এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
হরিচরণকে মাসিক বৃত্তি দেন – (মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী / বিধুশেখর শাস্ত্রী / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
উত্তর – মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী।
হরিচরণ মারা যান – (বিরানব্বই / পঁচানব্বই / নব্বই) বছর বয়সে।
উত্তর – বিরানব্বই।
হরিচরণ অবসর নেন – (পঁয়ষট্টি / ষাট / পঁচাত্তর) বছর বয়সে।
উত্তর – পঁচাত্তর।
হরিচরণ সংক্রান্ত শ্লোকটি লিখেছেন – (রবীন্দ্রনাথ / হীরেন্দ্রনাথ / দ্বিজেন্দ্রনাথ)।
উত্তর – দ্বিজেন্দ্রনাথ।
গ্রন্থ সমাপ্তির পর হরিচরণ জীবিত ছিলেন – (বারো / পনেরো / চোদ্দো) বছর।
উত্তর – চোদ্দো।
শূন্যস্থান পূরণ করো
___ খুব অরথে!
উত্তর – মুঠাচ্ছ খুব অরথে!
দি ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দি রোমান এম্পায়ার গ্রন্থের রচয়িতা ___।
উত্তর – দি ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দি রোমান এম্পায়ার গ্রন্থের রচয়িতা গিবন।
সেরেস্তার কাজ সেরে সন্ধেবেলা হরিচরণ ___ করতেন।
উত্তর – সেরেস্তার কাজ সেরে সন্ধেবেলা হরিচরণ সংস্কৃতচর্চা করতেন।
হরিচরণ মাসিক ___ টাকা বৃত্তি পেতেন।
উত্তর – হরিচরণ মাসিক পঞ্চাশ টাকা বৃত্তি পেতেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হরিচরণকে ___ স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করে।
উত্তর – কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হরিচরণকে সরোজিনী স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করে।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বই-এর নাম লেখো।
হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বই-এর নাম হল – ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ এবং ‘শেষ পারানির কড়ি’।
কোন্ নামে তিনি সমধিক পরিচিত?
হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ইন্দ্রজিৎ’ নামে সমধিক পরিচিত।
ক্ষিতিমোহন সেন কীসের পণ্ডিত ছিলেন?
ক্ষিতিমোহন সেন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন।
বিদ্যাকেন্দ্রের অন্যতম প্রধান কর্তব্য কী?
বিদ্যার্জনের পথ সুগম করে দেওয়া বিদ্যাকেন্দ্রের প্রধান কর্তব্য।
রবীন্দ্রনাথ কোন্ পুস্তক রচনায় নিযুক্ত ছিলেন?
রবীন্দ্রনাথ ‘সংস্কৃতপ্রবেশ’ নামক পুস্তক রচনায় নিযুক্ত ছিলেন।
হরিচরণ কৃত অভিধানের নাম কী?
হরিচরণ কৃত অভিধানের নাম ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’।
বাংলা ভাষায় প্রথম বিজ্ঞান গ্রন্থমালা কে রচনা করেন?
বাংলা ভাষায় প্রথম বিজ্ঞান গ্রন্থমালা রচনা করেন জগদানন্দ রায়।
কীর্তি কখনও কর্তাকে ছাড়িয়ে যায় না – বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কর্তা অর্থাৎ স্রষ্টার নিহিত প্রতিভা বা ক্ষমতাই তাঁর সৃষ্টিকে তৈরি করে। স্রষ্টার মাহাত্ম্য তাঁর সৃষ্টিকে মহৎ করে। তাই সৃষ্টির মধ্যেই স্রষ্টার যাবতীয় গুণাবলি প্রচ্ছন্ন থাকে। সৃষ্টি তো স্রষ্টারই মানসসন্তান।
রবীন্দ্রনাথের অধ্যাপক নির্বাচনকে কেন শেকসপিয়রের প্লট নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
শেকসপিয়র যেমন যা কিছু প্লট অর্থাৎ কাহিনির সন্ধান পেতেন তা দিয়েই মহৎ সাহিত্য সৃষ্টি করতেন আপন ক্ষমতাগুণে তেমনি রবীন্দ্রনাথও অতি সাধারণ অথচ সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের দিয়ে অসাধ্যসাধন করিয়ে নিতেন। মানুষের মধ্যে নিহিত প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনাকে তিনি উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়ে পত্রেপুষ্পে সমৃদ্ধিশালী করিয়ে নিতে পারতেন।
রবীন্দ্রনাথ কেন উদ্বৃত্তের সন্ধান করতেন?
রবীন্দ্রনাথ জানতেন দৈনন্দিনের দাবি মিটিয়ে মানুষের মধ্যে যা কিছু উদ্বৃত্ত অর্থাৎ অবসর থাকে তারই সদ্ব্যবহারে মানুষ মহৎ কিছু করতে পারে। সংসারের দাবি মিটিয়ে বাড়তি কিছু দেওয়ার সম্বল থাকলে তবেই লোকহিতে আত্মনিয়োগ সম্ভব।
হরিচরণকে অভিধান প্রণয়নে পুনঃপ্রবৃত্ত করতে রবীন্দ্রনাথ কোন্ উদ্যোগ নেন?
আর্থিক অনটনের কারণে শান্তিনিকেতন ছেড়ে হরিচরণ কলকাতায় চলে গেলে রচনাকাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ ঘটনায় দুঃখিত রবীন্দ্রনাথ বিদ্যোৎসাহী রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীকে অনুরোধ করে। হরিচরণকে মাসিক পঞ্চাশ টাকা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। এভাবে আর্থিক নিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হলে অভিধান রচনায় জোয়ার আসে। হয়তো আপাতভাবে সে প্লট বা কাহিনিসূত্র ক্ষীণ ও দুর্বল মনে হত।
হরিচরণ কোন্ কোন্ লৌকিক পুরস্কার লাভ করেন?
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’ দিয়ে সম্মানিত করেছে। শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক সংঘ প্রাচীন ভারতীয় রীতিতে যোড়শোপচারে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়। বিশ্বভারতী হরিচরণকে ‘দেশিকোত্তম’ (ডিলিট) উপাধিদানে সম্মানিত করে। এ ছাড়াও ‘শিশির কুমার স্মৃতি পুরস্কারে’ তিনি ভূষিত হয়েছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অষ্টম পাঠের অন্তর্গত ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment