হরিহরের সঙ্গে মহাজন বাড়িতে গিয়ে অপু কীভাবে প্রথম নিজেদের দারিদ্র্য সম্পর্কে সচেতন হল, লেখো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব, “হরিহরের সঙ্গে মহাজন বাড়িতে গিয়ে অপু কীভাবে প্রথম নিজেদের দারিদ্র্য সম্পর্কে সচেতন হল, লেখো।” — এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি উপন্যাসের মূল ভিত্তি এবং গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত শৈশবকে বোঝার জন্য অপরিহার্য।

হরিহরের সঙ্গে মহাজন বাড়িতে গিয়ে অপু কীভাবে প্রথম নিজেদের দারিদ্র্য সম্পর্কে সচেতন হল, লেখো।

হরিহরের সঙ্গে মহাজন বাড়িতে গিয়ে অপু কীভাবে প্রথম নিজেদের দারিদ্র্য সম্পর্কে সচেতন হল, লেখো।

অপু তার অনেক বয়স পর্যন্ত বাড়ির বাইরে দূরে কোথাও যায়নি। নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের মধ্যেই তার অবাধ বিচরণ ঘটেছে। তাই সে কখনও অন্য কোনো পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। সেই সুযোগ তার প্রথম ঘটেছিল বাবার সঙ্গে লক্ষ্মণ মহাজনদের বাড়িতে গিয়ে।

লক্ষ্মণ মহাজন বেশ বড়ো চাষি ও অবস্থাপন্ন গৃহস্থ ছিলেন। তাদের বাড়িতে বড়ো আটচালা ঘরে অপুদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। সেই বাড়িতে থাকাকালীন বালক অপু প্রথমবার গরিব ও বড়োলোকের জীবনযাপন-প্রণালীর পার্থক্য উপলব্ধি করেছিল। লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটোভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে কড়ির আলনা, রংবেরঙের-এর ঝুলন্ত শিকা, পশমের পাখি, কাচের পুতুল, মাটির পুতুল, শোলার গাছ—এসব সর্বপ্রথম তার বিস্ময় আকর্ষণ করে। লক্ষ্মণ মহাজনের ছোটো ভাইয়ের স্ত্রীর তৈরি করা ঘি ও কিশমিশ দেওয়া মোহনভোগের সঙ্গে সে তার মায়ের তৈরি করা মোহনভোগের তুলনা করে প্রথম বুঝতে পারে যে, তার মা অনেক গরিব। অমলাদের বাড়ির আলমারিতে নানারকম কাচের পুতুল, রবারের বাঁদর-এসব খেলনা দেখে তার নিজের দিদির কথা মনে পড়েছিল। এতসব খেলনা তার দিদি চোখেও দেখল না বলে দিদির প্রতি তার করুণা হয়েছিল। খাবার সময় আলাদা রেকাবিতে নুন ও লেবু দেওয়া বা তরকারির আলাদা আলাদা বাটি, একা তার জন্য চিংড়ি মাছের মাথা—এসব দেখেই অপু বুঝতে পেরেছিল তারা খুব গরিব। ভালো জামাকাপড়, ভালো খাওয়াদাওয়া বা দামি খেলনা তাদের কাছে শুধু অধরা স্বপ্নমাত্র।

Also Read, যেদিন অপু প্রথম পাঠশালা গেল সেদিনের কথা লেখো। তোমার প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিনটি মনে পড়ে? সেদিনের কথা তোমার যা মনে আছে লেখো।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “হরিহরের সঙ্গে মহাজন বাড়িতে গিয়ে অপু কীভাবে প্রথম নিজেদের দারিদ্র্য সম্পর্কে সচেতন হল, লেখো।” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

'অনেক রাত্রে সর্বজয়ার ঘুম ভাঙিয়া যায়।' - সেই রাতের ভয়াবহতার পরিচয় দাও।

‘অনেক রাত্রে সর্বজয়ার ঘুম ভাঙিয়া যায়।’ – সেই রাতের ভয়াবহতার পরিচয় দাও।

'দিন নাই রাত নাই, সর্বজয়া শুধুই স্বপ্ন দেখে।' - সর্বজয়া কী স্বপ্ন দেখে, নিজের ভাষায় লেখো।

‘দিন নাই রাত নাই, সর্বজয়া শুধুই স্বপ্ন দেখে।’ – সর্বজয়া কী স্বপ্ন দেখে, নিজের ভাষায় লেখো।

'বাঁকা-কঞ্চি অপুর জীবনে এক অদ্ভুত জিনিস!' - উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

‘বাঁকা-কঞ্চি অপুর জীবনে এক অদ্ভুত জিনিস!’ – উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

‘অনেক রাত্রে সর্বজয়ার ঘুম ভাঙিয়া যায়।’ – সেই রাতের ভয়াবহতার পরিচয় দাও।

‘দিন নাই রাত নাই, সর্বজয়া শুধুই স্বপ্ন দেখে।’ – সর্বজয়া কী স্বপ্ন দেখে, নিজের ভাষায় লেখো।

‘বাঁকা-কঞ্চি অপুর জীবনে এক অদ্ভুত জিনিস!’ – উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

অপু-দুর্গার বনভোজনের বর্ণনা নিজের ভাষায় লেখো।

‘সর্বজয়ার বুক গর্বে ও তৃপ্তিতে ভরিয়া উঠিল।’ – কীভাবে এরূপ ঘটনা ঘটেছিল, আলোচনা করো।