এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্ব

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্বপূর্ণ কেন? নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্বপূর্ণ কেন?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী 'জীবনস্মৃতি' গুরুত্বপূর্ণ কেন?-ইতিহাসের ধারণা
Contents Show

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

আধুনিক ভারত ইতিহাসের আকর উপাদান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনস্মৃতি –

  • প্রকাশ – লেখকের আত্মকথন প্রথমে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিক-ভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে 1912 খ্রিস্টাব্দে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
  • পরিসর – আত্মজীবনীতে 1861-86 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত লেখকের আত্মকথা ও দেশকথা বর্ণিত হয়েছে।

জ্ঞাতব্য বিষয় –

  • ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল – আত্মজীবনীতে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের স্মৃতির সূত্র ধরে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, রুচি, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক সম্পর্ক ও বিধি-নিষেধ, নারী স্বাধীনতা, শিশুদের জীবনধারা, বালক রবীন্দ্রনাথের কাব্য-সংগীত চর্চা এবং বয়ঃপ্রাপ্তির কথা সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলি আধুনিক বাংলার সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
  • স্বাদেশিকতা – আত্মজীবনীর স্বল্প পরিসরে স্বাদেশিকতা নিয়ে অত্যন্ত সরস ভাষায় তিনি যে অনবদ্য আলোচনা করেছেন, ইতিহাসের যেকোনো ছাত্রকে তা মুগ্ধ করে। সেই যুগে অভিজাত বাঙালি পরিবারে বিভিন্ন বিদেশি প্রথার প্রচলন শুরু হলেও স্বদেশের প্রতি অনুরাগও জাগ্রত ছিল। স্বয়ং তাঁর পরিভাষায় – “বাহির হইতে দেখিলে আমাদের পরিবারে অনেক বিদেশি প্রথার প্রচলন ছিল। কিন্তু আমাদের পরিবারের হৃদয়ের মধ্যে একটা স্বদেশাভিমান স্থিরদীপ্তিতে জাগিতেছিল।
  • রাজনৈতিক ঘটনাবলি – ‘জীবনস্মৃতি’ তে কবি অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে এবং বৃদ্ধ রাজনারায়ণ বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বাদেশিকতার গোপনসভা এবং তাতে ঠাকুরবাড়ির বালকদের যোগদান, দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে ধুতি ও পাজামার সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় পরিচ্ছদ প্রচলনের চেষ্টা, স্বদেশি দেশলাই কারখানা বা কাপড়ের কল প্রতিষ্ঠায় যুবকদের উদ্যোগ প্রভৃতির উল্লেখ করেছেন।
  • হিন্দুমেলার প্রসঙ্গ – আত্মকথনে কবি নবগোপাল মিত্রের নেতৃত্বে হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠা ও তার কার্যকলাপের এক বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই হিন্দুমেলাই তৎকালীন ভারতবর্ষে স্বদেশভাবনার অন্যতম কেন্দ্ররূপে গড়ে উঠেছিল।
  • মন্তব্য – অসম্পূর্ণতা ও স্বল্প পরিসর দোষে দুষ্ট হলেও রবিঠাকুরের আত্মজীবনী শুধু তাঁর জীবনদর্পণ নয়, তা একাধারে সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রনৈতিক জীবনের চলমান প্রতিচ্ছবি। সহজ-সাবলীল ভাষায় রচিত তাঁর এই আত্মকথন আধুনিক ইতিহাসকে করেছে সমৃদ্ধ ও চিত্তাকর্ষক।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

জীবনস্মৃতি কী এবং এটি কখন প্রকাশিত হয়?

জীবনস্মৃতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী। এটি প্রথমে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে 1912 সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

জীবনস্মৃতি’র পরিসর কী?

এই আত্মজীবনীতে 1861 থেকে 1886 সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক বর্ণিত হয়েছে।

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল সম্পর্কে ‘জীবনস্মৃতি’ কী তথ্য দেয়?

জীবনস্মৃতিতে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের জীবনযাত্রা, রুচি, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক সম্পর্ক, নারী স্বাধীনতা, শিশুদের জীবনধারা, এবং রবীন্দ্রনাথের শৈশব ও কৈশোরের সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এটি আধুনিক বাংলার সামাজিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

জীবনস্মৃতিতে স্বাদেশিকতা বিষয়ে কী আলোচনা করা হয়েছে?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘জীবনস্মৃতি’তে স্বাদেশিকতা নিয়ে সরস ভাষায় আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঠাকুরবাড়িতে বিদেশি প্রথার প্রচলন থাকলেও স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ও আবেগ ছিল। তিনি লিখেছেন, “বাহির হইতে দেখিলে আমাদের পরিবারে অনেক বিদেশি প্রথার প্রচলন ছিল। কিন্তু আমাদের পরিবারের হৃদয়ের মধ্যে একটা স্বদেশাভিমান স্থিরদীপ্তিতে জাগিতেছিল।”

জীবনস্মৃতিতে কোন রাজনৈতিক ঘটনাবলির উল্লেখ আছে?

জীবনস্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে গোপন স্বাদেশিকতার সভা, ধুতি ও পাজামার সমন্বয়ে সর্বভারতীয় পোশাক প্রচলনের চেষ্টা, এবং স্বদেশি আন্দোলনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও, স্বদেশি দেশলাই কারখানা ও কাপড়ের কল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কথাও বর্ণিত হয়েছে।

হিন্দুমেলা সম্পর্কে ‘জীবনস্মৃতি’তে কী বলা হয়েছে?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘জীবনস্মৃতি’তে নবগোপাল মিত্রের নেতৃত্বে হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠা ও তার কার্যকলাপের বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। হিন্দুমেলা তৎকালীন ভারতবর্ষে স্বদেশভাবনার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

জীবনস্মৃতি আধুনিক ভারত ইতিহাসের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জীবনস্মৃতি শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত জীবনকথা নয়, এটি একইসাথে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, ও রাজনৈতিক জীবনের একটি চলমান প্রতিচ্ছবি। এটি আধুনিক ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ইতিহাসের ছাত্রদের জন্য একটি চিত্তাকর্ষক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

জীবনস্মৃতির ভাষা ও শৈলী কেমন?

জীবনস্মৃতি সহজ-সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনী শৈলী এটিকে একটি সুখপাঠ্য ও তথ্যবহুল আত্মজীবনীতে পরিণত করেছে।

জীবনস্মৃতির কোন দিকটি ইতিহাসের ছাত্রদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়?

জীবনস্মৃতিতে বর্ণিত ঠাকুরবাড়ির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন, স্বাদেশিকতা, এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের বিবরণ ইতিহাসের ছাত্রদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এটি তৎকালীন ভারতবর্ষের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বুঝতে সাহায্য করে।

জীবনস্মৃতির সীমাবদ্ধতা কী?

জীবনস্মৃতি অসম্পূর্ণ এবং স্বল্প পরিসরের একটি আত্মজীবনী। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল (1861-1886) পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। তবে এর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এটি আধুনিক ভারত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্বপূর্ণ কেন?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’ গুরুত্বপূর্ণ কেন?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন