একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

Rahul

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে।

একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

“এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে ফেরে
আষাঢ়ে গল্পে সাক্ষী তো ছিল সে-ই
আমরা গিয়েছি সময়ের কাছে হেরে
শুধু বৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।”

– শ্রীজাত

ভূমিকা –

সকালেও সেদিন আমার ঘুম ভেঙেছিল মুখের ওপরে এসে পড়া আলতো রোদের আঁকিবুকিতে। চারপাশে সদ্য-হওয়া সকালের ব্যস্ততা আর শব্দ-বারান্দায় কাগজওয়ালার সাইকেলের ঘণ্টির শব্দ, রাস্তায় বাজারমুখী তপনকাকুর চটির ফটাস ফটাস শব্দ, রান্নাঘরে চায়ের জল ফোটার শব্দ-সবমিলিয়ে সকালটা অন্য আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল কর্মমুখর। কিন্তু, ন-টা বাজতে না বাজতেই আকাশ একেবারে আঁধার করে এল। দিনটা ছিল রবিবার। তাই সেদিন স্কুলে যাওয়ারও কোনো তাড়া নেই। আমি বহুদিন পর আঁকার খাতাটা বের করে আঁকতে বসে গেলাম। আপন মনে এঁকে চলেছি-কালো হয়ে আসা আকাশ, তার গায়ে ঘনিয়ে ওঠা জলভরা মেঘ-কখন যে মা এসে পিছনে দাঁড়িয়েছেন, টেরই পাইনি। হঠাৎ শুনলাম, মায়ের গলা – “ঈশান কোণে ঐ যে ঝড়ের বাণীযগুরুপুর রবে কী করিছে কানাকানি।” এমন সময় কেঁপে বৃষ্টি নামল। আর আমিও অমনি রং, তুলি ফেলে, পাততাড়ি গুটিয়ে সটান জানলার ধারে গিয়ে বসে পড়লাম। জানলায় বসেই দেখতে পাচ্ছি, পথের সব লোকজন দৌড়োদৌড়ি লাগিয়ে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সব লোকজন ভিড় করে এ-দোকানের ছাউনি, ও-বাড়ির রোয়াকে গিয়ে আশ্রয় নিল। শুনশান রাস্তার কালো পিচ ঝমঝমে বৃষ্টিতে ভিজে চকচক করছে। দেখতে দেখতে রাস্তায়। একহাঁটু জল দাঁড়িয়ে গেল।

কী করলাম –

আমার বৃষ্টি দেখা তখনও ফুরোয়নি। মা তাড়া লাগিয়ে স্নান সেরে আসতে বললেন। নিতান্ত অনিচ্ছায় জানলার ধার ছেড়ে উঠলাম। খেতে বসে দেখি গরম গরম খিচুড়ি আর সঙ্গে কতরকম ভাজা। মনটা আবার খুশি হয়ে গেল। সত্যিই তো, এমন শিরশিরে ঠান্ডা বৃষ্টির দিনে খিচুরি হলে আর কী চাই! এদিকে সারাদিন ধরে বৃষ্টির থামার কোনো লক্ষণই নেই। এইবার আমার একটু একটু মন খারাপ করতে লাগল। বিকেলের আলোটা মরে আসছে, আর তারই মধ্যে সেই একঘেয়ে বৃষ্টি— কখনও টিপটিপ করে, কখনও ঝমঝমিয়ে-চলেছে তো চলেছেই। আমার মনে পড়ছে সেই গানটার লাইনগুলো – “মন খারাপ করা বিকেল মানেই মেঘ করেছে।

দিনের শেষ –

ক্রমশ অন্ধকার ঘনিয়ে এল। আমার পড়তে বসতেও একদম ইচ্ছে করছিল না। কী করব ভাবছি, এমন সময় মস্ত কালো ছাতা মাথায় ছপছপ করতে করতে গরম পেঁয়াজির ঠোঙা হাতে বাড়ির দরজা দিয়ে ঢুকলেন মিত্তিরদাদু। তাঁকে দেখামাত্রই মনটা যেন ‘হুররে’ বলে চেঁচিয়ে উঠল। মিত্তিরদাদু আসা মানেই নানান মজা শুরু। কারণ, মিত্তিরদাদু প্রায় সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর ভাঁড়ারে অজস্র গল্প। কিন্তু আজ সন্ধের মেজাজটা বুঝতে পেরেই বোধহয় মিত্তিরদাদু দেশ-বিদেশের গল্প না শুনিয়ে, ভূতের গল্প বলা শুরু করলেন। আমরা সবাই দাদুকে গোল করে ঘিরে বসে গরম গরম চা আর পেঁয়াজি সহযোগে ভূতের গল্প শুনতে লাগলাম। কখন যে বৃষ্টি থেমে গেছে টেরই পাইনি। দাদুর চলে যাওয়ার সময় দেখলাম, আর বৃষ্টি নেই, মেঘও নেই। শুধু পরিষ্কার আকাশে জ্বলজ্বলে এক টুকরো চাঁদ ঝুলে রয়েছে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘একটি বৃষ্টিমুখর দিনের অভিজ্ঞতা’ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

প্রতিসরণ কোণ কাকে বলে? কাচফলকে প্রতিসরণের ফলে আলোকরশ্মির চ্যুতি হয় না কেন?

একটি প্রিজমের i-δ লেখচিত্র আঁকো, যেখানে i হল আপতন কোণ ও δ হল চ্যুতিকোণ।

উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স কয়প্রকার ও কী কী?

আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।

রেখাচিত্রের সাহায্যে লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনের নিয়মাবলি গুলি লেখো।