অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – চন্দ্রগুপ্ত – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি যদি তোমরা প্রস্তুত করে না যাও তাহলে পরীক্ষায় চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলোর উত্তর দিতে পারবে না। তাই চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে মুখস্ত করে গেলে তোমরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল পাবে।

Table of Contents

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তরগুলো পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশ্নগুলো চন্দ্রগুপ্ত যুগের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য, এবং রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান পরীক্ষা করে।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না পারলে, আমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারব না। তাই, এই প্রশ্নগুলো ভালো করে মুখস্থ করে রাখা জরুরি।

এই প্রশ্নগুলো প্রস্তুত করার জন্য, আমরা বিভিন্ন বই, ওয়েবসাইট, এবং অন্যান্য উৎস ব্যবহার করতে পারি। আমরা যদি এই প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করি, তাহলে আমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারব।

চন্দ্রগুপ্ত – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

কি বিচিত্র এই দেশ। – বক্তার চোখে এই দেশের বৈচিত্র্য কীভাবে ধরা পড়েছে?

বক্তা সেকেন্দার সাহা-র চোখে ভারতবর্ষের প্রাকৃতিক ও মানবিক বৈচিত্র্য সুন্দরভাবে ধরা পড়েছে। তিনি দেখেছেন দিনে সূর্যের প্রচণ্ড অগ্নিলীলা আবার রাতে চন্দ্রের স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না; বর্ষায় ঘন কালো মেঘপুঞ্জের গম্ভীর গর্জন, উত্তরে দাঁড়িয়ে তুষারধৌত হিমালয়, আবার অন্যদিকে মরুভূমির রুক্ষতা; কোথাও মদমত্ত মাতঙ্গ গতিশীল পাহাড়ের মতো গমন করছে, কোথাও শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কুরঙ্গম; কোথাও শিশুর সারল্য আবার কোথাও দেহে বজ্রের শক্তি। এমনভাবেই বক্তার চোখে এ দেশের বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে।

ভাবলাম-এ একটা জাতি বটে! – বক্তা কে? তাঁর এমন ভাবনার কারণ কী?

প্রশ্নে প্রদত্ত অংশটির বক্তা হলেন গ্রিক অধিপতি সেকেন্দার সাহা।

হিদাস্পিসের যুদ্ধে সেকেন্দার সাহা পুরুকে পরাজিত ও বন্দি করেছিলেন। পুরুকে তার কাছে আনা হলে সেকেন্দার সাহা তাকে প্রশ্ন করেন যে সে কীরূপ আচরণ প্রত্যাশা করে। নির্ভীকচিত্তে পুরু জবাব দিয়েছিল ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’। একজন পরাজিত ব্যক্তি এমন সাহসী উত্তর দিতে পারে তা সেকেন্দার সাহা কল্পনাও করেননি। পুরুর বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি প্রশ্নোক্তভাবে ভাবিত হয়েছেন।

এ দিগবিজয় অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট? – এ প্রশ্নের উত্তরে সম্রাট কী জানালেন?

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে বক্তা গ্রিক সেনাপতি সেলুকস মহান বীর সেকেন্দার সাহা তথা আলেকজান্ডারকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেছেন।

সম্রাটের সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে সেলুকস অবগত হন যে, পৃথিবী জয় করার বাসনা নিয়েই আলেকজান্ডার শৌখিন দিগবিজয়ের বিজয়রথে ভারতবর্ষ পর্যন্ত এসে পৌঁছোন। গ্রিক সেনার পরাক্রমে অর্ধেক এশিয়া পরাভূত হলেও শতদ্রুর তীরে এসেই তারা প্রথম প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। রাজা পুরুকে তিনি পরাস্ত করলেও তার শৌর্য, বীর্য, সাহসিকতা তাকে মুগ্ধ করে। পরাজিত হওয়ার পরেও পুরু যখন জানান যে, আলেকজান্ডারের কাছ থেকে তিনি ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’-ই প্রত্যাশা করেন-এ কথা শোনার পর আলেকজান্ডার অনুধাবন করেন পুরু একজন বীর রাজাই নন, প্রকৃত ক্ষত্রিয়। আলেকজান্ডার কোনো উপনিবেশ গঠন করার জন্য কিংবা কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্যই অভিযান করেননি। তাই যখন তার সৈন্যরা প্রায় সবাই ক্লান্ত, অবসন্ন তখন দিগবিজয় সম্পূর্ণ করার জন্য সুদূর ম্যাসিডন থেকে নতুন গ্রিক সেনার প্রয়োজন। তাই তিনি সেনাপতি সেলুকসের কাছে দিগবিজয় অসম্পূর্ণ রেখে ফিরে যাওয়ার বাসনা প্রকাশ করেন।

ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই। – বক্তা কে? কোন্ সত্য সে উচ্চারণ করেছে?

প্রদত্ত উক্তিটির বক্তা হলেন মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্ত।

গ্রিক সেনা আন্টিগোনস চন্দ্রগুপ্তকে ধরে নিয়ে আসে সেকেন্দার সাহা-র কাছে। সেকেন্দার সাহা চন্দ্রগুপ্তকে সত্যি করে বলতে বলে যে সে কী করছিল। তখন বক্তা সত্য কথাটি বলে, সেটি হল – আমি সম্রাটের বাহিনী-চালনা, ব্যূহ রচনা-প্রণালী, সামরিক নিয়ম, এই সব মাসাবধি কাল ধরে শিখছিলাম।

আমার ইচ্ছা হলো যে দেখে আসি – বক্তার মনে কোন্ ইচ্ছা জেগে উঠেছিল? তার পরিণতিই বা কী হয়েছিল?

আলোচ্য উদ্ধৃতিটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক থেকে গৃহীত। উক্তিটির বক্তা হলেন মগধের নির্বাসিত রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্ত। ম্যাসিডন অধিপতি পরাক্রান্ত আলেকজান্ডার শৌখিন দিগবিজয়ের কথা তিনি শুনেছিলেন। দুর্ধর্ষ বীর আলেকজান্ডারের পরাক্রমে অর্ধেক এশিয়া পরাস্ত। শতদ্রুর তীরে এসে সম্রাট পুরুর কাছেই তিনি প্রথম প্রতিরোধ পান। পুরুকে পরাস্ত করলেও পুরুর শৌর্য, বীর্য, সাহস ও নিষ্কম্পচিত্তে সেকেন্দার সাহা মোহিত হয়ে হৃত সাম্রাজ্য পুরুকে ফিরিয়ে দেন। এমন মহানুভব বীরকে দেখার ইচ্ছাই বস্তা অর্থাৎ চন্দ্রগুপ্তের মনে জেগে উঠেছিল।

ইচ্ছাপূরণ করার বাসনায় চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরে উপনীত হন এবং মিষ্ট ব্যবহার দ্বারা সেনাপতি সেলুকসের মন জয় করে নিয়ে তার কাছ থেকে সমরকৌশল শিখে নিয়েছিলেন। তার কারণ, চন্দ্রগুপ্ত তার হৃত সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। সমর কৌশল যাতে তিনি বিস্মৃত না হন তাই লিখে নেওয়ার সময়েই গুপ্তচর সন্দেহে আন্টিগোনস তাকে ধরে আনেন আলেকজান্ডারের কাছে। শেষপর্যন্ত নানান ঘটনার অনুষঙ্গে আলেকজান্ডার চন্দ্রগুপ্তের সততা ও সাহসে মুগ্ধ হয়ে তাকে মুক্তি প্রদান করেন।

তা এই পত্রে লিখে নিচ্ছিলাম – কার উক্তি? সে কী লিখে নিচ্ছিল? তাঁর এই লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য কী?

প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটি মগধের নির্বাসিত যুবরাজ চন্দ্রগুপ্তের।

সে সেলুকসের কাছে এক মাস ধরে যে সমরবিদ্যা শিক্ষা করছিল, তাই লিখে নিচ্ছিল।

তার উদ্দেশ্য ছিল হূত রাজ্য পুনরুদ্ধার করা।

নিরস্ত হও। – কে এই নির্দেশ দিয়েছেন? কোন্ পরিস্থিতিতে তিনি এমন নির্দেশ দানে বাধ্য হলেন?

নিরস্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গ্রিক অধিপতি সেকেন্দার সাহা।

সেলুকসকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে গ্রিক সেনা আন্টিগোনস তাকে আক্রমণ করেন। ততোধিক তৎপরতার সঙ্গে চন্দ্রগুপ্ত সেই আক্রমণ প্রতিহত করলে, আন্টিগোনস চন্দ্রগুপ্তকে আক্রমণ করেন। এই পরিস্থিতিতে শিবিরে অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিবেশ তৈরি হয়। এমন অবস্থাতেই সেকেন্দার সাহা নিরস্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আন্টিগোনস লজ্জায় শির অবনত করিলেন। – তাঁর এহেন লজ্জিত হওয়ার কারণ কী?

গ্রিক সেনা আন্টিগোনস চন্দ্রগুপ্তকে তরবারি নিষ্কাশিত করে আক্রমণ করেন। তখন চন্দ্রগুপ্তও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টায় নিযুক্ত হন এবং চন্দ্রগুপ্তের তরবারির আঘাতে আন্টিগোনসের তরবারি ভূপতিত হল। একজন ভারতীয় যুবকের অস্ত্রের আঘাতে তার তরবারি হস্তচ্যুত হল-এই ঘটনায় আন্টিগোনস লজ্জা অনুভব করে মাথা নীচু করেছিলেন।

ভাবলাম-এ একটা জাতি বটে! – বক্তার এরূপ ভাবনার কারণ কী?

প্রশ্নোক্ত অংশটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নামক নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। বক্তব্যটি করেছেন সেকেন্দার সাহা। পুরুর সঙ্গে যুদ্ধে সেকেন্দার সাহা বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে পুরু অসমসাহসিকতার পরিচয় দিয়েও শেষপর্যন্ত পরাজিত হয়েছিলেন। বন্দি পুরুকে সেকেন্দার সাহা-র কাছে আনা হলে সেকেন্দার সাহা তাকে বলেন যে – তার কাছে সে কীরূপ আচরণ আশা করে। তখন নির্ভীকহৃদয় পুরু বলেন – রাজার কাছে রাজার মতো আচরণ সে প্রত্যাশা করে। এমন উত্তর সেকেন্দার সাহা কল্পনাও করেননি। তিনি পুরুর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রশ্নোক্ত ভাবনায় ভাবিত হন।

সাম্রাজ্য স্থাপন করতে আসি নাই। – বক্তা কী উদ্দেশ্যে এসেছিলেন? কেনই বা ফিরে যাচ্ছেন?

প্রশ্নোক্ত অংশটির বক্তা সেকেন্দার সাহা। তিনি ভারতবর্ষে রাজ্যস্থাপনের উদ্দেশ্যে আসেননি। তিনি শৌখিন দিগবিজয়ে বেরিয়েছিলেন আর জগতে একটা কীর্তিস্থাপন করার উদ্দেশ্য ছিল তার।

সুদূর ম্যাসিডন থেকে যুদ্ধ করতে করতে তিনি ভারতে প্রবেশ করেছেন। অর্ধেক এশিয়া তার পদতলে দলিত হয়েছে। ফলে তার সৈন্যরা বড়ো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। নতুন গ্রিক সৈন্য না আনতে পারলে তার দিগবিজয় সম্ভব হবে না। এই কারণেই দিগবিজয় অসম্পূর্ণ রেখেই তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

আমি তারই প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছি। – বক্তা কে? তিনি কখন, কেন এমন কথা বলেছেন?

প্রশ্নোক্ত অংশটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বস্তা হলেন চন্দ্রগুপ্ত।

একদিন সন্ধ্যাকালে সিন্ধুনদতটে শিবিরে দাঁড়িয়ে সেলুকসের সঙ্গে কথোপকথনে মগ্ন ছিলেন সেকেন্দার সাহা। সেই সময় একজন গ্রিক সেনা আন্টিগোনস গুপ্তচর সন্দেহে চন্দ্রগুপ্তকে ধরে নিয়ে আসেন সেকেন্দার সাহা-র কাছে। কারণ চন্দ্রগুপ্ত তালপাতায় কী লিখছিলেন আন্টিগোনস তা বুঝতে পারেনি। সেকেন্দার যখন জানতে চান চন্দ্রগুপ্তের কাছে যে সে কেন লিখছিল তালপাতায়, তখনই কথা- প্রসঙ্গে চন্দ্রগুপ্ত প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।

চন্দ্রগুপ্তের বৈমাত্রেয় ভাই ধননন্দ মগধের সিংহাসনে বসেছে। সে চন্দ্রগুপ্তকে সিংহাসন থেকে বঞ্চিতই করেনি, তাকে নির্বাসিতও করেছে। তাই চন্দ্রগুপ্ত রাজ্য পুনরুদ্ধার করে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছে।

যাও, এই মুহূর্তেই তোমায় নির্বাসিত করলাম। – বক্তা কাকে, কেন নির্বাসিত করলেন?

প্রশ্নোক্ত উক্তিটির বক্তা হলেন গ্রিক অধিপতি সেকেন্দার সাহা।

তিনি নির্বাসিত করেছিলেন সেনাধ্যক্ষ আন্টিগোনসকে। আন্টিগোনস ছিলেন গ্রিক বাহিনীর একজন সাধারণ সেনাধ্যক্ষ, আর সেলুকস ছিলেন গ্রিক সেনাপতি। অর্থাৎ পদমর্যাদায় সেলুকস ছিলেন ঊর্ধ্বতন। অথচ অধস্তন আন্টিগোনস সম্রাট সেকেন্দারের সামনে দাঁড়িয়ে সেলুকসের প্রতি অবাধ্যতা করে এবং সেলুকসের মাথা লক্ষ করে তরবারি চালনা করে। সেক্ষেত্রে চন্দ্রগুপ্তের দক্ষতায় সেলুকস বিপদ থেকে নিস্তার পান। কিন্তু একজন সাধারণ সেনাধ্যক্ষের এরূপ অবাধ্যতা গ্রিক অধিপতি মেনে নিতে পারেননি। আন্টিগোনসের স্পর্ধা ও ঔদ্ধত্য সেকেন্দারকে বিরক্ত করে তুলেছিল। তাই তিনি আন্টিগোনসকে নির্বাসিত করেছিলেন।

চন্দ্রগুপ্ত কী কারণে গ্রিক শিবিরে এসেছিলেন?

ইতিহাসের চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই হলেন আলোচ্য ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের চন্দ্রগুপ্ত। তিনি মগধের নন্দবংশের রাজা মহাপদ্মনন্দের সন্তান ও ধননন্দের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন। তিনি দিগবিজয়ী বীর সেকেন্দার সাহা-র নাম শুনেছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত জানেন অর্ধেক এশিয়া পদদলিত করে সেকেন্দার ভারতে এসেছেন। এমনকি আর্যকুলরবি পুরুও তার কাছে পরাজিত হয়েছেন। সেই শক্তিধর বীর সেকেন্দারকে দেখার ইচ্ছা তার ছিল। তা ছাড়া তিনি গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কাছে গ্রিক সমরবিদ্যা শিক্ষা করছিলেন, যাতে হৃত রাজ্য পুনরায় উদ্ধার করতে পারেন। এই দুই উদ্দেশ্যেই চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরে পদার্পণ করেছিলেন।

চমকিত হলাম। – কার কথায় বক্তা চমকিত হয়েছিলেন? তাঁর চমকিত হওয়ার কারণ কী?

প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটির বক্তা হলেন সেকেন্দার সাহা, তিনি পুরুর বক্তব্যে চমকিত হয়েছিলেন।

সেকেন্দার সাহা পুরুর রাজ্য আক্রমণ করলে পুরু বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে পরাজিত হন। বন্দি পুরুকে সম্রাটের কাছে আনা হলে সম্রাট সেকেন্দার সাহা তাকে প্রশ্ন করেন যে, সে সম্রাটের কাছে কেমন ব্যবহার আশা করে। উত্তরে নির্ভীকচিত্ত পুরু জবাব দেয় ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’-পুরুর এই সাহসী মন্তব্য সেলুকসের বোধেরও অগম্য ছিল। তিনি ভাবতেই পারেননি যে একজন পরাজিত ভারতীয় রাজার কাছে এমন উত্তর পাবেন। পুরুর বক্তব্যে তিনি মুগ্ধ ও বিস্মিত। তাই তিনি হঠাৎ এমন উত্তর শুনে চমকিত হয়েছিলেন।

সম্রাট মহানুভব। – বক্তা কে? সম্রাটের ‘মহানুভবতা’র কীরূপ পরিচয় নাট্যাংশে পাওয়া যায়?

প্রশ্নোক্ত অংশটির বক্তা হলেন গ্রিক সেনাপতি সেলুকস।

গ্রিকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে পুরু পরাজিত ও বন্দি হন। বন্দি পুরুকে সম্রাট সেকেন্দার সাহা প্রশ্ন করেন যে, সে রাজার কাছে কেমন আচরণ আশা করে। জবাবে সে জানায় ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ’। পুরুর এমন সাহসিকতাময় বক্তব্যে প্রীতিবোধ করেন সেকেন্দার সাহা এবং তিনি তৎক্ষণাৎ পুরুর রাজ্য ফিরিয়ে বীরের মর্যাদা স্থাপন করেন। একজন মহান বীরই পারে অপর এক বীরকে প্রকৃত সম্মান জানাতে। মহান মানুষই তো এমন কাজ করতে পারে। এমনভাবেই সম্রাটের মহানুভবতার প্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য নাট্যাংশে।

গুপ্তচর। – কাকে ‘গুপ্তচর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে? সে কি প্রকৃতই গুপ্তচর?

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে ‘গুপ্তচর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে মগধের রাজকুমার চন্দ্রগুপ্তকে।

গুপ্তচর লুকিয়ে থেকে অর্থাৎ নিজেকে অন্যদের থেকে আড়ালে রেখে খবর সংগ্রহ করে। সাধারণভাবে সে এক দেশের খবর অন্য দেশে সরবরাহ করে। কিন্তু এক্ষেত্রে চন্দ্রগুপ্তের আচরণে এমন কিছু দেখি না। চন্দ্রগুপ্ত লুকিয়ে থেকেও কোনো তথ্য সংগ্রহ করেনি। সে দিনের আলোয় শিবিরে প্রবেশ করেছে এবং সেলুকসের কাছ থেকে এক মাস ধরে যা শিখেছে, তাই তালপাতায় লিখে রাখছিল। তার কাছ থেকে সেকেন্দার সাহা-র আঘাত পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা চন্দ্রগুপ্তের মানসিকতায় ছিল না। তাই চন্দ্রগুপ্তকে কখনোই ‘গুপ্তচর’ বলা যায় না।

চন্দ্রগুপ্ত সেলুকসের কীরূপ সম্বন্ধের পরিচয় নাট্যাংশে মেলে?

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে পাঠ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য অংশে চন্দ্রগুপ্ত ও সেলুকসের সম্পর্ক নিয়ে সামান্য আলোচনা রয়েছে। কাহিনি থেকে আমরা জানতে পারি যে, চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কাছে গ্রিক সমরকৌশল শিক্ষা করেছিলেন। সেদিক থেকে সেলুকসকে চন্দ্রগুপ্তের গুরুও বলা যায়। ফলে গুরুর প্রতি চন্দ্রগুপ্তের অসীম শ্রদ্ধা বর্তমান। তাই যখন ঘটনাপ্রসঙ্গে গ্রিক সেনা আন্টিগোনস সেলুকসকে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করে, তখন ততোধিক তৎপরতার সঙ্গে চন্দ্রগুপ্ত আন্টিগোনসকে প্রতিহত করেছিলেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, চন্দ্রগুপ্ত তার অস্ত্রগুরুকে শ্রদ্ধা করেন। অর্থাৎ আলোচ্য নাট্যাংশে সেলুকস ও চন্দ্রগুপ্তকে যথাক্রমে শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্কে আমরা দেখতে পাই।

আন্টিগোনস নাটকের এই দৃশ্যে সেলুকসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছে। তোমার কি সেলুকসকে সত্যিই ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মনে হয়? যুক্তিসহ আলোচনা করো।

গ্রিক সেনা আন্টিগোনস গ্রিক সেনাপতি সেলুকসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছে, কারণ সেলুকস একজন ভারতীয়কে গ্রিক রণবিদ্যা শিখিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় এই কাজের মধ্যে তেমন অন্যায় ছিল না, যার জন্য তাকে বিশ্বাসঘাতক বলা যায়। যদি দেখা যেত চন্দ্রগুপ্ত সেলুকসের কাছে শিক্ষা নিয়ে তাদেরই বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য তৈরি হয়েছে তবে তাকে বিশ্বাসহন্তা বলা যেত। কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত তা শিখছে শুধু হৃত রাজ্য’ পুনরুদ্ধারের জন্য। তা ছাড়া সেলুকস এত কিছু ভেবেও দেখেনি। সে সরল বিশ্বাসে যুবকের সঙ্গে গ্রিক সামরিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করেছে। যুবকের কথাবার্তা ও চেহারায় আকৃষ্ট হয়ে তাকে শিক্ষাদান করেছে। নিজের সম্রাটের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়নি তাকে। এই কারণেই তাকে অর্থাৎ সেলুকসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আমি মেনে নিতে পারি না।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চন্দ্রগুপ্ত অধ্যায়ের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য, ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তরগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই প্রশ্নগুলি কেবলমাত্র তথ্যভিত্তিক নয়, বরং অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর বোঝার প্রয়োজন। নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে, তুমি এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারবে এবং পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর অর্জন করতে পারবে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন