ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো
ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো
Contents Show

ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।

অথবা, অরণ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি লেখো।

ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতি –

ভারতে অরণ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্ধারিত বেশ কতকগুলি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যেমন –

বৃক্ষচ্ছেদন প্রতিরোধ –

বনাঞ্চলের বৃক্ষচ্ছেদনের জন্য প্রতিটি দেশের সরকার নির্দিষ্ট কয়েকটি নীতি প্রণয়ন করেছেন। ভারত সরকারের অরণ্য (সংরক্ষণ) আইন, 1980 (সংশোধিত, 1988 খ্রিস্টাব্দ) অনুসারে অরণ্যকে কোনো কাজে ব্যবহার করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। ফলে নির্বিচারে বৃক্ষছেদন বন্ধ হবে।

বৃক্ষচ্ছেদন
বৃক্ষচ্ছেদন

পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ –

বনাঞ্চলে পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। কারণ গোরু, মেষ, ছাগল, মহিষ প্রভৃতি জীবজন্তু বনভূমির নতুন চারাগাছ, ঘাস প্রভৃতি নষ্ট করে দেয়। ভারতে এই সকল জীবজন্তু প্রতিপালন করার জন্য পশুপালন ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে বনভূমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বনসৃজন –

যে জমি কৃষির অনুপযোগী সেই জমিতে নতুন চারাগাছ রোপণ করে অরণ্য সম্পদের জোগান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। প্রত্যেক বছর 21 মার্চ বিশ্ব অরণ্য দিবস পালন করা হয়। ভারতেও এই দিনটিতে বনমহোৎসব করে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন রোধ –

অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ করে কেবলমাত্র পরিণত বৃক্ষছেদনের জন্য সমস্ত মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

বন সংরক্ষণজনিত শিক্ষার প্রসার –

মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর, অসমের বর্নিহাট, মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট, পশ্চিমবঙ্গের, কার্শিয়াং প্রভৃতি স্থানে সরকারি কর্মীদের বনপালন বা বন সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ‘ভারতীয় বনভূমি সমীক্ষা’ নামে একটি সংস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। সমগ্র দেশের বনসম্পদের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই সংস্থা কাজ করছে।

দাবানল প্রতিরোধ –

শুকনো গাছে ঘষা লেগে যাতে দাবানল না সৃষ্টি হয় সেজন্য বর্তমানে শুকনো গাছ ও ডালপালা কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আইন প্রণয়ন –

আইন প্রণয়ন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির বিধান আবশ্যক।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

ভারতের বন সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

ভারতে বন সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো —
1. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা।
2. মাটি ক্ষয় ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।
3. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।
4. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো।
5. বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ভারতে বনভূমি সংরক্ষণের জন্য কোন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে?

ভারত সরকার অরণ্য (সংরক্ষণ) আইন, 1980 (সংশোধিত 1988) প্রণয়ন করেছে। এই আইনে—
1. বনভূমি কাটার জন্য সরকারি অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
2. বনভূমিকে কৃষি বা শিল্পকার্যে রূপান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বনসৃজন বলতে কী বোঝায়?

বনসৃজন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে —
1. অনুর্বর বা পতিত জমিতে নতুন গাছ লাগানো হয়।
2. বিশ্ব অরণ্য দিবস (21শে মার্চ) ও বনমহোৎসবের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালানো হয়।
3. কমিউনিটি ফরেস্ট্রি ও সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করা হয়।

দাবানল প্রতিরোধের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

দাবানল প্রতিরোধের জন্য —
1. শুকনো গাছ ও ডালপালা আগেই কেটে সরিয়ে ফেলা হয়।
2. ফায়ারলাইন তৈরি করা হয়।
3. স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মাধ্যমে বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়।
4. স্থানীয় বনবিভাগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ কেন প্রয়োজন?

গবাদি পশু (গরু, ছাগল, মহিষ) বনভূমির নতুন চারা ও ঘাস খেয়ে ফেলে, যা বনের পুনর্জন্ম (Regeneration) ব্যাহত করে। তাই —
1. নির্দিষ্ট পশুচারণ ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।
2. গোচারণ ফি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ভারতে বন সংরক্ষণের জন্য কোন সংস্থা কাজ করে?

1. ভারতীয় বন সমীক্ষা (Forest Survey of India – FSI) – বনভূমির মানচিত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে।
2. বন উন্নয়ন নিগম (Forest Development Corporations) – বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে।
3. জাতীয় বন নীতি (National Forest Policy, 1988) – বন সংরক্ষণের কৌশল নির্ধারণ করে।

স্থানীয় জনগণ কীভাবে বন সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে?

1. সামাজিক বনায়ন (Social Forestry) ও জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (Joint Forest Management – JFM) প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে।
2. অবৈধ বৃক্ষচ্ছেদন ও দাবানল সম্পর্কে বন দপ্তরকে সতর্ক করা।
3. জল সংরক্ষণ ও মাটি সংরক্ষণে সহযোগিতা করা।

অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন রোধ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অপরিণত গাছ কাটলে —
1. বনের পুনর্জন্ম (Regeneration) ব্যাহত হয়।
2. বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয়।
3. মাটির উর্বরতা কমে যায়।
তাই শুধুমাত্র পরিণত গাছ কাটার নিয়ম করা হয়েছে।

ভারতে বনভূমির বর্তমান অবস্থা কেমন?

ভারতীয় বন সমীক্ষা 2021 অনুযায়ী —
1. দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার 24.62% বনভূমি রয়েছে।
2. মধ্যপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, ছত্তিশগড়ে সবচেয়ে বেশি বনভূমি আছে।
3. শহরায়ন ও অবৈধ কাটার কারণে কিছু রাজ্যে বনভূমি হ্রাস পাচ্ছে।

বন সংরক্ষণে সাধারণ মানুষ কীভাবে অবদান রাখতে পারে?

1. বেশি করে গাছ লাগানো।
2. প্লাস্টিক ও কাঠের অপচয় কমানো।
3. বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চলের ক্ষতি করে এমন কাজ এড়ানো।
4. পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করা।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভারতের বনভূমি সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ বলতে কী বোঝো

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র বলতে কী বোঝো

ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র কী? ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

প্রতিসরণ কোণ কাকে বলে? কাচফলকে প্রতিসরণের ফলে আলোকরশ্মির চ্যুতি হয় না কেন?

একটি প্রিজমের i-δ লেখচিত্র আঁকো, যেখানে i হল আপতন কোণ ও δ হল চ্যুতিকোণ।

উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স কয়প্রকার ও কী কী?

আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।

রেখাচিত্রের সাহায্যে লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনের নিয়মাবলি গুলি লেখো।