নবম শ্রেণি বাংলা – কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

নবম শ্রেণি - বাংলা - কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটি কোন্ মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত? –

  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. শিবমঙ্গল

উত্তর – 2. চণ্ডীমঙ্গল

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটির রচয়িতা –

  1. মুকুন্দ চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ মাধব
  3. মুক্তারাম সেন
  4. মানিক দত্ত

উত্তর – 1. মুকুন্দ চক্রবর্তী

কবিতার ভণিতায় উল্লিখিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এর অন্য নাম –

  1. কলিঙ্গমঙ্গল
  2. মুকুন্দমঙ্গল
  3. অম্বিকামঙ্গল
  4. চণ্ডীগান

উত্তর – 3. অম্বিকামঙ্গল

মুকুন্দ চক্রবর্তী কোন্ উপাধি পেয়েছিলেন? –

  1. মঙ্গল কবি
  2. কবিকঙ্কণ
  3. কঙ্কণ কবি
  4. চণ্ডীমঙ্গলের কবি

উত্তর – 2. কবিকঙ্কণ

‘মেঘে কৈল অন্ধকার’ – ফলে কী হল? –

  1. কেউ কারোর শরীর দেখতে পাচ্ছিল না
  2. কেউ নিজের শরীর দেখতে পাচ্ছিল না
  3. সবাই দিনকেই রাত ভাবছিল
  4. কেউ নিজের বাড়ি দেখতে পাচ্ছিল না

উত্তর – 2. কেউ নিজের শরীর দেখতে পাচ্ছিল না

‘মেঘে কৈল অন্ধকার’ – বাক্যটি কবিতায় কতবার আছে?

  1. একবার
  2. দুইবার
  3. তিনবার
  4. একবারও না

উত্তর – 2. দুইবার

‘ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’ – এখানে ‘চিকুর’ বলতে বোঝানো হয়েছে –

  1. আকাশকে
  2. বিদ্যুৎকে
  3. বাতাসকে
  4. কোনোটিই নয়

উত্তর – 2. বিদ্যুৎকে

‘___ উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’ –

  1. নৈঋতে
  2. ঈশানে
  3. গগনে
  4. বায়ুতে

উত্তর – 2. ঈশানে

চারি মেঘে বর্ষণ হচ্ছিল –

  1. ভয়ংকর বেগে
  2. মুষলধারে
  3. উচ্চনাদে
  4. অল্প বেগে

উত্তর – 2. মুষলধারে

‘মুষলধারে’ শব্দের অর্থ কী? –

  1. গদা
  2. পেষণদণ্ড
  3. অত্যন্ত বেগে
  4. অত্যন্ত মোটা ধারায়

উত্তর – 4. অত্যন্ত মোটা ধারায়

কবিতায় কোন্ দেশের ঝড়-বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে? –

  1. বঙ্গদেশ
  2. কলিঙ্গদেশ
  3. অঙ্গদেশ
  4. উত্তর দেশ

উত্তর – 2. কলিঙ্গদেশ

‘কলিঙ্গদেশ’ বলতে কোন্ অঞ্চলকে বোঝানো হয়? –

  1. উত্তর ভারতের কিছু অংশকে
  2. ওড়িশা ও তার দক্ষিণে দ্রাবিড় অঞ্চলকে
  3. বঙ্গদেশ ও বিহারের প্রাচীন অংশকে
  4. দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশকে

উত্তর – 2. ওড়িশা ও তার দক্ষিণে দ্রাবিড় অঞ্চলকে

কারা প্রলয় গুণল? –

  1. প্রজা
  2. রাজা
  3. সেনাপতি
  4. মন্ত্রী

উত্তর – 1. প্রজা

‘প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।’ – কেন? –

  1. মেঘের গর্জনে
  2. প্রলয় গুণে
  3. চমকিত হয়ে
  4. চিকুর দেখে।

উত্তর – 2. প্রলয় গুণে

ঘন ঝড় কী ভাবে বইছিল? –

  1. উচ্চনাদে
  2. শনশন বনবন
  3. হুড় হুড় দুড় দুড়
  4. ঝনঝন ঘনঘন

উত্তর – 3. হুড় হুড় দুড় দুড়

‘ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।’ – ‘রড়’ শব্দের অর্থ? –

  1. ভয়
  2. পালানো
  3. ছুট বা দৌড়
  4. শান্ত হওয়া

উত্তর – 3. ছুট বা দৌড়

‘হরিত’ শব্দটির অর্থ কী? –

  1. হলুদ
  2. লাল
  3. সবুজ
  4. নীল

উত্তর – 3. সবুজ

যে হরিত ছিল তার কী অবস্থা হল? –

  1. জলধারায় ভেসে গেল
  2. ধুলোয় আচ্ছাদিত হল
  3. বজ্রপাতে নষ্ট হয়ে গেল
  4. কালো হয়ে গেল

উত্তর – 2. ধুলোয় আচ্ছাদিত হল

‘শস্য’র কী অবস্থা হল? –

  1. উলটে পড়ল 
  2. জলে ভেসে গেল
  3. লোকে সংগ্রহ করে নিল
  4. নষ্ট হয়ে গেল

উত্তর – 1. উলটে পড়ল

চারি মেঘে জল দেয় কত গজরাজ? –

  1. পঞ্চ গজরাজ
  2. চার গজরাজ
  3. শত গজরাজ
  4. অষ্ট গজরাজ

উত্তর – 4. অষ্ট গজরাজ

‘সঘনে চিকুর’ কথাটির অর্থ –

  1. বজ্র-বিদ্যুৎ
  2. ঘন ঘন বিদ্যুৎসহ মেঘ গর্জন
  3. বৃষ্টিসহ মেঘগর্জন
  4. মেঘের গর্জন

উত্তর – 2. ঘন ঘন বিদ্যুৎসহ মেঘ গর্জন

‘করি-কর’ কথাটির অর্থ কী? –

  1. করিৎকর্মা
  2. হাতির শুঁড়
  3. হাতির কান
  4. হাতির সমান

উত্তর – 2. হাতির শুঁড়

‘জলে মহী একাকার’ – ‘মহী’ কথার অর্থ কী? –

  1. আকাশ
  2. পথ
  3. পৃথিবী
  4. অঞ্চল

উত্তর – 3. পৃথিবী

‘পথ হইল হারা’ – কারণ? –

  1. না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ
  2. চারি মেঘে জল দেয়
  3. চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল
  4. জলে মহী একাকার

উত্তর – 4. জলে মহী একাকার

ঘন ঘন মেঘের গর্জনে কী অবস্থা হয়েছিল? –

  1. প্রজারা চমকে উঠেছিল
  2. ভয়ে পথ হারিয়ে যাচ্ছিল
  3. কেউ কারোর কথা শুনতে পাচ্ছিল না
  4. প্রজারা প্রলয়ের কথা ভাবছি

উত্তর – 3. কেউ কারোর কথা শুনতে পাচ্ছিল না

‘পরিচ্ছিন্ন নাহি ___ I’ –

  1. গগন-মণ্ডল
  2. ঈশান কোণ
  3. কলিঙ্গদেশ
  4. সন্ধ্যা দিবস রজনী

উত্তর – 4. সন্ধ্যা দিবস রজনী

‘সোঙরে’ কথার অর্থ কী? –

  1. সঙ্গে যাওয়া
  2. নামকীর্তন করা
  3. স্মরণ করা
  4. মন্ত্রোচ্চারণ

উত্তর – 3. স্মরণ করা

কলিঙ্গে লোকেরা কার নাম স্মরণ করছিল?

  1. ইন্দ্র দেবতার
  2. বরুণ দেবতার
  3. পবন দেবতার
  4. জৈমিনির

উত্তর – 4. জৈমিনির

জৈমিনির নাম স্মরণ করছিল কেন? –

  1. নাম স্মরণ করলে বৃষ্টি থামে
  2. প্রলয় হয় না
  3. ভয় ভেঙে যায়
  4. নাম স্মরণে বজ্রপাত নিবারিত হয়

উত্তর – 4. নাম স্মরণে বজ্রপাত নিবারিত হয়

‘না পায় দেখিতে কেহ ___।’ –

  1. কলিঙ্গদেশ
  2. পথঘাট
  3. রবির কিরণ
  4. ঘরগুলো

উত্তর – 3. রবির কিরণ

‘গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।’ – এ কারণ কী? –

  1. করি-কর সমান বরিষে জলধারা
  2. পরিচ্ছন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী
  3. দেখিতে না পাই অঙ্গ আপনার
  4. নাহি জানি জলস্থল কলিঙ্গ-মণ্ডলে

উত্তর – 4. নাহি জানি জলস্থল কলিঙ্গ-মণ্ডলে

‘ভুজঙ্গ’ শব্দের অর্থ কী? –

  1. ব্যাং
  2. সাপ
  3. টিকটিকি
  4. সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী

উত্তর – 2. সাপ

নিরবধি কতদিন নিরন্তর বৃষ্টি হল? –

  1. তিনদিন
  2. পাঁচদিন
  3. একমাস
  4. সাতদিন

উত্তর – 4. সাতদিন

‘-কার্য্য হেজ্যা গেল ঘর।।’ –

  1. কলিঙ্গ প্রজার
  2. আছুক শস্যের
  3. বীর হনুমানের
  4. নদনদীগণের

উত্তর – 2. আছুক শস্যের

‘মেঝ্যাতে পড়য়ে শিল-।’

  1. বৃষ্টি নিরন্তর
  2. যেন পাকা তাল
  3. বিদারিয়া চাল
  4. কলিঙ্গ-মণ্ডলে

উত্তর – 3. বিদারিয়া চাল

শিলগুলির আকার কেমন ছিল?

  1. ছোটো শস্যদানার মতো
  2. বড়ো বড়ো পাথর আকৃতি
  3. ভাদ্রের তালের মতো
  4. পর্বত সমান

উত্তর – 3. ভাদ্রের তালের মতো

কোন্ মাসে তাল পড়ে? –

  1. বৈশাখ
  2. কার্তিক
  3. ফাল্গুন
  4. ভাদ্র

উত্তর – 4. ভাদ্র

কে চণ্ডীর আদেশ পান? –

  1. কবি চণ্ডীদাস
  2. কলিঙ্গের রাজা
  3. বীর হনুমান
  4. কলিঙ্গের প্রজারা

উত্তর – 3. বীর হনুমান

বীর হনুমান কী করেন? –

  1. বৃষ্টি থামিয়ে দেন
  2. মঠ অট্টালিকা ভেঙে খান খান করেন
  3. প্রলয় থামান
  4. চণ্ডীর আদেশের অপেক্ষায় থাকেন

উত্তর – 2. মঠ অট্টালিকা ভেঙে খান খান করেন

ঢেউগুলির আকার কেমন? –

  1. ছোটো ছোটো
  2. মাঝারি আকৃতির
  3. বিশাল পর্বত সমান
  4. ভয়ংকর আকৃতির

উত্তর – 3. বিশাল পর্বত সমান

কী দলমল করচ্ছিল? –

পর্বত
ঘরগুলি
মঠ-অট্টালিকা
কলিঙ্গ-দেশ

উত্তর – 2. ঘরগুলি

হনুমান এবং আর কাদের চণ্ডী আদেশ দিয়েছিলেন? –

  1. বিশাল পর্বতদের
  2. কলিঙ্গ প্রজাদের
  3. ভুজঙ্গদের
  4. নদনদীদের

উত্তর – 4. নদনদীদের

কে অম্বিকামঙ্গল গান? –

  1. মঙ্গলকাব্যের কবি
  2. চণ্ডীদাস
  3. শ্রীকবিকঙ্কণ
  4. বীর হনুমান

উত্তর – 3. শ্রীকবিকঙ্কণ

কবিতার শেষে কবির নামোল্লেখকে কী বলা হয়? –

  1. বণিতা
  2. প্রকাশ
  3. অহংকার
  4. ভণিতা

উত্তর – 4. ভণিতা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

মঙ্গলকাব্য কাকে বলে?

আনুমানিক খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত বাংলাদেশের সমাজজীবনে লোকদেবতার প্রশস্তিমুখর যে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্ম বিষয়ক আখ্যানকাব্য প্রচলিত ছিল, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সেই কাহিনিকাব্য মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত।

মঙ্গলকাব্য কয় প্রকার?

মঙ্গলকাব্য প্রধানত চার প্রকার।

মঙ্গলকাব্যের প্রকারভেদ লেখো।

মঙ্গলকাব্যের মূলত চারটি ভাগ। যেমন – মনসামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল। এ ছাড়াও মঙ্গলকাব্যের বহু অপ্রধান শাখা তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ছিল। যেমন – শীতলামঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, রায়মঙ্গল, পঞ্চাননমঙ্গল ইত্যাদি।

মঙ্গলকাব্যের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

মঙ্গলকাব্যের দুটি বৈশিষ্ট্য হল –
1. গ্রন্থারম্ভে দেববন্দনা ও গ্রন্থোৎপত্তির কারণ বর্ণিত হবে।
2. বারোমাস্যা, চৌতিশা, নারীগণের পতিনিন্দা ইত্যাদি বর্ণনা এই কাব্যে উপস্থিত থাকবে।

‘অভয়ামঙ্গল’ বা ‘অম্বিকামঙ্গল’-এ কোন্ দেবীর মহিমা ব্যক্ত হয়েছে?

‘অম্বিকামঙ্গল’-এ দেবী চণ্ডীর মহিমা ব্যক্ত হয়েছে।

‘কবিকঙ্কণ’ কোন্ কবির উপাধি?

‘কবিকঙ্কণ’ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি।

কবিকঙ্কণ মুকুন্দ জন্মস্থান কোথায়?

বর্ধমান জেলায় রত্নানদী তীরস্থ দামিন্যা গ্রামে কবিকঙ্কণ মুকুন্দ জন্মগ্রহণ করেন।

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর পিতা ও মাতার নাম লেখো।

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর পিতার নাম হৃদয় মিশ্র ও মাতার নাম দৈবকী।

মুকুন্দ চক্রবর্তী কোন্ সময়ের কবি?

মুকুন্দ চক্রবর্তী ষোড়শ শতকের কবি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগবিভাজন পর্বের বিচারে মধ্যযুগের কবি তিনি।

কবি মুকুন্দ কোন্ রাজার সভাকবি ছিলেন?

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী বাঁকুড়া রায়ের পুত্র রঘুনাথ রায়ের সভাকবি ছিলেন।

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা মঙ্গলকাব্যের নাম কী?

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা মঙ্গলকাব্যের নাম ‘অভয়ামঙ্গল’।

‘চণ্ডীমঙ্গল’ কার লেখা?

‘চণ্ডীমঙ্গল’ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা।

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা পাঠ্যকবিতার নাম কী?

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা পাঠ্যকবিতার নাম ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কোন্ কাব্যের অন্তর্গত?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশটি কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘অভয়ামঙ্গল’ কাব্যের ‘আখেটিক’ খণ্ডের অন্তর্গত।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কোন্ প্রদেশের কথা আছে?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গ প্রদেশের কথা আছে।

কলিঙ্গের বর্তমান নাম কী?

কলিঙ্গের বর্তমান নাম উড়িষ্যা বা ওড়িশা।

কলিঙ্গদেশে অন্ধকার নেমে এল কীভাবে?

মুকুন্দ চক্রবর্তী বিরচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ঘন মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে কলিঙ্গদেশে অন্ধকার নেমে এসেছিল।

কেউ নিজের অঙ্গ দেখতে পায়নি কেন?

কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন কালো মেঘে আবৃত হয়ে যায়, ফলে দিনের বেলাতেই যেন রাতের আঁধার নেমে আসে। এর ফলে দৃশ্যমানতা কমে গেলে প্রজারা নিজের অঙ্গ দেখতে পায় না।

কোন্ প্রান্তে চিকুর সঘনে উড়ল?

ঈশান কোণে চিকুর সঘনে উড়ল।

‘সঘনে’ শব্দের অর্থ কী?

‘সঘনে’ শব্দের অর্থ ঘন ঘন।

‘চিকুর’ কথার অর্থ কী?

‘চিকুর’ কথার অর্থ চুল বা কেশ হলেও পাঠ্যাংশে ‘চিকুর’ কথার অর্থ তীব্রবিদ্যুৎ বা বাজ।

কোথায় মেঘ ডাকে?

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় উত্তর পবনে দুরদুর শব্দে মেঘ ডাকে।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কত প্রকার মেঘে জল দেয়?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় চার প্রকার মেঘে জল দেয়। পুরাণ মতে সেই চার প্রকার মেঘ হল – সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর, দ্রোণ।

‘চারি মেঘে’ কেমন বর্ষণ হচ্ছিল?

কবিকঙ্কণ রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে কলিঙ্গদেশে চারি মেঘে মুষলধারায় বর্ষণ হচ্ছিল।

‘নাদ’ শব্দের অর্থ কী?

‘নাদ’ শব্দের অর্থ তীব্র আওয়াজ।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কারা প্রলয় গুণল?

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গদেশের প্রজারা প্রলয় গুণল।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কারা ভবন ছাড়ল?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাংশে কলিঙ্গদেশের প্রজারা ভবন ছাড়ল।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে প্রজারা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে গেল কেন?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে কলিঙ্গদেশে প্রচণ্ড ঝড়ের দাপটে প্রজারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রাণ রক্ষার্থে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

‘রড়’ শব্দের অর্থ কী?

‘রড়’ শব্দের অর্থ ছুট বা দৌড়।

‘ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত।’ – বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

‘কলিঙ্গ দেশে ঝড় বৃষ্টি’ কবিতাংশে কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী বলতে চেয়েছেন কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়ের দাপটে উড়ে আসা ধুলোর আস্তরণে সমস্ত সবুজ আচ্ছাদিত হয়েছিল।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কী উলটে পড়েছিল?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় খেতের শস্য উলটে পড়েছিল।

প্রজা চমকিত হয়েছিল কেন?

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ফলে এক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। ঝড়ের দাপটে মাঠের শস্য উপড়ে পড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তা দেখে প্রজা চমকিত হয়েছিল।

‘গজ’ শব্দের দুটি সমার্থক শব্দ লেখো।

‘গজ’ শব্দের দুটি সমার্থক শব্দ – হস্তী, মাতঙ্গ।

অষ্ট গজরাজ কী করেছিল?

অষ্ট গজরাজ চার মেঘের সহায়তায় প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিল। পুরাণ মতে অষ্টগজরাজ হল – ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদত্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক।

‘বেঙ্গ-তড়কা’ কথার অর্থ কী?

‘বেঙ্গ-তড়কা’ কথার অর্থ ব্যাঙের মতো তড়াক করে লাফ দেওয়া।

‘বরিষে’ শব্দের গদ্যরূপ কী?

‘বরিষে’ শব্দের গদ্যরূপ বর্ষণ করে।

‘মহী’ শব্দের দুটি সমার্থক শব্দ লেখো।

‘মহী’ শব্দের দুটি সমার্থক শব্দ হল – পৃথিবী, ভুবন।

পথ চেনা যায় না কেন?

কলিঙ্গদেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে জলস্থল একাকার হয়ে পথ হারিয়ে যায়।

কেউ কারোর কোনো কথা শুনতে পায় না কেন?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে মেঘের গর্জনের তীব্রতায় কেউ কারোর কোনো কথা শুনতে পায় না।

‘পরিচ্ছিন্ন’ কথাটির অর্থ কী?

‘পরিচ্ছিন্ন’ কথাটির অর্থ হল বিভক্ত বা বিচ্ছিন্ন।

কলিঙ্গদেশে ‘সন্ধ্যা দিবস রজনী’-র কী অবস্থা?

কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সন্ধ্যা দিবস রজনী পৃথকভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে না। একটানা আঁধারে দিনরাতের সীমানা মুছে গেছে।

‘কলিঙ্গে সোঙরে’ – কথার অর্থ কী?

‘কলিঙ্গে সোঙরে’ কথার অর্থ কলিঙ্গদেশ স্মরণ করে।

জৈমিনি কে?

জৈমিনি মুনি ‘মীমাংসা দর্শন’ প্রণেতা। জৈমিনি মুনির অপর নাম বজ্রপাত নিবারক। তাই বজ্রপাতের সময় তাঁর নাম কীর্তন করা হয়।

হুড়হুড়, দুড়দুড়, ঝনঝন কী ধরনের শব্দ?

হুড়হুড়, দুড়দুড়, ঝনঝন ধ্বন্যাত্মক শব্দ।

‘না পায় দেখিতে কেহ’ – কী দেখতে পায় না?

কলিঙ্গদেশের প্রজারা ঘন কালো মেঘে ছাওয়া অন্ধকারে দিনে নিজের অঙ্গ বা দেহ দেখতে পায় না।

‘কলিঙ্গদেশে কেন কেউ ‘রবির কিরণ’ দেখতে পায় না?

কবিকঙ্কণ রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে কলিঙ্গদেশের আকাশে ঘন কালো মেঘের আড়ালে সূর্য ঢাকা পড়ে যাওয়ায় দৃশ্যমানতা একদম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ‘রবির কিরণ’ দেখা যায় না।

‘ভুজঙ্গ’ শব্দের দুটি প্রতিশব্দ লেখো।

‘ভুজঙ্গ’ শব্দের দুটি প্রতিশব্দ – ফণী, সর্প।

গর্ত ছেড়ে কে বেরোল?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ভুজঙ্গ অর্থাৎ সাপ গর্ত ছেড়ে বেরোল।

নিরন্তর কতদিন বৃষ্টি হয়েছে কলিঙ্গদেশে?

কলিঙ্গদেশে নিরন্তর সাতদিন বৃষ্টি হয়েছে।

কী ‘হেজ্যা’ গেল?

কলিঙ্গবাসীর ঘর ‘হেজ্যা’ গেল।

‘হেজ্যা গেল ঘর।।’ – কথার অর্থ কী?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে সাতদিনের প্রবল বর্ষায় জল ঢুকে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেল। এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কী ভেদ করে শিল পড়ে?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গবাসীর ঘরের চাল ভেদ করে শিল পড়ে।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ‘চাল’ শব্দের অর্থ কী? সাধারণভাবে ‘চাল’ শব্দের অর্থ কী?

কবিতায় ‘চাল’ শব্দের অর্থ ঘরের আচ্ছাদন বা ছাউনি। সাধারণভাবে ‘চাল’ শব্দের অর্থ ‘ধান থেকে জাত দানা, যা দিয়ে ভাত প্রস্তুত করা হয়’ কিংবা ‘মতলব’।

শিলকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় শিলকে ভাদ্রমাসে পড়ে থাকা তালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কোন্ মাসের কথা পাওয়া যায়?

মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ভাদ্র মাসের কথা পাওয়া যায়।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কোন্ মাসে তাল পড়ে?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ভাদ্র মাসে তাল পড়ে।

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় বীর হনুমান কার আদেশ পান?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে বীর হনুমান দেবী চণ্ডীর আদেশ পান।

কী কী ভেঙে খানখান হয়েছে?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে মঠ, অট্টালিকা ভেঙে খানখান হয়েছে।

কে মঠ অট্টালিকা ভেঙে খানখান করে?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশে দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান মঠ অট্টালিকা ভেঙে খানখান করে।

ঢেউগুলির আকৃতি কেমন ছিল?

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঢেউগুলি পর্বতের ন্যায় বিশাল ছিল।

ঘরগুলির কী অবস্থা হয়েছিল?

কলিঙ্গদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড দুর্যোগে পর্বতসম ঢেউয়ের আঘাতে প্রজাদের ঘরগুলি ধ্বংস হওয়ার অবস্থা হয়েছিল।

নদনদীগণ কার আদেশে ধায়?

কবিকঙ্কণ রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর আদেশে নদনদীগণ ধায়।

‘অম্বিকা’ কার নাম?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় অম্বিকা দেবী চণ্ডীর নাম।

‘শ্রীকবিকঙ্কণ’ কার গান গেয়েছেন?

শ্রীকবিকঙ্কণ দেবী অম্বিকার তথা চণ্ডীর স্তুতিগান ‘অম্বিকামঙ্গল’

‘হরিত’ শব্দের অর্থ কী?

‘হরিত’ শব্দের অর্থ সবুজ।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কাব্যাংশটি কার লেখা, কোন্ কাব্যের অন্তর্গত?

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কাব্যাংশটি মধ্যযুগের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত।

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি অন্য কী কী নামে পরিচিত?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি অভয়ামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল, কবিকঙ্কণ চণ্ডী, অম্বিকামঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটির ক-টি খণ্ড ও কী কী?

মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটির দুটি খণ্ড, যথা- আখেটিক খণ্ড এবং বণিক খণ্ড।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন্ খণ্ডের অন্তর্গত?

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কাব্যাংশটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত।

দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার। কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না কেন?

চারদিকের আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হওয়ায় সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে গেছে, ফলে কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছেন না।

চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল। — চারিমেঘ কী কী?

চারি মেঘ হল মেঘের চারটি রূপ – সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ ৷

উচ্চনাদে কলিঙ্গে কীসের ডাক শোনা গিয়েছে?

ঘন মেঘে ঢাকা কলিঙ্গের আকাশে জোরে জোরে মেঘের ডাক শোনা গিয়েছে।

প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ। — মন্তব্যটির অর্থ লেখো।
অথবা, কলিঙ্গের প্রজাদের মন বিষাদগ্রস্ত কেন?

চারদিক মেঘে ঢাকা অবস্থায় মুশলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঘনঘন মেঘের ডাকে প্রজারা ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কায় বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

হুড় হুড় দুড় দুড় বহে ঘন ঝড়। — উক্তিটির তাৎপর্য কী?

উদ্ধৃতাংশটিতে কলিঙ্গদেশে মেঘের প্রবল গর্জন এবং মুশলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যে প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছিল তার ভয়ানক রূপ প্রকাশ পাচ্ছে।

বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়। — কোন্ বিপাকে পড়ে প্রজারা পালিয়েছিল?

মুশলধারায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভয়ংকর ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হওয়ায় আসন্ন বিপদের কথা ভেবে প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল।

শ্রীকবিকঙ্কণ কার উপাধি?

শ্রীকবিকঙ্কণ চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি।

ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত — লাইনটির অর্থ লেখো।

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির অর্থ হল সবুজ শস্যখেত ধুলোয় ঢেকে গেল।

প্রজা চমকিত। — কোথাকার প্রজা কেন চমকিত হল?

বিধ্বংসী ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে সমগ্র কলিঙ্গদেশ ধুলোয় ঢেকে যায় এবং প্রবল দুর্যোগে শস্যখেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানকার প্রজারা চমকিত হয়।

চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ। — চারি মেঘ – এর নাম লেখো।

চারি মেঘ হল সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ।

চারদিকে মেঘে জল দেয় কারা?

কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় চারদিকে মেঘে জল দিয়েছিল অষ্ট গজরাজ বা আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি।

জলধারার বর্ষণকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

জলধারার প্রবল বর্ষণকে করি-কর অর্থাৎ হাতির শুঁড় দিয়ে জল ঢালার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

করি-কর সমান বরিষে জলধারা – করি কর শব্দের অর্থ কী?

করি শব্দের অর্থ হাতি ও কর অর্থ হাত। কিন্তু করি কর এই শব্দবন্ধে উল্লিখিত অংশে হাতির শুঁড় বুঝিয়েছে।

কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন। — কারও কথা শুনতে না পাওয়ার কারণ কী?

প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বারবার মেঘের প্রবল গর্জনে কলিঙ্গবাসীরা কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না।

মেঘ ঝড়বৃষ্টির থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী কার কথা স্মরণ করেছেন?
অথবা, কলিঙ্গবাসী জৈমিনিকে স্মরণ করে কেন?

মেঘ ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতেরও হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী ঋষি জৈমিনির কথা স্মরণ করেছেন।

জৈমিনি কে?

ঋষিপুরুষ জৈমিনি হলেন মীমাংসা দর্শনের রচয়িতা এবং ব্যাসদেবের শিষ্য।

না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ। — রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?

ভয়ংকর কালো মেঘে চারদিক ঢেকে গিয়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কেউ সূর্যরশ্মি দেখতে পাচ্ছিল না।

গর্ত ছেড়ে কারা জলে ভেসে বেড়াচ্ছে?

প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে।

কলিঙ্গদেশে কত দিন টানা বৃষ্টিপাত হয়েছিল?

কলিঙ্গদেশে টানা সাত দিন প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

সাত দিনের বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ও ঘরবাড়ির কী ক্ষতি হল?

সাত দিনের বৃষ্টিতে শস্যখেত জলে ডুবে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেল এবং প্রবল শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেল।

ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল। — কবি কোন্ বিষয়ের সঙ্গে এমন তুলনা করেছেন?

প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে ঘরের চাল ভেদ করে যে শিল মেঝেতে এসে পড়ে তার সঙ্গে ভাদ্র মাসের পাকা তালের তুলনা করা হয়েছে।

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কাব্যাংশে শিল পড়াকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কাব্যাংশে বড়ো আকারের শিল পড়াকে ভাদ্র মাসে তাল পড়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

চণ্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান। — আদেশ পেয়ে হনুমান কী করেছিল?

দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান মঠ, অট্টালিকা ভেঙে খানখান করেছিল।

উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল। – এর কারণ কী?

পর্বতের সমান নদীর ঢেউয়ের দাপটে কলিঙ্গদেশের বাড়িঘর জলে ভাসতে ভাসতে টলমল করছিল।

চণ্ডীর আদেশে নদনদী কী করে?

চণ্ডীর আদেশে নদনদীরা ছুটে যায়, আর চারদিকে তারা পর্বতের সমান ঢেউ তোলে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

নবম শ্রেণী ইতিহাস - প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ,নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা