মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ – ভারতের জনসংখ্যা- সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। দেশটির অর্থনীতি কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি খাত দেশটির অর্থনীতির ভিত্তি। শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির দ্রুত বর্ধনশীল খাত। সেবা খাত দেশটির অর্থনীতির তৃতীয় বৃহত্তম খাত।

Table of Contents

মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ – ভারতের জনসংখ্যা

মাধ্যমিক ভূগোল একটি শিক্ষামূলক বিষয় যা ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে পড়া হয়। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয় হয় ভারতের সামাজিক অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, প্রকৃতির বিভিন্ন তথ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে ভারতের অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করা হয়।

মাধ্যমিক ভূগোলে ভারতের জনসংখ্যার বিভিন্ন বিষয় প্রশ্ন করা হয়, যেমন জনসংখ্যার বৃদ্ধি, জনসংখ্যার বন্টন, জনসংখ্যার বিভিন্ন উপায়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং অভিবাসনের বিষয়গুলি। এছাড়াও প্রশ্ন করা হয় ভারতের প্রধান জনবহুল প্রদেশ এবং তাদের প্রধান অর্থনৈতিক কারণ ও উন্নয়নের উপায়গুলি।

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং জনসংখ্যা ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মৌলিক উপাদান। ভারত একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিবেশ যেখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়। ভারতের অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয় উপাদান হলো কৃষি, কৃষি উন্নয়ন, শিল্প, বাণিজ্য, বিতরণ ও পরিবহন ইত্যাদি।

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বন্টনের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান হলে একটি মাধ্যমিক শিক্ষার্থী ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ ও জনসংখ্যার উন্নয়নের উপায়গুলি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ভারতের জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হয়, যেমন ভারতের জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার, জনসংখ্যার বন্টন এবং সেই সমস্যার সমাধান, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলি ভারতের জনসংখ্যার উন্নয়ন এবং বন্টন সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে সাহায্য করে।

আদমশুমারি কাকে বলে?

জনগণনা এবং জনগণনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজকে বলে আদমশুমারি। যেমন — ভারতে প্রতি 10 বছর অন্তর জনগণনা করা হয়। 1872 সালে ভারতে প্রথম জনগণনা করা হলেও 1881 সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি 10 বছর অন্তর জনগণনা করা হয়েছে। এই হিসেবে ভারতে সর্বশেষ জনগণনা করা হয় 2011 সালে। এরপরে আবার জনগণনা করা হবে 2021 সালে।

মোট জনসংখ্যার বিচারে ভারতের প্রথম চারটি রাজ্যের নাম লেখো।

মোট জনসংখ্যা (2011) – র বিচারে ভারতের প্রথম চারটি রাজ্য হল — 1. উত্তরপ্রদেশ (19 কোটি 96 লক্ষ), 2. মহারাষ্ট্র (11 কোটি 24 লক্ষ), 3. বিহার (10 কোটি 38 লক্ষ) এবং 4. পশ্চিমবঙ্গ (9 কোটি 13 লক্ষ)।

জনঘনত্ব অনুসারে ভারতের প্রথম চারটি রাজ্যের নাম লেখো।

জনঘনত্ব অনুসারে ভারতের প্রথম চারটি রাজ্য হল — 1. বিহার (প্রতি বর্গকিমিতে 1102 জন), 2. পশ্চিমবঙ্গ (প্রতি বর্গকিমিতে 1029 জন), 3. কেরল (প্রতি বর্গকিমিতে 859 জন) ও 4. উত্তরপ্রদেশ (প্রতি বর্গকিমিতে 828 জন)।

ভারতের নিবিড় বসতিপূর্ণ রাজ্যগুলির নাম করো |

ভারতে যেসব রাজ্যে জনবসতির ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪০০ জনের বেশি সেগুলিকে নিবিড় বসতিপূর্ণ রাজ্য বলা হয়। ভারতে 1. বিহার (1102 জন), 2. পশ্চিমবঙ্গ (1029 জন), 3. কেরল (859 জন) এবং 4. উত্তরপ্রদেশ (828 জন) হল নিবিড় বসতিপূর্ণ রাজ্য।

ভারতে জনবিস্ফোরণের কারণ কী?

বিগত কয়েকটি দশকে ভারতের জনসংখ্যা এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে যে একে জনবিস্ফোরণ বলা হয়। জনবিস্ফোরণের কারণ হল — 1. ভারতীয় সমাজে দারিদ্র্যতা, শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, বাল্যবিবাহের কারণে অতিরিক্ত জন্মহার; 2. চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে স্বল্প বা ক্রমহ্রাসমান মৃত্যুহার, 3. প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিপুল সংখ্যায় শরণার্থীদের আগমন; 4. খাদ্য ও শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতি (এর ফলে যেমন রোগ-ব্যাধি হ্রাস পেয়েছে, তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে)। এইসব কারণে বিগত কয়েকটি দশকে ভারতবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটেছে, যা পরোক্ষভাবে ভারতে জনবিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সাম্প্রতিক আদমশুমারি অনুসারে ভারতের কোন্ রাজ্যের জনবসতির ঘনত্ব সবচেয়ে কম এবং কেন কম?

ভারতের সব রাজ্যগুলির মধ্যে (জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাদে) মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের জনবসতির ঘনত্ব সবচেয়ে কম। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে মাত্র 17 জন লোক বসবাস করে।
কম জনঘনত্বের কারণ – দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রতিকূল জলবায়ু, গভীর অরণ্য, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতি কারণে এই রাজ্যে জনবসতির ঘনত্ব অত্যন্ত কম।

কত বছর অন্তর ভারতে জনগণনা হয় এবং 2011 – এর আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্ব কত?

ভারতে প্রতি 10 বছর অন্তর জনগণনা করা হয় এবং 2011 – এর আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে 382 জন।

জনসংখ্যার বৃদ্ধি বলতে কী বোঝায়?

জনসংখ্যার বৃদ্ধি বলতে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যার ধনাত্মক পরিবর্তনকে বোঝায়। যেমন – 2001 সালে ভারতের জনসংখ্যা থেকে 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার বৃদ্ধি হয়েছে।

ধারণযোগ্য উন্নয়ন কী?

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সেই প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে। ধারণযোগ্য উন্নয়ন হল এমন এক ধরনের উন্নয়ন ভাবনা যার সাথে পৃথিবীর সব মানুষের সব ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ জড়িয়ে রয়েছে।

প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কীভাবে শহর গড়ে ওঠে?

কোনো জায়গায় প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য মানুষের সমাগম হয়। ধীরে ধীরে সেই অঞ্চলটি শহর ও পরে নগরে পরিণত হয়। দিল্লি, কলকাতা এমনভাবেই গড়ে ওঠা প্রশাসনিক শহর।

যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে কীভাবে শহর গড়ে ওঠে?

যেখানে সড়ক, রেল বা অন্যান্য পরিবহণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো সেখানে মানুষের সুবিধা হয় বলে শহর গড়ে ওঠে। যেমন — উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের যে-কোনো রাজ্যে, এমনকি নেপাল, ভুটানে এবং বাংলাদেশেও যাওয়া যায় বলে শিলিগুড়ি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শহর হয়ে উঠেছে।

শিল্পকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কীভাবে শহর গড়ে ওঠে?

শিল্পের প্রসার ঘটলে জীবিকার জন্য সেখানে বহু মানুষের সমাগম হয়। ধীরে ধীরে ওই শিল্পকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল শহরে পরিণত হয়। যেমন — জামশেদপুর, দুর্গাপুর, আমদাবাদ।

ভারতের নগরায়ণের দুটি সমস্যা বলো।

ভারতের নগরায়ণের দুটি সমস্যা হল —
1. স্বাস্থ্য সমস্যা – শহরে শিল্পকারখানা, যানবাহন থেকে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়।
2. পরিবহণের সমস্যা – শহরগুলিতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ফুটপাত বেদখল এসবের কারণে পরিবহণ খুব ধীর গতিতে চলে। যার ফলে যানজট নগরায়ণের অন্যতম সমস্যা হয়ে উঠেছে।

জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি বলতে কী বোঝ?

1951-1981 সালের মধ্যে জনসংখ্যা দ্রুত হারে (2.16%-2.47%/বছর হারে) বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে জনসংখ্যার অতিবৃদ্ধিকে জনবিস্ফোরণ বলা হয়। শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্যের উন্নতির কারণে মৃত্যুহার এই সময় কমে যায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিশ্চল অবস্থা বলতে কী বোঝ?

যখন কোনো দেশ বা অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে স্থির অবস্থায় থাকে, তখন সেই পর্যায়কে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিশ্চল অবস্থা বলে। এক্ষেত্রে
মোট জন্মহার + অভিবাসন মোট = মৃত্যুহার + পরিব্রাজন
নিশ্চল জনসংখ্যার বৃদ্ধির অবস্থায় রয়েছে এমন দুটি দেশের উদাহরণ হল — সুইডেন ও সুইটজারল্যান্ড।

ভারতের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কিছু প্রাথমিক তথ্য —

  • মোট জনসংখ্যা – 1210193422 জন
  • পুরুষ – 623724248 জন (51.54%)
  • মহিলা – 586469174 জন (48.46% )
  • জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – (a) বার্ষিক = 1.76% (b) দশকীয় (2001-2011) = 17.64%
  • মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি ( 2001-2011) – 181455986 জন
  • প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা (15-64 বছর) – 78.78 কোটি (65.20%)
  • অপ্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা (0-14 বছর) – 35.58 কোটি (29.50%)
  • নির্ভরশীল জনসংখ্যা (65 বছরের বেশি) – 6.20 কোটি (5.30%)
  • সাক্ষরতার হার – 74.04% (পুরুষ 82.14%, মহিলা 65.46%)
  • কর্মে অনিযুক্ত জনসংখ্যা – 72.85 কোটি
  • কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা – 48.17 কোটি
  • প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল – 68.4 বছর (পুরুষ 67.3%, মহিলা 69.6%)
  • শিশু মৃত্যুর হার – প্রতি হাজারে 44 জন

ভারতের জনঘনত্ব – 382 জন/বর্গকিমি

রাজ্য সবচেয়ে বেশিসবচেয়ে কম
অঙ্গরাজ্য বিহার (1102 জন/বর্গকিমি)অরুণাচল প্রদেশ (17 জন/বর্গকিমি)
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলদিল্লি (11297 জন/বর্গকিমি)আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (46 জন/বর্গকিমি)

নারী ও পুরুষের জনসংখ্যার অনুপাত, প্রতিহাজার পুরুষ জনসংখ্যায় মহিলার সংখ্যা 940 জন

রাজ্য সবচেয়ে বেশিসবচেয়ে কম
অঙ্গরাজ্য কেরল (1084 জন)হরিয়ানা (877 জন)
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলপুদুচেরি ( 1038 জন)দমন-দিউ (618 জন)

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি মাধ্যমিক ভূগোলের কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ভারতের উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের জনসংখ্যা সম্পর্কে জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি সমস্যা হিসাবে সামনে দাঁড়াতে পারে। সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন একটি ভালো উপায় যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বুদ্ধি পরীক্ষা করতে সাহায্য করে এবং তাদের বুদ্ধিমানতা ও পরিকল্পনা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মাধ্যমিক ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তরগুলি আগামী মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়ে ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন