এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদী উপত্যকা কাকে বলে? নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “নদী উপত্যকা কাকে বলে? নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

নদী উপত্যকা কাকে বলে?
দুই উচ্চভূমির মধ্যবর্তী দীর্ঘ ও সংকীর্ণ নিম্নভূমিকে বলা হয় উপত্যকা। আর সেই সংকীর্ণ নিম্নভূমির মধ্যে দিয়ে যখন নদী প্রবাহিত হয়, তখন তাকে বলা হয় নদী উপত্যকা। অর্থাৎ নদী যে অংশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে নদী উপত্যকা বলে।
হিমবাহ উপত্যকা কাকে বলে?
হিমবাহ উপত্যকা হলো হিমবাহের ক্ষয়কারী কাজের ফলে সৃষ্ট U-আকৃতির উপত্যকা, যেখানে উপত্যকার তলদেশ চওড়া ও মসৃণ এবং পার্শ্বদেশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়। হিমবাহের নিচে জমা শিলা ও পলি সরে যাওয়ার ফলে নদী দ্বারা সৃষ্ট V-আকৃতির উপত্যকা ধীরে ধীরে U-আকৃতির হিমবাহ উপত্যকায় রূপান্তরিত হয়। হিমবাহের চলাচলের সময় এর নিচের শিলা ও মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই বিশেষ আকৃতি তৈরি করে।
নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য –
| বিষয় | নদী উপত্যকা | হিমবাহ উপত্যকা |
| অবস্থান | মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। | কেবলমাত্র বরফে ঢাকা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। |
| আকৃতি | পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি ‘I’ বা সরু ‘V’ আকৃতির হয় এবং সমভূমিতে ক্রমশ অগভীর ও প্রশস্ত বা চওড়া হয়। | সর্বদাই হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো হয়। |
| প্রস্তরখণ্ডের আকৃতি | নদী উপত্যকায় ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট পাথর খন্ডগুলির আকৃতি গোলাকার ও মসৃণ হয়। | হিমবাহ উপত্যকায় ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট পাথরখণ্ড গুলির কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না এবং আকৃতিতে এরা অমসৃণ ও এবড়ো খেবড়ো হয়। |
| ভূমিরূপের পার্থক্য | নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। | হিমবাহের সঞ্চয়কাজের ফলে হিমবাহ উপত্যকায় গ্রাবরেখা, ড্রামলিন, ক্রাগ অ্যান্ড টেল, কেম প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। |
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদী উপত্যকা কাকে বলে? নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “নদী উপত্যকা কাকে বলে? নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment