Class 10 – Life Science – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় – Important Short Question

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় হল জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হল। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Table of Contents

Class 10 – Life Science – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় – Important Short Question

বায়োস্ফিয়ারে নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় জটিল প্রক্রিয়া এবং প্রক্রিয়াগুলিকে বোঝায় যার মাধ্যমে জীবন্ত প্রাণী একে অপরের সাথে এবং তাদের পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে এবং খাপ খায়। বায়োস্ফিয়ার হল পৃথিবীর পৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলের অংশ যেখানে জীবন বিদ্যমান, এবং এতে সমস্ত জীবন্ত প্রাণী, সেইসাথে বায়ু, জল এবং মাটির মতো অজীব উপাদানগুলির সাথে তারা যোগাযোগ করে।

জীবজগতে, একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সমস্ত জীবন্ত প্রাণীর বেঁচে থাকা এবং মঙ্গল নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে বিভিন্ন জৈবিক সিস্টেম এবং প্রক্রিয়া জড়িত, যেমন হোমিওস্ট্যাসিস, ফিডব্যাক লুপ, যোগাযোগ এবং উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া।

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। গাছপালা গ্লুকোজ এবং অক্সিজেন উত্পাদন করতে সূর্যালোক, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং জল ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়াটি বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের উপর নির্ভরশীল অন্যান্য জীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

উদ্দীপক ও উদ্দীপনা বলতে কী বোঝ?

উদ্দীপক – পরিবেশের যে পরিবর্তনগুলি জীবের দ্বারা শনাক্ত হয় এবং যাদের উপস্থিতিতে জীব সাড়া প্রদান করে তাদের উদ্দীপক বলে।
উদ্দীপনা – উদ্দীপকের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট একপ্রকার শক্তি যা জীব অনুভব করতে পারে, তাকে উদ্দীপনা বলে।

উদ্দীপক ও উদ্দীপনার সম্পর্ক কী? উদ্দীপক কত প্রকার ও কী কী?

উদ্দীপক ও উদ্দীপনার সম্পর্ক – উদ্দীপকের উপস্থিতিতেই জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। পরিবেশের সমস্ত জীবই কম- বেশি উদ্দীপকের উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। অর্থাৎ, উদ্দীপক কারণ হলে উদ্দীপনা তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
উদ্দীপকের প্রকারভেদ – উৎস অনুযায়ী উদ্দীপক দুই প্রকার-বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক।

বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক কাকে বলে?

বাহ্যিক উদ্দীপক যে উদ্দীপক জীবদেহের বাইরে বা বাহ্যিক পরিবেশে উৎপন্ন হয়ে জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে বাহ্যিক উদ্দীপক বলে। যেমন—রোহিণীজাতীয় উদ্ভিদ কোনো শক্ত অবলম্বনের সংস্পর্শে (স্পর্শ উদ্দীপনা) এলে সেটি জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধি পায়।
অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক –
জীবদেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে সৃষ্ট উদ্দীপক যা জীব দেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, তাকে অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক বলে। যেমন—উদ্ভিদ অভ্যন্তরে উৎপন্ন হরমোন অক্সিন, উদ্ভিদ বৃদ্ধির উদ্দীপনার জোগান দেয়।
Class-10-Life-Science-জীবজগতে-নিয়ন্ত্রণ-ও-সমন্বয়-Short-Question-5

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

সংবেদনশীলতা – পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনগুলি শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী সাড়াপ্রদানের ধর্ম বা ক্ষমতাকেই উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা (sensitivity) বলে।
উদাহরণ লজ্জাবতী লতার পাতাকে স্পর্শ করলে পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। এটি উদ্ভিদের সংবেদশীলতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।Class-10-Life-Science-জীবজগতে-নিয়ন্ত্রণ-ও-সমন্বয়-Short-Question

একটি উদাহরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতার বা সাড়াপ্রদানের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল লজ্জাবতী উদ্ভিদ। লজ্জাবতী উদ্ভিদের পাতাকে স্পর্শ করলে, তার পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। এটি স্পর্শ উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানের ঘটনা|

কেসকোগ্রফ কী?

কেসকোগ্রফ (crescograph) হল বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্ৰ বসু আবিষ্কৃত একপ্রকার অত্যন্ত সুবেদী যন্ত্র, যার সাহায্যে উদ্ভিদের সামান্য সাড়াপ্রদানের ঘটনাও পরিমাপ করা যায়। বিজ্ঞানী বসু এই মন্ত্রের সাহায্যে লজ্জাবতী লতা ও কনটাড়াল উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান-সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করেন।

উদ্ভিদ কীভাবে সাড়াপ্রদান করে?

উদ্ভিদ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে সৃষ্ট উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদান করে। সাধারণত এই সাড়াপ্রদান অত্যন্ত ধীর এবং তা মূলত বৃদ্ধিঘটিত বা রসস্ফীতিজনিত হয়ে থাকে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়াপ্রদানের ঘটনা প্রায় বিরল (ব্যতিক্রম-লজ্জাবতী, বনচাড়াল)। অধিকাংশ উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন বা চলনের মাধ্যমে সাড়াপ্রদান করে।

উদ্দীপক ও উদ্দীপনা বলতে কী বোঝ?

উদ্দীপক – পরিবেশের যে পরিবর্তনগুলি জীবের দ্বারা শনাক্ত হয় এবং যাদের উপস্থিতিতে জীব সাড়া প্রদান করে তাদের উদ্দীপক বলে।
উদ্দীপনা উদ্দীপকের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট একপ্রকার শক্তি যা জীব অনুভব করতে পারে, তাকে উদ্দীপনা বলে।


উদ্দীপক ও উদ্দীপনার সম্পর্ক কী? উদ্দীপক কত প্রকার ও কী কী?

উদ্দীপক ও উদ্দীপনার সম্পর্ক- উদ্দীপকের উপস্থিতিতেই জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। পরিবেশের সমস্ত জীবই কম- বেশি উদ্দীপকের উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। অর্থাৎ, উদ্দীপক কারণ হলে উদ্দীপনা তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
উদ্দীপকের প্রকারভেদ- উৎস অনুযায়ী উদ্দীপক দুই প্রকার-বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক।

বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক কাকে বলে?

বাহ্যিক উদ্দীপক যে উদ্দীপক জীবদেহের বাইরে বা বাহ্যিক পরিবেশে উৎপন্ন হয়ে জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে বাহ্যিক উদ্দীপক বলে। যেমন—রোহিণীজাতীয় উদ্ভিদ কোনো শক্ত অবলম্বনের সংস্পর্শে (স্পর্শ উদ্দীপনা) এলে সেটি জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধি পায়।
অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক – জীবদেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে সৃষ্ট উদ্দীপক যা জীব দেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, তাকে অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক বলে। যেমন—উদ্ভিদ অভ্যন্তরে উৎপন্ন হরমোন অক্সিন, উদ্ভিদ বৃদ্ধির উদ্দীপনার জোগান দেয়।

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

সংবেদনশীলতা- পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনগুলি শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী সাড়াপ্রদানের ধর্ম বা ক্ষমতাকেই উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা (sensitivity) বলে।
উদাহরণ – লজ্জাবতী লতার পাতাকে স্পর্শ করলে পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। এটি উদ্ভিদের সংবেদশীলতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতার বা সাড়াপ্রদানের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল লজ্জাবতী উদ্ভিদ। লজ্জাবতী উদ্ভিদের পাতাকে স্পর্শ করলে, তার পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। এটি স্পর্শ উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানের ঘটনা।

কেসকোগ্রফ কী?

কেসকোগ্রফ (crescograph) হল বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্ৰ বসু আবিষ্কৃত একপ্রকার অত্যন্ত সুবেদী যন্ত্র, যার সাহায্যে উদ্ভিদের সামান্য সাড়াপ্রদানের ঘটনাও পরিমাপ করা যায়। বিজ্ঞানী বসু এই মন্ত্রের সাহায্যে লজ্জাবতী লতা ও কনটাড়াল উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান-সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করেন।

উদ্ভিদ কীভাবে সাড়াপ্রদান করে?

উদ্ভিদ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে সৃষ্ট উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদান করে। সাধারণত এই সাড়াপ্রদান অত্যন্ত ধীর এবং তা মূলত বৃদ্ধিঘটিত বা রসস্ফীতিজনিত হয়ে থাকে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়াপ্রদানের ঘটনা প্রায় বিরল (ব্যতিক্রম-লজ্জাবতী, বনচাড়াল)। অধিকাংশ উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন বা চলনের মাধ্যমে সাড়াপ্রদান করে।


চলন বলতে কী বোঝ?

যে প্রক্রিয়ায় জীব এক জায়গায় স্থির থেকে উদ্দীপকের প্রভাবে সাড়া দিয়ে বা স্বতঃস্ফুর্তভাবে দেহের কোনো অংশ সঞ্চালন করে, তাকে চলন বলে।

উদ্ভিদ চলন কয় প্রকার ও কী কী?

উদ্ভিদ চলন প্রক্রিয়াকে প্রাথমিকভাবে দুইভাগে ভাগ করা যায়— 1. সামগ্রিক চলন বা গমন এবং 2. বচলন। এই দুই প্রকার চলনই স্বতঃস্ফুর্ত এবং আবিষ্ট বা বাহ্যিক উদ্দীপনা-নির্ভর হতে পারে।

উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন বা গমন বলতে কী বোঝ?

স্বতঃস্ফুর্ত বা বহিস্য উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ বা উদ্ভিদদেহের কোনো অংশের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন করাকে সামগ্রিক চলন গমন বলে। যেমন, বা গমন ক্ল্যামাইডোমোনাস প্রভৃতি শৈবালের চলন। ভলভর,

বক্ৰচলন কাকে বলে?

মাটিতে আবদ্ধ অবস্থায় একস্থানে স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার অঙ্গ সঞ্চালনকে বজ্রচলন বলে। যেমন—ট্রপিক চলন, ন্যাস্টিক চলন, প্রকরণ চলন ইত্যাদি

স্বতঃস্ফূর্ত চলন কাকে বলে?

অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে সংঘটিত সামগ্রিক বা বক চলনকে স্বতঃস্ফূর্ত চলন বলে। যেমন, প্রকরণ চলন।

আবিষ্ট চলন কাকে বলে?

বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে সংঘটিত সামগ্রিক বা ব চলনকে আবিষ্ট চলন বলা হয়। যেমন, ট্যাকটিক চলন, ট্রপিক চলন প্রভৃতি।


উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক নিয়ন্ত্রিত চলন প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক নিয়ন্ত্রিত চলন প্রধানত তিন প্রকারের হয়। এগুলি হল ট্যাকটিক চলন, ট্রপিক চলন, এবং ন্যাস্টিক চলন।

আবিষ্ট সামগ্রিক চলন বা ট্যাকটিক চলন কাকে বলে?

বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদদেহের বা দেহাংশের স্থান পরিবর্তনকে আবিষ্ট সামগ্রিক চলন বা ট্যাকটিক চলন বলে। যেমন— ভলভক্স-এর আলোর দিকে যাওয়া।

ফোটোট্যাকটিক চলন বলতে কী বোঝ?

আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ দেহের স্থান পরিবর্তনকে ফোটোট্যাকটিক চলন বলে। যেমন — ভলভক্স আলোর উৎসের দিকে অগ্রসর হয় কিন্তু তীব্র আলোক থেকে দূরে সরে যায় উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য।

দিক্‌নির্ণীত চলন বা ট্রপিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্রচলন যখন বহিস্থ উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে ট্রপিক চলন বা দিক্‌নির্ণীত বক্ৰচলন বলে। যেমন, কাণ্ডের আলোক উৎসের দিকে চলন।

ফোটোট্রপিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের বক্র চলন যখন আলোক উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ফোটোট্রপিক চলন বা আলোকবৃত্তীয় চলন বলে। যেমন—আলোক উৎসের দিকে উদ্ভিদের কাণ্ডের বৃদ্ধি, অর্থাৎ কাণ্ড আলোক অনুকূলবর্তী।

জিওট্রপিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের বক্র চলন যখন অভিকর্ষ বল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তীয় চলন বলে। যেমন, উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষজ টানে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিক অগ্রসর হয় অর্থাৎ মূল অভিকর্ষ অনুকূলবর্তী।
Class-10-Life-Science-জীবজগতে-নিয়ন্ত্রণ-ও-সমন্বয়-Short-Question

হাইড্রোট্রপিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্র চলন যখন জলের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তীয় চলন বলে। যেমন- উদ্ভিদের মূল সর্বদা জলের উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ মূল জল অনুকূবর্তী।

ব্যাক্তি বা ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্র চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে ব্যাপ্তি বা ন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন—সূর্যালোকের তীব্রতায় সূর্যমুখী ফুলের প্রস্ফুটন।

একটি টবের লম্বা একক বিটপযুক্ত ডাদ্ভদকে ভূমির (সমান্তরাল অবস্থায় সাত দিন রাখা হল। সাত দিন পর বিটপ অংশ বেঁকে ভূমির সঙ্গে লম্বভাবে সোজা হয়ে উঠেছে দেখা যাবে। এর কারণ উল্লেখ করো।

উদ্ভিদের বিটপে আলোক অনুকূলবর্তী চলন ও অভিকর্ষ| প্রতিকূলবর্তী চলনের কারণে বিটপ অংশ বেঁকে ভূমির ওপরে লম্বভাবে সোজা হয়ে উঠে যাবে।

ফোটোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের বক্রচলন যখন আলোক উদ্দীপকের তীব্রতার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে হয়, তাকে ফোটোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন, দিনের বেলায় তীব্র আলোয় সূর্যমুখী ফুলের প্রস্ফুটন ও সন্ধ্যায় কম আলোয় মুদে যাওয়া।Class-10-Life-Science-জীবজগতে-নিয়ন্ত্রণ-ও-সমন্বয়-Short-Question

সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের বক্রচলন যখন স্পর্শ, কম্পন, ঘর্ষণ বা আঘাত প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে, তখন তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বা স্পর্শ ব্যাপ্তি চলন বলে। স্পর্শের কারণে লজ্জাবতী লতার পাতার পত্রকগুলি মুদে যাওয়া এই প্রকার চলনের উদাহরণ।

কেমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

বাহ্যিক পরিবেশের কোনো রাসায়নিক পদার্থের তীব্রতা বা ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদ অঙ্গের যে বক্ৰচলন হয়, তাকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে। বিভিন্ন পতঙ্গভূক উদ্ভিদের মধ্যে এইধরনের চলন দেখা যায়। যেমন, ভেনাস ফ্লাই ট্যাপ- এর পাতায় পতঙ্গ বসলে পতঙ্গের প্রোটিনের প্রভাবে উদ্ভিদের পাতার পত্রফলক দুটি বন্ধ হয়ে যায়।

থার্মোন্যাস্টিক চলন বলতে কী বোঝ?

উষ্ণতা উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে বক্রচলন হয়, তাকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বা তাপ ব্যাপ্তি চলন বলে। যেমন, স্বাভাবিক উষ্ণতায় টিউলিপ ফুল ফোটে কিন্তু উষ্ণতা কমে গেলে ফুলগুলি মুদে যায়।Class-10-Life-Science-জীবজগতে-নিয়ন্ত্রণ-ও-সমন্বয়-Short-Question

প্রকরণ চলন কাকে বলে?

কোশের রসস্ফীতির তারতম্যের জন্য উদ্ভিদ অঙ্গের যে স্বতঃস্ফূর্ত বচলন দেখা যায়, তাকে প্রকরণ চলন বলে। বনচাড়ালের যৌগপত্রের পার্শ্বীয় পত্রক দুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পর্যায়ক্রমে ওপরে ও নীচে ওঠানামা করে। এটি একপ্রকার রসস্ফীতিজনিত প্রকরণ চলন।

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবের দেহে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন।

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। উদ্ভিদদেহে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের প্রধান উপায় হলো রাসায়নিক সমন্বয়। উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত হয় এবং সেগুলি উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন