মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ – ভারতের জনসংখ্যা – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ের নাম “ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ”। এই অধ্যায়ে ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের বহুবিকল্পভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তরগুলি আগামী পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Table of Contents

ভারতের জনসংখ্যা- ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

মাধ্যমিক ভূগোলে ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং জনসংখ্যা উপস্থাপন করা হয়। এই বিষয়টি ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পার্থক্য বিশ্লেষণ করে। এই বিষয়টি ভারতের বিভিন্ন অংশে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। ভারতের প্রধান আর্থিক ক্ষেত্রগুলো যেমন কৃষি, শিল্প এবং পরিবহন উপস্থাপন করে এবং জনসংখ্যা উপস্থাপন করে।

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সম্প্রসারণ করেছে। দেশটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক খনিজ, সুষম জমি এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পন্ন। ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের মূল উদ্দেশ্য হল জনসংখ্যার উন্নয়ন, সুষম জমি ব্যবহার এবং উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব এবং প্রযুক্তি বিকাশ। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হচ্ছে, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং ব্যবস্থাপনা।

ভারতের জনসংখ্যার বৃদ্ধিশীলতা এবং সম্প্রসারণ অনেকটা দেশের প্রগতি ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। ভারতে জনসংখ্যার বেশিরভাগ মানুষ গ্রাম্য এলাকায় থাকেন এবং পরিবারের গড় আয় অনেকটা কম। এছাড়াও, ভারতে অনেক লোক অবসরপ্রাপ্ত হয় এবং বিভিন্ন রকম অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার সম্মুখীন।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন এমন প্রশ্নগুলি যেখানে আপনাকে কোন একটি বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। এই প্রশ্নগুলি সাধারণত বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ভারতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি আলোচনা করো।

অথবা, ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি কী কী?

বিগত কয়েকটি দশকে ভারতে জনসংখ্যা বেড়েছে অত্যন্ত দ্রুত হারে। এইভাবে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি হল —

  • উচ্চ জন্মহার – ভারতে জন্মহার খুব বেশি। 2011 সালে ভারতে জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে 24.8 জন। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য, কুসংস্কার, ধর্মের প্রভাব, বাল্য বিবাহ প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে ভারতে জন্মহার খুব বেশি।
  • মৃত্যুহার কমে যাওয়া – বিগত কয়েক দশকে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার কল্যাণে ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় মৃত্যুহার যথেষ্ট পরিমাণে কমে গেছে। এ ছাড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হওয়ায় দুর্ভিক্ষ, খরা বা বন্যাপীড়িত অঞ্চলে মহামারি ও অনাহারজনিত মৃত্যুর সংখ্যাও যথেষ্ট কমেছে। মৃত্যুহার কমে যাওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। 2011 সালে ভারতে মৃত্যুহার ছিল প্রতি হাজারে মাত্র ৪ জন।
  • বিপুল সংখ্যায় শরণার্থীদের আগমন – দেশ বিভাগের পরবর্তী দশকগুলিতে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিপুল সংখ্যায় শরণার্থী ভারতে চলে আসায় এখানকার জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
  • অর্থনৈতিক মানোন্নয়নের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি – বিগত কয়েক দশকে দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্প-ব্যবস্থার বিকাশ প্রভৃতি ভারতবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সাহায্য করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস অনেক ক্ষেত্রে জীবন ও ধনসম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করেছে। এগুলি পরোক্ষভাবে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে।

হিমাচল প্রদেশ কেন বিরল জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্গত?

ভারতের অন্যতম বিরল জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্গত একটি রাজ্য হল হিমাচলপ্রদেশ। 2011 সালের জনগণনা অনুসারে সমগ্র রাজ্যটির লোকসংখ্যা মাত্র 68 লক্ষ 56 হাজার 509 এবং লোকসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র 123 জন। রাজ্যটিতে এরূপ বিরল জনবসতির কারণগুলি হল —

  • বন্ধুর ও পর্বতময় ভূপ্রকৃতি – এখানকার অধিকাংশ এলাকা বন্ধুর ও পর্বতময়, কৃষিযোগ্য ভূমি খুবই কম। ফলে কৃষিকাজে বিশেষ অসুবিধা হয়।
  • অনুর্বর মৃত্তিকা – ঢালু ভূমিরূপের জন্য বেশিরভাগ জায়গায় মৃত্তিকা অগভীর এবং অনুর্বর। ফলে এই মৃত্তিকায় ফসল ভালো হয় না।
  • শীতল জলবায়ু – এখানকার জলবায়ু, বিশেষত শীতকালীন আবহাওয়া জীবনধারণের ক্ষেত্রে ভীষণ অনুপযুক্ত।
  • শিল্পের কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাব – খনিজ কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাবে এখানে শিল্পের বিকাশ সম্ভব হয়নি।
  • অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা – অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য রাজ্যটি বিরল জনবসতি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা সম্বন্ধে আলোচনা করো।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রাক্-স্বাধীনতা যুগে যথেষ্ট কম ছিল, কিন্তু স্বাধীনোত্তর যুগে জনসংখ্যা অতি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়। ভারতের মোট জনসংখ্যা 1901 থেকে 1951 সালের মধ্যে 23.84 কোটি থেকে বেড়ে হয় 36.11 কোটি। অর্থাৎ বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে জনসংখ্যা বাড়ে মাত্র 12.27 কোটি। এই সময় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও ছিল খুব কম, দশক পিছু সর্বনিম্ন – 0.31 শতাংশ (1911-1921) থেকে সর্বোচ্চ 14.22 শতাংশ (1931-1941)। এরপর ভারতের মোট জনসংখ্যা 1951 থেকে 2001 সালের মধ্যে 36.11 কোটি থেকে বেড়ে 102.9 কোটিতে পৌঁছোয়। অর্থাৎ, পরের অর্ধে জনসংখ্যা বাড়ার পরিমাণ ছিল অবিশ্বাস্যরকম বেশি, প্রায় 66.89 কোটি। এই সময়ের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও ছিল খুবই বেশি। দশক পিছু সর্বনিম্ন 21.64 শতাংশ ( 1951-1961 ) থেকে সর্বোচ্চ 24.66 শতাংশ ( 1971-1981)। 2001 – 2011 সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা 18.15 কোটি বেড়েছে। এর ফলে ভারতের মোট জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে 121.02 কোটি। এই সময়ের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল 17.64 শতাংশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, 1991 থেকে 2001 সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা যতটা বেড়েছে, তা পাকিস্তানের (বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বাধিক জনবহুল দেশ) মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এ থেকে খুব সহজেই বোঝা যায়, ভারতের জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি

ভারতে অতি ঘনবসতির কারণগুলি উল্লেখ করো।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ (চিন প্রথম )। 2011 সালের জনগণনা অনুসারে ভারতের জনসংখ্যা প্রায় 121 কোটি 2 লক্ষ (জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে 382 জন)। ভারতে অতি ঘনবসতির কারণগুলি হল —

  • সমতল ভূপ্রকৃতি – উত্তর ভারতের সমভূমি এবং উপকূলীয় সমভূমি কৃষি, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্পে উন্নত। তাই ওইসব অঞ্চলে অধিক ঘনবসতি দেখা যায়।
  • অনুকূল জলবায়ু – ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত বলে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত উভয়ই মধ্যম প্রকৃতির। এই ধরনের জলবায়ু কৃষি উৎপাদন ও শিল্পস্থাপনের পক্ষে আদর্শ। তাই এই অঞ্চলগুলিতে জনবসতির আধিক্য দেখা যায়।
  • উর্বর মৃত্তিকা – ভারতের সমভূমি অঞ্চলগুলি পলিগঠিত বলে মৃত্তিকা খুবই উর্বর প্রকৃতির। তাই কৃষিসমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলিতে খুব ঘন জনবসতি দেখা যায়।
  • জলের প্রাচুর্য – ভারতের প্রধান প্রধান নদীগুলি থেকে জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, মৎস্যচাষ, জলপথ পরিবহণ প্রভৃতি নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়। তাই নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে ঘন জনবসতি লক্ষ করা যায়।
  • অর্থনৈতিক কারণ – খনিজ সম্পদে পূর্ণ অঞ্চলগুলিতে এবং শিল্পকেন্দ্র বা শিল্পাঞ্চলে জীবিকার্জনের সুযোগসুবিধায় ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে।

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনবণ্টনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনবণ্টনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল —

  • ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ (জনসংখ্যা 19 কোটি 95 লক্ষ)।
  • সবচেয়ে জনবিরল রাজ্য সিকিম (জনসংখ্যা 6 লক্ষ ৪ হাজার)।
  • জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লির জনসংখ্যা 1 কোটি 68 লক্ষ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির জনসংখ্যা 12 লক্ষ 44 হাজার।
  • পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ জনবহুল রাজ্য (জনসংখ্যা 9 কোটি 13 লক্ষ)।
  • ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাস করে গঙ্গা সমভূমি অঞ্চলে, যা ভারতের মোট ভৌগোলিক আয়তনের মাত্র এক-নবমাংশ।
  • ভারতের রাজস্থানের মরু অঞ্চল ও হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল সর্বাপেক্ষা জনবিরল।
  • ভারতে মোট জনসংখ্যার প্রায় 31.2 শতাংশ শহরে এবং বাকি 68.8 শতাংশ গ্রামে (2011) বাস করে।

পাওয়া যায়, তাকে জনঘনত্ব (density of population) বলে।

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • প্রতি বর্গকিমিতে ভারতের জনঘনত্ব 382 জন।
  • রাজ্যগুলির মধ্যে বিহারের জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি — 1102 জন প্রতি বর্গকিমিতে।
  • রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে কম জনঘনত্ব দেখা যায় অরুণাচল প্রদেশে – 17 জন প্রতি বর্গকিমিতে।
  • কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনঘনত্ব দেখা যায় দিল্লিতে (জাতীয় রাজধানী অঞ্চ — প্রতি বর্গকিমিতে 11297 জন। অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে চণ্ডীগড়ের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে 9252 জন এবং সবচেয়ে কম জনঘনত্ব দেখা যায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (প্রতি বর্গকিমিতে 46 জন)।

অরুণাচল প্রদেশের জনঘনত্ব কম কেন?

ভারতের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের জনবসতির ঘনত্ব সবথেকে কম। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে 17 জন লোক বসবাস করে। এই রাজ্যটির জনঘনত্ব এরূপ কম হওয়ার পিছনে বেশ কিছু প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ বর্তমান। যেমন —

  • বন্ধুর ও পর্বতময় ভূপ্রকৃতি – এখানকার বেশিরভাগ ভূমিই বন্ধুর এবং পর্বতময়। ফলে যে-কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কাজকর্ম গড়ে তুলতে অসুবিধা হয়।
  • অনুর্বর মৃত্তিকা – পর্বতময় ঢালু ভূপ্রকৃতির জন্য বেশিরভাগ জায়গায় মৃত্তিকা অগভীর এবং অনুর্বর। ফলে কৃষিকাজ ভালো হয় না।
  • প্রতিকূল জলবায়ু – এখানকার জলবায়ু শীতল এবং আর্দ্র প্রকৃতির। এই আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে জলবায়ু জীবনধারণের জন্য অনুপযুক্ত।
  • গভীর অরণ্য – এখানকার ভূমির বেশিরভাগ অংশই গভীর অরণ্যে ঢাকা। গভীর অরণ্য মানুষের জীবনযাত্রায় প্রতিকূল প্রভাব ফেলে।
  • শিল্পের কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাব – কৃষি- ভিত্তিক ও খনিজভিত্তিক কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাবে এখানে শিল্পের বিকাশ সম্ভব হয়নি।
  • অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা – এই অঞ্চলটি সড়ক কিংবা রেলপথ পরিবহণে তেমন উন্নত নয়। তেমনি বিমান ও জলপথে পরিবহণ ব্যবস্থাও খুবই অপ্রতুল।

জনঘনত্ব কাকে বলে?

ভূপৃষ্ঠের কোনো অঞ্চলের মানুষের বণ্টনগত তারতম্যের সূচক হল জনঘনত্ব। কোনো দেশ বা অঞ্চলের মোট জনসংখ্যাকে ওই অঞ্চলের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে যে অনুপাত সূত্র আকারে প্রকাশ করলে-

জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা /মোট জমির পরিমাণ

উদাহরণ – 2011 সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল 121.02 কোটি। ভারতের আয়তন 32.87 লক্ষ বর্গকিমি। সুতরাং ভারতের জনঘনত্ব = 121.02কোটি / 32.87 লক্ষ = 382 জন/বর্গকিমি।

হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল জনবিরল ভৌগোলিক কারণ ব্যাখ্যা করো।

হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিরল এবং অতিবিরল জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে 100 জনেরও কম। এই অঞ্চলটি জনবিরল হওয়ার কারণগুলি হল —

  • উঁচুনীচু পর্বতময় ভূপ্রকৃতি – হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময় ও বন্ধুর প্রকৃতির। মানুষের পক্ষে এখানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজকর্ম গড়ে তোলা অসুবিধাজনক।
  • অনুর্বর মৃত্তিকা – এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মৃত্তিকা অনুর্বর এবং অগভীর। তাই কৃষিকাজের পক্ষে উপযুক্ত নয়।
  • শীতল জলবায়ু – হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের শীতকালীন জলবায়ু জীবনধারণের পক্ষে সুবিধাজনক নয়।
  • অরণ্যের অবস্থান – এই অঞ্চলের 90% ভূমিই অরণ্যে ঢাকা থাকে। গভীর অরণ্য জীবনধারণ করার উপযুক্ত নয়।
  • অনুন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – বন্ধুর ভূপ্রকৃতির জন্য এখানে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একদমই উন্নত নয়। পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার জন্য অঞ্চলটি জনবিরল হওয়া স্বাভাবিক।
  • শিল্পের কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের অভাব – অঞ্চলটি বনজ ও বিভিন্ন খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। কিন্তু, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে ওই সম্পদগুলি সংগ্রহ করা যায় না। এ ছাড়া, অঞ্চলটিতে কৃষিকাজ বিশেষ না হওয়ায় কৃষিজ কাঁচামাল তেমন পাওয়া যায় না। শক্তিসম্পদেরও অভাব থাকায় শিল্পের বিকাশও সম্ভব হয়নি।

গাঙ্গেয় সমভূমি অত্যন্ত জনবহুল কেন?

গাঙ্গেয় সমভূমি ভারতের সবথেকে জনবহুল অঞ্চল। এখানকার গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে 500 জনের বেশি। যেসব কারণগুলির জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত জনবহুল সেগুলি হল —

  • সমতল ভূপ্রকৃতি – গাঙ্গেয় সমভূমিটিতে ভূমির বন্ধুরতা একেবারেই নেই। সমতল সমভূমি কৃষিকাজ, পরিবহণ ও শিল্পস্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
  • অনুকূল জলবায়ু – এই অঞ্চলটির উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত মধ্যম প্রকৃতির। এইরূপ জলবায়ু কৃষিকাজ ও অধিবাসীদের জীবনধারণের পক্ষে অনুকূল। 
  • উর্বর মৃত্তিকা – এখানকার মৃত্তিকা খুব উর্বর। এই মৃত্তিকায় ধান, গম, পাট, আখ, তৈলবীজসহ বিভিন্ন শস্যের উৎপাদন খুব বেশি হয়।
  • উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – ভূমি যথেষ্ট সমতল বলে সড়ক এবং রেল পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত। সমগ্র অঞ্চলটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থারও যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে যা অধিক জনবসতি গড়ে তোলার পক্ষে সহায়ক।
  • শক্তির প্রাচুর্য – এই অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এই শক্তি কেন্দ্রগুলি কৃষি ও শিল্পের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করেছে। যার কারণে সমগ্র অঞ্চলটি জনবহুল।

সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিরতা জনঘনত্বকে প্রভাবিত করে – ব্যাখ্যা করো।

কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব যেসব বিষয়গুলি দ্বারা প্রভাবিত হয় সেগুলির মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিরতা অন্যতম প্রভাবক।

  • সামাজিক অবস্থা – সামাজিক অবস্থা দ্বারা জনঘনত্বের তারতম্য প্রভাবিত হয়। সামাজিক অবস্থার প্রভাবগুলি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক এই দুই দিক থেকে আলোচনা করা যেতে পারে। ধর্মীয় কারণে বহিরাগতদের আগমনের ফলে জনঘনত্ব বেড়ে যায়। আবার সাংস্কৃতিক শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কারিগরি বিদ্যার উন্নতির সাথে নতুন নতুন সম্পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। তার ফলে জনঘনত্বও বৃদ্ধি পায়।
  • রাজনৈতিক স্থিরতা – 1947 সালে ভারত ভাগের পর পূর্ববঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, ভারতবর্ষে তখন তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কম ছিল। তাই পূর্ববঙ্গ থেকে বহু মানুষ সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় প্রবেশ করে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার জনঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যে অঞ্চল থেকে মানুষের আগমন ঘটে সেখানে জনঘনত্ব হ্রাস পায়। যেসব অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিরতা লক্ষ করা যায় সেখানে মানুষ বসবাসের জন্য চলে আসে। ফলে জনঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ভারতে মৃত্যুহার দ্রুত হ্রাস পাওয়ার কারণগুলি লেখো।

স্বাধীনতার আগে ভারতে মৃত্যুহার ছিল প্রতি হাজারে 30-এর কাছাকাছি অথবা তার বেশি। 2011 সালে তা কমে হয় 7 জন। ভারতে মৃত্যুহার দ্রুত হ্রাস পাওয়ার পিছনে কিছু কারণ বর্তমান। যেমন —

  • উন্নত চিকিৎসার সুবিধা – চিকিৎসার সুবিধা এবং আর্থিক সংগতির ওপর মৃত্যুহার অনেকাংশে নির্ভর করে। স্বাধীনতার পর ভারতে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটেছে। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি চিকিৎসা পরিসেবার মানও পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হয়েছে। 
  • উন্নত জীবনযাত্রার মান – মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনযাত্রার মানের অনেক উন্নতি ঘটেছে। ফলে ভারতীয়দের পক্ষে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।
  • শিক্ষা ও সচেতনতার প্রসার বৃদ্ধি – শিক্ষার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে।
  • কুসংস্কার দূর – মানুষের মধ্যে রোগ সম্পর্কে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর হচ্ছে। মানুষ ওঝা, গুনিনের পরিবর্তে ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছে।

ভারতে জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণ হিসেবে নদনদীর প্রভাব লেখো।

মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন হল জল। পৃথিবীর জনবসতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ বসতি পানীয় জলকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। কৃষিকাজে জলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রয়োজনমতো এবং সময়মতো জল পাওয়া খুব দরকার। এই কারণে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। ভারতের জনঘনত্বের বণ্টন লক্ষ করলে দেখা যায় উত্তর ভারতের গঙ্গা, সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র এবং দক্ষিণ ভারতের মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদী উপত্যকায় জনঘনত্ব বেশি। যেসব কারণে ভারতে নদী-উপত্যকা অঞ্চলে জনঘনত্ব বেশি দেখা যায়, সেগুলি হল —

  • নদী থেকে কৃষির জন্য জলসেচের সুবিধা আছে। 
  • নদী পরিবহণে সাহায্য করে।
  • নদী থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
  • নদী থেকে পানীয় জল পাওয়া যায়।
  • নদীকে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষ করা হয়।
  • নদী জলনিকাশের একটি অন্যতম মাধ্যম।
  • নদীর দুই তীরবর্তী পলিগঠিত অঞ্চল কৃষিকাজের অন্যতম সহায়ক।

ভারতে অধিক জন্মহারের কারণ কী?

ভারতে জন্মহার অধিক, অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত। 2011 সালের জনগণনা অনুসারে ভারতে জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে 21 জন। ভারতে অধিক জন্মহারের কারণ হল –

  • স্বল্প শিক্ষার হার – এই দেশে এখনও 26% মানুষ শিক্ষার আলো পায়নি। যার ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে সুচারুরুপে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
  • বাল্যবিবাহ – ছেলে বা মেয়েদের অল্প বয়সে বিবাহ হলে তাদের সন্তান ধারণক্ষমতার সময়সীমা অনেক বেশি হয়। ভারতে 18 বছর পূর্ণ হওয়ার অনেক আগেই বহু মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়।
  • ধর্মীয় কারণ – ধর্মীয় কারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণে নানাপ্রকার বিধিনিষেধ আরোপ করে।
  • মেয়েদের সামাজিক মর্যাদা – ভারতের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের সামাজিক মর্যাদা প্রায় থাকে না। তাই মেয়েরাও অনেক সময় পরিবারের চাপে জন্ম নিয়ন্ত্রণে উৎসাহিত হয় না।
  • সচেতনতার অভাব – ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার বেশ অভাব রয়েছে।
  • সরকারি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাব – এই দেশের সরকার জন্ম নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। অল্প কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তার সঠিক বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে।
  • উচ্চ মৃত্যুহার – উচ্চ মৃত্যুহারও পরোক্ষভাবে জন্মহার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভারতকে কি জনাকীর্ণ দেশ বলা যায়?

জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয় (চিন প্রথম)। 2011 সালের জনগণনা অনুসারে ভারতের জনসংখ্যা 121 কোটি 1 লক্ষ 93 হাজার 422 জন। ভারতে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার 17.5 শতাংশ লোক, অর্থাৎ প্রতি 6 জন বিশ্ববাসীর মধ্যে 1 জন ভারতীয়। অথচ বিশ্বের মোট স্থলভাগের মাত্র 2.42 শতাংশ ভূমি ভারতের। এ থেকে বোঝা যায়, ভারতের জনসংখ্যা খুবই বেশি বা আমাদের দেশে জমির ওপর জনসংখ্যার চাপ অত্যধিক। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, যদিও চিনের জনসংখ্যা (2011 সালে) প্রায় 134 কোটি, অর্থাৎ ভারতের তুলনায় 13 কোটি বেশি, কিন্তু আয়তনে চিন ভারতের প্রায় তিনগুণ। ভারতে যে কেবল মোট জনসংখ্যা বেশি তা নয়, ভারতের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও খুব বেশি (1.764%), যেখানে চিনের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র 0.5 শতাংশ। শুধু 2001 থেকে 2011—এই দশ বছরেই ভারতের জনসংখ্যা বেড়েছে 18 কোটিরও বেশি অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় 1 কোটি ৪০ লক্ষ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভারতে জমির ওপর জনসংখ্যার চাপ খুবই বেশি এবং ভারত প্রকৃতই অতি জনাকীর্ণ দেশ।

ভারতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রধান সমস্যাগুলি কী কী?

ভারতে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, যেমন —

  • খাদ্যদ্রব্যের অধিক মূল্য – ভারতে যেভাবে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটছে সেভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে না। তাই ভারতে ক্রমবর্ধমান খাদ্যদ্রব্যের মূল্য এদেশের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
  • বসবাসের সমস্যা – অধিক জনসংখ্যা এদেশে তীব্র আবাসন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য শহর-নগরে বসবাসের ব্যবস্থা করা খুব ব্যয় সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
  • বেকারত্ব – অর্ধশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে দেশে ততই বেকারত্বের পরিমাণ বাড়ছে। আমাদের দেশে কর্মহীনতা একটি বিরাট সমস্যা।
  • চিকিৎসা সমস্যা – জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ভারতে চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত একটি প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে। বহু লোক হাসপাতাল, নার্সিংহোমে স্থান না পেয়ে অথবা যথাযথ চিকিৎসার অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রাণত্যাগ করেন।
  • দারিদ্র্য – জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি ঠিক মতো না হলে দারিদ্রতা বাড়ে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে ধারণযোগ্য উন্নয়নের সম্পর্ক কতখানি?

ধারণযোগ্য উন্নয়ন হল সেই ধরনের উন্নয়ন যেখানে ভবিষ্যতে সব মানুষের চাহিদা মিটিয়েও দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ জড়িয়ে আছে। ধারণযোগ্য উন্নয়নের পাঁচটি উপাদান হল –

  • সামাজিক বিকাশ
  • অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  • সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি
  • বাস্তুতান্ত্রিক ক্রমোন্নতি এবং
  • ভৌগোলিক অবস্থার উন্নতি।

ভারতের মতো দেশে যেখানে দ্রুত জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে সেখানে যদি ধারণযোগ্য উন্নয়ন না করা যায় তবে অচিরেই এই বিপুল জনসংখ্যা চরম দারিদ্র্য এবং অপুষ্টিতে ভুগবে।
দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ধারণযোগ্য উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জল, বায়ু, শক্তি, বনভূমি, বাস্তুতন্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, পুষ্টির মতো বিষয়ের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। মানুষ কেবল সম্পদ ভোগই করে না তারা প্রচুর বর্জ্যও উৎপাদন করে। পৃথিবীতে যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে এভাবে চললে পরবর্তী পাঁচহাজার বছর পর মোট জনসংখ্যার ওজন পৃথিবীর ওজনের সমান হবে। যা পৃথিবীতে ঘটা অসম্ভব। 1951 সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় 36.11 কোটি। ওই ধান উৎপাদন হয়েছে 3.46 কোটি টন। গম 0.64 কোটি টন। সেচযুক্ত জমির পরিমাণ ছিল 2.7 কোটি হেক্টর। 2011.02 সালে ভারতের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে 121.02 কোটি। এসময় ধান উৎপাদন বেড়ে হয়েছে 15 কোটি টন, গম 8.68 কোটি টন এবং সেচযুক্ত জমির পরিমাণ 10.4 কোটি হেক্টর। অর্থাৎ জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি উৎপাদনও বেড়েছে। যাতে সকলের মুখে খাবার ওঠে। এটাও এক ধরনের ধারণযোগ্য উন্নয়ন।

মাধ্যমিক, ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ, এবং ভারতের জনসংখ্যা এই বিষয়গুলি ভারতের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। শিক্ষা পদ্ধতির দিক থেকে, মাধ্যমিক পর্যায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দফা, কারণ এটি তাদের উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের উপযোগীতা নির্ধারণ করে।

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ খুব জটিল, বিভিন্ন উপাদান এর উন্নয়ন এবং উন্নয়নের জন্য প্রভাব বিতরণ করে। যেহেতু শেষ কয়েকবছর ধরে ভারতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু এখনও আয়ের অসমতা, দারিদ্র্য, এবং বেকারত্ব পরিস্থিতি রয়েছে।

ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগগুলির বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, খনিজ সম্পদ, জনসংখ্যা, সংস্কৃতি প্রভৃতি কারণে গড়ে উঠেছে। এই বিভাগগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা রয়েছে।

ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগগুলির মধ্যে কৃষিকাজই প্রধান জীবিকা। কৃষিকাজে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক দেশ। ভারতের অর্থনীতিতে শিল্পের অবদানও উল্লেখযোগ্য। ভারতের শিল্পগুলির মধ্যে পাট, বস্ত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, রাসায়নিক, জাহাজ নির্মাণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন