জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। নদী বা জলধারার জল উচ্চতা থেকে নিচে পতিত হয়ে যে অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে তা মানুষকে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে আসছে। এই প্রবন্ধে আমরা জলপ্রপাত কী, কী কী ধরনের জলপ্রপাত আছে, এবং জলপ্রপাতের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব।
জলপ্রপাত হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য যেখানে নদী বা জলধারার জল উচ্চতা থেকে নিচে পতিত হয়। পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে নদীর জল দ্রুতবেগে নেমে এসে যখন নিচে পতিত হয় তখন জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।
জলপ্রপাত বিভিন্ন আকারের হতে পারে। কিছু জলপ্রপাত খুবই ছোট, আবার কিছু জলপ্রপাত অত্যন্ত বিশাল। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত হলো ভেনিজুয়েলার ‘এঞ্জেল জলপ্রপাত’, যার উচ্চতা 979 মিটার।
জলপ্রপাত কেবল সৌন্দর্যের জন্যই আকর্ষণীয় নয়, বরং এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলপ্রপাতের জলের তীব্র গতিশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

জলপ্রপাতের শ্রেণিবিভাগ করো।
ভূবিজ্ঞানীরা নদীখাতে জলের পরিমাণ ও ভূমির ঢাল অনুসারে জলপ্রপাতকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। এগুলি হল — র্যাপিড, কাসকেড, ক্যাটারাক্ট।
| শ্রেণি | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
| র্যাপিড | জলপ্রপাতের ঢাল কম হলে তাকে র্যাপিড বলা হয়। এই ধরনের জলপ্রপাতের উচ্চতা কয়েক মিটার মাত্র হয়। | ছোটোনাগপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে এরকম জলপ্রপাত প্রায়ই দেখা যায়। এ ছাড়া, নায়াগ্রা জলপ্রপাত হল র্যাপিডের দৃষ্টান্ত। |
| কাসকেড | যখন কোনো জলপ্রপাতের জল অজস্র ধারায় বা সিঁড়ির মতো ঢাল বেয়ে ধাপে ধাপে নীচের দিকে নামে, তখন তার নাম কাসকেড। | রাঁচির জোনা জলপ্রপাত। |
| ক্যাটারাক্ট | কোনো নদী বরাবর পরপর অনেকগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলপ্রপাত অবস্থান করলে তাদের ক্যাটারাক্ট বলে। | আফ্রিকার নীলনদে খাতুম থেকে আসোয়ান পর্যন্ত অংশে মোট 6টি ক্যাটারাক্ট বা খরস্রোত দেখা যায়। |
আরও পড়ুন – নদীর গতিপথে কীভাবে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়?
জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। আমাদের উচিত জলপ্রপাতের সৌন্দর্য রক্ষা করা এবং এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।





মন্তব্য করুন