এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? কীভাবে উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? কীভাবে উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে এর বৈশিষ্ট্য লিখো?
‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত – নদীর পার্বত্য প্রবাহে ভূমির ঢাল অধিক থাকায় নদীগুলি প্রবলভাবে নিম্নক্ষম করে এজন্য নদী উপত্যকা গুলি যেমন একদিকে গভীর হয়ে ওঠে তেমনি আবহবিকার, ধস প্রভৃতির প্রভাবে পূর্বাপেক্ষা চওড়া হয়ে ইংরাজী ‘V’ আকৃতি ধারণ করে। অত্যন্ত গভীর ও খুব সংকীর্ণ ইংরাজী ‘V’ আকৃতির নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে।

বৈশিষ্ট্য –
- আর্দ্র জলবায়ুর পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত গড়ে ওঠে।
- পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্মক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হয়।
- গিরিখাত V আকৃতির হয়।
উদাহরণ – সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীর গতিপথে অসংখ্য গিরিপথ লক্ষ্য করা যায়। চিনের ইয়াংসি-কিয়াং নদীর ইচাং পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত।
কীভাবে উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?
নদীর উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হওয়ার কারণ –
নদীর উচ্চগতিতে ইংরেজি ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হওয়ার কারণ হল –
- নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় নদী প্রবল গতিবেগ সম্পন্ন হয় এবং নদী শুধু নীচের দিকে ক্ষয় করে, এর ফলে উৎসমুখ থেকে বেশ কিছুদূর পর্যন্ত নদী উপত্যকার আকৃতি সাধারণত ইংরেজি ‘।’ -এর মতো হয়।
- নদী উপত্যকার পার্শ্বদেশ বৃষ্টির জল, আবহবিকার বা ধসের ফলে ক্ষয় পেতে থাকলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার আকৃতি সংকীর্ণ ‘V’ -এর মতো হয়।
- নদীর অন্যান্য গতিতে নদী উপত্যকা নীচের দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না বললেই চলে, পরিবর্তে নদী উপত্যকা পাশের দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ফলে নদী উপত্যকার আকৃতি ক্রমশ সংকীর্ণ ‘V’ -এর পরিবর্তে প্রশস্ত ‘V’ -এর মতো হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে?
‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত হল নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্ট এক ধরনের ভূমিরূপ। নদীর পার্বত্য প্রবাহে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদী প্রবল গতিতে নিম্নক্ষয় করে এবং উপত্যকাটি গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ‘V’ আকৃতি ধারণ করে। এই ধরনের গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকাকেই গিরিখাত বলা হয়।
‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাতের বৈশিষ্ট্য কী?
1. আকৃতি – ‘V’ আকৃতির।
2. গঠন প্রক্রিয়া – নদীর উচ্চগতিতে নিম্নক্ষয়ের প্রাধান্য থাকে।
3. অবস্থান – আর্দ্র জলবায়ুর পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত গড়ে ওঠে।
4. ক্ষয় প্রক্রিয়া – পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় বেশি হয়।
5. উদাহরণ – সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথে অসংখ্য গিরিখাত দেখা যায়। চীনের ইয়াংসি-কিয়াং নদীর ইচাং গিরিখাত পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত।
‘V’ আকৃতির উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকে, ফলে নদীর গতিবেগ প্রবল হয়। এই গতিবেগের কারণে নদী নিম্নদিকে ক্ষয়কার্য বেশি করে এবং উপত্যকাটি গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ‘V’ আকৃতি ধারণ করে। এছাড়াও, পার্শ্বদেশে বৃষ্টির জল, আবহবিকার ও ধসের প্রভাবে উপত্যকাটি আরও সংকীর্ণ হয়ে যায়।
নদীর উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী?
1. ভূমির ঢাল বেশি – উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদীর গতিবেগ বৃদ্ধি পায়।
2. নিম্নক্ষয়ের প্রাধান্য – নদী নিম্নদিকে বেশি ক্ষয় করে, ফলে উপত্যকাটি গভীর হয়।
3. পার্শ্বক্ষয় সীমিত – পার্শ্বক্ষয় কম হয়, তাই উপত্যকাটি সংকীর্ণ ‘V’ আকৃতি ধারণ করে।
নদীর অন্যান্য গতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকার আকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
নদীর মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল কমে যায় এবং নদীর গতিবেগ হ্রাস পায়। ফলে নদী নিম্নদিকে ক্ষয় করার পরিবর্তে পার্শ্বদিকে ক্ষয় করে। এই প্রক্রিয়ায় উপত্যকাটি প্রশস্ত হয়ে যায় এবং ‘V’ আকৃতির পরিবর্তে ‘U’ আকৃতি ধারণ করে।
‘V’ আকৃতির উপত্যকার উদাহরণ দাও।
1. সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথে অসংখ্য গিরিখাত দেখা যায়।
2. চীনের ইয়াংসি-কিয়াং নদীর ইচাং গিরিখাত পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত।
গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য কী?
1. গিরিখাত – সাধারণত আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গভীর ও সংকীর্ণ ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয়।
2. ক্যানিয়ন – শুষ্ক অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্য ও আবহবিকারের ফলে গভীর ও প্রশস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়। উদাহরণ – গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (যুক্তরাষ্ট্র)।
‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টিতে আবহবিকারের ভূমিকা কী?
আবহবিকারের ফলে নদীর পার্শ্বদেশের শিলা ভেঙে যায় এবং উপত্যকাটির প্রস্থ বৃদ্ধি পায়। তবে উচ্চগতিতে নিম্নক্ষয়ের প্রাধান্য থাকায় উপত্যকাটি গভীর ও সংকীর্ণ ‘V’ আকৃতি ধারণ করে।
‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টিতে জলবায়ুর প্রভাব কী?
আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকে, ফলে নদীর গতিবেগ ও ক্ষয়কার্য বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত সৃষ্টি হয়।
‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাতের গুরুত্ব কী?
1. ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব – ভূমিরূপের বিবর্তন ও নদীর ক্ষয়কার্য বুঝতে সাহায্য করে।
2. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য – পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
3. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন – গিরিখাত অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? কীভাবে উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? কীভাবে উচ্চগতিতে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।