ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী
ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী

ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

ওজোন গ্যাস –

বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসীয় উপাদান হল ওজোন গ্যাস। ভূপৃষ্ঠ থেকে 14-40 কিমি উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজোন গ্যাস বর্তমান। তাই এই অঞ্চলকে বলে ওজোনোস্ফিয়ার। অক্ষাংশ ও ঋতু অনুসারে বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব ও উচ্চতার তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব ব্রিটিশ পদার্থবিদ গর্ডন ডবসন -এর নামানুসারে, ‘ডবসন একক’ (DU) -এ প্রকাশ করা হয়। ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব সাধারণত ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব 250 DU, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে 350 DU এবং উপমেরু ও মেরু অঞ্চলে 450 DU থাকে। ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে ক্রান্তীয় ওজোন গ্যাসের স্থানান্তরেই ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ –

ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ (নাইট্রাস অক্সাইড – N2O, নাইট্রিক অক্সাইড – NO) NO2, NO3, হ্যালনসমূহ (ব্রোমোট্রাইফ্লুরোমিথেন), ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। ওজোনস্তরের ধ্বংসের জন্য প্রধান দায়ী হল CFC। ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু উৎপন্ন করে। এই সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু ওজোনকে অক্সিজেনে বিয়োজিত করে।

CFCI3 + UV রশ্মি → CFCI2 (মুক্তমূলক) + CI (সক্রিয়); CI + O3 → OCl + O2; OCl + O3 → CI + 2O2

উৎপন্ন CI আবার O3, এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে ওজোনকে ধ্বংস করতে থাকে। একটি সক্রিয় CI পরমাণু লক্ষাধিক ওজোন অণুর বিয়োজন ঘটায়। স্ট্যাটোস্ফিয়ারে আলোর প্রভাবে N2O, NO তে রূপান্তরিত হয়।

NO + O3 → NO2 + O2, NO2 + O3 → NO + 2O2

এই বিক্রিয়ার ফলে NO এর পরিমাণ কমে না কিন্তু O3, অণু বিয়োজিত হতে থাকে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ওজোন গ্যাস সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ কী?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য করো।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান