এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এদের প্রভাব লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্ণতা ও বিশ্ব উষ্ণায়ন” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব
ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব

এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এদের প্রভাব লেখো।

এল-নিনো –

স্পেনীয় শব্দ EI-NINO-র প্রকৃত অর্থ শিশুখ্রিস্ট (Child Christ)। এল-নিনো হল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের চিলি উপকূলে সাধারণত খ্রিস্টমাসের সময় দেখা অস্থির, অনির্দিষ্ট এবং উষ্ণ সমুদ্রস্রোত।

ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনোর প্রভাব –

  • ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ হিসেবে ভারতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে যে বৃষ্টিপাত ঘটে এল-নিনোর প্রভাবে সেই বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা যায়।
  • এল-নিনোর প্রভাবে সমুদ্রজলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমি বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ হ্রাস পায়।
  • এল-নিনোর কারণে জলভাগের উষ্ণতা অনেক বেড়ে যাওয়ায় নিম্নচাপ ও প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা দেখা যায়।
  • এল-নিনোর প্রভাবে বেশ কয়েক বছর আগে আরবসাগরে এক ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় যার ফলে সেই বছর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়। সুতরাং বলা যায়, সমগ্র পৃথিবী তথা ভারতের জলবায়ুর ছন্দপতনে এল-নিনো বিশেষভাবে দায়ী।

লা-নিনা –

স্পেনীয় শব্দ ‘লা-নিনা’-র ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Little Girl’ এবং বাংলা প্রতিশব্দ ‘ছোটো মেয়ে’। এটি এল-নিনোর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা। লা-নিনার সময় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূলে শীতল স্রোত প্রবাহিত হয় ও শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উষ্ণস্রোত প্রবাহিত হয় ও আর্দ্র অবস্থা বিরাজ করে। এই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে জলতলের উষ্ণতা 3°-5° কম থাকে এবং উচ্চচাপ বিরজা করে। পশ্চিমে জলতলের উষ্ণতা বেশি থাকে এবং নিম্নচাপ বিরাজ করে। এই রকম অবস্থাকে লা-নিনা বলা হয়।

ভারতের জলবায়ুতে লা-নিনার প্রভাব –

  • লা-নিনার সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা ভারতে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।
  • ঘূর্ণবাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
  • উত্তর ভারতে শীতকালে ভোরের দিকে কুয়াশার উৎপত্তি হয়।
  • অধিক বৃষ্টির জন্য বন্যা, ভূমিধস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়।
  • পৃথিবীর জলবায়ুতে লা-নিনার প্রভাব লেখো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এদের প্রভাব লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “এল-নিনো ও লা-নিনা কী? ভারতের জলবায়ুতে এদের প্রভাব লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্ণতা ও বিশ্ব উষ্ণায়ন” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য করো।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান