নবম শ্রেণি বাংলা – চিঠি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Souvick

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘চিঠি’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

নবম শ্রেণি - বাংলা - চিঠি - ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Contents Show

‘কল্যাণীয়া মিস নোব্‌ল্,’ – মিস নোব্‌ল্ -এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

পরিচয় – স্বামীজির শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম ও অগ্রগণ্য মিস নোব্‌ল্ -এর সম্পূর্ণ নাম মিস মার্গারেট ই. নোব্‌ল্। জন্ম আয়ারল্যান্ডে হলেও স্বামীজির অনুপ্রেরণায় তিনি ভারতে আসেন এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। ভারতে স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের কাজে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। 1911 খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং-এ তিনি দেহত্যাগ করেন।

“স্টার্ডি-র একখানি চিঠি কাল পেয়েছি।” – কে চিঠি পেয়েছেন? চিঠি পড়ে তিনি কী জানতে পেরেছেন?

স্বামী বিবেকানন্দ 1897 খ্রিস্টাব্দের 28 জুলাই স্টার্ডির কাছ থেকে চিঠিটি পেয়েছিলেন।

যা জেনেছিল – স্টার্ডির চিঠি পড়ে বিবেকানন্দ জানতে পেরেছেন যে, তাঁর অন্যতম এবং অগ্রগণ্য শিষ্যা মিস নোব্‌ল্ ভারতে আসতে এবং ভারতবর্ষের সমস্ত কিছু চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়সংকল্প।

“এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে,” – ‘এখন’ বলতে কোন্ সময়? ‘দৃঢ় বিশ্বাস’টি কী?

‘এখন’ – স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘চিঠি’ রচনা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে ‘এখন’ বলতে স্টার্ডির চিঠি পাওয়ার পরবর্তী ও মিস মুলারের কাছ থেকে মিস নোব্‌ল্ -এর নানা কর্মপ্রণালীর কথা জানার পরবর্তী সময়ের কথা বলা হয়েছে।

‘দৃঢ় বিশ্বাস’ – স্বামী বিবেকানন্দের দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে, ভারতের কাজে মিস নোব্‌ল্ -এর এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে।

“ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে।” – ভারতের কোন্ কাজে বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে?

যে কাজে ভবিষ্যৎ রয়েছে – স্বামী বিবেকানন্দ স্টার্ডির চিঠি পড়ে ও মিস মুলারের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংবাদে মিস নোব্‌ল্ তথা নিবেদিতা সম্পর্কে এতটাই দৃঢ় বিশ্বাসী যে, তিনি মনে করেন ভারতের জন্য, বিশেষত ভারতের নারী সমাজের জন্য মিস নোব্‌ল্ -এর মতো একজন ‘প্রকৃত সিংহী’র প্রয়োজন। মিস নোব্‌ল্ -এর দৃঢ়তা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, শিক্ষা ইত্যাদি গুণ বিবেকানন্দকে দৃঢ় বিশ্বাসী করে তুলেছে। এই কাজে তাঁর এক বিরাট ভবিষ্যত রয়েছে বলে তিনি মনে করেছেন।

“একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।” – কার সম্পর্কে এই উক্তি? তাঁকে ‘প্রকৃত সিংহী’ বলার কারণ কী?

মহান চিন্তাবিদ স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ নামক রচনায় মিস নোব্‌ল্ -এর সম্পর্কে উক্ত মন্তব্য করেছেন।

‘প্রকৃত সিংহী’ বলার কারণ – বিবেকানন্দ ভারতের জন্য, বিশেষত ভারতের নারী সমাজের জন্য একজন পরাক্রমশালী মানুষকে খুঁজছিলেন। মিস নোব্‌ল্ -এর শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তা – সর্বোপরি তাঁর ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের জন্য তাঁকে পরাক্রমশীল সিংহীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

“একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।” – ‘প্রকৃত সিংহী’ কাকে বলা হয়েছে? তাঁকে প্রয়োজন কেন?

মহান চিন্তাবিদ স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ রচনায় অন্যতম শিষ্যা মিস নোব্‌ল্ ‘প্রকৃত সিংহী’ বলেছেন।

কারণ – দেশপ্রেমিক বিবেকানন্দ পরাধীন ভারতবর্ষের চরম দুরবস্থার পাশাপাশি নারীসমাজের চরম অপমান লক্ষ করেছিলেন, তাই একদিকে পরাধীন ভারতবর্ষের জন্য অপরদিকে ভারতের নারীসমাজের জন্য তাঁর মতো ‘একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন’ বলে জানিয়েছেন মিস নোব্‌লকে লেখা পত্রে।

“তুমি ঠিক সেইরূপ নারী ..।” – ‘তুমি’ কে? ‘সেইরূপ নারী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনার উদ্ধৃতাংশে ‘তুমি’ বলতে মিস নোব্‌লকে বোঝানো হয়েছে। তাঁর সম্পূর্ণ নাম মিস মার্গারেট এলিজাবেথ নোব্‌ল্।

‘সেইরূপ নারী’ অর্থ – পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষদের বিশেষত ভারতীয় নারীদের উন্নতির জন্য স্বামীজি এমন একজনকে খুঁজছিলেন তাঁর শিক্ষা, চিত্তের দৃঢ়তা, ঐকান্তিকতা সর্বোপরি অন্তরের পবিত্রতা দিয়ে ভারতবাসীর মঙ্গল করতে পারবেন। বিবেকানন্দের মতে মিস নোব্‌ল্-ই ‘সেই রূপ নারী’ যার ধমনিতে প্রবাহিত হয়েছে কেল্টিক রক্ত। তিনিই পারবেন আপামর ভারতবাসীর দুঃখ মোচন করে তাদের সহায়ক হয়ে উঠতে।

“কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” – কোন্ কোন্ বিঘ্নের কথা বলা হয়েছে?

‘বিঘ্ন’ – বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের নারী কল্যাণের জন্য মিস নোব্‌লকে আমন্ত্রণ জানিয়েও তাঁর কাজের পথে সৃষ্ট নানা বিঘ্নের উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এদেশের মানুষের মানসিকতা, আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতা, শাসক-শোষিতের সম্পর্ক, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, ইউরোপীয় স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব এবং সর্বোপরি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের সন্দেহ মিস নোবলের কর্মপথের বাধা হয়ে উঠবে। এদেশের মানুষদের জাতি ও স্পর্শ সম্পর্কে যে বিকট ধারণা ও শ্বেতাঙ্গদের ব্যবহারে তাদের প্রতি যে ভয় ও ঘৃণা তারা পোষণ করে তার সঙ্গে মিস নোব্‌ল্ এর মানিয়ে চলা অসম্ভব মনে হতে পারে। আবার শ্বেতাঙ্গ শাসকরা এই কাজকে নোক্সের খামখেয়ালিপনা মনে করতে পারেন। এইসমস্ত বাধা-বিঘ্নের কথাই বিবেকানন্দ তাঁর চিঠিতে ব্যক্ত করেছেন।

“এদেশে এলে তুমি নিজেকে অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য নরনারীতে পরিবেষ্টিত দেখতে পাবে।” – উক্তিটি কার? এমন উক্তির কারণ কী?

প্রশ্নে প্রদত্ত অংশের বক্তা হলেন পত্ররচনাকার স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং।

কারণ – পরাধীন ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি মানুষই ছিল অজ্ঞ, অশিক্ষিত, কুসংস্কারে পরিপূর্ণ। ইংরেজদের দাসত্ব করলেও তাদের ন্যূনতম লজ্জাবোধটুকু ছিল না। আধুনিকতার ছোঁয়া তাদের মধ্যে এতটুকুও ছিল না, বরং ভয়ই হোক বা ঘৃণায়, ইংরেজ জাতি ও তাদের স্পর্শ সম্পর্কে ছিল বিকট ধারণা। তাই স্বামীজি তাদের মিস নোব্‌লকে উদ্দেশ করে এই উক্তি করেছেন।

“তাদের জাতি ও স্পর্শ সম্বন্ধে বিকট ধারণা;” – কাদের কথা বলা হয়েছে? বিকট ধারণাহেতু তারা কী করে?

মহান চিন্তাবিদ বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনার উদ্ধৃতাংশে পরাধীন ভারতবর্ষের অজ্ঞ-অশিক্ষিত-কুসংস্কারে পরিপূর্ণ মানুষদের কথা বলা হয়েছে।

বিকট ধারণায় যা করে – পরাধীন ভারতবাসীদের ইংরেজ জাতি ও তাদের স্পর্শ সম্বন্ধে বিকট ধারণা আছে তাদের প্রতি ভয়ে অথবা ঘৃণায়। তাই তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে। ফলস্বরূপ শ্বেতাঙ্গরাও ভারতীয়দের ঘৃণার চোখে দেখে।

“… শ্বেতাঙ্গেরা তোমাকে খামখেয়ালি মনে করবে …।” – ‘শ্বেতাঙ্গ’ কারা? তারা কাকে খামখেয়ালি মনে করবে?

স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘চিঠি’ রচনার উদ্ধৃতাংশে ‘শ্বেতাঙ্গ’ বলতে ইংরেজদের বোঝানো হয়েছে।

যাকে খামখেয়ালি মনে করবে – ইংরেজরা মিস নোব্‌লকে খামখেয়ালি মনে করবে বলে বিবেকানন্দের ধারণা। ইংরেজ জাতি ও তাদের স্পর্শ সম্বন্ধে পরাধীন ভারতবাসীর বিকট ধারণা আছে। ভয়ে অথবা ঘৃণায় তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে বলে শ্বেতাঙ্গরাও ভারতীয়দের ঘৃণা করে। এমতাবস্থায় মিস নোবলের ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে কল্যাণমূলক কর্মকে শ্বেতাঙ্গরা খামখেয়ালি বলে মনে করবে।

‘এসব সত্ত্বেও যদি তুমি কর্মে প্রবৃত্ত হতে সাহস কর …’ – কার উক্তি? ‘এসব সত্ত্বেও’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

প্রশ্নের প্রদত্ত অংশটির বক্তা হলেন পত্র রচনাকার স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং।

যা বোঝানো হয়েছে – বিবেকানন্দ তাঁর পত্রে মিস নোব্‌লকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার কথাও বলেছেন। এদেশের অধিকাংশ মানুষই কুসংস্কারবদ্ধ, তাদের ইংরেজ জাতি ও তার স্পর্শ সম্পর্কে বিকট ধারণা রয়েছে। তা ছাড়া এদেশের জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান, শহরের বাইরে কোথাও ইউরোপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যও নেই। তাই উদ্ধৃতাংশে ‘এসব সত্ত্বেও’ বলতে উক্ত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে।

“তবে অবশ্য তোমাকে শতবার স্বাগত জানাচ্ছি।” – কে, কাকে স্বাগত জানিয়েছেন? কেন?

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনায় স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর অন্যতম শিষ্যা মিস নোব্‌লকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কারণ – স্টার্ডির চিঠিতে এবং মিস মুলারের কাছ থেকে বিবেকানন্দ জেনেছেন মিস নোবলের ভারতে আসার আগ্রহ এবং তাঁর কর্মপ্রণালীর কথা। কিন্তু ভারতে এসে ভারতীয়দের জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে অনেক বাধা আছে। তাই সাহস অবলম্বন করে যদি সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে মিস নোব্‌ল্ অতিক্রম করতে পারেন, তবে স্বামীজি তাঁকে শতবার স্বাগত জানাচ্ছেন।

“আমাকে আমরণ তোমার পাশেই পাবে” – উক্তিটি কার? কাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলেছেন? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পাশে তিনি থাকতে চান কেন?

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনায় উক্ত উক্তির বক্তা পত্র রচনাকার স্বয়ং।

অন্যতমা শিষ্যা মিস নোব্‌লকে উদ্দেশ করে বিবেকানন্দ কথাগুলি বলেছেন।

কারণ – স্বদেশ প্রেমিক বিবেকানন্দ স্বদেশবাসীর দুরবস্থায় পীড়িতবোধ করলেও একক প্রচেষ্টায় সেই দুরবস্থা থেকে মুক্তির পথ হয়তো খুঁজে পাননি। তাই মি. স্টার্ডির চিঠিতে মিস নোব্‌ল্ -এর কর্মপ্রণালী সম্পর্কে অবগত হয়ে তাঁকে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতবর্ষেও তাঁর পাশে আমরণ থাকতে চেয়েছেন।

“একবার বেরুলে আর ভিতরে যায় না;” – কোন্ প্রসঙ্গে কে এই উক্তি করেছেন?

যে উক্তি করেছেন – স্বামী বিবেকানন্দ 29 জুলাই, 1897 আলমোড়া থেকে প্রেরিত শিষ্যা মিস নোব্‌ল্-কে লেখা চিঠিতে প্রশ্নোধৃত মন্তব্যটি করেছেন।

প্রসঙ্গ – চিঠিতে বিবেকানন্দ মিস নোব্‌লকে ভারতের কল্যাণ কর্মে ঝাঁপ দেওয়ার পূর্বে কিছু প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিশেষভাবে চিন্তা করতে বলেছেন। তবে যে-কোনো অবস্থাতেই যে তিনি আমরণ মিস-নোব্‌ল্ -এর পাশে থাকবেন সে কথা বোঝাতে একটি প্রবাদের আশ্রয় নিয়েছেন; – ‘মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত’। যা কিনা একবার বেরুলে আর ভিতরে যায় না। অর্থাৎ বিবেকানন্দের প্রতিশ্রুতি মিথ্যে হবে না।

“কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এই ধারণা ছেলেবেলা থেকেই তাঁর মাথায় ঢুকেছে যে,” – কার মাথায় কোন্ ধারণা ঢুকেছে?

যার ধারণা – স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’তে মিস নোব্‌লকে মিস হেনরিয়েটা মুলার বা মিস মুলার সম্পর্কে বলতে গিয়ে একথা বলেছেন।

ধারণার স্বরূপ – মিস মুলারের সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচয় পেয়েছিলেন বিবেকানন্দ। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অস্থির চিত্ত ও রুক্ষ মেজাজী। বিবেকানন্দ বলেছেন তিনি একজন চমৎকার মহিলা। কিন্তু ছেলেবেলা থেকে মিস মুলার এই ধারণা নিয়ে চলেছেন যে, তিনি আজন্ম নেত্রী ও অর্থের দ্বারাই পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব। আলোচ্য অংশে এই ‘ধারণার’ কথা বলা হয়েছে।

“… তাঁর সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।” – কার সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব? কেন অসম্ভব?

আলোচ্য অংশে স্বামী বিবেকানন্দ মনে করেছেন, মিস মুলারের সাথে মিস নোব্‌ল্ -এর বনিয়ে চলা অসম্ভব।

বিবেকানন্দের মতে মিস হেনরিয়েটা মুলার চমৎকার মহিলা, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ছোটোবেলা থেকে তিনি এই ধারণা নিয়ে রয়েছেন যে, তিনি আজন্ম নেত্রী এবং অর্থই পৃথিবীর সমস্ত পরিবর্তনের একমাত্র উপায়। এই মনোভাব অজ্ঞাতসারে তাঁর কার্যকলাপে প্রকাশ পাওয়ার ফলে মিস নোব্‌ল্ -এর পক্ষে তাঁর সঙ্গে ‘বনিয়ে চলা অসম্ভব’ হবে।

“তিনি কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন” – তিনি কে? তিনি কলকাতায় বাড়ি ভাড়া নেবেন কেন?

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনার উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ বলতে বোঝানো হয়েছে মিস মুলারকে।

কারণ – চিঠিতে বিবেকানন্দ বলেছেন মিস মুলার নিজের জন্য, মিস নোব্‌ল্ -এর জন্য এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুদের ভারতে আসার সম্ভাবনা আছে, তাঁদের জন্য কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন।

“এটা অবশ্য তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক;” – কোন্ বিষয়টি কার সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক?

স্বহৃদয়তা ও অমায়িকতা – ‘চিঠি’ পাঠ্যাংশে বিবেকানন্দ বলেছেন মিস হেনরিয়েটা মুলার সংকল্প করেছেন যে, তিনি কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন মিস নোব্‌ল্ এবং নিজের জন্যও। এ ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুদের আসার সম্ভাবনা আছে তারাও সেখানে থাকতে পারবে। এই বিষয়টি স্বামী বিবেকানন্দের চোখে মিস মুলারের সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক।

“কিন্তু তাঁর মঠাধ্যক্ষাসুলভ সংকল্পটি দুটি কারণে কখনও সফল হবে না” – ‘মঠাধ্যক্ষাসুলভ সংকল্পটি’ কী? তা সফল হবে না কোন্ দুটি কারণে?

সংকল্প – ‘চিঠি’ প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোব্‌লকে বলেছেন, মিস মুলার কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন নিজের জন্য আর মিস নোব্‌ল্ -এর জন্য। এ ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুরা ভারতে আসতে পারেন – তারাও সেখানে থাকতে পারবে। বিবেকানন্দ জানিয়েছেন এই বিষয়টি মিস্ মুলারের ‘মঠাধ্যক্ষাসুলভ সংকল্প’। এর ফলে তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচয় পাওয়া গেলেও, সংকল্পটি সফল হবে না।

দুটি কারণ – স্বামী বিবেকানন্দের মতানুযায়ী মিস মুলারের উক্ত সংকল্পটি দুটি কারণে অসফল হবে। মিস মুলার চমৎকার মহিলা হলেও তিনি রুক্ষ মেজাজি এবং অস্থিরচিত্ত।

“যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।” – অর্থ পরিস্ফুট করো।

শৈলশহর আলমোড়া থেকে 1897 খ্রিস্টাব্দের 29 জুলাই মিস নোব্‌লকে উদ্দেশ করে লেখা পত্রে স্বামী বিবেকানন্দ আলোচ্য উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করেছেন।

অর্থ – পরাধীন ভারতবর্ষ ও ভারতবাসীর দুরবস্থা মোচনের জন্য স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোব্‌লকে ভারতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদেশের নানা প্রতিকূল দিকগুলির বর্ণনা করে তিনি মিস নোবলের পাশে আমরণ থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন। পাশাপাশি তাকে সাবধান করে বলেছেন, মিস মুলারের মতো অস্থিরমতি মানুষ বা অন্য কারো আশ্রয় না নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। বিবেকানন্দ এমন ইঙ্গিত করেছেন যে মিস নোবলের আত্মনির্ভরতার জোরেই তাঁর সমস্ত কাজ সুষ্টভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

“মিসেস সেভিয়ার নারীকুলের রত্নবিশেষ;” – মিসেস সেভিয়ার কে? তাঁকে ‘নারীকুলের রত্ন’ বলার কারণ কী?

মিসেস সোভিয়ার – মিসেস সেভিয়ার হলেন ক্যাপ্টেন জে এইচ সেভিয়ারের স্ত্রী, স্বামী বিবেকানন্দের ইংরেজ শিষ্যা, যিনি বেদান্ত প্রচারের কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রামকৃষ্ণ সংঘে তিনি ‘মাদার’ নামে পরিচিত ছিলেন।

কারণ – মিসেস সেভিয়ারের হৃদয় ছিল স্নেহে-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। ইংরেজ মহিলা হয়েও তিনি অন্যান্য ইংরেজের মতো ভারতীয়দের ঘৃণা করেননি, বরং ভালোবেসে ছিলেন। তাই বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে তিনি ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’।

“সেভিয়ার-দম্পতিই একমাত্র ইংরেজ,” – ‘সেভিয়ার দম্পতি’ কারা? তাঁদেরকে ‘একমাত্র ইংরেজ’ বলা হয়েছে কেন?

সেভিয়ার দম্পতি হলেন ক্যাপ্টেন জে এইচ সেভিয়ার এবং তাঁর স্ত্রী মিসেস সেভিয়ার। স্বামীজির ইচ্ছায় বেদান্ত প্রচারের উদ্দেশ্যে সেভিয়ার দম্পতি ‘মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেন।

কারণ – সেভিয়ার দম্পতিকে ‘একমাত্র ইংরেজ’ বলা হয়েছে, কারণ এঁরা ইংরেজ হলেও এদেশীয়দের যেমন ঘৃণার চোখে দেখেননি, তেমনই ভারতীয়দের ওপর মুরুব্বিয়ানা করতেও এদেশে আসেননি।

“এমনকি স্টার্ডিকেও বাদ দেওয়া চলে না।” – স্টার্ডি কে? কোন্ বিষয় থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া চলে না?

স্টার্ডি হলেন স্বামীজির এক ইংরেজ ভক্ত, যিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারের কাজে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন।

বিষয় – স্বামী বিবেকানন্দ সেভিয়ার দম্পতির কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, সেভিয়ার দম্পতিই একমাত্র ইংরেজ, যাঁরা এদেশীয়দের কখনোই ঘৃণা করেননি। মি. স্টার্ডিও একজন ইংরেজ এবং তিনিও কোনো ভারতীয়দের ঘৃণা করেননি। তাই এ বিষয়ে শুধু সেভিয়ার দম্পতি নয়, স্টার্ডিও অন্তর্ভুক্ত।

“আমার দু’জন বন্ধু” – বক্তা এই দু’জন বন্ধু সম্পর্কে মিস নোব্‌লকে কি বলেছেন?

দু’জন বন্ধু – আমাদের পাঠ্য ‘চিঠি’তে লেখক স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্যা মিস নোব্‌লকে এদেশে আসার সময় স্বামীজির দু’জন বন্ধুর সঙ্গে আসতে বলেছেন। একজন মিস ম্যাকলাউড, যাঁকে মিস নোব্‌ল্ লন্ডনে প্যারি-ফ্যাশানের পোশাক-পরিহিতা অবস্থায় দেখেছিলেন। অন্যজন বস্টনের মিসেস সারা বুল। যাঁর বয়স প্রায় পঞ্চাশ এবং তিনি আমেরিকায় স্বামীজীর বিশেষ উপকারী বন্ধু ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে এলে মিস নোব্‌ল্ -এর পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে বলে স্বামীজির মনে হয়েছে।

“মিস ম্যাকলাউডকে তুমি লন্ডনেই দেখেছো” – ‘তুমি’ কে? মিস ম্যাকলাউডের পরিচয় দাও।

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনার আলোচ্য উদ্ধৃতিতে ‘তুমি’ হলেন মিস নোব্‌ল্।

পরিচয় – স্বামী বিবেকানন্দের পাশ্চাত্য দেশীয় প্রধান অনুরাগী ভক্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিস জোসেফাইন ম্যাকলাউড। তাঁর জীবন স্বামীজির চিন্তাভাবনা ও কাজের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিল। স্বামীজি তাঁকে ‘জো’ বলে ডাকতেন। 1949 খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার হলিউড শহরে তাঁর মৃত্যু হয়।

“… তিনি আমেরিকায় আমার উপকারী বন্ধু ছিলেন।” – কার সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে? যাঁর সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে, তার পরিচয় দাও।

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনায় পঞ্চাশ বছর বয়সি মিসেস বুলের কথা বলা হয়েছে।

পরিচয় – মিসেস বুলের সম্পূর্ণ নাম সারা বুল। নরওয়েবাসী বিখ্যাত বেহালাবাদক মিঃ ওলি বুলের স্ত্রী ও স্বামীজির শিষ্যা ছিলেন তিনি। স্বামীজিকে বেলুড় স্থাপনের কাজে প্রচুর অর্থ সাহায্য করেছিলেন। এ ছাড়া অন্যান্যভাবেও তিনি এদেশে ও পাশ্চাত্যে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন।

“তাঁরা ইউরোপ হয়ে এদেশে আসছেন, সুতরাং আমার পরামর্শ এই যে,” – ‘তাঁরা’ কারা? পরামর্শটি কী?

চিন্তানায়ক বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত ‘তাঁরা’ হলেন স্বামীজির বন্ধু মিস ম্যাকলাউড এবং মিসেস বুল।

পরামর্শ – মিস নোব্‌লকে উদ্দেশ করে বলা স্বামী বিবেকানন্দের পরামর্শটি হল, মিস নোবল্ যদি মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলের সঙ্গে ভারতে আসেন, তবে তাঁর পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে।

“… তোমার পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে।” – কার পথের একঘেয়েমি কীভাবে দূর হবে?

স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ রচনায় মিস নোব্‌ল্ -এর একঘেয়েমির কথা বলা হয়েছে।

একঘেয়েমি যেভাবে দূর হবে – ভারতবর্ষের কাজে মিস নোব্‌ল্ -এর এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে অনুমান করে তাঁকে ভারতবর্ষে স্বাগত জানিয়েছেন স্বামীজি। কিন্তু একা একা আমেরিকা থেকে ভারতবর্ষে আসার পথে মিস নোব্‌ল্ -এর একঘেয়েমি লাগতে পারে। তাই স্বামীজি তাঁর পত্রে মিস নোব্‌লকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, আমেরিকা থেকে ভারতবর্ষে আসার পতে তিনি যদি মিস ম্যাকলাউড ও মিস বুলের সঙ্গলাভ করেন, তবে তাঁর পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে।

“মি. স্টার্ডির কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত একখানা চিঠি পেয়ে সুখী হয়েছি।” – কে সুখী হয়েছেন? সুখী হওয়ার কারণ কী?

‘চিঠি’ রচনা থেকে গৃহীত উদ্ধৃত অংশে স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর সুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কারণ – মি. স্টার্ডি হলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন ইংরেজ ভক্ত। মি. স্টার্ডির কাছ থেকে বিবেকানন্দ 28 জুলাই, 1897 যে চিঠি পেয়েছেন, সেটি শুষ্ক ও প্রাণহীন হলেও তা থেকে বিবেকানন্দ জেনেছেন যে, মিস নোব্‌ল্ ভারতে আসতে ও সবকিছু চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়সংকল্প। এই খবর বিবেকানন্দের কাছে অত্যন্ত সুখের খবর ছিল বলেই তিনি সুখী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

“একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।” — কে কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন? বক্তা তাকে প্রকৃত সিংহী বলেছেন কেন?

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – চিঠি রচনার উল্লিখিত অংশে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে প্রকৃত সিংহী বলেছেন।
প্রকৃত সিংহীর কারণ – বিবেকানন্দ মিস নোবলকে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মধ্যে রয়েছে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা। নোবলের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তা এবং তাঁর ধমনিতে প্রবাহিত রক্তের জন্য তাঁকেই সেই নারী হিসেবে বিবেকানন্দ ভেবেছেন, যাঁকে এদেশের প্রয়োজন। এইসব গুণের কারণেই তিনি সিংহীর সমকক্ষ হয়ে উঠেছেন।

“কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” — কোন্ কোন্ বিঘ্নের কথা বলা হয়েছে লেখো।

বিঘ্নের আশঙ্কা – স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে যেসব বিঘ্নের কথা বলেছেন, তার মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ্য এদেশের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব। মানুষের দারিদ্র্য একটা প্রধান বাধা। জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা তাদের আলাদা করে রেখেছে। ভয় অথবা ঘৃণা—যে কারণেই হোক, তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে। এদের সঙ্গে নোবল মিলতে চাইলে শ্বেতাঙ্গরাও তাঁকে সন্দেহ করতে পারে। এ ছাড়া গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ু এবং শহরের বাইরে সুখস্বাচ্ছন্দ্যের অভাবও বাধা হয়ে উঠতে পারে।

“এদেশে এলে তুমি নিজেকে অসংখ্য নরনারীতে পরিবেষ্টিত দেখতে পাবে।” — তুমি কে? বক্তা এমন কথা বলেছেন কেন?

তুমি-র পরিচয় – স্বামী বিবেকানন্দ রচিত পাঠ্য চিঠিতে “তুমি” বলতে মিস মার্গারেট নোবলকে বোঝানো হয়েছে।
বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ – স্বামী বিবেকানন্দ মি. স্টার্ডির চিঠি পেয়ে জেনেছেন যে, মিস নোবল ভারতে আসতে এবং সব কিছু নিজের চোখে দেখতে দৃঢ়সংকল্প ছিলেন। কিন্তু এদেশে এলে অভাবগ্রস্ত, অর্ধনগ্ন, দুঃখী মানুষগুলির মধ্যে মিস নোবলকে কাজ করতে হবে। তার জন্য তিনি মানসিকভাবে যথেষ্ট প্রস্তুত কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতেই এবং এদেশের সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে ধারণা দিতেই স্বামীজি এ কথা বলেছেন।

“মরদ কি বাত হাথি কা দাঁত” – বক্তার এই বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা বিচার করো।

প্রাসঙ্গিকতা – স্বামী বিবেকানন্দের চিঠি রচনায় উল্লিখিত প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ হল: “মরদ” (অর্থাৎ পুরুষ) এর কথা হাতির দাঁতের মতো। হাতির দাঁত যেমন একবার বেরোলে আর ঢোকে না, ঠিক সেরকমই পুরুষের কথা অটল। প্রকৃত পুরুষ একবার যে প্রতিজ্ঞা করেন, তার নড়চড় হয় না। বিবেকানন্দ নোবলের ভারতে আগমনের পূর্বে এদেশে এলে তাঁকে কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন। এবং তারপর বলেছেন যে, কাজের ক্ষেত্রে মাঝপথে যদি ব্যর্থতা আসে বা কাজে বিরক্তি আসে—তবুও আমৃত্যু মিস নোবল বিবেকানন্দকে পাশে পাবেন। নিজের প্রতিজ্ঞার দৃঢ়তাকে বোঝাতেই স্বামীজি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

“এই আমার প্রতিজ্ঞা।” — কোন্ প্রতিজ্ঞার কথা এখানে বলা হয়েছে?

প্রতিজ্ঞা – মিস নোবল ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিলে, সেই খবর পেয়ে তাঁকে এদেশে কাজের ক্ষেত্রে অসুবিধাগুলি স্বামী বিবেকানন্দ বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং কাজে নামার আগে সেগুলি ভালো করে ভেবে নিতে বলেছেন। তারপর জানিয়েছেন যে, মিস নোবল যদি কাজের পরে ব্যর্থ হন কিংবা কাজে তাঁর বিরক্তি আসে, তাহলেও বিবেকানন্দ তাঁর পাশেই আমৃত্যু থাকবেন। মিস নোবল কাজ সম্পূর্ণ না করলে কিংবা বেদান্ত ধর্ম ত্যাগ করলেও বিবেকানন্দ তাঁর পাশ থেকে সরে যাবেন না। তাঁর কথায় “মরদ কি বাত হাথি কা দাঁত”-এর মতোই এ তাঁর অনড় প্রতিজ্ঞা।

“তাঁর সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।” — কার সম্পর্কে কেন এ মন্তব্য করা হয়েছে?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে উদ্দেশ্য করে মিস মুলার সম্পর্কে মন্তব্যটি করেছেন।
মন্তব্যের কারণ – মিস মুলার, বিবেকানন্দের মতে, নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা। কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই নিজেকে নেত্রী ভাবা এবং নিজের ক্ষমতায় অতিরিক্ত বিশ্বাস তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। বিবেকানন্দের মনে হয়েছে যে মিস নোবলও অল্পদিনেই বুঝে নিতে পারবেন যে, মিস মুলারের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়।

“তাঁর বর্তমান সংকল্প এই যে” – “তাঁর” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাঁর বর্তমান সংকল্প কী লেখো।

তাঁর পরিচয় – চিঠি রচনার উল্লিখিত অংশে “তাঁর” বলতে মিস মুলারের কথা বলা হয়েছে।
তাঁর বর্তমান সংকল্প – মিস মুলার, যিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী বলে মনে করতেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন। এই বাড়িটিতে তিনি, মিস নোবল আর ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুদের আসার সম্ভাবনা আছে, তাঁরা থাকবেন বলে মিস মুলার ভেবেছিলেন। এই ভাবনাকেই মিস মুলারের বর্তমান সংকল্প বলা হয়েছে।

“কিন্তু তাঁর মঠাধ্যক্ষাসুলভ সংকল্পটি দুটি কারণে কখনও সফল হবে না।” – কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

প্রসঙ্গ – মিস মুলার কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গেই লেখক স্বামী বিবেকানন্দ এই মন্তব্য করেছেন।
মন্তব্যটির বিশ্লেষণ – মুলার চেয়েছেন মিস নোবল এবং তার নিজের জন্য, সেইসঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যে বন্ধুদের ভারতে আসার সম্ভাবনা আছে, তাদের জন্যও বাড়ি ভাড়া নিতে। আপাতভাবে এটি তাঁর সহৃদয়তার পরিচায়ক হলেও মুলারের রুক্ষ মেজাজ এবং অস্থিরচিত্ততা তাঁর এই সংকল্পকে সফল করতে দেবে না বলে লেখক মনে করেছেন।

“এত ভালো, এত স্নেহময়ী তিনি।” – কার সম্পর্কে এই উক্তি? লেখকের কী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – চিঠি রচনার উল্লিখিত অংশে মিসেস সেভিয়ার সম্পর্কে এই উক্তি।
লেখকের মানসিকতা – মিসেস সেভিয়ার এবং তাঁর স্বামী ক্যাপটেন সেভিয়ার সম্পর্কে লেখকের মনের গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে এখানে। তাঁরা সেই বিরল ইংরেজ যাঁরা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না। এদেশের মানুষদের ওপর মুরুব্বিয়ানা করতে তাঁরা আসেননি। সেভিয়ারদের প্রতি বিবেকানন্দের এতটাই আস্থা ছিল যে, নোবল ভারতে আসার পরে তাঁরা তাঁর সহকর্মী হতে পারেন বলেও বিবেকানন্দ মন্তব্য করেন।

“তাতে তোমার ও তাঁদের — উভয়েরই সুবিধা হবে।” — কোন্ প্রসঙ্গে লেখক এ কথা বলেছেন উল্লেখ করো।

প্রসঙ্গ – চিঠি রচনায় যেসব ইউরোপীয় এদেশে সমাজসেবার কাজ করতে এসেছেন, বিবেকানন্দ তাঁদের মধ্যে সেভিয়ার দম্পতির বিশেষ প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে এঁরাই একমাত্র ইংরেজ যাঁরা এদেশীয়দের ঘৃণা করেননি কিংবা এদের ওপর প্রভুত্ব দেখাতে চাননি। তবে এঁদের কোনো নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী নেই। তাই মিস নোবল এদেশে এলে এবং তাঁরা একত্রিত হলে দু-তরফেই কাজের সুবিধা হবে।

“তাঁদের সঙ্গে এলে তোমার পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে।” — যে পরিপ্রেক্ষিতে লেখকের এই মন্তব্য তা বিশ্লেষণ করো।

মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিত – মিস নোবলের ভারতে আগমনের কিছু পূর্বেই, পটভূমিতে বিবেকানন্দ জানতে পেরেছেন যে, তাঁর সেখানকার দুজন বন্ধু মিস ম্যাকলাউড এবং মিসেস বুলও আমেরিকা থেকে ইউরোপ হয়ে ভারতে আসছেন। এর মধ্যে মিস ম্যাকলাউড আবার নোবলের পূর্বপরিচিতা। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বিবেকানন্দ মনে করেছেন তাঁদের সঙ্গে এলে মিস নোবলের দীর্ঘ যাত্রাপথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘চিঠি’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

নবম শ্রেণী ইতিহাস - প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ,নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা