এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঘনীভবন কাকে বলে? ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “ঘনীভবন কাকে বলে? ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – আর্দ্রতা ও অধঃক্ষেপণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ঘনীভবন কাকে বলে? ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
ঘনীভবন –
জলীয়বাষ্পের তরলে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া হল ঘনীভবন। আর্দ্র বায়ুর উষ্ণতা শিশিরাঙ্কের নীচে নেমে গেলে অর্থাৎ সম্পৃক্ত বায়ু আরও শীতল হলে বায়ুর মধ্যে উপস্থিত অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে অতিক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। একেই ঘনীভবন বলা হয়।
ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপ –
ঘনীভবনের ফলে সৃষ্ট আর্দ্র জলকণা বিভিন্ন রূপে দেখা যায়। যেমন – ঊর্ধ্বাকাশে মেঘ, ভূপৃষ্ঠস্থ শিশির, কুয়াশা, ধোঁয়াশা প্রভৃতি। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর উষ্ণতা প্রভৃতির ওপর ঘনীভবন নির্ভরশীল। ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হল –
শিশির –
শীতের রাতে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর শীতল হয়ে পড়ে। ফলে শীতল বায়ু বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে না পারায় অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয় এবং গাছের পাতায়, ঘাসের ওপর জলবিন্দু আকারে জমা হয়। একে শিশির বলে।
কুয়াশা –
স্বাভাবিক নিয়মে দিনের তুলনায় রাতে বায়ুর উষ্ণতা কমে যায়। ফলে কোনো কোনো সময় ভোরের দিকে বাতাসের জলীয়বাষ্প শীতল ও ঘনীভূত হয়ে ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী বায়ুস্তরে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণার আকারে বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকে। একে কুয়াশা বলে। এর ফলে নিম্ন বায়ুমণ্ডল অস্বচ্ছ হয় ও দৃশ্যমানতা হ্রাস পায়। শীতে ভূপৃষ্ঠের নিকটে ও জলাশয়ের ওপরে জলীয়বাষ্পের মাত্রা বেশি থাকায় ওই সময় কুয়াশা বেশি দেখা যায়, তবে সকালবেলা সূর্যোদয়ের পর বায়ুর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাসমান জলকণাগুলি পুনরায় বাষ্পে পরিণত হয়ে ওপরে উঠে যায়।
ধোঁয়াশা –
ভোরবেলা জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে কুয়াশা সৃষ্টি করে। শিল্প কারখানাযুক্ত অঞ্চলে কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বা শহরাঞ্চলে যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসে উপস্থিত থাকে। কুয়াশা বাতাসে উপস্থিত ধোঁয়াকে (জলাকর্ষী কণা) আশ্রয় করে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলে ভেসে বেড়ায় এবং যে অর্ধস্বচ্ছ ধোঁয়াটে অবস্থার সৃষ্টি করে, তাকে ধোঁয়াশা বলে। এর ফলে মানবদেহে নাক ও গলা জ্বালা, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
মেঘ –
জলীয়বাষ্পের ঘনীভবনের ফলে সৃষ্ট ভূপৃষ্ঠ থেকে যথেষ্ট উপরে (বিভিন্ন উচ্চতায়) অবস্থিত বায়ুমণ্ডলের মধ্যে ভাসমান ও দৃশ্যমান অতিসূক্ষ্ম জলকণা বা তুষারকণাকে মেঘ বলে। ভূপৃষ্ঠস্থ জলাশয়ের জল বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে উঠে যায়। ঊর্ধ্বাকাশে শীতল ও সম্পৃক্ত হয়ে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘরূপে ভেসে বেড়ায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঘনীভবন কাকে বলে? ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ঘনীভবন কাকে বলে? ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – আর্দ্রতা ও অধঃক্ষেপণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





Leave a Comment