আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি
সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকটির রচয়িতা হলেন –
- বাল্মীকি
- কালিদাস
- কাশীরাম দাস
- চণ্ডীদাস
উত্তর – 2. কালিদাস
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকটির মূল রচনা –
- মেঘদূতম্
- কুমারসম্ভবম্
- অভিজ্ঞান শকুন্তলম্
- রঘুবংশম্
উত্তর – 3. অভিজ্ঞান শকুন্তলম্
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকটির তরজমা করেছেন –
- সমরেশ বসু
- নারায়ণ সান্যাল
- বুদ্ধদেব গুহ
- সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
উত্তর – 4. সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
পাঠ্য ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ সাহিত্য সংরূপের দিক থেকে একটি –
- নাটিকা
- গল্প
- প্রবন্ধ
- জীবনী
উত্তর – 1. নাটিকা
কালিদাস যে রাজার সভাকবি ছিলেন তিনি হলেন –
- শশাঙ্ক
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- হর্ষবর্ধন
- রামপাল
উত্তর – 2. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
শকুন্তলার পিতা কে? –
- মহর্ষি বিশ্বামিত্র
- মহর্ষি দুর্বাসা
- মহর্ষি কণ্ব
- মহর্ষি গৌতম
উত্তর – 1. মহর্ষি বিশ্বামিত্র
শকুন্তলার পালক পিতা ছিলেন-
- মহর্ষি কাশ্যপ
- মহর্ষি দুর্বাশা
- মহর্ষি বিশ্বামিত্র
- মহর্ষি কণ্ব
উত্তর – 4. মহর্ষি কণ্ব
শকুন্তলার দুই সখী ছিলেন –
- অনসূয়া-প্রিয়ংবদা
- জয়া-বিজয়া
- অরুন্ধতি-চিত্রাঙ্গদা
- ডাকিনী-যোগিনী
উত্তর – 1. অনসূয়া-প্রিয়ংবদা
শকুন্তলা থাকতেন –
- দুর্বাসা মুনির আশ্রমে
- কণ্ব মুনির তপোবনে
- বিশ্বামিত্র মুনির তপোবনে
- বাল্মীকি মুনির তপোবনে
উত্তর – 2. কণ্ব মুনির তপোবনে
শকুন্তলার স্বামীর নাম –
- রাজা দুষ্মন্ত
- রাজা দশরথ
- রাজা পাণ্ডু
- রাজা ধৃতরাষ্ট্র
উত্তর – 1. রাজা দুষ্মন্ত
মহারাজ দুষ্মন্ত ছিলেন –
- চন্দ্রবংশীয়
- সূর্যবংশীয়
- পুরুবংশীয়
- রঘুবংশীয়
উত্তর – 3. পুরুবংশীয়
দুষ্মন্ত তপোবনে গিয়েছিলেন –
- মৃগয়া করতে
- ঋষির সঙ্গে দেখা করতে
- বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে
- রাজ্য স্থাপন করতে
উত্তর – 1. মৃগয়া করতে
মহারাজ দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিবাহ করেছিলেন –
- গান্ধর্বমতে
- আইনসম্মতভাবে
- সামাজিকভাবে
- ধর্মীয় স্থানে গিয়ে
উত্তর – 1. গান্ধর্বমতে
মহারাজ বিবাহের অভিজ্ঞানস্বরূপ শকুন্তলাকে দিয়েছিলেন তাঁর –
- নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়
- পত্র
- রত্নহার
- কর্ণকুণ্ডল
উত্তর – 1. নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়
শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজা দুষ্মন্ত ফিরে যান –
- ইন্দ্রপ্রস্থে
- মিথিলায়
- রাজধানীতে
- কুরক্ষেত্রে
উত্তর – 3. রাজধানীতে
শকুন্তলা ও দুষ্মন্তের পুত্রের নাম –
- ভরত
- পুরু
- অর্জুন
- অংশুমান
উত্তর – 1. ভরত
“… শকুন্তলার খোঁজ নিতে কোনো ___ তপোবনে এল না।” –
- পেয়াদা
- মুনি
- রাজা
- দূত
উত্তর – 4. দূত
শকুন্তলা মগ্ন ছিলেন –
- ভীমের চিন্তায়
- স্বামীর চিন্তায়
- মহর্ষি কণ্বের চিন্তায়
- ঋষি দুর্বাসার চিন্তায়
উত্তর – 2. স্বামীর চিন্তায়
শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন –
- দুর্বাসা মুনি
- অগস্ত্য মুনি
- বিশ্বামিত্র মুনি
- বাল্মীকি মুনি
উত্তর – 1. দুর্বাসা মুনি
শকুন্তলার অভিশাপ লাঘব করার জন্য ঋষি দুর্বাসাকে অনুরোধ করেন –
- কণ্ব মুনি
- সখী প্রিয়ংবদা
- সখী অনসূয়া
- শকুন্তলা নিজে
উত্তর – 2. সখী প্রিয়ংবদা
কী করলে শকুন্তলার শাপের প্রভাব দূর হবে? –
- কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে
- ঋষির সেবাযত্ন করলে
- যজ্ঞ করলে
- কোনো ব্রতপালন করলে
উত্তর – 1. কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে
মহর্ষি কণ্ব গিয়েছিলেন –
- মৃগয়া
- ভ্রমণে
- তীর্থে
- বিশ্বামিত্র মুনির আশ্রমে
উত্তর – 3. তীর্থে
শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন করতে শুরু করেন –
- কণ্ব মুনি
- ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি
- দুর্বাসা মুনি
- বিশ্বামিত্র মুনি
উত্তর – 1. কণ্ব মুনি
অঞ্জলি দেওয়ার জন্য শকুন্তলা স্নান করেছিলেন –
- শচীতীর্থে
- সীতাকুণ্ডে
- গঙ্গায়
- প্রয়াগে
উত্তর – 1. শচীতীর্থে
শকুন্তলার আংটি হারিয়ে যায় –
- স্নানের সময়
- অঞ্জলি দেবার সময়
- ফুল তোলার সময়
- বস্ত্র পরিধানের সময়
উত্তর – 2. অঞ্জলি দেবার সময়
শকুন্তলা অপমানিতা হলেন –
- ঋষি দুর্বাসার কাছে
- মহর্ষি কণ্বের কাছে
- রাজসভায়
- তাঁর সখীর কাছে
উত্তর – 3. রাজসভায়
শকুন্তলার আংটি পায় এক –
- কুমোর
- ধীবর
- মালি
- পুরোহিত
উত্তর – 2. ধীবর
নগররক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন –
- রাজশ্যালক
- রাজভ্রাতা
- অনাত্মীয় ব্যক্তি
- দুষ্মন্ত
উত্তর – 1. রাজশ্যালক
নগররক্ষী ছিল –
- একজন
- দুইজন
- চারজন
- দশজন
উত্তর – 2. দুইজন
দুই রক্ষীর নাম ছিল –
- জানুক-সূচক
- জয়-বিজয়
- শুম্ভ-নিশুম্ভ
- অমল-বিমল
উত্তর – 1. জানুক-সূচক
“আপনারা শান্ত হন।” – উক্তিটির বক্তা –
- শ্যালক
- মহারাজ
- দ্বিতীয় রক্ষী
- পুরুষ
উত্তর – 4. পুরুষ
“আপনারা শান্ত হন।” – কাদের উদ্দেশে এই উক্তি? –
- রাজা ও মন্ত্রীর উদ্দেশে
- মহর্ষি কণ্বের উদ্দেশে
- দুই রক্ষীর উদ্দেশে
- রাজশ্যালক ও প্রথম রক্ষীর উদ্দেশে
উত্তর – 3. দুই রক্ষীর উদ্দেশে
ধীবর থাকে –
- শক্রাবতারে
- ধীবর বস্তিতে
- ভিন রাজ্যে
- বিক্রমপুরে
উত্তর – 1. শক্রাবতারে
“একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” – উক্তিটির বক্তা হল –
- রাজা
- প্রভু
- রাজশ্যালক
- ধীবর
উত্তর – 3. রাজশ্যালক
“একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” – ‘পূর্বাপর’ শব্দটির অর্থ হল –
- প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত
- শেষ থেকে প্রথম পর্যন্ত
- সংক্ষিপ্ত আকারে
- পূর্বের ঘটনা শুধু
উত্তর – 1. প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত
ধীবর সংসার চালায় –
- বাণিজ্য করে
- জাল-বড়শি ইত্যাদি নানা উপায়ে মাছ ধরে
- পশু শিকার করে
- দস্যুবৃত্তি করে
উত্তর – 2. জাল-বড়শি ইত্যাদি নানা উপায়ে মাছ ধরে
‘শুনুন মহাশয়, এরকম বলবেন না।” – এই উক্তির বক্তা –
- পুরুষ
- মহারাজ
- রাজশ্যালক
- প্রথম রক্ষী
উত্তর – 1. পুরুষ
“শুনুন মহাশয়, এরকম বলবেন না।” – কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? –
- শ্যালক দড়ি দিয়ে বাঁধতে হুকুম করেছিল বলে
- শ্যালক জীবিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল বলে
- শ্যালক ধীবরকে চোর বলেছিল বলে
- শ্যালক গালি দিচ্ছিল বলে
উত্তর – 2. শ্যালক জীবিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল বলে
বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ যজ্ঞীয় পশুবধের সময় –
- নির্দয় হয়ে থাকেন
- সদয় হয়ে থাকেন
- ক্ষমাশীল হয়ে থাকেন
- পূর্বোক্ত কোনোটিই নয়
উত্তর – 1. নির্দয় হয়ে থাকেন
ধীবর জানায় আংটিটি সে –
- কুড়িয়ে পেয়েছে
- মাছের পেট থেকে পেয়েছে
- চুরি করেছে
- পুরস্কার পেয়েছে
উত্তর – 2. মাছের পেট থেকে পেয়েছে
শ্যালক অনুমান করে ধীবর –
- গোসাপ খাওয়া জেলে
- নিরামিষাশী
- কেবল মৎস্যভোজী
- সর্বভুক
উত্তর – 1. গোসাপ খাওয়া জেলে
“এর গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে।” – কথাটি শ্যালক বলেছিল –
- শকুন্তলাকে উদ্দেশ করে
- দ্বিতীয় রক্ষীকে উদ্দেশ করে
- দুর্বাসাকে উদ্দেশ করে
- প্রিয়ংবদাকে উদ্দেশ করে
উত্তর – 2. দ্বিতীয় রক্ষীকে উদ্দেশ করে
দুই রক্ষী ধীবরকে বলেছিল –
- জোচ্চোর
- গাঁটকাটা
- পাপী
- শয়তান
উত্তর – 2. গাঁটকাটা
“আমাদের প্রভুর দেখি খুব বিলম্ব হচ্ছে।” – উক্তিটির বক্তা –
- প্রথম রক্ষী
- দ্বিতীয় রক্ষী
- রাজশ্যালক
- শকুন্তলা
উত্তর – 1. প্রথম রক্ষী
রাজ্যের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের আগে আসামীকে –
- ফুলের মালা পরানো হয়
- কাঁটার মুকুট পরানো হয়
- ক্রুশবিদ্ধ করা হয়
- কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়
উত্তর – 1. ফুলের মালা পরানো হয়
প্রথম রক্ষীর হাত কেন নিশপিশ করছে? –
- মৃত্যুকালে ধীবরকে পরানোর মালা গাঁথার জন্য
- উৎকোচ গ্রহণের জন্য
- ধীবরকে মারার জন্য
- পূর্বোক্ত কোনোটিই নয়
উত্তর – 1. মৃত্যুকালে ধীবরকে পরানোর মালা গাঁথার জন্য
“হয় তোকে শকুনি দিয়ে খাওয়ানো হবে, না হয় ___ দিয়ে খাওয়ানো হবে।” –
- শেয়াল
- বিড়াল
- বাঘ
- কুকুর
উত্তর – 4. কুকুর
আংটির বিনিময়ে রাজা ধীবরকে –
- স্বর্ণমুদ্রা দেয়
- মণিমাণিক্য দেয়
- শাস্তি দেয়
- আংটির সম মূল্যের অর্থ দেয়
উত্তর – 4. আংটির সম মূল্যের অর্থ দেয়
সূচক বলেছিল ধীবরকে –
- শূল থেকে নামিয়ে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল
- শূল থেকে নামিয়ে গাধার পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল
- শূল থেকে নামিয়ে গোরুর পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল
- শূল থেকে নামিয়ে কুকুরের পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল
উত্তর – 1. শূল থেকে নামিয়ে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল
অঙ্গুরীয় দেখে রাজার –
- পূর্বকথা মনে পড়েছিল
- ধীবরকে চোর সাব্যস্ত করেছিল
- নির্বিকার ছিল
- পূর্বোক্ত কোনোটিই নয়
উত্তর – 1. পূর্বকথা মনে পড়েছিল
স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির হলেও রাজা মুহূর্তের জন্য –
- বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন
- চুপ করে রইলেন
- রেগে গেলেন
- আতঙ্কিত হলেন
উত্তর – 1. বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন
“এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।” – উক্তিটির বক্তা –
- জানুক
- সূচক
- ধীবর
- রাজশ্যালক
উত্তর – 4. রাজশ্যালক
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি কার লেখা?
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি কালিদাসের রচনা। রচনাটির মূল ভাষা সংস্কৃত। এটি বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির তরজমা কে করেছেন?
সুবিখ্যাত সংস্কৃত কবি কালিদাসের সংস্কৃত ভাষায় রচিত ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ দৃশ্যকাব্য বা নাটক থেকে গৃহীত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি বাংলা ভাষায় তরজমা করেছেন সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।
শকুন্তলা কে?
শকুন্তলা ঋষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা। কিন্তু তিনি মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে প্রতিপালিতা হন।
ঋষি দুর্বাসা কেন শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
ঋষি দুর্বাসা ছিলেন কোপন প্রকৃতির। রাজা দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক শকুন্তলা তপোবনে আসা দুর্বাসাকে লক্ষ করেনি। সামান্য আশ্রমকন্যার উপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে ক্রোধান্বিত ও অপমানিত দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।
ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক থাকায় অসন্তুষ্ট দুর্বাসা তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।
শেষপর্যন্ত ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার শাপমুক্তির কী পথনির্দেশ করেন?
শকুন্তলার সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার শাপমুক্তির উপায় হিসেবে বলেন যে, শকুন্তলা রাজাকে তাদের সম্পর্কের কোনো নিদর্শন বা প্রমাণ দেখালে রাজার সব মনে পড়বে।
শকুন্তলার কাছে রাজা দুষ্মন্তের কোন্ নিদর্শন ছিল?
রাজা দুষ্মন্ত তাঁর রাজধানীর উদ্দেশে বিদায় নেওয়ার সময় শকুন্তলাকে একটি রত্নখচিত, নিজ নামাঙ্কিত, বহুমূল্য আংটি দেন। সেটাই ছিল তার নিদর্শন।
মহর্ষি কণ্ব তাঁর তপোবন থেকে দূরে ছিলেন কেন?
মহর্ষি কণ্ব তাঁর তপোবন থেকে দূরে ছিলেন, কারণ তিনি তীর্থ-পর্যটনে বের হয়েছিলেন।
শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন কে করেন?
শকুন্তলার পালক পিতা মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিবাহ করেন। কণ্ব ফিরে এসে শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন করেন।
রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি কেন?
পতিগৃহে যাত্রাপথে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় রাজা দুষ্মন্তের স্মারক-নিদর্শন আংটিটি শকুন্তলার হাত থেকে জলে পড়ে যায়। নিদর্শন হিসেবে আংটিটি না দেখাতে পারার কারণে দুষ্মন্ত তাকে চিনতে পারেন না।
নাট্যদৃশ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা পুরুষটির আসল পরিচয় কী?
‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যদৃশ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা পুরুষটি নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও রক্ষীদ্বয়ের হাতে ধৃত এক ধীবর বা জেলে।
দুই নগররক্ষী ধৃত ধীবরকে প্রথমেই কোন্ প্রশ্ন করেছিল?
নগররক্ষীরা ধৃত ধীবরকে ‘চোর’ সম্বোধন করে প্রশ্ন করেছিল, মণিখচিত রাজার নাম খোদাই করা রাজার সেই আংটি সে কোথায় পেল।
ধৃত ধীবর তার আংটি চুরির অভিযোগকে কী বলে অস্বীকার করে?
ধীবর তার আংটি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল যে, চুরি সে করেনি।
ধীবরের মুখে তার আংটি চুরি অস্বীকৃত হলে প্রথম রক্ষী তাকে কী বলে ব্যঙ্গ করে?
ধীবর চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে প্রথম রক্ষী তাকে ব্যঙ্গ করে বলে, রাজা ধীবরকে সদব্রাহ্মণ ভেবে আংটিটি স্বেচ্ছায় দান করেছে।
আত্মপরিচয় দিতে ধীবর কী কী বলেছিল?
ধীবর নিজের পরিচয় দিতে রক্ষীদের বলে সে একজন জেলে, তার বাসস্থান শক্রাবতারে।
ধীবরের আত্মপরিচয় শোনানোর পর দ্বিতীয় রক্ষী তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছিল?
ধীবরের আত্মপরিচয় শুনে দ্বিতীয় রক্ষী তাকে ‘ব্যাটা বাটপাড়’ বলে সম্বোধন করে বলেছিল যে, তার জাতির পরিচয় তারা শুনতে চায় না।
দ্বিতীয় রক্ষীর নাম কী?
রাজা দুষ্মন্তের কর্মচারী, নগররক্ষার কাজে নিযুক্ত রাজশ্যালকের সঙ্গী দ্বিতীয় রক্ষীর নাম জানুক।
সূচককে রাজশ্যালক কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
রাজশ্যালক তাঁর সঙ্গী প্রথম রক্ষী সূচককে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে যেন কথার মধ্যে বাধা না দিয়ে ধীবরকে সব বলতে দেয়।
নিজের জীবিকা সম্পর্কে ধীবর কী পরিচয় দেয়?
ধীবর নিজের জীবিকা সম্পর্কে জানায় যে সে জাল, বড়শি ইত্যাদি নানা উপায়ে মাছ ধরে সংসার চালায়।
ধীবরের বৃত্তি-পরিচয় শুনে রাজশ্যালক কী ব্যঙ্গোক্তি করেছিলেন?
ধীবরের জীবিকার পরিচয় শুনে রাজশ্যালক হেসে, ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন – ‘তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।’
রাজশ্যালকের বৃত্তিসম্বন্ধীয় ব্যঙ্গোক্তির উত্তরে ধীবর কী বলেছিল?
রাজ্যশ্যালকের বৃত্তিসম্বন্ধীয় ব্যঙ্গোক্তির উত্তরে ধীবর বলেছিল – মানুষ যে বৃত্তি নিয়ে জন্মায়, তা নিন্দনীয় হলেও পরিত্যাগ করা উচিত নয়।
নিজের বৃত্তির সমর্থনে ধীবর কী উদাহরণ দিয়েছিল?
নিজের বৃত্তি সম্বন্ধীয় বক্তব্যের সমর্থনে ধীবরের উদাহরণ হল – বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াবান। কিন্তু যজ্ঞীয় পশুবধের সময়ে তিনিই নির্দয় ব্যক্তি হয়ে যান।
শকুন্তলার হাতের আংটি কীভাবে ধীবরের হস্তগত হয়?
নিজের শিকার করা একটি রুই মাছ খণ্ড করে কাটার সময় ধীবর তার পেটের মধ্যে শকুন্তলাকে দুষ্মন্তের উপহার দেওয়া মণিমুক্তায় ঝলমলে আংটিটি পায়।
ধীবর কীভাবে রাজার আংটি সমেত ধরা পড়ে?
রুই মাছের পেট থেকে বহুমূল্য আংটি পেয়ে যখন ধীবর সেটি বিক্রির জন্য লোককে দেখাচ্ছিল, তখনই সে ধরা পড়ে।
রাজশ্যালককে আংটি প্রাপ্তির গল্প শুনিয়ে ধীবর কী বলেছিল?
আংটি প্রাপ্তির সত্যি গল্প রাজশ্যালক ও রক্ষীদ্বয়কে শুনিয়ে ধীবর বলেছিল – “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।”
রাজশ্যালকের সঙ্গী প্রথম রক্ষীর নাম কী?
রাজশ্যালকের সঙ্গে থাকা দুই রক্ষীর মধ্যে প্রথম রক্ষীর নাম হল সূচক।
রাজশ্যালক ধীবর সম্পর্কে কী অনুমান করেছিলেন?
রাজশ্যালক ধৃত ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তাই অনুমান করেছিলেন যে, সে গোসাপ খাওয়া জেলে।
ধীবরের আংটি প্রাপ্তির গল্প শুনে রাজশ্যালক কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?
ধীবরের আংটি প্রাপ্তির গল্প শুনে রাজশ্যালক তার সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের জন্য রাজমহলে গিয়েছিলেন।
রাজবাড়িতে প্রবেশের মুহূর্তে সূচককে রাজশ্যালক কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
রাজশ্যালক রাজমহলে প্রবেশের মুহূর্তে সূচককে নির্দেশ দেন-সে যেন সদর দরজার সামনে সাবধানে চোরকে নিয়ে অপেক্ষা করে।
রাজশ্যালকের রাজবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল?
রাজশ্যালক রাজবাড়িতে গিয়ে স্বয়ং রাজাকে আংটি দেখিয়ে তা কীভাবে পাওয়া গেছে অবগত করতে চেয়েছিলেন এবং এ সম্পর্কে রাজাদেশ কী তা জানতে চেয়েছিলেন।
রাজশ্যালকের কাছে আংটি প্রাপ্তির সংবাদ শুনে মহারাজ কী করতে পারেন বলে দুই রক্ষীর অনুমান হয়?
রাজা দুষ্মন্তের আংটিটি বহুমূল্য, রত্নখচিত ও রাজার নামাঙ্কিত। তাই তার প্রাপ্তিসংবাদ শুনে মহারাজ খুব খুশি হবেন বলেই রক্ষীদের অনুমান।
দ্বিতীয় রক্ষীর মতে রাজশ্যালকের রাজবাড়ি থেকে ফেরার বিলম্বের কারণ কী ছিল?
রাজার কাছে যাওয়া খুব সহজ নয়, তাই অবসর বুঝে রাজার কাছে যেতে হয় বলেই রাজশ্যালকের রাজবাড়ি থেকে ফিরতে দেরি হচ্ছে, এ কথা দ্বিতীয় রক্ষী মনে করে।
প্রথম রক্ষীর হাত নিশপিশ করছিল কেন?
প্রথম রক্ষীর হাত নিশপিশ করছিল, জেলেকে মারবার আগে যে মালা পরানো হবে তা গাঁথার জন্য।
ধীবর তার বিরুদ্ধে কী করতে নিষেধ করেছিল?
ধৃত ধীবর জানত সে নির্দোষ। তাই বিনা দোষে সেই দুই রক্ষীকে ধীবর তাকে মেরে ফেলতে নিষেধ করেছিল।
রাজশ্যালক কী হাতে নিয়ে রাজমহল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন?
রাজশ্যালক দীর্ঘক্ষণ রাজমহলে অবস্থান করেছিলেন। তারপর যখন তিনি রাজমহল থেকে বের হয়ে এসেছিলেন, তখন তার হাতে ছিল মহারাজের হুকুমনামা।
রাজার হুকুমনামায় জেলে সম্পর্কে কী হুকুম থাকতে পারে বলে দ্বিতীয় রক্ষীর অনুমান হয়?
দ্বিতীয় রক্ষীর অনুমান হয় যে রাজার হুকুমনামায় জেলে সম্পর্কে সম্ভাব্য হুকুম থাকতে পারে – হয় শকুনি, নয়তো কুকুর দিয়ে জেলেকে খাওয়ানো হবে।
রাজশ্যালক রাজবাড়ি থেকে ফিরে এসে রক্ষীদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
রাজশ্যালক রাজমহল থেকে ফিরে রক্ষীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ধীবরকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ আংটির ব্যাপারে সে যা বলেছে তা সত্য।
ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ শুনে দ্বিতীয় রক্ষীর আচরণ কেমন ছিল?
ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ শুনে দ্বিতীয় রক্ষী তার হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে বলেছিল, “এই জেলে যমের বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এল।”
নিজের মুক্তির নির্দেশ শুনে রাজশ্যালকের প্রতি ধীবর কেমন আচরণ করেছিল?
নিজের মুক্তির নির্দেশ শুনে ধীবর রাজশ্যালককে প্রণাম করে বলেছিল, “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?”
সত্যবাদী ধীবরের উদ্দেশে মহারাজের প্রদত্ত উপহার কী ছিল?
রাজা দুষ্মন্ত তাঁর মহামূল্য আংটি পেয়ে খুশি হয়েছিলেন এবং আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন সত্যবাদী ধীবরকে।
ধীবরের প্রতি রাজার অনুগ্রহ দেখে সূচক কী তির্যক মন্তব্য করেছিল?
ধীবরের প্রতি রাজার অনুগ্রহকে সূচক বলেছিল, “এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।”
ধীবরকে দেয় রাজার অর্থদান দেখে জানুক কী মন্তব্য করেছিল?
রাজশ্যালককে ‘হুজুর’ সম্বোধন করে জানুক বলেছিল, রাজার পারিতোষিকের পরিমাণ থেকে বোঝা যায় আংটিটি তাঁর কাছে কত প্রিয় বস্তু ছিল।
রাজসাক্ষাতে গিয়ে আংটি সম্বন্ধে রাজার কোন্ মনোভাব রাজশ্যালকের চোখে পড়ে?
রাজসাক্ষাতে গিয়ে রাজশ্যালক বোঝেন, মণিখচিত মূল্যবান আংটিটি ফিরে পাওয়ার থেকেও রাজার কাছে তার গুরুত্ব এজন্য বেশি যে, সেটি রাজাকে কোনো প্রিয়মুখ স্মরণে এনে দিয়েছিল।
আংটি হাতে পেয়ে রাজা দুষ্মন্ত কেমন আচরণ করেছিলেন?
স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির রাজা আংটি হাতে পেয়ে মুহূর্তের জন্য সেদিকে বিহ্বলভাবে তাকিয়েছিলেন।
রাজার হাতে তাঁর আংটি ফিরিয়ে দেওয়াকে সূচক কেমন কাজ বলে বর্ণনা করেছে?
রাজশ্যালকের দ্বারা রাজাকে আংটি ফিরিয়ে দেওয়ার কাজকে রক্ষী সূচক মহারাজের সেবা বলে বর্ণনা করেছে।
রক্ষী জানুক রাজশ্যালকের রাজসেবাকে ব্যঙ্গ দৃষ্টিতে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে?
রাজশ্যালক রাজসেবা করতে গিয়ে জেলেকে পারিতোষিক এনে দিয়েছেন। এতে রক্ষী জানুক হিংসার তাড়নায় বলেছে, এ আসলে রাজসেবা নয়, জেলের সেবা।
রক্ষীদ্বয় অর্থাৎ সূচক ও জানুককে ধীবর কী দিতে চেয়েছিল?
রক্ষীদ্বয় অর্থাৎ সূচক ও জানুককে ‘মহাশয়’ সম্বোধন করে ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক দান করে দিতে চেয়েছিল।
ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ রক্ষীদ্বয়কে কীজন্য দিয়েছিল?
ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক রক্ষীদ্বয়কে ফুলের দাম হিসেবে দিয়েছিল।
ধীবরের কাছ থেকে অর্থ পেয়ে রক্ষী জানুকের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য কী ছিল?
ধীবরের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির সৌজন্যে গদগদ রক্ষী জানুক বলেছিল, “এটা তুমি ঠিকই বলেছ।”
পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে কী বলে স্বীকার করেছিলেন?
পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে তার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু বলে স্বীকার করেছিলেন।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন