এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় ‘জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ’ -এর গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা কাকে বলে?
সক্রিয় ডালাক্রম্যতা – যে ধরনের অনাক্রম্যতায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে দেহের নিজস্ব অনাক্রম্যতার মাধ্যমে অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হয় এবং অ্যান্টিজেন নিষ্ক্রিয় হয়, তাকে সক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে। যেমন – OPV টিকাকরণের মাধ্যমে অনাক্রম্যতা।
নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা – যে পদ্ধতিতে দেহের বাইরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শরীরে প্রবেশ করার মাধ্যমে দেহে যে অনাক্রম্যতা সৃষ্টি হয়, তাকে নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে। যেমন – ঘোড়ার দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ AVS দিয়ে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসা।
অর্জিত অনাক্রম্যতা কয়প্রকার? প্রত্যেক প্রকার অনাক্রম্যতার সঙ্গে যুক্ত রক্তকণিকার নাম লেখো।
অর্জিত অনাক্রম্যতা দুই প্রকার। যথা –
- কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা – এই অনাক্রম্যতায় যুক্ত রক্ত-কণিকাটি হল T-লিম্ফোসাইট।
- রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা – এই অনাক্রম্যতায় যুক্ত রক্তকণিকাটি হল B-লিম্ফোসাইট।
সক্রিয় অর্জিত অনাক্রম্যতা কয় প্রকার ও কী কী?
সক্রিয় অর্জিত অনাক্রম্যতা ও প্রকার। যথা –
- কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা,
- রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা এবং
- ইন্টারফেরনভিত্তিক অনাক্রম্যতা।
কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা বলতে কী বোঝো?
যে অর্জিত অনাক্রম্যতা T-লিম্ফোসাইট বা T-কোশের সাহায্যে বিজাতীয় বস্তুকে শনাক্ত, আক্রমণ ও ধ্বংস করে, তাকে কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Cell mediated immunity) বলে।
রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা কাকে বলে?
যে অর্জিত অনাক্রম্যতা লিম্ফোসাইট দ্বারা উৎপাদিত অ্যান্টিবডির সাহায্যে নির্দিষ্ট রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে, তাকে রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) বলে। রসভিত্তিক অনাক্রম্যতায় অ্যান্টিবডি রক্তরসে দ্রবীভূত থেকে অনাক্রম্যতা দান করে। অর্থাৎ, অ্যান্টিজেন বা রোগজীবাণুকে প্রশমিত বা ধ্বংস করে।
ইন্টারফেরন (Interferon) কী? এর কাজ কী? অথবা, ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলতে কী বোঝো?
ইন্টারফেরন – ভাইরাস আক্রান্ত দেহকোশ থেকে নিঃসৃত যে বিশেষ ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন অন্যান্য সজীব কলাকোশকে ভাইরাস আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে, তাকে ইন্টারফেরন (Interferon) বলে।
ইন্টারফেরন এর কাজ – ইন্টারফেরন মৃতপ্রায় কোশ থেকে নিঃসৃত হয়ে অন্যান্য সুস্থ কলাকোশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এইপ্রকার অনাক্রম্যতাকে ইন্টারফেরন অনাক্রম্যতা বলে।
অনাক্রম্যতার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
অনাক্রম্যভার উদ্দেশ্য –
- রোগজীবাণুদের প্রতি দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও দেহকে রোগমুক্ত রাখা।
- ক্ষতিগ্রস্ত দেহকোশের নিরাময় ও প্রতিস্থাপনের দ্বারা সামগ্রিক সুস্থতা ও সুরক্ষা প্রদান করা।
এপিটোপ ও প্যারোটোপ কী?
এপিটোপ – অ্যান্টিজেনের যে নির্দিষ্ট স্থানে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়, তাকে এপিটোপ বলে।
প্যারাটোপ – অ্যান্টিবডি ও লিম্ফোসাইটের যে বিশেষ অংশ অ্যান্টিজেনের এপিটোপের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাকে প্যারাটোপ বলে।
প্রথম সারির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করে এমন দুটি রাসায়নিক বস্তুর নাম লেখো।
লাইসোজাইম, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, প্রোটিওলাইটিক এনজাইম।
T-লিম্ফোসাইট বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?
যে-সমস্ত লিম্ফোসাইট অস্থিমজ্জার স্টেমকোশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে থাইমাস গ্রন্থিতে পরিণতি লাভ করে, তাদের T-লিম্ফোসাইট বলে।
T-লিম্ফোসাইটের গুরুত্ব – এরা দেহে কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা দান করে।
B-লিম্ফোসাইট কাকে বলে? এর গুরুত্ব লেখো। অথবা, T-কোশ ও B-কোশ বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত লিম্ফোসাইট অস্থিমজ্জার স্টেমকোশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে অস্থিমজ্জাতেই পরিণতি লাভ করে এবং লসিকা গ্রন্থিতে অবস্থান করে, তাদের B-লিম্ফোসাইট বলা হয়।
B-লিম্ফোসাইট প্রথম পাখির দেহে অবসারণী ছিদ্রের কাছে ফেব্রিসিয়াস বারসা নামক লিম্ফয়েড কলাতে আবিষ্কৃত হওয়ায় এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
B- লিম্ফোসাইটের গুরুত্ব – এরা দেহে অ্যান্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা দান করে।
মৃত ভাইরাস থেকে প্রস্তুত দুটি টিকার নাম লেখো।
মৃত ভাইরাস থেকে প্রস্তুত দুটি টিকার নাম –
- ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা,
- পোলিয়ো টিকা বা সকস টিকা (Salk’s vaccineটিকা) ।
মৃত ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি দুটি টিকার নাম লেখো।
মৃত ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি দুটি টিকার নাম – হুপিং কাশির টিকা (DPT) এবং টাইফয়েডের টিকা (TAB)।
টক্সয়েড ভ্যাকসিন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
জীবাণু নিঃসৃত টক্সিনকে দুর্বল করে যে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, তাকে টক্সয়েড ভ্যাকসিন বলে।
উদাহরণ – টিটেনাস টিকা (TT) এবং ডিপথেরিয়ার টিকা (DPT)।
ভাইরাল ভ্যাকসিন কী?
মৃত ভাইরাস বা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং শক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত ভাইরাস থেকে যে টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, তাকে ভাইরাল ভ্যাকসিন বলে। যেমন – পোলিয়ো ভ্যাকসিন।
কোন্ কোন্ পদ্ধতির দ্বারা টিকাকরণ করা হয়?
টিকাকরণ করা হয় –
- ইনজেকশনের মাধ্যমে,
- মৌখিকভাবে এবং
- নাকে স্প্রে করে।
অনাক্রম্যতাকরণ বলতে কী বোঝো?
যে পদ্ধতির সাহায্যে টিকা, ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা সিরাম বা অ্যান্টিটক্সিন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবদেহকে এমনভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তোলা হয় যে, মানুষ বিষাক্ত পদার্থ, অ্যান্টিজেন বা রোগজীবাণুর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাকে অনাক্রম্যতাকরণ বা ইমিউনাইজেশন বলে। অর্থাৎ, টিকাকরণের মাধ্যমেই দেহের অনাক্রম্যতাকরণ করা হয়।
অনাক্রম্যতাকরণের গুরুত্ব লেখো।
অনাক্রম্যতাকরণ বা ইমিউনাইজেশনের গুরুত্ব –
- অনাক্রম্যতাকরণের মাধ্যমে সংক্রামিত রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
- অনাক্রম্যতাকরণের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে কয়েকটি মারণরোগ নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। যেমন – গুটি বসন্ত।
- অনাক্রম্যতাকরণের দ্বারা শিশুমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে।
অনাক্রম্যতা সাড়া কী?
বাইরে থেকে কোনো অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে দেহের অনাক্রম্যতাতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অ্যান্টিজেনটিকে বিশ্লিষ্ট বা প্রশমিত করার জন্য দেহে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়। এই ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনাক্রম্যতা সাড়া বলে।
DPT ভ্যাকসিন কী?
DPT হল জীবাণু দ্বারা উৎপন্ন টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে প্রস্তুত একপ্রকার টক্সয়েড টিকা। এই টিকা ডিপথেরিয়া (D), হুপিংকাশি বা পারটুসিস (P) ও টিটেনাসের (T) বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। ইহা সাধারণত শিশুদের 3-9 মাস বয়সে ওটি ডোজ (1-2 মাস অন্তর) এবং 18-24 মাস বয়সে 1টি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
বুস্টার ডোজ কী?
বুস্টার ডোজ (Booster Dose) – প্রাথমিক ভ্যাকসিন দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আবার যে ভ্যাকসিন দেহে প্রয়োগ করা হয়, তাকে বুস্টার ডোজ বলে। এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের ফলে দেহে অধিকমাত্রায় অ্যান্টিবডি উৎপাদন করানো যায় এবং অনাক্রম্যতা তন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ‘Boost’ কথাটির অর্থ হল ‘উজ্জীবিত করা’।

MMR কীসের ভ্যাকসিন? এটি দেওয়ার নিয়ম লেখো।
MMR ভ্যাকসিনটি শিশুদের হাম, রুবেলা, মাম্পস প্রভৃতি রোগের হাত থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী বিশেষ প্রকার ভ্যাকসিন। এটি একপ্রকার ট্রিপল অ্যান্টিজেন। ইহা শিশুদের 9-12 মাস বয়সে 1টি বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়।
রোগ (Disease) বলতে কী বোঝো?
যে অবস্থায় দেহ ও মনের পরিবর্তন ঘটে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে রোগ বা ডিজিজ (Disease) বলে।
সংক্রামক রোগ কাকে বলে?
সংক্রামক রোগ – খাদ্য, জল, বায়ু বা প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ বা অন্য কোনো বাহকের মাধ্যমে যে-সমস্ত রোগগুলি রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে বাহিত বা সঞ্চারিত হয়, তাদের সংক্রামক রোগ বলে। যেমন – যক্ষ্মা, কলেরা প্রভৃতি।
জলবাহিত দুটি রোগের নাম লেখো।
জলবাহিত দুটি রোগের নাম – ডায়ারিয়া ও হেপাটাইটিস-A।
বায়ুবাহিত দুটি রোগের নাম করো।
বায়ুবাহিত দুটি রোগের নাম – নিউমোনিয়া ও যক্ষ্মা।
ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া ও যক্ষ্মা রোগ কীভাবে মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়?
ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া ও যক্ষ্মা রোগ সংক্রমণ পদ্ধতি –
- বায়ু মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়।
- রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে জীবাণুসহ মিউকাস কণা বাতাসে ছড়িয়ে গড়ে এবং সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে রোগ সংক্রমণ ঘটায়।
- রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক-পরিচ্ছদ এবং ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও রোগজীবাণু ছড়াতে পারে।
মানুষের দেহে কীভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রামিত হয়?
ম্যালেরিয়া সংক্রমণ পদ্ধতি –
- বাহক দ্বারা সংক্রমণ – রোগজীবাণু বহনকারী স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা সুস্থ মানুষের দেহ থেকে রক্ত শোষণ করার সময় ম্যালেরিয়ার জীবাণু রক্তে প্রবেশ করে।
- রক্ত সঞ্চালন দ্বারা সংক্রমণ – সুস্থ মানুষের দেহে ম্যালেরিয়ার রোগজীবাণুর সংক্রামিত রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণ ঘটে।
ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ার সঙ্গে সাধারণ ম্যালেরিয়ার পার্থক্য কী?
ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ার জন্য দায়ী পরজীবী হল প্ল্যাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (Plasmodium falciparum)। এই রোগে প্রবল জ্বর হয়। এছাড়া, জন্ডিস, হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হয়, যকৃতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। 3-4 দিনের মধ্যে চিকিৎসা না হলে ম্যালেরিয়ার জীবাণু মস্তিষ্ককোশ, বৃক্ক এবং পাচনতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।
অন্যদিকে সাধারণ ম্যালেরিয়া প্ল্যাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax) দ্বারা সৃষ্ট হয়। ম্যালেরিয়ার সাধারণ রোগলক্ষণ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর (105°F – 106°F) আসে এবং 24 ঘণ্টা অন্তর জ্বর ছাড়ে। অসহনীয় মাথার যন্ত্রণা হয়। এইপ্রকার ম্যালেরিয়া প্রাণঘাতী নয়। কুইনাইন/ক্লোরোকুইনাইন জাতীয় ওষুধে এই রোগ নিয়ন্ত্রিত হয়।
ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি রোগ কাকে বলে?
অনাক্রম্যতাতন্ত্র স্বাভাবিকের তুলনায় কম সক্রিয় হলে বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে দেহে যে অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়, তাদের সম্মিলিতভাবে ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি রোগ বলে। যেমন – সিভিয়ার কমবাইন্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি (Severe Combind Immunodeficiency বা SCID) এবং অ্যাকুয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (Acquired Immunodeficiency Syndrome বা AIDS)।
AIDS -এর দুটি লক্ষণ উল্লেখ করো।
AIDS -এর লক্ষণ –
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে T4-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা 200/cc -এর কম হলে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রাথমিকভাবে একটানা জ্বর ও উদরাময় দেখা দেয় এবং ওজন কমে যায়।
- একনাগাড়ে কাশি, চুলকানি, ফুসকুড়ি, অবসাদ, দুর্বলতা দেখা দেয়।
ভাইরাল হেপাটাইটিস কী?
ভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হলে এবং যকৃতে প্রদাহ সৃষ্টি হলে, তাকে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে। এটি বিভিন্ন প্রকার। যেমন – হেপাটাইটিস-A, হেপাটাইটিস-B প্রভৃতি।
টিউবারকিউলিন কী?
মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক ব্যাকটেরিয়া সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রামিত হয়ে যে টক্সিন পদার্থ ক্ষরণ করে, তাকে টিউবারকিউলিন বলে। টিউবারকিউলিনের প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির বিকেলের দিকে হালকা জ্বর আসে এবং রাতে একটানা ঘর্মক্ষরণ হয়।
যক্ষ্মার প্রকারভেদগুলি লেখো।
যক্ষ্মার প্রকারভেদ –
- পালমোনারি টিউবারকিউলোসিস (ফুসফুসের যক্ষ্মা) এবং
- টিউবারকিউলাস মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের আবরণীতে যক্ষ্মা)।
রক্তের মাধ্যমে সংক্রামিত একটি প্রোটোজোয়া ঘটিত রোগের নাম এবং তার জন্য দায়ী জীবাণুর নাম লেখো।
রক্তের মাধ্যমে সংক্রামিত একটি প্রোটোজোয়া ঘটিত রোগ হল – ম্যালেরিয়া।
ম্যালেরিয়ার জন্য দায়ী জীবাণু – প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax)। এটি বিনাইন টার্সিয়ান ম্যালেরিয়া সৃষ্টি করে।
সেলুনে চুল, দাড়ি কাটার জন্য আমাদের কী রোগের জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
সেলুনে চুল, দাড়ি কাটার সময় বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস ঘটিত রোগ (AIDS, হেপাটাইটিস) এবং বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। তাই সেলুনে চুল, দাড়ি কাটার সময় আগের কোনো ব্যক্তির ব্যবহার করা ব্লেডের পরিবর্তে নতুন ব্লেড ব্যবহার করতে হবে, রেজার ভালো করে গরম জল এবং ডেটল বা স্যাভলনে ধুয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার অব্যবহৃত বা ভালো করে ধোয়া টাওয়াল ব্যবহার করতে হবে।
EPI কাকে বলে?
World Health Organisation বা WHO বিশ্ব থেকে 6টি মারণ রোগকে নির্মূলকরণের জন্য যে বিশ্বব্যাপী অনাক্রম্যতাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে, তাকে EPI (Expanded Programme on Immunization) বলে।
কর্মসূচি অনুযায়ী 6টি রোগ হল –
- ডিপথেরিয়া,
- টিটেনাস,
- হুপিং কাশি বা পারটুসিস,
- পোলিয়ো,
- হাম বা মিজেলস্ এবং
- যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস।
মাছি বাহক কিন্তু মশা ভেক্টর ব্যাখ্যা করো।
মাছি সাধারণত ময়লা আবর্জনায় বসে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন রোগের জীবাণুগুলিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের দেহের বিভিন্ন অংশের মাধ্যমে (অঙ্গপ্রত্যঙ্গ) অন্য প্রাণীদের দেহে ছড়ায়, যেমন – কলেরা, টাইফয়েড ইত্যাদি। তাই মাছিকে বাহক বলে। কিন্তু মশা ভেক্টর কারণ, এরাও রোগজীবাণু বহন করে এবং একই সঙ্গে পরজীবীর জীবনচক্রের কোনো একটি দশা তার দেহে সম্পন্ন হয়। যেমন – স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার দেহে ম্যালেরিয়া রোগের পরজীবীর যৌন দশা সম্পন্ন হয়। তাই মাছিকে বাহক ও মশাকে ভেক্টর বলে।
ব্যাকটেরিয়া ঘটিত দুটি রোগের নাম, তাদের জীবাণুর নাম লেখো।
নিউমোনিয়া – ডিপ্লোকক্কাস নিউমোনি (Diplococcus pneumoniae)।
কলেরা – ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) ।
আমাশয় রোগসৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণীটির নাম লেখো। রোগটি কীভাবে সংক্রামিত হয়?
আমাশয় রোগের পরজীবী হল – এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা (Entamoeba histolytica)।
আমাশয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মলে এই পরজীবীর সিস্ট মিশে থাকে। সিস্টগুলি রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে মলের মাধ্যমে বাইরে নির্গত হয়ে মাটি, জল, শাকসবজির সঙ্গে মেশে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এই সিস্টগুলি সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে সুস্থ ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়।
জীবাণুনাশক কাকে বলে?
যে-সমস্ত রাসায়নিক বা জৈব পদার্থ ব্যবহার করে রোগজীবাণুর বংশবিস্তারে বাধা দেওয়া হয় ও তাদের নিষ্ক্রিয়করণের মাধ্যমে কোনো স্থান বা অঙ্গ জীবাণুমুক্ত করা হয়, তাদের জীবাণুনাশক বলে। যেমন – লাইজল, ডেটল প্রভৃতি।
তিনটি জীবাণুনাশকের নাম ও তাদের কার্যকারিতা ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করো।
| জীবাণুনাশকের নাম | কার্যকারিতা বা ব্যবহার |
| মেডিকেটেড সাবান | হাত, মুখ প্রভৃতি অঙ্গ পরিষ্কার করতে ও রোগজীবাণু মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। |
| ব্লিচিং পাউডার | হাসপাতাল, শৌচালয়, নর্দমার চারপাশে ছড়িয়ে সামগ্রিক অঞ্চলকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। |
| স্যাভনল | নিরাপদ অ্যান্টিসেপটিক। |
Wash -এর উপাদানগুলি লেখো।
Wash বা ধৌতকরণের জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলি হল –
- হাত-মুখ ধোয়ার জন্য জীবাণুনাশক সাবান (ডেটল, লাইফবয়),
- স্নানের জন্য নানারকম সুগন্ধি ও জীবাণুনাশক সাবান,
- দাঁত মাজার পেস্ট,
- পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখার জন্য ডিটারজেন্ট,
- ক্ষতস্থান ধোয়ার জন্য অ্যান্টিসেপটিক (আয়োডিন, ডেটল, স্যাভলন),
- বাড়িঘর, হাসপাতাল, শৌচালয় পরিষ্কারের জন্য ডিসইনফেকট্যান্ট (ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি)।
Wash-পরিকল্পনার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
Wash-পরিকল্পনার দুটি উদ্দেশ্য –
- সাধারণত বায়ু, জলবাহিত রোগজীবাণুগুলি আমাদের হাত, মুখ, নাক প্রভৃতি অঙ্গের দ্বারা বা জামাকাপড়ের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। ধৌতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক রোগের প্রকোপ হ্রাস করা।
- বাড়ির চারপাশ, শৌচাগার, রান্নাঘর ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য স্থানকে ময়লা আবর্জনা মুক্ত করে রোগ সংক্রমণের হারকে কমানো এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ডিসইনফেকট্যান্ট কাকে বলে?
ডিসইনফেকট্যান্ট তীব্র রাসায়নিক উপাদান, সাধারণত বাড়িঘর, চারপাশের পরিবেশ, হাসপাতাল, সাধারণ শৌচালয় প্রভৃতি স্থান জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন – ফেনল, লাইজল, 40% ফরম্যালিন, লাইম, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি।
অ্যান্টিসেপটিক কী?
অ্যান্টিসেপটিক মৃদু রাসায়নিক, সাধারণত মানবদেহ, ক্ষতস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন – আয়োডিন, ডেটল, স্যাভলন, লাইজল, মারকিউরোক্রোম, বোরিক অ্যাসিড, বেনজোয়িক অ্যাসিড প্রভৃতি।
ফেনল, লাইজল কী? ধৌতকরণে এদের ভূমিকা কী?
ফেনল, লাইজল একপ্রকার জীবাণুনাশক বা ডিসইনফেকট্যান্ট।
ধৌতকরণে ভূমিকা – রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক-পরিচ্ছদ, ব্যবহার্য সামগ্রী ফেনল বা লাইজল দ্বারা ধৌতকরণের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
অ্যান্টিবায়োসিস বলতে কী বোঝো?
যে পদ্ধতিতে জীবদেহ নিঃসৃত কোনো পদার্থ অন্য জীবের বৃদ্ধি ব্যাহত করে বা জীবের বংশবিস্তার রোধ করে বা জীবকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে, তাকে অ্যান্টিবায়োসিস (Antibiosis) বলে। অ্যান্টিবায়োসিসে অংশগ্রহণকারী পদার্থকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক। যেমন – পেনিসিলিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, এরিথ্রোমাইসিন প্রভৃতি অ্যান্টিবায়োটিক।
হাত ধোয়ার দুটি পদ্ধতি লেখো।
হাত ধোয়ার পদ্ধতি –
- অল্প গরম জলে তরল সাবান (liquid soap) দিয়ে 10-20 সেকেন্ড ধরে হাত ধোওয়া উচিত।
- হাতের সমস্ত দিক বিশেষ করে আঙুলের খাঁজ, নখের গোড়া প্রভৃতি অংশ ভালোভাবে ঘষে ঘষে ধোয়া দরকার।
মানবকল্যাণে জীবাণুর দুটি ব্যাবহারিক প্রয়োগ লেখো।
মানবকল্যাণে জীবাণুর দুটি ব্যাবহারিক প্রয়োগ –
- ফসলি উদ্ভিদের উৎপাদন হ্রাসকারী পতঙ্গ পেস্ট গুলি দমন করতে বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bacillus thuringiensis)-কে ব্যবহার করা হয়।
- কৃষিক্ষেত্রে মাটির উর্বরতা এবং অন্যান্য স্বাভাবিক ধর্মগুলিকে সঠিক মাত্রায় ধরে রাখতে অ্যানাবিনা, নস্টক, অ্যাজোটোব্যাকটর প্রভৃতি জীবাণুগুলিকে ব্যবহার করা হয়।
খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনে ও ভিটামিন উৎপাদনে জীবাণুদের গুরুত্ব উল্লেখ করো।
খাদ্যদ্রব্য –
- দুধ থেকে দই, ঘোল প্রস্তুতিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস ল্যাকটিস (Lactobacillus lactis)-কে ব্যবহার করা হয়।
- ছানা থেকে পনির প্রস্তুতিতে স্ট্রেপটোকক্কাস (Streptococcus), লিউকোনস্টক (Leuconostoc) কে ব্যবহার করা হয়।
- Single cell protein প্রস্তুতিতে স্পিরুলিনা (Spirullina), রোডোসিউডোমোনাস (Rhodopseudomonus)-কে ব্যবহার করা হয়।
ভিটামিন – Vitamin-C প্রস্তুতিতে গ্লুকানোব্যাকটর অক্সিডান্স (Glucanobacter oxidans)-কে এবং Vit-B12 প্রস্তুতিতে সিউডোমোনাস ডিনাইট্রিফিক্যান্স (Pseudomona denitrificans)-কে ব্যবহার করা হয়।
ওষুধ উৎপাদনে ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে জীবাণুদের ভূমিকা কী?
ওষুধ উৎপাদনে জীবাণুদের ভূমিকা – স্ট্রেপ্টোমাইসিস নামক ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেপ্টোমাইসিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে সাহায্য করে
ভ্যাকসিন উৎপাদনে – ভ্যাকসিন তৈরির জন্য খর্ব ক্ষমতাযুক্ত জীবিত অণুজীব বা মৃত অণুজীবনিঃসৃত টক্সিন নিয়ে, তা নির্বিষ করে, ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়। যেমন – মৃত মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলেসিস ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের ভ্যাকসিন BCG প্রস্তুত করা হয়।
পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্রণের দুটি উদাহরণ ব্যাখ্যা করো।
পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্রণের দুটি উদাহরণ –
- ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bacillus thuringiensis) নামক ব্যাকটেরিয়াকে পতঙ্গ পেস্টের দমনে ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
- হেলিকোভারপা আরমিগেরা (Helicoverpa armigera) নামক পতঙ্গের লার্ভা দমনে নিউক্লিও পলিহেড্রোসিস ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হয়?
মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য জলাশয়ে গ্যাম্বুশিয়া (Gambusia), পানচাক্স (Panchax), তেলাপিয়া (Telapia) প্রভৃতি লার্ভাভুক মাছ চাষ করা হয়। এই মাছগুলি মশার লার্ভা খেয়ে মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অণুজীব সারের গুরুত্ব লেখো। অথবা, অণুজীব সারের প্রয়োজনীয়তা কী?
অণুজীব সারের গুরুত্ব –
- অণুজীব সার মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে মাটিকে উর্বর করে তোলে।
- অণুজীব সার মাটিতে সালফেট, ফসফেট ও অন্যান্য খনিজ পদার্থকে দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
- অণুজীব সার বংশবিস্তারের মাধ্যমে জমিতে সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায় ফলে অন্যান্য সারের তুলনায় এটি কম ব্যয়সাধ্য হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় ‘জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ’ -এর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন