এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়? নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট লিখো। নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট লিখো। নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়
নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়
Contents Show

নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য

উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ –

সংজ্ঞা – উৎস থেকে নদী যতদূর পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ বলে। যেমন – গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য – নদীর উচ্চগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে নদী পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বা নদীর তলদেশে ক্ষয় বেশি হয়।
  • উচ্চগতিতে নদীতে বোঝা কম থাকে এবং নদী ক্ষয়িত পদার্থ বহনও করে।
  • উচ্চগতিতে নদীগুলি খরস্রোতা হয় বলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক হলেও নৌপরিবহণের পক্ষে অনুপযুক্ত।

মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ –

সংজ্ঞা – উচ্চগতির পরবর্তী ক্ষেত্রে নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে তখন ঢালের পরিবর্তনের কারণে নদীর গতিবেগ কমে যায়, নদীর এই গতিপ্রবাহকে মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ বলে। যেমন – হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুরশিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত গঙ্গানদীর মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ। এই প্রবাহপথ হল 900 কিমি।

বৈশিষ্ট্য – নদীর মধ্যগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • নদী সমভূমিতে নেমে আসে বলে ভূমির ঢাল হঠাৎ করে অনেকটা কমে যায়, ফলে নদীর গতিবেগ হ্রাস পায়।
  • এই সময় নদী নিম্নক্ষয় অপেক্ষা পার্শ্বক্ষয় বেশি করে, তবে এই গতিতে নদীর প্রধান কাজ বহন।
  • মধ্যগতিতে প্রধান নদীতে অনেক উপনদী এসে মিলিত হয় বলে জলের পরিমাণ ও নদীবাহিত বোঝার পরিমাণ দুই-ই বৃদ্ধি পায়।
  • নদী এই সময় জলসেচ ও নৌপরিবহণে সাহায্য করে থাকে।

নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ –

সংজ্ঞা – মধ্যগতির পরবর্তীতে নদী যখন সমভূমির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে ক্ষয়ের নিম্ন সীমার কাছে চলে আসে এবং গতিবেগ ক্রমশ মন্থর হয়, নদীর সেই প্রবাহকে নিম্নগতি বা সমভূমি প্রবাহ বলে। যেমন – মুরশিদাবাদ থেকে মোহানা পর্যন্ত প্রায় 250 কিমি গঙ্গা নদীর নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ।

বৈশিষ্ট্য – নদীর নিম্নগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • এই পর্যায়ে ভূমির ঢাল প্রায় থাকে না বলে নদী খুবই ধীর গতিসম্পন্ন হয়।
  • নদী এই সময় শুধু বহন করে, তবে বোঝার পরিমাণ খুব বেশি থাকে বলে প্রধান কাজ সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ।
  • নদী সুক্ষ্ম পলি, বালি, কাদা সঞ্চয় করে নদীমধ্যস্থ চড়া বা বদ্বীপ গঠন করে।
  • নদীখাত খুবই অগভীর ও চওড়া হয়।
  • নদী এই সময় জলসেচ ও নৌপরিবহণে সহায়ক হয়।

নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়?

নদী তার নিম্নগতিতে মোহনার কাছে আসে এবং ভূমির ঢাল কমে যায়। ফলে নদী যেখানে সমুদ্রে মিলিত হয় সেখানে নদীর স্রোতের বেগ ও বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং নদীর সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। নদীবাহিত পলি, বালি প্রভৃতি লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে এসে সুসংবদ্ধ হয় এবং মোহানায় সঞ্চিত হয়। এভাবে পদার্থগুলি সঞ্চিত হতে হতে ক্রমশ মোহানার জলের ওপর নতুন ভূভাগ সৃষ্টি করে। এটি দেখতে সাধারণত গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) -র মতো। তাই এই ভূভাগকে বলে বদ্বীপ। তবে সমুদ্রস্রোতের তুলনায় নদীর সঞ্চয়ের হার বেশি হলে তা বদ্বীপ গঠনের জন্য অনুকূল।

উদাহরণ – গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহানায় সৃষ্ট বদ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

নদীর গতি কয়টি এবং কী কী?

নদীর গতি প্রধানত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত –
1. উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ
2. মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ
3. নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ

উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ কী?

নদীর উৎস থেকে পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত প্রবাহকে উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ বলে। এই পর্যায়ে নদী খরস্রোতা এবং ভূমির ঢাল বেশি থাকে। উদাহরণ – গঙ্গা নদীর গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত প্রবাহ।

উচ্চগতির বৈশিষ্ট্য কী?

উচ্চগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. ভূমির ঢাল বেশি থাকে, তাই নিম্নক্ষয় বেশি হয়।
2. নদীতে বোঝা কম থাকে এবং ক্ষয়িত পদার্থ বহন করে।
3. নদী খরস্রোতা হয়, তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক কিন্তু নৌপরিবহণের অনুপযুক্ত।

মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ কী?

উচ্চগতির পর নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে এবং গতিবেগ কমে যায়, তাকে মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ বলে। উদাহরণ – গঙ্গা নদীর হরিদ্বার থেকে মুরশিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত প্রবাহ।

মধ্যগতির বৈশিষ্ট্য কী?

মধ্যগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. ভূমির ঢাল কমে যায়, তাই গতিবেগ হ্রাস পায়।
2. পার্শ্বক্ষয় বেশি হয় এবং নদীর প্রধান কাজ বহন।
3. উপনদীগুলি মিলিত হয়, ফলে জলের পরিমাণ ও বোঝা বৃদ্ধি পায়।
4. জলসেচ ও নৌপরিবহণের জন্য উপযোগী।

নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ কী?

নদী যখন সমভূমির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে মোহনার কাছে আসে এবং গতিবেগ মন্থর হয়, তাকে নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ বলে। উদাহরণ – গঙ্গা নদীর মুরশিদাবাদ থেকে মোহানা পর্যন্ত প্রবাহ।

নিম্নগতির বৈশিষ্ট্য কী?

নিম্নগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. ভূমির ঢাল প্রায় নেই, তাই গতি খুব ধীর।
2. নদীর প্রধান কাজ সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ।
3. পলি, বালি, কাদা সঞ্চয় করে বদ্বীপ গঠন করে।
4. নদীখাত অগভীর ও চওড়া হয়।
5. জলসেচ ও নৌপরিবহণের জন্য উপযোগী।

বদ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?

নদীর নিম্নগতিতে মোহনার কাছে গতিবেগ কমে যায় এবং নদীবাহিত পলি, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়। এই সঞ্চয় ক্রমশ জলের ওপর নতুন ভূভাগ সৃষ্টি করে, যা দেখতে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) -র মতো। উদাহরণ – গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহানায় বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ।

নদীর উচ্চগতি ও নিম্নগতির মধ্যে পার্থক্য কী?

1. উচ্চগতি – ভূমির ঢাল বেশি, গতিবেগ বেশি, নিম্নক্ষয় বেশি, নৌপরিবহণের অনুপযুক্ত।
2. নিম্নগতি – ভূমির ঢাল কম, গতিবেগ ধীর, সঞ্চয় বেশি, নৌপরিবহণের উপযোগী।

নদীর মধ্যগতি কেন জলসেচের জন্য উপযোগী?

মধ্যগতিতে নদীর গতিবেগ মাঝারি এবং জলের পরিমাণ বেশি থাকে। এছাড়া নদীতে উপনদীগুলি মিলিত হয়, ফলে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা জলসেচের জন্য আদর্শ।

নদীর নিম্নগতিতে কেন বদ্বীপ গঠন হয়?

নিম্নগতিতে নদীর গতিবেগ কমে যায় এবং নদীবাহিত পলি, বালি প্রভৃতি মোহনায় সঞ্চিত হয়। এই সঞ্চয় ক্রমশ বদ্বীপ গঠন করে।

গঙ্গা নদীর উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতির উদাহরণ দিন।

1. উচ্চগতি – গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত।
2. মধ্যগতি – হরিদ্বার থেকে মুরশিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত।
3. নিম্নগতি – মুরশিদাবাদ থেকে মোহানা পর্যন্ত।

নদীর গতিপ্রবাহের তিনটি পর্যায়ের মধ্যে কোনটি নৌপরিবহণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী?

নদীর মধ্যগতি এবং নিম্নগতি নৌপরিবহণের জন্য উপযোগী, কারণ এই পর্যায়ে নদীর গতিবেগ মন্থর এবং জলস্রোত স্থিতিশীল থাকে।

নদীর উচ্চগতিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন সম্ভব?

উচ্চগতিতে নদী খরস্রোতা এবং ভূমির ঢাল বেশি থাকে, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।

বদ্বীপ গঠনের জন্য কোন শর্তগুলি প্রয়োজন?

বদ্বীপ গঠনের জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলি প্রয়োজন –
1. নদীর গতিবেগ কমে যাওয়া।
2. নদীবাহিত পলি, বালি প্রভৃতির সঞ্চয়।
3. সমুদ্রস্রোতের তুলনায় নদীর সঞ্চয়ের হার বেশি হওয়া।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট লিখো। নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “নদীর গতি সমূহ এবং তাদের বৈশিষ্ট লিখো। নদীর নিম্নগতিতে কীভাবে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন