এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ টীকা নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

প্রণোদিত প্রজনন (Induced Breeding) সম্পর্কে টীকা লেখো।
প্রাণাদিত প্রজনন (Induced Breeding) – যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস কার্পজাতীয় মাছকে ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং বন্ধ জলাশয়ে প্রজনন ঘটাতে উদ্দীপিত করা হয়, তাকে প্রণোদিত প্রজনন বা ইনডিউসড ব্রিডিং বা হাইপোফাইজেশন (Hypophysation) বলে।

প্রণোদিত প্রজননের উদ্দেশ্য – প্রণোদিত প্রজনন বর্তমানে সবথেকে আধুনিক প্রজনন পদ্ধতি। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে বদ্ধ জলাশয়ে বছরের যে-কোনো সময় কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন ঘটানো সম্ভব।
প্রণোদিত প্রজননের তাৎপর্য –
- মাছের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রণোদিত প্রজননের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পদ্ধতিতে বছরে দুবার মাছের প্রজনন ঘটিয়ে ডিমপোনা পাওয়া সম্ভব হয়।
- বিশুদ্ধ প্রজাতির মাছচাষ করা যায়।
- অতি অল্প খরচে এই পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন করা যায়।
জলবিদ্যুৎ শক্তি (Hydro-electric Power) সম্পর্কে টীকা লেখো।
জলবিদ্যুৎ শক্তি – নদী, জলপ্রপাত, ঝরনা প্রভৃতি প্রবহমান জলের স্রোতের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে ডায়নামোর মাধ্যমে যে বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে জলবিদ্যুৎ শক্তি বলে। জলবিদ্যুৎ শক্তিকে বর্তমানে ‘সাদা কয়লা’ বলা হয়। জলবিদ্যুৎ শক্তি অপ্রচলিত শক্তির উৎস হিসেবে পরিচিত।

জলবিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার –
জলবিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহারগুলি হল –
- এই শক্তি বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান ইত্যাদি দেশগুলিতে বিভিন্ন শিল্পের জন্য জলবিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।
- রেলপথে পরিবহণেও জলবিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।
- শীতপ্রধান দেশে ঘর গরম রাখতেও জলবিদ্যুৎ কাজে লাগে।
বায়ুশক্তি (Wind Power) সম্পর্কে টীকা লেখো।
বায়ুর গতিকে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করে, তাকে মানুষের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বায়ুশক্তির ব্যবহার –
- বায়ুশক্তি পুনর্ভব, প্রবহমান ও অক্ষয়িষ্ণু শক্তি সম্পদ, এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পে উন্নতিসাধন করা হয়।
- কুয়ো থেকে জল তোলার ক্ষেত্রে বায়ুশক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- জাহাজ ও নৌকা চালানোর জন্যও এই শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- ধান ও গম ভাঙানো, কাঠ চেরাই, আখ মাড়াইয়ের কাজেও বায়ুশক্তিকে কাজে লাগানো যায়।

জোয়ারভাটা শক্তি (Tidal Energy) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সমুদ্রের জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে ও জোয়ার সৃষ্টি করে। জোয়ারের শক্তি তৈরি করার জন্য সংকীর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি জলাধার গঠন করা হয়। প্রবল জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল এই জলাধারে প্রবেশ করে এবং এই জলের প্রবাহে টারবাইন ঘুরে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। আবার যখন জোয়ার কমে যায় (ভাটা) তখন জলাধার থেকে সমুদ্রের অভিমুখে জল প্রবাহিত হওয়ার সময় টারবাইন ও জেনারেটারের সাহায্যে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করা হয়। ভারতের কাম্বে উপসাগর, কচ্ছ উপসাগর, সুন্দরবন প্রভৃতি অঞ্চলে এই শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

জোয়ারভাটা শক্তির সুবিধা –
- এটি দূষণহীন শক্তি,
- পৌনঃপুনিক ব্যয় অল্প।
জোয়ারভাটা শক্তির অসুবিধা –
- প্রারম্ভিক ব্যয় অনেক বেশি,
- জোয়ারভাটার জন্য যেহেতু জলের বেগ সমান থাকে না, তাই সব সময় সমপরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় না। ফলে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ও বাঁধ নির্মাণ করতে হয়।
- জোয়ারের ঘোলা ও নোনা জলে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার’ অংশের টীকা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন