দশম শ্রেণি – বাংলা – প্রলয়োল্লাস – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

Rahul

আজকে আমরা আমাদের আর্টিকেলে মাধ্যমিক বাংলার পঞ্চম পাঠের তৃতীয় বিভাগ, ‘প্রলয়োল্লাস’ থেকে কিছু পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করছি, এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হবে।

দশম শ্রেণি - বাংলা - প্রলয়োল্লাস - পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ
Contents Show

নিম্নরেখ পদগুলির কারক ও অকারক সম্পর্ক এবং বিভক্তি ও অনুসর্গ নির্দেশ করো।

ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়।

উত্তর – কেতন – কর্তৃকারক, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল।

উত্তর – সিংহদ্বারে – অধিকরণকারক, ‘এ’ বিভক্তি।

বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর

উত্তর – ভয়ংকর – কর্তৃকারক, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়।

উত্তর – ধূমকেতু – কর্তৃকারক, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়

উত্তর – নয়নকটায় – অধিকরণকারক, ‘য়’ বিভক্তি।

এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে।

উত্তর – মহানিশার – সম্বন্ধপদ, ‘র’ বিভক্তি।

ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে।

উত্তর – ক্ষুরের – সম্বন্ধপদ, ‘এর’ বিভক্তি।

আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।

উত্তর – নবীন – কর্তৃকারক, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।

উত্তর – বধূরা – সম্বোধন পদ, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর!

উত্তর – জয়ধ্বনি – কর্মকারক, ‘শূন্য’ বিভক্তি।

নিম্নলিখিত বাক্যগুলিতে যে সমাসবদ্ধ পদ আছে তা বেছে নিয়ে তার ব্যাসবাক্য-সহ সমাস নির্ণয় করো।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

উত্তর – জয়ধ্বনি – জয়সূচক ধ্বনি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)।

আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল।

উত্তর – অনাগত – অন (নয়) আগত (নঞ্ তৎপুরুষ)।

সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল।

উত্তর – সিন্ধুপারের – সিন্ধুর পার (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) সেখানের। সিংহদ্বারে – সিংহচিহ্নিত দ্বার (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়) তাতে।

মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে/মহাকালের চন্ড-রূপে।

উত্তর – অন্ধকূপে – অন্ধকারময় কূপ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়) তাতে। মহাকাল – মহা যে কাল (সাধারণ কর্মধারয়)।

বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।

উত্তর – বজ্রশিখার – বজ্রের শিখা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) তার।

সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর চুলায়।

উত্তর – সর্বনাশী – সব নাশ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ)। জ্বালামুখী – মুখ জ্বলে যার (সাধারণ বহুব্রীহি)।

বিন্দু তাহার নয়নজলে/সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে।

উত্তর – নয়নজলে – নয়নের জল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) তাতে। মহাসিন্ধু – মহা যে সিন্ধু (সাধারণ কর্মধারয়)।

গগনতলের নীল খিলানে।

উত্তর – গগনতলের – গগনের তল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) তার।

আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।

উত্তর – জীবনহারা – জীবনকে হারিয়েছে যে (উপপদ তৎপুরুষ)।

ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।

উত্তর – চিরসুন্দর – চিরকালব্যাপী সুন্দর (ব্যাপ্তি তৎপুরুষ)।

নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো।

সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তর – সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হানল এবং আগল ভাঙল।

বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)

উত্তর – বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে ভয়ংকর কি আসছে না?

সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর চুলায়। (জটিল বাক্যে)

উত্তর – সর্বনাশী জ্বালামুখী যে ধূমকেতু সে তার চামর চুলায়।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর। (নির্দেশক বাক্যে)

উত্তর – তোদের সবার জয়ধ্বনি করা হোক।

এবার মহানিশার শেষে/উষা অরুণ হেসে আসবে। (জটিল বাক্যে)

উত্তর – এবার যখন মহানিশা শেষ হবে তখন ঊষা অরুণ হেসে আসবে।

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? (প্রশ্ন পরিহার করো)

উত্তর – ধ্বংস দেখে তোর ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর। (সরল বাক্যে)

উত্তর – চিরসুন্দরই ভেঙে আবার গড়তে জানে।

ওই ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর? (প্রশ্ন পরিহার করো)

উত্তর – তার ওই ভাঙা-গড়া খেলায় ডরের কোনো কারণ নেই।

নির্দেশ অনুযায়ী বাচ্য পরিবর্তন করো।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর! (কর্মবাচ্যে)

উত্তর – তোদের সবার দ্বারা জয়ধ্বনি করা হোক।

আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল। (ভাববাচ্যে)

উত্তর – এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগলের আসা হচ্ছে।

বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর। (ভাববাচ্যে)

উত্তর – বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে ভয়ংকরের আসা হচ্ছে।

ওই সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে। (কর্মবাচ্যে)

উত্তর – ওই সে মহাকাল-সারথি কর্তৃক রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানা হচ্ছে।

আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন! (ভাববাচ্যে)

উত্তর – নবীনের আসা হচ্ছে জীবনহারা অ-সুন্দরকে ছেদন করতে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক বাংলার পঞ্চম পাঠের তৃতীয় বিভাগ, ‘প্রলয়োল্লাস’ থেকে পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলি পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন হতে পারে। আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনারা কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমি সহায়তার চেষ্টা করব। এছাড়া, নিচের শেয়ার বাটনটি ব্যবহার করে এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

রাশিবিজ্ঞান-গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান-কষে দেখি 26.4-মাধ্যমিক গণিত

মাধ্যমিক গণিত – রাশিবিজ্ঞান: গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান – কষে দেখি 26.4

রাশিবিজ্ঞান-গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান-কষে দেখি 26.3-মাধ্যমিক গণিত

মাধ্যমিক গণিত – রাশিবিজ্ঞান: গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান – কষে দেখি 26.3

রাশিবিজ্ঞান-গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান - কষে দেখি 26.2-মাধ্যমিক গণিত

মাধ্যমিক গণিত – রাশিবিজ্ঞান: গড়, মধ্যমা, ওজাইভ, সংখ্যাগুরুমান – কষে দেখি 26.2

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান