নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – খনিজ পুষ্টি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘খনিজ পুষ্টি’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-খনিজ পুষ্টি-নবম শ্রেণী-জীবনবিজ্ঞান
Contents Show

নিউট্রিয়েন্ট (Nutrient) কী?

যে-সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ জীবদেহে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে ও জীবদেহের বৃদ্ধি ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্ট বলে।

কোনো মৌলের ম্যাক্রো বা মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির দুটি কারণ লেখো। 

উদ্ভিদ জল, মাটি থেকে বিভিন্ন খনিজ সংগ্রহ করে খাদ্য তৈরি করে এবং দেহগঠনের কাজে ব্যবহার করে। এই খনিজ মৌলগুলির মধ্যে যেগুলি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বেশি পরিমাণে লাগে (1-10 mg/g শুষ্ক ওজন), তাদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং যেসব মৌলগুলি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে কম পরিমাণে লাগে (< 0.1 mg/g শুষ্ক ওজন) তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট শ্রেণিভুক্ত করা হয়। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের উদাহরণ হল – Ca, Mg, K, N, P, C, Fe প্রভৃতি; মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের উদাহরণ হল – Mo, Cl, Mn, B, Zn, Cu প্রভৃতি।

খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrition) কাকে বলে?

প্রধানত উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা বা উদ্ভিদদেহ দ্বারা শোষিত অপরিহার্য উপাদানের সাহায্যে যে পুষ্টি সম্পন্ন হয়, তাকে খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrition) বলে।

‘ক্ষুধা লক্ষণ’ (Hunger Sign) বলতে কী বোঝো?

অপরিহার্য খনিজ মৌলের অভাবে উদ্ভিদদেহে যে-সমস্ত অস্বাভাবিক লক্ষণ ফুটে ওঠে, তাদের ‘ক্ষুধা লক্ষণ’ বলে।

ক্লোরোসিস (Chlorosis) কী?

ক্লোরোফিল সংশ্লেষ ব্যাহত হলে বা উদ্ভিদদেহে বিশেষত পাতায় ক্লোরোফিল নষ্ট হয়ে গেলে উদ্ভিদ অঙ্গ হলুদ রং ধারণ করে, একে ক্লোরোসিস বলে। এটি Mg, K, Fe প্রভৃতি মৌলের অভাবে ঘটে।

ক্লোরোসিস

নেক্রোসিস (Necrosis) কী?

উদ্ভিদের পাতায় কলার স্থায়ী মৃত্যু ঘটলে, তাকে নেক্রোসিস বলে। এটি Ca, Mg-এর অভাবে ঘটে।

নেক্রোসিস

মোটলিং (Mottling) কী?

N₂, K, Mg, S, Mo প্রভৃতি অপরিহার্য মৌলের অভাবে উদ্ভিদদেহে সবুজ পাতার কয়েকটি স্থানে বেগুনি, গোলাপি-হলুদ বর্ণের ছোপ পড়ে, এই অবস্থাকে মোটলিং বলে।

মোটলিং

ক্রিটিকাল ঘনত্ব কাকে বলে?

অপরিহার্য খনিজ মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে যে ঘনত্ব মাত্রার নীচে থাকলে বিভিন্ন বিপাকীয় কাজগুলি ব্যাহত হয়, তাদের ক্রিটিকাল ঘনত্ব (Critical Concentration) বলে।

হাইড্রোপনিক্স (Hydroponix) কী?

উদ্ভিদ তার পুষ্টিসাধনের জন্য মাটি থেকে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ আয়নরূপে গ্রহণ করে দেহে মৌলের চাহিদা মেটায়। যে বিশেষ পদ্ধতিতে মাটির পরিবর্তে জলীয় পুষ্টিদ্রবণে রেখে উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধি ঘটানো হয়, তাকে হাইড্রোপনিক্স বলে। বিজ্ঞানী জন উডওয়ার্ড (John Woodward, 1699) সর্বপ্রথম এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

এরোপনিক্স (Aeroponix) কাকে বলে?

যে বিশেষ পদ্ধতিতে বাতাসে ঝুলে থাকা অবস্থায় উদ্ভিদের মূলে নিয়মিত পরিপোষক সমৃদ্ধ দ্রবণ স্প্রে করে উদ্ভিদ পালন করা হয়, তাকে এরোপনিক্স বলে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত লেবুজাতীয় উদ্ভিদ ও অলিভ উদ্ভিদ পালন করা হয়।

উদ্ভিদদেহে ATP উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত একটি খনিজ মৌল ও একটি অখনিজ মৌলের নাম লেখো।

খনিজ মৌল – ফসফরাস (P)
অখনিজ মৌল – কার্বন (C)

অনুঘটক মৌল কী?

যে-সমস্ত মৌল উৎসেচকের সহউৎসেচকরূপে কাজ করে এবং বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাদের অনুঘটক মৌল বলে। যেমন – ম্যাঙ্গানিজ (Mn)।

সাংগঠনিক মৌল কাকে বলে?

যে-সমস্ত মৌল উপাদান উদ্ভিদের সাংগঠনিক কাজে, যেমন – কোশপ্রাচীর গঠন, সঞ্চয়ী পদার্থ গঠন প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়, তাদের সাংগঠনিক মৌল বলে। যেমন – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) প্রভৃতি।

প্রোটোপ্লাজমীয় মৌল বলতে কী বোঝো?

যে-সমস্ত মৌল উপাদান উদ্ভিদকোশের প্রোটোপ্লাজম (যেমন – প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, ক্লোরোফিল প্রভৃতি) গঠনে অংশ নেয়, তাদের প্রোটোপ্লাজমীয় মৌল বলে। যেমন – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), ফসফরাস (P), সালফার (S), নাইট্রোজেন (N) প্রভৃতি।

সংকটি মৌল কী?

যে-সমস্ত মৌল উপাদান উদ্ভিদপুষ্টিতে বেশিমাত্রায় প্রয়োজন হয় এবং মাটিতে অভাব ঘটলে উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, তাদের সংকটি মৌল বলে। যেমন – নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) প্রভৃতি।

ব্যালেন্সিং মৌল কাকে বলে?

যে-সমস্ত মৌল অন্যান্য মৌলের বিষক্রিয়া অতিক্রম করতে সাহায্য করে, তাদের ব্যালেন্সিং মৌল বলে। যেমন – Ca, Mg এবং K প্রভৃতি মৌলগুলি ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল, জিংক, কপার প্রভৃতি মৌলের বিষক্রিয়া নষ্ট করে দেয়।

দুটি খনিজ মৌলের নাম করো যে দুটি প্রাণীর ক্ষেত্রে উপকারী হলেও উদ্ভিদদেহে কোনো ভূমিকা পালন করে না।

সোডিয়াম (Na) ও আয়োডিন (I) প্রাণীর ক্ষেত্রে উপকারী হলেও উদ্ভিদদেহে কোনো ভূমিকা পালন করে না।

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের পরীক্ষা লেখো।

পরীক্ষা পদ্ধতি –

  • 7টি চওড়ামুখ দ্বিধাবিভক্ত কর্ক লাগানো একই মাপের বোতল নেওয়া হল।
  • প্রথম বোতলটিতে সমস্ত রকম খনিজলবণ মিশ্রিত জল এবং বাকি বোতলগুলিতে একটি করে মৌল উপাদান বাদ দিয়ে দ্রবণ রাখা হল।
  • প্রতিটি বোতলে সমান বয়স ও সতেজতাযুক্ত চারাগাছ রাখা হল। লক্ষ রাখা হল যাতে উদ্ভিদের মূল দ্রবণে ডুবে থাকে।

পর্যবেক্ষণ –

  • প্রথম বোতলের গাছটির বৃদ্ধি ( স্বাভাবিক হয়েছে।
  • দ্বিতীয় বোতলের দ্রবণে ফসফরাস বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে, গাছটির স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি।
  • তৃতীয় বোতলটিতে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব রাখা হয়েছিল। ফলে, গাছটির সবুজ অংশ হলুদ রং ধারণ করেছে অর্থাৎ, ক্লোরোফিল গঠিত হয়নি।
  • চতুর্থ বোতলটিতে লোহা বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে, গাছটি বিবর্ণ হয়েছে এবং বৃদ্ধি কমে গেছে।
  • পঞ্চম বোতলটিতে নাইট্রোজেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে, গাছটির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে ও পাতা হলুদ হয়ে গেছে।
  • ষষ্ঠ বোতলে পটাশিয়াম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে, গাছটির বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে।
  • সপ্তম বোতলে ক্যালশিয়াম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে, গাছটির মূল ও বিটপ অংশের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে।
হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের পরীক্ষা

সিদ্ধান্ত – প্রথম বোতলে উদ্ভিদ পুষ্টির প্রয়োজনীয় সমস্ত খনিজ লবণ উপস্থিত আছে বলে উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধি ঘটেছে। বাকি সবকটি বোতলের গাছে খনিজ মৌলের অভাবজনিত নির্দিষ্ট রোগলক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতির সুবিধা –

  • অনুর্বর ও শুষ্ক জমির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি খুবই উপকারী।
  • উদ্ভিদ প্যাথোজেন ও আগাছামুক্ত থাকে।
  • যে-কোনো ঋতুতে সবজি, ফুল ও ফল উৎপাদন সম্ভব হয়।

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতির অসুবিধা –

  • বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চাষ খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। সঠিক মাত্রায় বিভিন্ন মৌলের মিশ্রণ দেওয়া সম্ভব হয় না।
  • আর্দ্র পরিবেশে থাকার জন্য গাছগুলিতে damp লেগে যায়, উদ্ভিদগুলি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

অতিমাত্রিক পরিপোষক বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস কাকে বলে? উদ্ভিদদেহে এদের গুরুত্ব লেখো।

অভিমাত্রিক পরিপোষক (Macronutrients) – যে-সমস্ত পুষ্টিসহায়ক মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাদের অতিমাত্রিক পরিপোষক বলে। যেমন – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) প্রভৃতি।

উদ্ভিদদেহে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের গুরুত্ব –

  • উদ্ভিদের সুষম পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
  • অতিমাত্রিক মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে জৈব অণু সংশ্লেষে এবং কোশরসের অভিস্রবণ বিভব নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস কাকে বলে? উদ্ভিদদেহে এদের গুরুত্ব লেখো।

স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক (Micronutrients) – যে-সমস্ত অপরিহার্য পুষ্টি সহায়ক মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে খুব কম পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাদের স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক বা ট্রেস এলিমেন্ট বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বলে। উদাহরণ – লৌহ (Fe), দস্তা (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), বোরন (B), তামা (Cu), মলিবডেনাম (Mo), ক্লোরিন (CI) এবং নিকেল (Ni)।

উদ্ভিদদেহে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের গুরুত্ব –

  • উদ্ভিদদেহের সুষম বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
  • মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস প্রধানত উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন উৎসেচকের কো-এনজাইম বা সক্রিয়করূপে কাজ করে।

উদ্ভিদদেহে অপরিহার্য মৌলের তিনটি সাধারণ কাজ লেখো।

উদ্ভিদদেহে অপরিহার্য মৌলের তিনটি সাধারণ কাজ –

  • প্রোটোপ্লাজম গঠন – প্রোটোপ্লাজম গঠনে নাইট্রোজেন মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এ ছাড়া কার্বন, সালফার ও ফসফরাস প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, ফসফোলিপিড, ভিটামিন, হরমোন ও রঞ্জক পদার্থ গঠনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এগুলিই প্রোটোপ্লাজমের প্রধান উপাদান।
  • উৎসেচক গঠন – প্রোটিনধর্মী উৎসেচক গঠনে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) (শ্বসন-উৎসেচক), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) -এর ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও উৎসেচকের সক্রিয়তায় লোহা, জিংক, তামা, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি প্রয়োজন। এছাড়াও ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম উৎসেচকের কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
  • জারণ-বিজারণ ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ – উদ্ভিদদেহে সালোকসংশ্লেষ, শ্বসন প্রভৃতি বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়া জারণ-বিজারণ ক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে NADP H+ গ্রহণ করে NADPH গঠন করে। আবার CO₂ বিজারণের মাধ্যমে গ্লুকোজ গঠন করে। তাই জারণ-বিজারণে H+ -এর ভূমিকা অপরিহার্য। এছাড়া, Fe (Fe2+ এবং Fe3+), Cu (Cu+ এবং Cu2+) প্রভৃতি বিভিন্ন যোজ্যতাযুক্ত মৌলগুলি উদ্ভিদদেহে জারণ-বিজারণ ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইলেকট্রন বাহকরূপে কাজ করে।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে নাইট্রোজেন মৌলটির ভূমিকা ও মৌলটির অভাবজনিত লক্ষণগুলি লেখো।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে নাইট্রোজেন (N₂) -এর ভূমিকা –

  • ভাজককলা ও প্রোটোপ্লাজম গঠনে সাহায্য করে।
  • DNA ও RNA -এর নাইট্রোজেন বেস গঠনে সাহায্য করে।
  • অক্সিন ও সাইটোকাইনিন প্রভৃতি হরমোন গঠনে সাহায্য করে।
  • প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্লোরোফিল প্রভৃতি জৈব অণু গঠনে অশগ্রহণ করে।

উদ্ভিদদেহে নাইট্রোজেন মৌলের অভাবজনিত লক্ষণ –

  • পরিণত পাতায় ক্লোরোসিস ঘটে।
  • কাণ্ড ও পাতায় অ্যান্থোসায়ানিন জমে বেগুনি-লাল রং ধরে যায়।
  • স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, দেহ খর্বাকার আকৃতির হয়।
  • পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফুল ফুটতে দেরি হয়।
  • পরিণত পাতা ঝরে যায়। ফুল, ফল প্রভৃতির অকালমোচন ঘটে।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে ফসফরাস (P) মৌলটির গুরুত্ব ও মৌলটির অভাবে উদ্ভিদদেহে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায় ছকের সাহায্যে লেখো।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে ফসফরাস (P) মৌলটির ভূমিকা –

কার্যগত ভূমিকাঅভাবজনিত লক্ষণ
গঠনগত উপাদানরূপে –
1. নিউক্লিওটাইড, ATP, নিউক্লিক অ্যাসিড, নিউক্লিওপ্রোটিনের মুখ্য উপাদান হল ফসফরাস।
2. ফসফোলিপিড, NAD+, NADP+ এবং কো-এনজাইম গঠনে অংশগ্রহণ করে।
শারীরবৃত্তীয় কাজ –
1. শক্তি স্থানান্তরে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
2. উৎপাদন, কোশপর্দা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
3. কোশ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ অভাবজনিত লক্ষণ ভূমিকা পালন করে।
1. উদ্ভিদের পাতা ও কাণ্ড নীলাভ-সবুজ বর্ণের হয়।
2. ফুল ঝরে যায়।
3. স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, দেহ খর্বাকার আকৃতি ধারণ করে।
4. পাতায় নেক্রোসিস ঘটে।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে পটাশিয়ামের (K) গুরুত্ব লেখো।

উদ্ভিদের পুষ্টিতে পটাশিয়াম (K) -এর গুরুত্ব –

কার্যগত ভূমিকাঅভাবজনিত লক্ষণ
গঠনগত উপাদানরূপে – কোফ্যাক্টর বা উৎসেচকের সক্রিয়ক গঠনে অংশ নেয়।
শারীরবৃত্তীয় কাজ –
1. কোশের অভিস্রবণ বিভব নিয়ন্ত্রণ করে।
2. কোশের রসস্ফীতি বজায় রাখে।
3. পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
4. সালোকসংশ্লেষ, শ্বসন, প্রোটিন সংশ্লেষে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
5. কোশপর্দার ভেদ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে।
1. স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
2. পুরোনো পাতায় কার্লিং, শিরার অগ্রভাগে ও মধ্যভাগে ক্লোরোসিস রোগ দেখা দেয়।
3. অগ্রস্থ মুকুলের প্রাধান্য এবং ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তা কমে যায়।
4. শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হিসেবে উদ্ভিদের পুষ্টিতে ম্যাঙ্গানিজের ভূমিকা কী?

উদ্ভিদের পুষ্টিতে ম্যাঙ্গানিজ (Mn) মৌলের কার্যগত ভূমিকা –

  • প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।
  • উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • বিভিন্ন উৎসেচকের কো-ফ্যাক্টররূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
  • ক্লোরোফিল সংশ্লেষে সাহায্য করে।

উদ্ভিদদেহে ম্যাঙ্গানিজ মৌলের অভাবজনিত লক্ষণগুলি হল –

  • উদ্ভিদের পুষ্টি ব্যাহত হয়।
  • পাতায় নেক্রোসিস ঘটে।
  • পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে, শিরায় শিরায় ক্লোরোসিস ঘটে।

খনিজ মৌলের বিষক্রিয়া বলতে কী বোঝো? উদ্ভিদদেহে ফসফরাস ও ক্যালশিয়ামের বিষক্রিয়ায় কী কী লক্ষণ ফুটে ওঠে?

খনিজ মৌলের বিষক্রিয়া – খনিজ মৌল উদ্ভিদদেহে অত্যধিক ঘনত্বে সঞ্চিত হলে (উদ্ভিদের শুষ্ক ওজন 10% বা তার বেশি হ্রাস পেলে) উদ্ভিদদেহে যে অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশিত হয়, তাকে খনিজ মৌলের বিষক্রিয়া বলে।

ফসফরাসের বিষক্রিয়া –

  • উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়ায় উদ্ভিদের অঙ্গগুলি আকারে ছোটো হয়।
  • পাতা ধূসরবর্ণযুক্ত হয় ও শুকিয়ে যায়।

ক্যালশিয়ামের বিষক্রিয়া –

  • পাতায় ক্লোরোসিস দেখা দেয়।
  • পাতার কিনারা বিবর্ণ হয়।

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘খনিজ পুষ্টি’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – খনিজ পুষ্টি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর