ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে? ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে? ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে? ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে
ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে

ট্রপোস্ফিয়ার কাকে বলে?

ট্রপোস্ফিয়ার –

অর্থ – ‘Tropo’ শব্দের অর্থ ‘Mixing’ বা ‘Turbulence’.

সংজ্ঞা – বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নীচের যে স্তরে প্রতি 1 হাজার মিটার উচ্চতায় 6.4 ডিগ্রী সে হারে উষ্ণতা কমতে থাকে এবং যে স্তরে ধূলিকনা, জলীয় বাষ্প, মেঘ, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, অধঃক্ষেপন ইত্যাদি দেখা যায়, সেই স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।

অবস্থান – এটি ট্রপোস্ফিয়ারের শেষ ও স্ট্যাটোস্ফিয়ারের শুরুর সীমা নির্দেশক অঞ্চল।

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে?

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) – ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমা ট্রপোপজের ওপরের বায়ুমণ্ডলীয় স্তরটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার নামে পরিচিত।

বিস্তার – ট্রপোপজের ওপর থেকে অর্থাৎ প্রায় 20 কিমি থেকে 50 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশেষত্ব –

  • এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
  • স্তরটিতে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো জলীয়বাষ্প না থাকায় কোনো প্রকার বায়বীয় গোলযোগ ঘটে না অর্থাৎ আবহাওয়া শান্ত থাকে তাই একে শান্তমণ্ডল বলা হয়।
  • এই স্তরে 20-50 কিমি উচ্চতায় ওজোন (O3) গ্যাসের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। যা ওজোনোস্ফিয়ার নামে পরিচিত। এটি সূর্য থেকে আসা অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে।
  • এই স্তরে বায়বীয় গোলযোগ না হওয়ায় জেটপ্লেনগুলি চলাচল করতে পারে।
  • এই স্তরের ঊর্ধ্বাংশে তাপমাত্রা বেড়ে হয় −4° C।
  • স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বাংশকে স্ট্র্যাটোপজ বলা হয়।

ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়ট্রপোস্ফিয়ারস্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
বিস্তারভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে 18 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।18-50 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
তাপমাত্রাউচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকে।উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
ধূলিকণা ও জলকণার উপস্থিতিএই স্তরে যথেষ্ট পরিমাণে ধূলিকণা ও জলকণা থাকে।এই স্তরে ধূলিকণা ও জলকণা থাকে না।
আবহাওয়াএই স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা যায়।এই স্তরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটায় শান্ত আবহাওয়া দেখা যায়।
পরিচিতিএই স্তরের অপর নাম ক্ষুব্ধমণ্ডল।এই স্তরের অপর নাম শান্তমণ্ডল।
বায়ুর চাপ ও গতিবেগবায়ুচাপের পার্থক্য বেশি ও বায়ুর গতিবেগ বেশি।বায়ুচাপের পার্থক্য কম। বায়ুর প্রবাহ নেই।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে? ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কাকে বলে? ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য করো।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান