এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন বেশি করে কিন্তু নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ অধিক করে – কারণ লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন বেশি করে কিন্তু নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ অধিক করে – কারণ লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন বেশি করে কিন্তু নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ অধিক করে – কারণ লেখো।
নদী উৎস অঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলে তার উচ্চগতি সম্পন্ন করে। মালভূমি অঞ্চলে স্বল্প ক্ষয় ও বহন কার্য সম্পন্ন করে এবং সমভূমি অঞ্চল বা বদ্বীপ অঞ্চলে নিম্নগতি সম্পন্ন করে। উচ্চগতিতে মূলত নদী ক্ষয়কাজ ও বহন কাজ করে এবং নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ করে। যেমন –
- নদীর গতিবেগ – উচ্চগতিতে পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিবেগ বেশি থাকে এবং ভূপ্রকৃতি বন্ধুর হওয়ায় নদী ক্ষয়কাজ বেশি করে এবং নদীস্রোত বেশি থাকায় ক্ষয়জাত পদার্থগুলি বাহিত হয়। কিন্তু নিম্নগতিতে নদীর গতিবেগ প্রায় থাকে না বা খুব কম থাকায় নদী সঞ্চয় করে।
- ভূমির ঢাল – পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে নদী বেশি পরিমাণে ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থ বহন করে। কিন্তু সমভূমি অঞ্চলে ভূমির ঢাল কম থাকে বা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই নদী সঞ্চয়কাজ করে থাকে।
- ভূমির প্রকৃতি – ভূমির প্রকৃতি বন্ধুর হলে নদীর ক্ষয় ও বহন উভয়ই বেশি হয় কিন্তু নিম্নগতিতে সমভূমি অঞ্চলে ভূমি সমতল প্রকৃতির। তাই ক্ষয় কাজ হয় না, সঞ্চয়কাজ বেশি হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
উচ্চগতি ও নিম্নগতি বলতে কী বোঝায়?
উচ্চগতি হলো নদীর উৎস অঞ্চল বা পার্বত্য অঞ্চল, যেখানে নদীর গতিবেগ বেশি থাকে এবং ভূমির ঢাল খাড়া হয়। নিম্নগতি হলো নদীর সমভূমি বা বদ্বীপ অঞ্চল, যেখানে নদীর গতিবেগ কমে যায় এবং ভূমির ঢাল প্রায় সমতল হয়।
উচ্চগতিতে নদী কেন বেশি ক্ষয় ও বহন করে?
উচ্চগতিতে নদীর গতিবেগ বেশি থাকে এবং ভূমির ঢাল খাড়া হয়। এর ফলে নদী তার তলদেশ ও পাড় ক্ষয় করে এবং ক্ষয়জাত পদার্থগুলি বেশি পরিমাণে বহন করে।
নিম্নগতিতে নদী কেন সঞ্চয়কাজ বেশি করে?
নিম্নগতিতে নদীর গতিবেগ কমে যায় এবং ভূমির ঢাল প্রায় সমতল হয়। এর ফলে নদী তার বহন করা ক্ষয়জাত পদার্থগুলি সঞ্চয় করে, যা পলি বা বালি হিসেবে জমা হয়।
ভূমির ঢাল নদীর কাজকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
ভূমির ঢাল বেশি হলে (পার্বত্য অঞ্চলে) নদীর গতিবেগ বেশি হয়, ফলে ক্ষয় ও বহন কাজ বেশি হয়। অন্যদিকে, ভূমির ঢাল কম হলে (সমভূমি অঞ্চলে) নদীর গতিবেগ কমে যায়, ফলে সঞ্চয়কাজ বেশি হয়।
নদীর গতিবেগ কীভাবে ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজকে প্রভাবিত করে?
নদীর গতিবেগ বেশি থাকলে (উচ্চগতিতে) ক্ষয় ও বহন কাজ বেশি হয়। গতিবেগ কমে গেলে (নিম্নগতিতে) নদী তার বহন করা পদার্থগুলি সঞ্চয় করে।
উচ্চগতিতে নদী কী ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি করে?
উচ্চগতিতে নদী-আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত, গিরিখাত ইত্যাদি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে।
নিম্নগতিতে নদী কী ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি করে?
নিম্নগতিতে নদী বদ্বীপ, প্লাবন ভূমি, মোহনা ইত্যাদি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে।
নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজের মধ্যে সম্পর্ক কী?
নদী প্রথমে ক্ষয় কাজ করে, তারপর ক্ষয়জাত পদার্থগুলি বহন করে এবং শেষে গতিবেগ কমে গেলে সঞ্চয় কাজ করে। এই তিনটি কাজ পরস্পর সম্পর্কিত।
নদীর গতিপথে ভূমির প্রকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
উচ্চগতিতে ভূমি বন্ধুর ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়, কিন্তু নিম্নগতিতে ভূমি সমতল ও ঢালহীন হয়। এই পরিবর্তনের কারণে নদীর কাজের ধরনও পরিবর্তিত হয়।
নদীর সঞ্চয়কাজ কীভাবে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে?
নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে উর্বর পলিমাটি জমা হয়, যা কৃষিকাজের জন্য উপযোগী। এছাড়া বদ্বীপ ও প্লাবন ভূমি মানুষের বসবাস ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন বেশি করে কিন্তু নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ অধিক করে – কারণ লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন বেশি করে কিন্তু নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ অধিক করে – কারণ লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।