বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা, বৈশিষ্ট্য এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও।

অথবা, উচ্চতা ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে এবং কী কী? এক্ষেত্রে প্রতি স্তরে উচ্চতা ও তাপমাত্রা উল্লেখ করো।

উচ্চতা ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। স্তরগুলির হল –

  1. ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধ মণ্ডল,
  2. স্ট্যাটোস্ফিয়ার বা শান্ত মণ্ডল,
  3. মেসোস্ফিয়ার,
  4. থার্মোস্ফিয়ার,
  5. এক্সোস্ফিয়ার।
বায়ুমণ্ডলের স্তরভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতাউষ্ণতার বিস্তৃতি
ট্রপোস্ফিয়ার0-18 km+20°C থেকে -56°C (উচ্চতা বৃদ্ধিতে কমে)
স্ট্যাটোস্ফিয়ার18-50 km-55°C থেকে 0°C (উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাড়ে)
মেসোস্ফিয়ার50-80 km0°C থেকে 93°C (উচ্চতা বৃদ্ধিতে কমে)
থার্মোস্ফিয়ার80-500 km-93°C থেকে 1200°C (উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাড়ে)
এক্সোস্ফিয়ার500-750 km1200°C থেকে 1600°C (উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাড়ে)

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

ট্রপোস্ফিয়ার স্তরের বৈশিষ্ট্য –

  • ভূপৃষ্ঠ থেকে উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারনভাবে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় 6°C তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
  • উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
  • নিচের দিকে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
  • ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা 75% এই স্তর বহন করে।
  • যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা -54° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

স্ট্যাটোস্ফিয়ার স্তরের বৈশিষ্ট্য –

  • এই স্তরেই ওজন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা 4° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
  • এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
  • প্রায় 50 কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্র্যাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

মেসোস্ফিয়ার স্তরের বৈশিষ্ট্য –

  • এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। যা -83° সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। মেসোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে।
  • মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়।

থার্মোস্ফিয়ার স্তরের বৈশিষ্ট্য –

  • এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে 1480° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
  • তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় স্থির থাকে।
  • তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়।
  • ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।

এক্সোস্ফিয়ার স্তরের বৈশিষ্ট্য –

  • এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে 960 কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
  • এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় 300° সেলসিয়াস থেকে 1650° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
  • এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির উচ্চতা এবং এই স্তরের তাপমাত্রাগুলি ছকের সাহায্যে দেখাও। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান