক অ্যাসিড বিজারণে সাহায্য করে। 3. কিছু উৎসেচকের গঠনগত উপাদানরূপে কাজ করে। 4. ইলেকট্রন পরিবহণে অংশ নেয়। | 1. উদ্ভিদ বিটপের অগ্রভাগ শুকিয়ে যায়। 2. নাইট্রোজেন বিপাক ব্যাহত হয়। 3. পাতার কচি অংশ কুঁকড়ে যায়, নেক্রোসিস হয়। 4. কাণ্ডের কচি অংশে ডাইব্যাক রোগ হয়। |
| জিংক বা দস্তা (Zn) | 1. অক্সিন হরমোন ও ক্লোরোফিল সংশ্লেষে সাহায্য করে। 2. পাতার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 3. কার্বক্সিলেজ, কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এবং ডিহাইড্রোজিনেজ উৎসেচকের সক্রিয়ক হিসেবে কাজ করে। | 1. বয়স্ক পাতায় আন্তঃশিরা ক্লোরোসিস দেখা দেয়। 2. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 3. পাতার গঠনে বিকৃতি দেখা দেয়, বীজগঠনে বিঘ্ন ঘটে। 4. লেবু পাতার ‘মটললিফ’, কোকো পাতার ‘সিকললিফ’ রোগ দেখা দেয়। |
উল্লিখিত রোগগুলির লক্ষণ ও কারণ ছকের সাহায্যে লেখো – ক্লোরোসিস, নেক্রোসিস, খর্বাকার বৃদ্ধি বা স্টানটিং, মোটলিং, কুঞ্চিত পাতা, উইলটিং, অকালমোচন, কোশ বিভাজনে বাধা।
| উদ্ভিদ রোগ | লক্ষণ | কারণ (মৌলের অভাব) |
| ক্লোরোসিস | পাতা হলুদ হয়ে যায়। | N, K, Mg, S, Fe |
| নেক্রোসিস | উদ্ভিদকলার মৃত্যু ঘটে। | Ca, Mg, Cu, K |
| খর্বাকার বৃদ্ধি বা স্টানটিং | বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ফলে উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। | N, K, Ca, S, Zn |
| মোটলিং | পাতার স্থানে স্থানে সবুজ ও অসবুজ অংশ সৃষ্টি হয়। | N, K, Mg, S, Mo |
| কুঞ্চিত পাতা | অসম বৃদ্ধির ফলে পাতা কুঁচকে যায়। | N, S, Mo |
| উইলটিং | কাণ্ড ও পাতা শুকিয়ে নেতিয়ে পড়ে। | CI |
| অকালমোচন | ফুল, পাতা, মুকুল, ফল প্রভৃতি অপরিণত অবস্থায় ঝরে যায়। | P, Mg, Cu |
| কোশ বিভাজনে বাধা | কোশ বিভাজন ব্যাহত হয়, ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। | N, K, S, Mo |
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Macronutrient) ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের (Micronutrient) মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
| বিষয় | ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট | মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট |
| ঘনত্ব | উদ্ভিদদেহে বেশিমাত্রায় উপস্থিত থাকে। | উদ্ভিদদেহে কম মাত্রায় উপস্থিত থাকে। |
| পরিমাণ | শুষ্ক ওজনের 1-10 mg/gm | শুষ্ক ওজনের 0.1 mg/gm |
| বিষক্রিয়া | সামান্য বৃদ্ধিতে সাধারণত বিষক্রিয়া ঘটায় না। | সামান্য বৃদ্ধিতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। |
| উৎসেচক সক্রিয়করণ | গৌণ ভূমিকা পালন করে। | মুখ্য ভূমিকা পালন করে। |
| কাজ | প্রোটোপ্লাজম ও উদ্ভিদদেহ গঠনে সাহায্য করে। | বিপাকীয় কাজে সাহায্য করে। |
এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর উপবিভাগ ‘খনিজ পুষ্টি’ অংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন