মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা এবং মায়োটোম পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে নীচে আলোচনা করা হল।

মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা –

মাছের দেহে রশ্মিযুক্ত জোড় (4টি) ও বিজোড় (3টি) পাখনা থাকে।

বিজোড় পাখনা –

  • পৃষ্ঠপাখনা – দেহকে সোজা রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঘাত সৃষ্টি করে। দেহের আয়তন বৃদ্ধি ঘটিয়ে এগোতে সাহায্য করে। ঘূর্ণন প্রতিরোধ করে।
  • পায়ুপাখনা – জলের মধ্যে মাছকে সোজা রাখে। পায়ু অঞ্চলে শত্রুর আক্রমণে বাধা দিতেও সাহায্য করে।
  • পুচ্ছপাখনা – এই বিজোড় পাখনাটি নৌকার হালের মতো কাজ করে দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। ল্যাজের পাখনার আন্দোলনের ফলে যে বলের উদ্ভব হয়, সেই বলই মাছকে সোজা এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
মাছের সন্তরণ

জোড় পাখনা –

  • বক্ষপাখনা – বক্ষপাখনা জলের যে-কোনো তলে স্থিতিশীল থাকতে এবং জলে ডুবতে সাহায্য করে। নৌকার বইঠার মতো কাজ করে অগ্রগমনে সাহায্য করে।
  • শ্রোণিপাখনা – শ্রোণিপাখনা জলে ভেসে উঠতে ও স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে।
মাছের পাখনা ও মায়োটোম পেশি

মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভূমিকা –

মাছের শরীরের মাথা থেকে ল্যাজ পর্যন্ত মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত ‘V’ আকৃতির খণ্ডিত পেশিগুলিকে মায়োটোম পেশি বলে।

মায়োটোম পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে মাকুর মতো দেহটি তরঙ্গায়িত হয়ে একান্তরভাবে একবার ডানপাশে ও একবার বামপাশে আন্দোলিত হয়।

এভাবে পর্যায়ক্রমিক আন্দোলনের ফলে উৎপন্ন বল ও ল্যাজের নৌকার হালের মতো ঝাপটার ফলে যে বল সৃষ্টি হয়, তা মাছকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মাছের চলাচলের প্রধান অঙ্গগুলি কী কী?

পাখনা (ফিন) এবং মায়োটোম পেশি (পার্শ্বীয় পেশি) মাছের চলাচলের প্রধান অঙ্গ। পাখনা দিক নির্ধারণ, স্থিতিশীলতা ও প্রণোদনায় সাহায্য করে, আর মায়োটোম পেশির সংকোচন-প্রসারণ দেহে তরঙ্গ সৃষ্টি করে মাছকে এগিয়ে দেয়।

মাছ কীভাবে সাঁতার কাটে?

মাছের মায়োটোম পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন-প্রসারণে দেহে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, যা পুচ্ছপাখনায় (লেজ) বল তৈরি করে। পাখনাগুলো এই গতিকে নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল করে।

বিজোড় ও জোড় পাখনার মধ্যে পার্থক্য কী?

বিজোড় ও জোড় পাখনার মধ্যে পার্থক্য –
1. বিজোড় পাখনা (অযুগ্ম) – দেহের মধ্যরেখায় অবস্থিত, যেমন – পৃষ্ঠপাখনা, পায়ুপাখনা, পুচ্ছপাখনা। এগুলি স্থিতিশীলতা, দিক পরিবর্তন ও প্রণোদনায় সাহায্য করে।
2. জোড় পাখনা (যুগ্ম) – দেহের দুই পাশে জোড়ায় থাকে, যেমন – বক্ষপাখনা ও শ্রোণিপাখনা। এগুলি উঠা-নামা, ঘূর্ণন রোধ ও সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

পুচ্ছপাখনা কীভাবে কাজ করে?

পুচ্ছপাখনা নৌকার হালের মতো কাজ করে। এটি ডান-বামে আন্দোলিত হয়ে জলে ধাক্কা দেয়, যা মাছকে সামনে এগিয়ে নেয়।

বক্ষপাখনা ও শ্রোণিপাখনার কাজ কী?

বক্ষপাখনা ও শ্রোণিপাখনার কাজ –
1. বক্ষপাখনা – নৌকার বৈঠার মতো কাজ করে, গতি নিয়ন্ত্রণ ও ডুবে থাকতে সাহায্য করে।
2. শ্রোণিপাখনা – দেহের ভেসে থাকা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

মায়োটোম পেশি কী?

মায়োটোম পেশি হলো মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত ‘V’ আকৃতির খণ্ডিত পেশি, যা মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত। এগুলোর সংকোচন-প্রসারণে দেহ তরঙ্গায়িত হয়।

মায়োটোম পেশি কীভাবে গতি তৈরি করে?

পেশিগুলো পর্যায়ক্রমে একপাশ সংকুচিত ও অন্যপাশ প্রসারিত হয়, ফলে দেহ ডান-বামে বাঁক নিয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ পুচ্ছপাখনায় পৌঁছে জলে ধাক্কা দিয়ে মাছকে সামনে নেয়।

মাছের গতিতে পাখনা ও মায়োটোম পেশি একত্রে কীভাবে কাজ করে?

মায়োটোম পেশি দেহে তরঙ্গ ও প্রাথমিক ধাক্কা তৈরি করে, আর পাখনা সেই গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে—দিক পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা রক্ষা ও গতি বৃদ্ধি করে।

মাছ জলে ভেসে থাকতে কীভাবে সাহায্য করে?

পাখনা (বিশেষ করে পৃষ্ঠ ও পায়ুপাখনা) দেহের ভারসাম্য রেখে জলে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। মায়োটোম পেশির নিয়ন্ত্রিত গতিও ভাসতে সহায়ক।

পাখনা না থাকলে মাছের গতি কেমন হতো?

পাখনা ছাড়া মাছের গতি নিয়ন্ত্রণহীন ও অস্থির হতো—সে সোজা সাঁতার কাটতে, দিক বদলাতে বা স্থির থাকতে পারতো না।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি