এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন? নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?

শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত?

ভারতে পাশ্চাত্যশিক্ষার বিস্তারে প্রথম সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিলেন শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য – উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড। এঁরা একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ নামে পরিচিত। তাঁদের উদ্যোগে 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে ছাপাখানা ও 1818 খ্রিস্টাব্দে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবাদপত্রের প্রকাশনাতেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?

শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত হওয়ার কারণ হল –

  • 1800 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1837 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট 38 বছর বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনায় শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যেই ছাপাখানাটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের অন্যতম হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
  • 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশন ও প্রেসের প্রতিষ্ঠা হলেও শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের প্রাণপুরুষ উইলিয়াম কেরি এর দু’বছর আগে থেকেই কাঠের মুদ্রণযন্ত্র ও বাংলা হরফ সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছিলেন, 1800 – 1812 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সম্ভবত শ্রীরামপুর মিশন প্রেস লোহার মুদ্রণযন্ত্র নিয়ে আসে।
  • শ্রীরামপুর মিশনের উইলিয়াম কেরি, জোসুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড এই তিন জন “শ্রীরামপুর ত্রয়ী” নামে পরিচিত। এঁদের প্রচেষ্টায় –
    • ছাপাবই ও বাংলায় গণশিক্ষা প্রসারের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং
    • এঁদেরই প্রচেষ্টায় বাংলায় মুদ্রণশিল্পের বিকাশ ঘটে।
  • শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রথম ছাপাবই ছিল বাইবেলের বাংলা অনুবাদ “মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত”। প্রথম দিকে শ্রীরামপুর প্রেস মূলত ধর্মীয় বই অনুবাদ করত, পরে এখন থেকে অসংখ্য পাঠ্যপুস্তক, পত্রপত্রিকা যেমন – মাসিক পত্রিকা ” দিগদর্শন”, সাপ্তাহিক পত্রিকা “সমাচার দর্পণ” প্রভৃতি ছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ যেমন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার -এর ‘বত্রিশ সিংহাসন’, ‘রাজাবলি’, ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’, রামরাম বসুর ‘লিপিমালা’, ‘প্রত্যাপাদিত্য চরিত্র’, ‘জ্ঞানোদয়’, হরপ্রসাদ রায়ের ‘পুরুষ পরীক্ষা’, গোলকনাথ শর্মার ‘হিতোপদেশ’, কেরির ‘বাংলা ব্যাকরণ’, ‘ইঙ্গবঙ্গ অভিধান’ প্রভৃতি প্রকাশিত হয়।
  • প্রথমে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও পরে ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনায় শ্রীরামপুর মিশন প্রেস উদ্যোগী হয়েছিলে। একটি মাত্র কাঠের মুদ্রণযন্ত্রকে সম্বল করে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস তার যাত্রা শুরু করলেও 1820 খ্রিস্টাব্দে মুদ্রণযন্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল 18টিতে। 1801 – 1832 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে চল্লিশটি ভাষায় দু’লক্ষ বারো হাজার বই প্রকাশিত হয়েছিল, যা সম-কালীন বিশ্বে যথেষ্ট কৃতিত্বের কাজ ছিল।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কী প্রকাশ করেছিল?

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে নিম্নলিখিত প্রকাশনাগুলো বের হয়েছিল –
1. বাইবেলের বাংলা অনুবাদ “মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত”।
2. মাসিক পত্রিকা “দিগদর্শন” এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা “সমাচার দর্পণ”।
3. পাঠ্যপুস্তক, ধর্মীয় গ্রন্থ, সাহিত্য ও অভিধান যেমন – ‘বত্রিশ সিংহাসন’, ‘রাজাবলি’, ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’, ‘লিপিমালা’, ‘প্রত্যাপাদিত্য চরিত্র’, ‘জ্ঞানোদয়’, ‘পুরুষ পরীক্ষা’, ‘হিতোপদেশ’, ‘বাংলা ব্যাকরণ’, ‘ইঙ্গবঙ্গ অভিধান’ প্রভৃতি।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের কৃতিত্ব কী?

শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের কৃতিত্ব হলো –
1. 1801 থেকে 1832 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে 40টি ভাষায় 102000 বই প্রকাশ করা।
2. বাংলা ভাষায় মুদ্রণশিল্পের বিকাশ ও গণশিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।
3. এশিয়ার সর্ববৃহৎ মুদ্রণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় 1800 খ্রিস্টাব্দে। তবে এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল 1798 খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে কাঠের মুদ্রণযন্ত্র ও বাংলা হরফ সংগ্রহ করার মাধ্যমে।

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান কী?

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান হলো –
1. বাংলা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ ও গণশিক্ষা প্রসার।
2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটির সাথে সহযোগিতা করে শিক্ষামূলক বই প্রকাশ।
3. বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষার উন্নয়ন।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের প্রথম বই কী ছিল?

শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের প্রথম বই ছিল বাইবেলের বাংলা অনুবাদ “মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত”।

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর মুদ্রণযন্ত্র কতটি ছিল?

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস একটি কাঠের মুদ্রণযন্ত্র দিয়ে শুরু করলেও 1820 খ্রিস্টাব্দে এর মুদ্রণযন্ত্রের সংখ্যা 18টিতে পৌঁছায়।

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর কাজের সময়কাল কত?

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর কাজের সময়কাল 1800 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1837 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই সময়ে তাঁরা বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় মুদ্রণ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখেন।

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর প্রকাশিত পত্রিকাগুলো কী কী?

শ্রীরামপুর ত্রয়ীর প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –
1. মাসিক পত্রিকা “দিগদর্শন”।
2. সাপ্তাহিক পত্রিকা “সমাচার দর্পণ”।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হত? শ্রীরামপুর ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন