এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলে কেন? মাইটোসিস কোশ বিভাজনে প্রোফেজ এবং টেলোফেজ দশায় ঘটা তিনটি বিপরীতমুখী ঘটনা উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলে কেন?
অথবা, মাইটোসিসকে সদৃশ বিভাজন বলে কেন?
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত মাতৃকোশ এবং অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে। উভয়েই সমআকৃতিবিশিষ্ট এবং মাতৃকোশ ও অপত্যকোশের ক্রোমোজোমগুলি সমগুণসম্পন্ন হওয়ার জন্য মাইটোসিস কোশ বিভাজনকে সমবিভাজন বলে।

মাইটোসিস কোশ বিভাজনে প্রোফেজ এবং টেলোফেজ দশায় ঘটা তিনটি বিপরীতমুখী ঘটনা উল্লেখ করো।
মাইটোসিস কোশ বিভাজনে প্রোফেজ ও টেলোফেজ দশায় ঘটা বিপরীতমুখী ঘটনাগুলি হল –
- মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় নিউক্লিয়াস থেকে জলের বিয়োজন ঘটে, কিন্তু টেলোফেজ দশায় নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে জলযোজন ঘটে।
- প্রোফেজ দশায় নিউক্লিয়োলাস এবং নিউক্লিয় পর্দার ক্রমশ অবলুপ্তি ঘটে, কিন্তু টেলোফেজ দশায় নিউক্লিয় পর্দা এবং নিউক্লিয়োলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
- প্রোফেজ দশায় ক্রোমাটিন জালিকার স্পাইরালাইজেশন এবং ঘনীভবন বা কনডেনসেশন ঘটে, কিন্তু টেলোফেজ দশায় ক্রোমোজোমের ডিস্পাইরালাইজেশন ঘটে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. মাইটোসিসে একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান (ডিপ্লয়েড) থাকে। এটি দৈহিক বৃদ্ধি ও মেরামতের জন্য ঘটে।
2. মিয়োসিসে একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চটি অপত্য কোষ (গ্যামেট) তৈরি করে, যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (হ্যাপ্লয়েড) থাকে। এটি প্রজননের জন্য ঘটে।
মাইটোসিসের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলো মেটাফেজ প্লেটে সারিবদ্ধ হয়?
মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলো কোষের বিষুবীয় অঞ্চলে (মেটাফেজ প্লেট) সারিবদ্ধ হয়।
মাইটোসিসের কোন দশায় সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়?
অ্যানাফেজ দশায় প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং ক্রোমাটিডগুলো পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায়।
মাইটোসিসে সাইটোকাইনেসিস কী?
সাইটোকাইনেসিস হলো সাইটোপ্লাজমের বিভাজন, যার মাধ্যমে দুটি অপত্য কোষ সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়। এটি সাধারণত টেলোফেজের পরে সংঘটিত হয়।
মাইটোসিসে কেন ক্রোমোজোমের স্পাইরালাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ?
ক্রোমোজোমের স্পাইরালাইজেশন (ঘনীভবন) এর মাধ্যমে দীর্ঘ ও সুতার মতো ক্রোমাটিন ছোট ও ঘন কাঠামোয় পরিণত হয়, যা বিভাজনের সময় সহজে সরে যেতে এবং জিনগত উপাদান সঠিকভাবে বণ্টনে সাহায্য করে।
মাইটোসিসকে “সদৃশ বিভাজন” বলা হয় কেন?
মাইটোসিসকে “সদৃশ বিভাজন” বলা হয় কারণ মাইটোসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট অপত্য কোষগুলো জিনগতভাবে একে অপরের এবং মাতৃকোষের অকারণ মাইটোসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট অপত্য কোষগুলো জিনগতভাবে একে অপরের এবং মাতৃকোষের অভিন্ন (সদৃশ) হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গঠন একই থাকে।ভিন্ন (সদৃশ) হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গঠন একই থাকে।
মাইটোসিসের কোন দশায় নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিওলাস পুনর্গঠিত হয়?
টেলোফেজ দশায় নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস পুনরায় গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোমগুলো আবার ক্রোমাটিন জালিকায় পরিণত হয়।
মাইটোসিস কাদের দেহে ঘটে?
মাইটোসিস দেহকোষ (সোমাটিক সেল)-এ ঘটে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধি, টিস্যু মেরামত এবং অযৌন প্রজননে (কিছু জীব) এটি দেখা যায়।
মাইটোসিসের গুরুত্ব কী?
দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ, টিস্যু নবায়ন এবং কিছু প্রাণীর অযৌন প্রজননের ভিত্তি। এটি জিনগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলে কেন? মাইটোসিস কোশ বিভাজনে প্রোফেজ এবং টেলোফেজ দশায় ঘটা তিনটি বিপরীতমুখী ঘটনা উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন