মাধ্যমিক ইতিহাস – সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

দশম শ্রেণীর ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায়ের নাম সংঘব্ধতার গোড়ার কথা – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ। এই অধ্যায়ে আমরা শিখব সংঘব্ধতার ধারণা, সংঘব্ধতার বিভিন্ন রূপ, সংঘব্ধতার বৈশিষ্ট্য এবং সংঘব্ধতার বিশ্লেষণ।

Table of Contents

সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

সিপাহি বিদ্রোহ কাকে বলে?

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট ক্যানিং এর শাসনকালে উত্তর ও মধ্যভারতের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতীয় সিপাহিদের (সৈনিক) নেতৃত্বে ও উদ্যোগে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে – যা ইংরেজ শাসনের ভিতকে কাঁপিয়ে দেয়। এই বিদ্রোহকে সিপাহি বিদ্রোহ বলা হয়।

সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

এনফিল্ড রাইফেলের প্রবর্তন ছিল সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ। নতুন ধরনের এই বন্দুকের টোটা সিপাহিদের দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে ভরতে হত। গুজব রটে যায় যে, এই টোটার মধ্যে গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ধর্মনাশের ভয়ে হিন্দু মুসলিম সিপাহিরা এই রাইফেল ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। কিন্তু ইংরেজরা ভারতীয় সিপাহিদের দাবি না মানলে তারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ শুরু করে (১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে)।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহকে মহাবিদ্রোহ বলা হয় কেন?

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ সিপাহি বিদ্রোহ হিসেবে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা গণবিদ্রোহে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বভাবতই এই বিদ্রোহ শুধু সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই একে মহাবিদ্রোহ বলা হয়।

১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ কখনও কোথায় শুরু হয়?

আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়। তবে ১৮৫৭-র ১০ মে উত্তরপ্রদেশের মীরাট সেনাছাউনিতে প্রকৃতপক্ষে মহাবিদ্রোহ শুরু হয়।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির নাম লেখো।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির নাম হল — মীরাট, লখনউ, কানপুর, ঝাঁসি, আজমগড়, দিল্লি, জলন্ধর প্রভৃতি।

কোন্ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়?

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ব্যারাকপুর সেনাছাউনিতে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সেনা চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের জন্য ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর ঊর্ধ্বতন ইংরেজ অফিসারকে আক্রমণ করলে বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়। এই ঘটনাই সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা ঘটায়।

ঝাঁসির রানি বিখ্যাত কেন?

ঝাঁসি রাজ্য কোম্পানি অধিগ্রহণ করার প্রতিবাদে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই সিপাহি বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি মহাবিদ্রোহের একজন উল্লেখযোগ্য নেত্রী ছিলেন। তিনি যুদ্ধে অসম সাহস ও বীরত্ব দেখান। শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মুখ যুদ্ধে ১৭ জুন ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

ঝাঁসির রানি এবং নানাসাহেব কেন মহাবিদ্রোহে যোগদান করেছিলেন?

গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে –
ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈকে রাজ্যহারা করেন এবং পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও এর দত্তকপুত্র নানাসাহেবের রাজন্য ভাতা বন্ধ করে দেন। এসবের প্রতিবাদে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ ও নানাসাহেব মহাবিদ্রোহে যোগদান করেছিলেন।

মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার দুটি কারণ উল্লেখ করো।

মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার দুটি উল্লেখযোগ্য কারণ হল –
পরিকল্পনার অভাব অর্থাৎ বিদ্রোহ সংগঠন ও – প্রসার সাধনের জন্য বিদ্রোহীদের মধ্যে পরিকল্পনার অভাব ছিল। সিপাহি বা জনগণের কাছে বিদ্রোহী নেতারা কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরতে পারেনি। এ ছাড়া এই বিদ্রোহ মূলত উত্তর ও মধ্যভারতের দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল।

মহাবিদ্রোহের পর থেকে ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেলকে কেন ভাইসরয় বলা হত?

১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ওপর অর্পিত হয়। এই কারণে মহাবিদ্রোহের পর থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধি হিসেবে ভাইসরয় এর পদ তৈরি হয় এবং গভর্নর জেনারেল কে ভাইসরয় বা রাজ প্রতিনিধি বলা হত।

১৮৫৭-র বিদ্রোহ প্রথম কোথায় শুরু হয় ও পরে কোন্ কোন্ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে?

১৮৫৭-র বিদ্রোহ কলকাতার ব্যারাকপুরে শুরু হয় (২৯ মার্চ) এবং ক্রমে তা মীরাট, বেরিলি, অযোধ্যা, কানপুর, দিল্লি, গোয়ালিয়র, ঝাঁসি, জগদীশপুর, গোরক্ষপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। গোটা উত্তর ভারত ও মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল।

১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের কয়েকজন নেতা – নেত্রীর নাম উল্লেখ করো।

১৮৫৭ -র মহাবিদ্রোহের কয়েকজন নেতা-নেত্রীর নাম — ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, পেশোয়ার দত্তকপুত্র নানাসাহেব ও তাঁর সহচর তাঁতিয়া টোপী, বিহারের জগদীশপুরে কুনওয়ার সিং, দিল্লিতে বরখত খান, অযোধ্যায় বেগম হজরত মহল, আসামে, মনিরাম দেওয়ান প্রমুখ।

কোন্ কোন্ ইংরেজ সেনাপতি মহাবিদ্রোহ দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল?

ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার জন লরেন্স, স্যার • হেনরি লরেন্স, আউটরাম, হ্যাভলক, ক্যাম্পবেল, হিউরোজ, নীল প্রমুখ ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ দমনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল।

কাকে Clemency Canning বলা হত?

ভারতের গভর্নর জেনারেল ক্যানিং বিদ্রোহ দমনের পর শত শত বিদ্রোহীকে প্রাণদণ্ড এবং বিদ্রোহীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেন। তবুও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ইংল্যান্ডের বহু ইংরেজ ব্যঙ্গ করে ক্যানিংকে Clemency Canning’ (দয়ার অবতার) বলত।

১৮৫৮-র বিদ্রোহের চরিত্র কীরূপ ছিল?

ভারতীয় সিপাহিরা মহাবিদ্রোহ শুরু করলেও উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জনগণও তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছিল। ভারতীয়দের অধিকাংশই মনে প্রাণে ইংরেজ বিতাড়ন চেয়েছিল। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ছিলেন তাদের ঐক্যের প্রতীক। এই সমস্ত কারণে ১৮৫৭-র বিদ্রোহকে জাতীয় বিদ্রোহ বলাই যুক্তিযুক্ত।

১৮৫৭-র বিদ্রোহকে কি সিপাহি বিদ্রোহ বলা সংগত?

১৮৫৭-র বিদ্রোহ শুরু করেছিল ইংরেজ কোম্পানির ভারতীয় সিপাহিরা। কিন্তু পরবর্তীকালে উত্তর ও মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ এলাকার জনগণ ব্যাপকভাবে এই বিদ্রোহে শামিল হয়। এমনকি কয়েকটি স্থানে সিপাহিরা বিদ্রোহ না করলেও জনগণ বিদ্রোহ করেছিল। তাই এই বিদ্রোহকে শুধুমাত্র সিপাহি বিদ্রোহ বলা যায় না।

১৮৫৭-র বিদ্রোহকে সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া বলা হয় কেন?

১৮৫৭-র বিদ্রোহে কিছু রাজ্যচ্যুত সামন্তরাজা ও ভূমিচ্যুত জমিদার ও তালুকদার নেতৃত্ব দিয়েছিল। এদের লক্ষ্য ছিল হৃত রাজ্য ও জমিদারি পুনরুদ্ধার। সামন্তশ্রেণির এই প্রয়াসকে বামপন্থী চিন্তাবিদ রজনীপাম দত্ত রক্ষণশীল ও সামন্ততান্ত্রিক শক্তিগুলির অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন।

১৮৫৭-র বিদ্রোহকে ভারতে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা হয় – কেন?

১৮৫৭-র বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী বিদ্রোহীরা মনে প্রাণে ইংরেজ বিতাড়ন চেয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক একসঙ্গে লড়েছিল এবং দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট বলে মেনে নিয়েছিল। ইংরেজ বিরোধী এত ব্যাপক আন্দোলন ভারতে আর হয়নি বলে প্রখ্যাত বিপ্লবী বিনায়ক দামোদর সাভারকার এই বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

১৮৫৭-র বিদ্রোহকে জাতীয় সংগ্রাম/জাতীয় বিদ্ৰোহ বলা কতটুকু যুক্তি সংগত?

১৮৫৭-র বিদ্রোহের স্পষ্ট উদ্দেশ্য ও সর্বভারতীয় চরিত্র না থাকলেও ভারতের এক বৃহদাংশের নানা শ্রেণির জনগণ ও সিপাহিরা একযোগে লড়ে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল। এর পাশাপাশি তারা বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট বলে ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহে জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য না থাকলেও এই বিদ্রোহ জাতীয় বিদ্রোহের চরিত্রলাভ করেছে।

মহাবিদ্রোহ দমনে সাহায্য করেছিল এমন কয়েকটি দেশীয় শক্তির নাম লেখো।

মহাবিদ্রোহ দমনে ইংরেজদের সাহায্য করেছিল। এমন কয়েকটি দেশীয় শক্তির নাম হল – গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া, কাশ্মীরের মহারাজা, হায়দ্রাবাদের নিজাম, যোধপুরের রাজা, গুখী নেতা, জং বাহাদুর প্রমুখ।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর দেশীয় রাজাদের সঙ্গে ইংরেজরা কীরূপ সম্পর্ক গড়ে তোলে?

মহাবিদ্রোহের আগে দেশীয় রাজাদের মনে উত্তর ইংরেজদের প্রতি যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল তা দূর করার জন্য মহারানির ঘোষণাপত্রে স্বত্ববিলোপ নীতি রদ করা হয় এবং সরকার ভারতে আর রাজ্যবিস্তার করবে না বলে। ঘোষণা করে। তা ছাড়া দেশায় রাজা ও জমিদারদের নানারকম খেতাব (যেমন — রায়বাহাদুর, রায়সাহেব) দান করে সরকারের অনুগত রাখার চেষ্টা করা হয়।

মহাবিদ্রোহের গতিধারার মধ্যে হিন্দু-মুসলমান যে ঐক্যের রূপ ফুটে উঠেছিল তা লেখো।

মহাবিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছিল। বস্তুত উভয় সম্প্রদায়ের মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বিদ্রোহ এত তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সম্রাট বাহাদুর শাহকে ভারতের নেতা বলে স্বীকার করতে আপত্তি করেনি। তিনিই ছিলেন হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের প্রতীক। হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির অন্যতম দৃষ্টান্তরূপে, যেখানেই বিদ্রোহ সফল হয়, সেখানেই গো হত্যা বন্ধ করা হয়েছিল।

১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহকে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যায় না কেন?

প্রখ্যাত বিপ্লবী বিনায়ক দামোদর সাভারকার ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু রমেশচন্দ্র মজুমদার ও সুরেন্দ্রনাথ সেন এই মতকে অস্বীকার করে বলেছেন যে,
জনগণের অংশগ্রহণ সর্বত্র সমানভাবে ঘটেনি
মারাঠা, রাজপুত, শিখ, গোর্খা প্রভৃতি জাতি বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল|
সেসময় জাতীয় চেতনার উন্মেষ হয়নি
বিদ্রোহীরা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিদ্রোহ করেছিল-জাতীয় স্বার্থে নয়। ভাই এই বিদ্রোহকে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যায় না।

অযোধ্যায় গণবিদ্রোহের চেহারা কেমন ছিল?

অযোধ্যায় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ তীব্র আকার ধারণ করে। এখানকার তালুকদারগণের সঙ্গে কৃষক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে এই বিদ্রোহকে গণবিদ্রোহে পরিণত করে। একটি পরিসংখ্যানে জানা যায় যে, একমাত্র অযোধ্যাতেই ইংরেজদের সঙ্গে সংগ্রামে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ নিহত হয়। তার মধ্যে এক লক্ষ মানুষই ছিল অসামরিক ব্যক্তি। এ থেকেই অযোধ্যার গণ বিদ্রোহের স্বরূপ পরিস্ফুটিত হয়।

মহারানির ঘোষণাপত্র কী?

১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মহারানি ভিক্টোরিয়া ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন। মহারানির প্রতিনিধিস্বরূপ ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত এক দরবারে যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন (১ নভেম্বর, ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) তা মহারানির ঘোষণাপত্র নামে পরিচিত। এই ঘোষণাপত্রকে ‘ভারতের উদারনৈতিক শাসনের প্রতীক’ বলা হয়।

কে, কবে এবং কোথায় মহারানির ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করেন?

গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং, ১ নভেম্বর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদে এক দরবারে (মহারানির প্রতিনিধি হিসেবে) মহারানির ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করেন।

ভারত শাসনের ক্ষেত্রে বণিক সুলভ বাণিজ্যিক মনোভাবের পরিবর্তে কীভাবে আধুনিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সূত্রপাত ঘটে?

ভারতের শাসন পরিচালনার জন্য ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক সভা ও বোর্ড অব কন্ট্রোলের হাতে যে ক্ষমতা ছিল তা ভারত সচিব (Secretary of State for Indian) নামে ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার এক সদস্যের তত্ত্বাবধানে ১৫ জন সদস্য বিশিষ্ট এক পরিষদকে দেওয়া হয়। ভারত সচিব এই পরিষদের আহ্বায়ক হলেন। এইভাবে বণিকসুলভ বাণিজ্যিক মনোভাবের পরিবর্তে আধুনিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সূত্রপাত ঘটে।

১৮৫৮-র ভারত শাসন আইনে কী বলা হয়?

১৮৫৮-র ভারত শাসন আইনের দ্বারা রানি ভিক্টোরিয়া ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারত শাসনের ভার গ্রহণ করেন। ঠিক হয়, একজন ভারত সচিব একটি পরিষদের সাহায্যে ভারতের গভর্নর জেনারেলের শাসন কার্যের তদারক করবেন। এই আইনে বলা হয় যে, আর কোনো দেশীয় রাজ্য গ্রাস করা হবে না এবং যোগ্য ভারতীয়দের উচ্চপদে নিয়োগ করা হবে।

উনিশ শতককে সভা সমিতির যুগ (Age of Association) বলে অভিহিত করা হয় কেন?

জাতীয় চেতনা উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয়দের মধ্যে দেশাত্মবোধের ধারণা জাগ্রত হয় এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য ভারতীয়রা সংঘবদ্ধ আন্দোলনের তাগিদ অনুভব করে। এই উপলব্ধি থেকেই উনিশ শতকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু রাজনৈতিক সভাসমিতি গড়ে ওঠে। এই কারণে অধ্যাপক অনীল শীল উক্ত সময়কালকে সভাসমিতির যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা কবে, কাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে?

বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে, গৌরীশংকর তর্কবাগীশ, ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত, হরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসন্ন কুমার ঠাকুর এবং টাকির মুনশি কালীনাথ রায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠে।

বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার লক্ষ্য কী ছিল?

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করাই ছিল এই সভার প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে পরবর্তীকালে এই সভা রাজনৈতিক সংস্থায় পরিণত হয়। এই সময় বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বা কার্যাবলি ভারতবাসীর কতটা হিতসাধন বা ক্ষতি করতে পারে তা পর্যালোচনা করা।

জমিদার সভা কারা, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

রাজা রাধাকান্তদেব, দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্ন কুমার ঠাকুরের উদ্যোগে ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে (১২ নভেম্বর) জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

জমিদার সভা কেন গঠিত হয়?

জমিদারদের স্বার্থ দেখার পাশাপাশি কৃষক প্রজার স্বার্থ ও দাবি দাওয়া পূরণের লক্ষ্যে জমিদার সভা গঠিত হয়। তা ছাড়া সরকার যাতে রাজস্ব মুক্ত জমিগুলিকে খাস দখল হিসেবে গ্রহণ করতে না পারে তার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালানোও ছিল এই সভার অন্যতম লক্ষ্য। এই সভাকে ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের অগ্রদূত বলা যায়।

কত খ্রিস্টাব্দে কার নেতৃত্বে এবং কোথায় ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠিত হয়?

১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে, উইলিয়াম অ্যাডাম-এর নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠিত হয়।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠনের উদ্দেশ্যগুলি হল — চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের দাবি জানানোর পাশাপাশি ভারতীয়দের অবস্থার উন্নতি, পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের সংস্কার সাধনের দাবি জানানো।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি কারা, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা টমসন, দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রমুখ ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ‘বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি’ গঠন করেন।

বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠনের লক্ষ্য কী ছিল?

সকল শ্রেণির ভারতবাসীর কল্যাণ সাধন এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারগুলিকে সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠন করা হয়।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কবে, কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। জমিদার সভা ও বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি মিলিত হয়ে জন্ম নেয় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। এই সমিতি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল — শিক্ষা, শাসনসংস্কার বিচারব্যবস্থা, ভারতবাসীর সম্পদ রক্ষা করা, সরকারি উচ্চপদে ভারতীয়দের নিয়োগ প্রভৃতি দাবি দাওয়া তুলে ধরা।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি ও প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন রাজা রাধাকান্তদেব এবং প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর।

কাদের উদ্যোগে এবং কী উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়ান লিগ (১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ) গঠিত হয়?

শিশিরকুমার ঘোষ, হেমন্তকুমার ঘোষ ও কৃ মোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান লিগ (Indian League) গঠিত হয়। ভারতীয় জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও রাজনৈতিক সচেতনতা জাগ্রত করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

ভারত সভা করে, কাদের উদ্যোগে গঠিত হয়?

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের উদ্যোগে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (২৬ জুলাই) ভারত সভা গঠিত হয়।

ভারত সভার লক্ষ্যগুলি কী ছিল?

ভারত সভার লক্ষ্যগুলি হল –
দেশে শক্তিশালী জনমত গঠন করা,
ভারতের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একতা বোধ গড়ে তোলা
হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং
জনগণকে ব্রিটিশ বিরোধী গণ আন্দোলনে শামিল করা।

কাদের নেতৃত্বে এবং করে হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠিত হয়?

নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসুর যৌথ উদ্যোগে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

হিন্দুমেলা গঠনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?

হিন্দুমেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বদেশ প্রেম জাগ্রত করে জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করে তোলা। জাতীয়তাবাদী নেতা বিপিনচন্দ্র পালের মতে, নবগোপাল মিত্রের কাছেই আমরা জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা পেয়েছিলাম। সামাজিক কল্যাণমূলক আদর্শের প্রসার ঘটনো এবং দেশীয় পণ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে জাতির উন্নতিসাধন করাও ছিল হিন্দুমেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

থিওসোফিক্যাল সোসাইটি সম্বন্ধে কী জানো?

১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে হেনরি অলকট ও ম্যাডাম ব্লাভস্কি নিউইয়র্কে এই সংস্থাটি গড়ে তোলেন এবং ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজের আদিয়ারে-এর প্রধান কর্মকেন্দ্র খোলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম ও সংস্কৃতির পূর্ণ জাগরণ ঘটিয়ে দেশবাসীকে বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা।

প্রাক্-কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনগুলির নাম লেখো।

প্রাক্-কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনগুলি হল — পুনা সার্বজনিক সভা (১৮৬৭ খ্রি:), ভারত সভা (১৮৭৬ খ্রি:), মাদ্রাজ মহাজন সভা (১৮৮৪ খ্রি:), বোম্বাই প্রেসিডেন্সি সভা (১৮৮৫ খ্রি:)।

লর্ড লিটন প্রবর্তিত দুটি প্রতিক্রিয়াশীল আইন কী ছিল?

লর্ড লিটন প্রবর্তিত দুটি প্রতিক্রিয়াশীল আইন হল –
ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বা দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন এবং
অস্ত্র আইন (Arms Act)
ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট (Vernacular Presse Act) বা মাতৃভাষা

সংবাদপত্র আইন কবে প্রবর্তন করা হয়? এই আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট প্রবর্তন করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলির কণ্ঠরোধ করা

অস্ত্র আইন কবে প্রবর্তন করা হয়? এই আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ত্র আইন প্রবর্তন করা হয়। ভারতীয়দের নিরস্ত্র রাখাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

ইলবার্ট বিল কী?

১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কোনো ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয়দের বিচার করতে পারতেন না। লর্ড রিপন বিচারব্যবস্থায় জাতিভেদমূলক বৈষম্য দূর করার জন্য তাঁর আইন পরিষদের সদস্য ইলবার্টকে একটি দলিল বিল তৈরি করতে বলেন। এতে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় বিচারকদের সমান ক্ষমতা দিয়ে ইলবার্ট যে বিল রচনা করেন (১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে) তা ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।

ইংরেজরা কেন ইলবার্ট বিল মানতে পারল না?

লর্ড রিপন ভারতীয় বিচারকদের হাতে ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা দিয়ে ইলবার্ট বিল আনেন। কিন্তু ইউরোপীয়রা এই বিল মানতে রাজি ছিলেন না, কারণ ভারতীয়দের কাছে বিচার প্রার্থী হতে তাদের আত্মাভিমানে আঘাত লাগত। তাই তারা ইলবার্ট বিল মানতে অস্বীকার করে।

ইলবার্ট বিল আন্দোলনের ফল কী হয়েছিল?

ভারত ও ইংল্যান্ডে ইউরোপীয়রা ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে লর্ড রিপন এর কিছু পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। স্বভাবতই ইলবার্ট বিল আন্দোলন প্রমাণ করে যে, আন্দোলন না করলে কোনো কিছু আদায় করা যায় না। এই আন্দোলনের ফলে ভারতীয়রা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্স বা জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন।

ইলবার্ট বিল বিতর্ক থেকে ভারতীয়রা কী শিক্ষালাভ করেছিল?

ইলবার্ট বিল বিতর্ক থেকে —
ইংরেজ শাসনের প্রতি ভারতীয়দের মোহভঙ্গি ঘটে
ইংরেজ শাসনের বৈষম্যমূলক চরিত্র সম্পর্কে ভারতীয়রা সচেতন হয়ে ওঠে এবং
তারা সংঘবদ্ধ আন্দোলনের শিক্ষালাভ করে।

ভারত সভা কোন্ কোন্ ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল?

ভারত সভা সিভিল সার্ভিস আইন, সংবাদপত্র আইন, অস্ত্র আইন, ইলবার্ট বিল প্রভৃতি পক্ষপাতমূলক ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল।

জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ?

জাতীয়তাবাদ হল একটি ভাবগত ধারণা। ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি যে-কোনো একটি কারণে যখন একটি দেশের আপামর জনসমাজের মধ্যে গভীর একাত্মবোধ জন্মায় এবং এই জনসমাজের প্রত্যেক অংশ যখন একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঙ্গে দেশপ্রেম মিলিত হয়ে একটি রাজনৈতিক আদর্শ গড়ে ওঠে — যা জাতীয়তাবাদ নামে পরিচিত।

ঊনবিংশ শতকের প্রথমে জনসভার গুরুত্ব কী ছিল?

ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে জনমত প্রকাশের জন্য জনসভার আয়োজন শুরু হয়। জনসভার মাধ্যমে নানা প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি তুলে ধরা হয়, যেমন — ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবশ্যিক শিক্ষার ব্যবস্থা, সরকারি চাকুরির ভারতীয়করণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার প্রভৃতি।

কে, কোথায় এবং কবে সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন?

ভারতীয় জনমতকে সুগঠিত ও জোরদার করার উদ্দেশ্যে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জাতীয় সম্মেলন (National Conference) আহ্বান করেন।

জাতীয় সম্মেলন (National Conference) কেন আহ্বান করা হয়েছিল?

ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সংঘবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্যে ভারতীয় নেতারা উপলব্ধি করেন যে, একমাত্র সংঘবদ্ধ আন্দোলনের দ্বারাই ব্রিটিশ সরকারের নীতিকে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে। তাই ভারতীয় জনগণকে সংঘবদ্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি সর্বভারতীয় সংগঠন গড়ে তোলার জন্য ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করেছিলেন। এই সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সম্মেলনকে জাতীয় কংগ্রেসের পূর্বসূরি বলা হয়।

জাতীয় সম্মেলনের কর্মসূচিগুলি কী কী ছিল?

জাতীয় সম্মেলনে সর্বভারতীয় ভিত্তিতে ভারতবাসীর দাবিগুলিকে তুলে ধরা হয়। আইন সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি গ্রহণ, বিচারবিভাগ থেকে শাসনবিভাগের পৃথকীকরণ, অস্ত্র আইনের রহিতকরণ, সামরিক ও প্রশাসনিক বিভাগের সংস্কার প্রভৃতি জাতীয় দাবিমূলক প্রস্তাব এই সম্মেলনে গৃহীত হয়।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা ছিল সভা – সমিতি যুগের চরম পর্যায়। যার অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আত্মপ্রকাশ করে। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

আনন্দমঠ কে রচনা করেন? এই গ্রন্থের মূল উপদেশ কী?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আনন্দমঠ রচনা করেন। এই গ্রন্থের মূল উপদেশ হল – স্বদেশপ্রেমই হল শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
সংঘবদ্ধতা ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। প্রাচীন ভারত থেকেই সংঘবদ্ধতার ঐতিহ্য চলে আসছে। আধুনিক বিশ্বে সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই ভারতের উচিত সংঘবদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করা।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন