এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কাকে বলে? পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কাকে বলে? পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কাকে বলে?
পলল শঙ্কু –
সংজ্ঞা – পর্বতের পাদদেশে ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদীর সাথে বয়ে আসা নুড়ি, পাথর, কাঁকর, বালি, পলি সঞ্চিত শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপকে পলল শঙ্কু বলে।
বদ্বীপ –
সংজ্ঞা – নদী বাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি নদী মোহনায় সঞ্চিত হতে হতে অগভীর সমুদ্রে যে মাত্রাহীন ‘ব’ আকৃতির যে দ্বীপের সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ (Delta) বলে।
ব-দ্বীপ নামকরণের কারণ – সাধারণত নদীর মোহনায় গড়ে উঠা দেখতে ত্রিভুজাকৃতির (▲) ভূমিরূপ কে ব-দ্বীপ বলে। এই ভূমিরূপ দেখতে বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’ এর আকৃতির মতো তাই এর নামকরণ ব-দ্বীপ হয়েছে। আবার গ্রীক শব্দ Delta দেখতে অনেকটা মাত্রাহীন ‘ব’ আকৃতির বলে ইংরেজিতে একে Delta বলে।
উদাহরণ – মায়ানমারের ইরাবতী নদী, মিশরের নীলনদ, হোয়াংহো, পাকিস্তানের সিন্ধু নদী প্রভৃতি নদীগুলির মোহনায় ব-দ্বীপ রয়েছে।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য –
বিষয় | পলল শঙ্কু | বদ্বীপ |
অবস্থান | পলল শঙ্কু পর্বতের পাদদেশে দেখা যায়। | বদ্বীপ নদীর ঠিক মোহানার কাছে দেখা যায়। |
আয়তন | পলল শঙ্কু আয়তনে ক্ষুদ্রাকার হয়। | বদ্বীপ আয়তনে সুবিশাল হতে পারে। |
নদীপ্রবাহ | নদীর মধ্য বা সমভূমি প্রবাহে পলল শঙ্কু গঠিত হয়। | নদীর নিম্ন বা বদ্বীপ প্রবাহে বদ্বীপ গঠিত হয়। |
উপাদান | নুড়ি, প্রস্তরখণ্ড, বালি, পলি, কাদা ইত্যাদি উপাদান দিয়ে পলল শঙ্কু গঠিত হয়। | বদ্বীপ গঠিত হয় প্রধানত পলি ও কাদা দিয়ে। |
আকৃতি | পলল শঙ্কুর আকৃতি ত্রিকোণাকার বা পাখার মতো হয়। | বদ্বীপের আকৃতি ত্রিকোণাকার, পাখির পায়ের মতো, করাতের দাঁতের মতো ও খাঁড়ির মতো হয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কী?
1. পলল শঙ্কু – এটি পর্বতের পাদদেশে নদী দ্বারা বাহিত পলি, বালি, কাদা প্রভৃতি জমা হয়ে গঠিত হয়। এর আকৃতি সাধারণত ত্রিকোণাকার বা পাখার মতো হয়।
2. বদ্বীপ – এটি নদীর মোহনায় পলি ও কাদা জমা হয়ে গঠিত হয়। এর আকৃতি ত্রিকোণাকার, পাখির পায়ের মতো, করাতের দাঁতের মতো বা খাঁড়ির মতো হতে পারে।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে অবস্থানের পার্থক্য কী?
1. পলল শঙ্কু – পর্বতের পাদদেশে গঠিত হয়।
2. বদ্বীপ – নদীর মোহনায় গঠিত হয়।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের আয়তনের পার্থক্য কী?
1. পলল শঙ্কু – আয়তনে ক্ষুদ্রাকার হয়।
2. বদ্বীপ – আয়তনে সুবিশাল হতে পারে।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ গঠনে নদীর প্রবাহের ভূমিকা কী?
1. পলল শঙ্কু – নদীর মধ্য বা সমভূমি প্রবাহে গঠিত হয়।
2. বদ্বীপ – নদীর নিম্ন বা বদ্বীপ প্রবাহে গঠিত হয়।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ গঠনে ব্যবহৃত উপাদানের পার্থক্য কী?
1. পলল শঙ্কু – নুড়ি, প্রস্তরখণ্ড, বালি, পলি, কাদা ইত্যাদি উপাদান দিয়ে গঠিত হয়।
2. বদ্বীপ – প্রধানত পলি ও কাদা দিয়ে গঠিত হয়।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের আকৃতির পার্থক্য কী?
1. পলল শঙ্কু – আকৃতি ত্রিকোণাকার বা পাখার মতো হয়।
2. বদ্বীপ – আকৃতি ত্রিকোণাকার, পাখির পায়ের মতো, করাতের দাঁতের মতো বা খাঁড়ির মতো হতে পারে।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের উদাহরণ দিতে পারেন কি?
1. পলল শঙ্কু – হিমালয়ের পাদদেশে গঠিত পলল শঙ্কু।
2. বদ্বীপ – গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ, মিসিসিপি বদ্বীপ।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের পরিবেশগত গুরুত্ব কী?
1. পলল শঙ্কু – কৃষিকাজ ও বসতির জন্য উপযোগী।
2. বদ্বীপ – কৃষি, মৎস্য চাষ ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের গঠন প্রক্রিয়া কী?
1. পলল শঙ্কু – নদী দ্বারা বাহিত উপাদান পর্বতের পাদদেশে জমা হয়ে গঠিত হয়।
2. বদ্বীপ – নদী দ্বারা বাহিত পলি ও কাদা মোহনায় জমা হয়ে গঠিত হয়।
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব কী?
1. পলল শঙ্কু – ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।
2. বদ্বীপ – ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কাকে বলে? পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “পলল শঙ্কু ও বদ্বীপ কাকে বলে? পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।