এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

সম্পদ কাকে বলে?
পরিবেশে অবস্থানকারী যে-সকল বিষয়সমূহ মানবসমাজের চাহিদাপূরণ ও সামাজিক উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্য করে, তাদের সম্পদ (Resource) বলে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?
যে-সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে শেষ হয়ে যায় না, তা পুনরায় প্রাকৃতিকভাবে পুনর্গঠিত হয়, তাদের পুনর্নবীকরণযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। উদাহরণ – মাটি, জল, বনভূমি প্রভৃতি।
পুনর্নবীকরণ অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার পরিবেশে নির্দিষ্ট, ফলে ক্রমান্বয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে তা কোনো না কোনো সময় নিঃশেষিত হবে, তাদের পুনর্নবীকরণ অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন – কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।
অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?
যে-সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের আগে ও ব্যবহারের পরে একই থাকে, কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন – নৈসর্গিক দৃশ্য।
স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বন কীভাবে সাহায্য করে?
বনের গাছপালা, বৃক্ষ প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প নির্গত করে। এই জলীয়বাষ্প মেঘ ও বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। ফলে, স্থানীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা কম থাকে। এইভাবে বন স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।
কয়েকটি বনজ পদার্থের নাম লেখো।
বন থেকে প্রাপ্ত কয়েকটি পদার্থ হল – কাঠ, বাঁশ, ফল, গঁদ, রজন, মশলা, তেল প্রভৃতি।
বনের স্থানীয় ব্যবহার বলতে কী বোঝো?
বনভূমির বিভিন্ন উপাদান বিভিন্ন স্থানীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। এই ঘটনাকে বনের স্থানীয় ব্যবহার বলা হয়। যেমন –
- হোগলা পাতা স্থানীয় মানুষ ঘরের ছাউনি দিতে ব্যবহার করে।
- বনের শুকনো পাতা, ডালপালা স্থানীয় মানুষেরা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে।
বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করো।
বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা –
- পরিবেশে O₂ ও CO₂-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে বনভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,
- বিভিন্ন ধরনের বনজ সম্পদ (উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত ফল, ফুল, মধু, কাঠ, ভেষজ পদার্থ, কাগজ, আসবাবপত্র) নানাভাবে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং খরা, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে।
- বিভিন্ন বন্য জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং পাখিদের আশ্রয় দান করে বনভূমি।
- সমগ্র বনভূমি উৎপাদক হিসেবে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে।
জলচক্র কাকে বলে?
সূর্যরশ্মির উত্তাপে সমুদ্রের উপরিভাগের জলরাশি বাষ্পীভূত হয়ে উপরের দিকে উঠে ধূলিকণা এবং অন্যান্য জলীয়বাষ্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে। মেঘ ঘনীভূত হলে বৃষ্টিপাত ঘটে। এই বৃষ্টির জল স্থলভূমি থেকে নদীর জলে ও সেখান থেকে পুনরায় সমুদ্রের জলে মেশে। জলের এই অবিরাম চক্রাকার আবর্তনকে জলচক্র বলে।
ভৌমজল কাকে বলে? এর ব্যবহার লেখো।
বৃষ্টিপাত ও বরফগলা জল মাটির নীচে ও শিলার ফাঁকে ফাঁকে প্রবেশ করে যে জলস্তর গঠন করে, তাকে ভৌমজল বলে।
ব্যবহার – অগভীর বা গভীর কূপ দ্বারা উত্তোলোন করে এই জল কৃষি, শিল্প ও নানা প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করা হয়।
ভূ-গর্ভস্থ জলের অতি ব্যবহারের দুটি কুফল লেখো।
ভূ-গর্ভস্থ জলের অতি ব্যবহারের দুটি কুফল –
- জলের স্তর অনেক নীচে চলে গেলে উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করলেও জল শোষণ করতে পারে না। ফলে এলাকার সকল উদ্ভিদ মরে গিয়ে অঞ্চলটি মরুভূমিতে পরিণত হবে।
- ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর নেমে যেতে থাকলে তাতে আর্সেনিক, ফুওরিনের মতো উপাদান মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
বৃষ্টির জল ধরে রাখার পদ্ধতিগুলি কী কী?
বৃষ্টির জল ধরে রাখার পদ্ধতিগুলি হল –
- বাঁধ নির্মাণ,
- জলাশয় খনন,
- বাড়িতে সঞ্চয় বা Rain Water Hervesting,
- চৌবাচ্চা বা জলাধার নির্মাণ,
- ভূগর্ভে প্রেরণ।
দুটি Single Cell portein -এর উদাহরণ দাও।
স্পিরুলিনা নামক জলজ শৈবাল ও ইস্ট নামক ছত্রাকের সাহায্যে Single Cell Protein তৈরি হয়।
বিকল্প খাদ্যের দুটি সুবিধা লেখো।
বিকল্প খাদ্যের দুটি সুবিধা –
- বিকল্প খাদ্যগুলি কম দামি ও সহজলভ্য হওয়ায় সকল ধরনের মানুষের গ্রহণের সুযোগ থাকে এবং এর মাধ্যমে খাদ্য সংকট কমানো যেতে পারে।
- বিকল্প খাদ্য উচ্চশ্রেণির প্রোটিন ও নানা খনিজ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এই ধরনের খাদ্যের পুষ্টিগুণ অত্যন্ত বেশি।
বিকল্প খাদ্যের দুটি অসুবিধা লেখো।
বিকল্প খাদ্যের দুটি অসুবিধা –
- উপযুক্ত প্রচার, উদ্যোগ ও সচেতনতার অভাবে বিকল্প খাদ্য মানুষের কাছে সেভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।
- অনেক মানুষের ছত্রাক, শৈবাল প্রভৃতি বস্তুর প্রতি একটি বিতৃষ্ণা রয়েছে। তাই তারা এই ধরনের উপাদান থেকে প্রস্তুত খাদ্যকে মন থেকে মেনে নিতে পারে না।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দুটি আধুনিক পদ্ধতির নাম লেখো।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দুটি আধুনিক পদ্ধতির নাম –
- প্রণোদিত প্রজনন পদ্ধতি ও
- নিবিড় মাছচাষ পদ্ধতি।
একটি দেশি ও একটি বিদেশি কার্পের বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো।
একটি দেশি কার্প হল কাতলা – Catla catla এবং একটি বিদেশি কার্প হল আমেরিকান রুই – Cyprinus carpio।
স্থিতিশীল কৃষিকাজের প্রকারভেদগুলি লেখো।
স্থিতিশীল কৃষিকাজ -এর প্রকারভেদ – মিশ্র চাষবাস বা মিক্সড ফার্মিং, শস্য আবর্তন বা ক্রপ রোটেশন, ইন্টারক্রপিং এবং ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং।
শক্তির চারটি বিকল্প উৎসের নাম লেখো।
শক্তির বিকল্প উৎস –
- সৌরশক্তি,
- জলবিদ্যুৎ শক্তি,
- বায়ুশক্তি এবং
- নিউক্লিয়ার শক্তি।
শক্তিসংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত যে-সকল বস্তুর অভ্যন্তরীণ শক্তিকে আমরা সরাসরি বা বিদ্যুৎরূপে পরিবর্তিত করে কৃষি, শিল্প, পরিবহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করি, সেই সকল শক্তিসম্পদকে সঠিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে তার অতিরিক্ত অংশকে সংগ্রহ করার পদ্ধতি হল শক্তি সংরক্ষণ।
শক্তি সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।
শক্তি সংরক্ষণের উপায় –
- জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে শক্তির বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে।
- কৃষিজাত এবং প্রাণীর বর্জ্যপদার্থকে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা।
চিরাচরিত শক্তি (Conventional energy) কাকে বলে?
যে-সমস্ত শক্তির উৎসগুলি বিগত বহুবছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে, তাকে চিরাচরিত শক্তি বলে। এই ধরনের শক্তি উৎপাদনে দূষণের মাত্রা অধিক হয় এবং এগুলি ক্ষয়ীভূত সম্পদ থেকে উৎপাদন করা হয়। তবে এর ব্যবহার ও চাহিদা অধিক, যেমন – কয়লা, খনিজ তেল।
অচিরাচরিত শক্তি (Non-conventional energy) কাকে বলে?
বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যে-সমস্ত নতুন শক্তির উৎসগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে, তাকে অচিরাচরিত শক্তি বলে। এই ধরনের শক্তির প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় অধিক, দূষণ কম ও এই শক্তিগুলি নবীকরণযোগ্য অর্থাৎ ক্ষয় নেই। বর্তমানে তাই এদের সম্ভাবনাও অধিক। যেমন – সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি।
বায়োমাস শক্তি (Biomass Energy) কাকে বলে?
জীব থেকে প্রাপ্ত বর্জ্য পদার্থগুলিকে (কাঠ বা কৃষিজাত বর্জ্য) বায়োমাস বলে। এগুলি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় বা গ্যাসে পরিণত করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সকল জ্বালানির শক্তিকে বায়োমাস শক্তি বলে।
বায়োগ্যাস কাকে বলে? এটি কী কী কাজে লাগে?
50-70% মিথেন, 30-40% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন সালফাইড সমন্বিত গ্যাস যা বায়োমাসের সন্ধানের ফলে উৎপন্ন হয়, তাকে বায়োগ্যাস (Biogas) বলে।
এটি রান্না করতে ও আলো জ্বালাতে কাজে লাগে।
সৌরবিদ্যুতের অসুবিধাগুলি লেখো।
সৌরবিদ্যুতের অসুবিধাগুলি হল –
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনেক সৌরকোশ ব্যবহার করতে হয় কারণ –
- একক সৌর কোশে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ খুবই কম।
- সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি হয় না।
- সৌরকোশে বিশুদ্ধ সিলিকন অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, এর উৎপাদন ব্যয়ভার খুব বেশি হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খুব ব্যায়বহুল হয়।
পারমাণবিক শক্তির সুবিধাগুলি কী কী?
পারমাণবিক শক্তির সুবিধা –
- এই প্রকার শক্তি থেকে কম জ্বালানি ব্যবহার করে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- এই প্রকার শক্তি ব্যবহারে বায়ুদূষণ অনেক কম হয়। তাই, এই প্রকার জ্বালানি বারবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে?
- পরিবহণের ক্ষেত্রে যেমন – রেল, মোটরগাড়ি, ট্রাক, বাস ইত্যাদির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে পেট্রোল, ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত রং, বার্নিশ, স্পিরিট প্রভৃতির চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- কৃষিক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতির বদলে ট্র্যাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার প্রভৃতির জন্য পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের বেশি মাত্রায় প্রয়োজন হচ্ছে।
সংরক্ষণ কাকে বলে? সংরক্ষণের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
সংরক্ষণ (Conservation) – যে সুষ্ঠু পরিকল্পিত পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদকে যথেচ্ছ অপব্যবহার ও ধ্বংসের হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়, তাকে সংরক্ষণ বলে। বিজ্ঞানী ওডাম (1972) সর্বপ্রথম সংরক্ষণের এই ধরনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।
সংরক্ষণের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা –
- বাস্তুতন্ত্রের সম্পদের পুনরায় আবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখা।
- বন্যপ্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য, স্বভাব, প্রজনন প্রভৃতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা।
বনভূমি কীভাবে মাটিক্ষয় রোধ করে?
মাটির ক্ষয়রোধে বনভূমির ভূমিকা –
- বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত বা নদীর জলের প্রবাহ দ্বারা মাটির উপরের স্তরের কণাগুলির অন্যত্র অপসারণকে মাটিক্ষয় বলে।
- বনভূমির উদ্ভিদ, বৃক্ষ প্রভৃতির মূল মাটির কণাগুলিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকে ফলে বায়ুপ্রবাহ বা জলস্রোত মাটির কণাগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। এর দ্বারা মাটির ক্ষয়রোধ হয়।
- বনভূমির ‘ছাদ’ বা ক্যানোপি এবং অন্যান্য গাছের স্তর বৃষ্টিপাতকে সজোরে বনভূমির মেঝেতে পড়তে বাধা দেয়, ফলে মাটির কণাগুলি আলগা হয়ে যায় না। এর দ্বারাও মাটি ক্ষয় প্রতিরোধ হয়।
- সুতরাং, বনভূমি মাটি ক্ষয়রোধ করে এবং মাটি সংরক্ষণে সাহায্য করে।

কী কী ভাবে বনভূমির অতিব্যবহার ঘটছে?
যে যে ভাবে বনভূমির অতিব্যবহার ঘটছে সেগুলি হল –
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষ অতিমাত্রায় খাদ্য, বস্ত্র সহ নানা প্রয়োজন মেটাতে বনভূমিকে ব্যবহার করছে।
- কৃষিজমি ও আবাসস্থল তৈরির জন্য যথেচ্ছভাবে অরণ্য বা বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে।
- পশুচারণ বৃদ্ধির ফলে মাটির ক্ষয় বাড়ছে এবং সেইসকল স্থানে পুনরায় উদ্ভিদ সৃষ্টি হচ্ছে না, বৃষ্টিপাত হচ্ছে না, জীবজন্তুর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।
বনভূমি কী কী ভাবে ধ্বংস হতে পারে তা সংক্ষেপে একটি ছকের মাধ্যমে দেখাও।

পৃথিবীতে ব্যবহারযোগ্য জলের উৎসগুলি কী কী?
পৃথিবীতে ব্যবহারযোগ্য জালর উৎসগুলি হল –
- মাটির উপরের জল বা সারফেস ওয়াটার (Surface Water) – ভূত্বকের উপরিভাগে অবস্থিত লেক, পুকুর, খাল, বিল, নদী প্রভৃতি স্থানে সঞ্চিত জল।
- মাটির নীচের জল বা গ্রাউন্ড ওয়াটার (Ground Water) – বৃষ্টিপাতের সময় জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে মাটির নীচে চলে যায় এবং এই জলস্তর গঠন করে।
- বৃষ্টির জল বা রেন ওয়াটার (Rain Water) – পৃথিবীতে প্রাথমিক জলের উৎস হল বৃষ্টির জল। এটি বৃষ্টিপাত বা বরফপাত দুভাবেই সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে জল সংকটের কারণগুলি কী কী?
বর্তমানে জল সংকটের কারণ –
- মানুষের জনসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা জনবিস্ফোরণ।
- কৃষিকাজে সেচের জলের চাহিদা বৃদ্ধি।
- শিল্পকারখানার দ্রুত বৃদ্ধি।
- বনভূমির আয়তন হ্রাস।
- মিষ্টি জলের দূষণ এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটি খুঁড়ে মাটির নীচের সঞ্চিত জল টেনে তোলা।
- জলের অতিব্যবহার এবং অপব্যবহার।
জনসংখ্যার বৃদ্ধি কীভাবে জলসংকট তৈরি করছে? অথবা, জলের অতিব্যবহার কীভাবে জলসংকটের সৃষ্টি করেছে ব্যাখ্যা করো।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে জলসংকটও বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ –
- জনসংখ্যার বৃদ্ধি প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পাদনের জন্য অনেক বেশি জলের চাহিদা তৈরি করে।
- জন-বিস্ফোরণের ফলে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অধিক সংখ্যক বাড়িঘর, স্কুল, শিল্পকারখানা, রাস্তাঘাট, দোকান প্রভৃতি তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ মাটির নীচে থাকা জল ব্যবহৃত হয়। এর ফলে জলের সংকট তৈরি হয়।
- বাড়িঘর, রাস্তা, শিল্পকারখানা নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে অনাবৃত স্থান কমে যাচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে মাটির নীচে যেতে বাধা পাচ্ছে এবং জলের অভাব তৈরি হচ্ছে।
- জনসংখ্যার বৃদ্ধি বনভূমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। বনভূমি হ্রাস বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে, মাটির নীচে জলের পরিমাণ কমে যায় ও জলসংকট তৈরি হয়।
জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাগুলি লেখো।
জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা –
বর্তমানে জীবের ব্যবহারযোগ্য স্বাদু জলের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, তাই জল সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাগুলি হল –
- প্রাকৃতিক জলচক্রকে সঠিকভাবে রাখা।
- খরার হাত থেকে জীবগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখা ও প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করা।
- কৃষিকার্য ও দৈনন্দিন জীবনে জলের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা।
- বাস্তুতন্ত্র অক্ষুণ্ণ রাখা ও জলচর জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য জল সংরক্ষণ প্রয়োজন।
জল সংরক্ষণের তিনটি পর্যায় বর্ণনা করো।
জল সংরক্ষণের তিনটি পর্যায় হল –
- জলাশয় খনন – বিভিন্ন অঞ্চলে জলাশয় খনন করে তাতে বর্ষার জল ধরে রেখে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যেতে পারে।
- বাঁধ নির্মাণ – অতিরিক্ত বর্ষণে অনেকসময় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলি প্লাবিত হয়। তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল ধরে রেখে কৃষিতে সরবরাহ করা যেতে পারে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বৃক্ষরোপণ, ভূমিক্ষয় রোধ ইত্যাদি করা যেতে পারে।
- জলের অপচয় রোধ – কৃষিক্ষেত্রে বা প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
জলসম্পদ সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে? অথবা, জলসম্পদ সংরক্ষণের উপায়গুলি লেখো।
জলসম্পদ সংরক্ষণের জন্য গ্রহণীয় ব্যবস্থা –
- নিত্য ব্যবহার্য জলের পরিমাণ কমানো এবং অপ্রয়োজনে জল নষ্ট না করা।
- জলের পুনঃব্যবহার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করা। যেমন – বাসনপত্র ধোয়া জল বাগানে ব্যবহার করা যায়।
- যে-সমস্ত নদীতে বন্যা হয় সেই সমস্ত নদীতে বাঁধ, রিজারভার এবং ব্যারাজ প্রভৃতি তৈরি করলে জলের অপচয় এবং বন্যা দুই-ই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
- কৃষিজমিতে উন্নত সেচব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জলের অপচয় বন্ধ করার জন্যই বর্তমানে ড্রিপ সেচ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
- বৃষ্টির জল ধরে রেখে সংরক্ষণ বা রেনওয়াটার হারভেসটিং -এর মাধ্যমে মাটির নীচে জল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।
বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলির পরিচয় দাও।
বৃষ্টির জল হল স্বাদু জলের অন্যতম উৎস। নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করে এই জলের সংরক্ষণ করা যায় –
- গর্তে (Pit) বৃষ্টির জল সংরক্ষণ – কম গভীরতা যুক্ত ছোটো ছোটো (2 মিটার চওড়া, 3 মিটার গভীর) গর্ত তৈরি করে তার নীচে বড়ো পাথর, নুড়ি পাথর, মোটা দানার ফিলটার দিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখা ও ভূগর্ভে পাঠানো যায়।
- ছোটো খালে (Trench) জল সংরক্ষণ – 20 মিটার লম্বা × 1 মিটার চওড়া × 1.5 মিটার গভীর ছোটো ছোটো খাল কেটে তার নীচে ফিলটার রেখে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়।
- বাড়ির ছাদে জল সংরক্ষণ – শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদে কোনো বড়ো পাত্র রেখে অথবা কোনো চৌবাচ্চা তৈরি করে বৃষ্টির সময় জল ধরে রাখা যায়।
রেন ওয়াটার হারভেসটিং বা বৃষ্টির জল ধরে রেখে সংরক্ষণের সুবিধাগুলি কী কী? অথবা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।
রেন ওয়াটার হারভেসটিং বা বৃষ্টির জল ধরে রেখে সংরক্ষণের সুবিধা –
- বৃষ্টির জল ধরে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাটির নীচে সঞ্চয় এবং জলের অপচয় রোধ করে সঞ্চয় করা হয়। এই জল বাষ্পীভূত হয় না।
- মাটির নীচে সঞ্চিত জল কুয়ো বা রিজারভারে চুঁইয়ে চুঁইয়ে জমা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই জল ব্যবহার করা হয়।
- মাটির নীচে জমা জলে মশা জন্মাতে পারে না। ফলে, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমে।
- মাটির নীচে সঞ্চিত জলে দূষণ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
- খরার সময় চাষিরা এই সংরক্ষিত জলকে সেচের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে কৃষিকাজে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষিকাজে গৃহীত ব্যবস্থা –
- মিশ্র ফসল উৎপাদন – একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করলে অর্থ, সময়, জল, সার প্রভৃতির অপচয় অনেকখানি কমানো যায়। মিশ্র ফসলের উদাহরণ –
- ভুট্টা ও ধান,
- চিনাবাদাম ও সূর্যমুখী,
- সরগাম ও মটর (Pigeon pea),
- গম ও চিক মটর (Chick pea),
- গম ও সরষে প্রভৃতি।
- ইন্টারক্রপিং বা আন্তঃকৃষিকাজ – এই ধরনের চাষে দুটি বা তারও বেশি সংখ্যক ভিন্ন ফসল আলাদা আলাদা সারিতে একই জমিতে একই সঙ্গে চাষ করা হয়।
- শস্য আবর্তন বা ক্রপ – রোটেশন ঋতু অনুযায়ী জমিতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এক্ষেত্রে একবছর আবর্তন, দুবছর আবর্তন, তিনবছর আবর্তন প্রভৃতি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
স্থিতিশীল কৃষিকাজ বলতে কী বোঝো? এতে কী কী ব্যবস্থার দিকে লক্ষ রাখা উচিত?
স্থিতিশীল কৃষিকাজ (Sustainable Agriculture) – বিভিন্ন কৃষিব্যবস্থা ও নিয়মিত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণভিত্তিক যে প্রযুক্তির সাহায্যে সর্বাধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, তাকে স্থিতিশীল কৃষিকাজ বা সাসটেনেবল এগ্রিকালচার বলে।
স্থিতিশীল কৃষিকাজে যে-সমস্ত ব্যবস্থার দিকে লক্ষ রাখা হয় সেগুলি হল –
- প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ,
- প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ,
- মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন।
স্থিতিশীল কৃষিকাজের সুবিধাগুলি কী কী?
স্থিতিশীল কৃষিকাজের সুবিধা –
- মাটির উর্বরতাকে ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে উজ্জীবিত করা।
- কৃষিকাজে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
- পুনর্নবীকরণ অযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হ্রাস।
- অর্থনৈতিক সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রদান।
- চাষি পরিবার ও কৃষিনির্ভর গোষ্ঠীকে যথাযথভাবে সুযোগসুবিধা দেওয়া।
- পরিবেশদূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক জৈবচক্র নিয়ন্ত্রণ করা।
জৈব চাষবাস (Organic Farming) কী? জৈব চাষবাসের সুবিধা লেখো।
যে কৃষিব্যবস্থায় রাসায়নিক সার, জৈবসার, কীটনাশক প্রভৃতির ব্যবহার না করে শস্য উৎপাদনকে চরম লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাকে জৈব চাষবাস বলে। জৈব চাষবাসে উৎপাদিত ফসল, পরিবেশ প্রভৃতি দূষণমুক্ত এবং টক্সিক পদার্থমুক্ত থাকে।
জৈব চাষবাসের সুবিধা –
- পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে।
- ফার্মজাত বর্জ্যপদার্থ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়।
- উৎপাদিত ফসল সম্পূর্ণরূপে রাসায়নিক পদার্থ ও টক্সিক পদার্থমুক্ত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ও ধরে রাখে।
- আগাছা ও পতঙ্গ ধ্বংসের জন্য জৈবিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
খাদ্যের বিকল্প উৎস বলতে কী বোঝো? খাদ্যের কয়েকটি বিকল্প উৎস সম্পর্কে ধারণা দাও।
খাদ্যের বিকল্প উৎস –
প্রচলিত ও প্রাচীন পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা ব্যবহার করে যে-সমস্ত খাদ্য উৎপাদন করা হয়, তাদের খাদ্যের বিকল্প উৎস বলা হয়। যেমন –
- জলজ শৈবাল – বিভিন্ন শৈবাল (উদাহরণ – গ্রাসিলারিয়া, ল্যামিনারিয়া, পরফাইরা, উলভা, ক্লোরেল্লা প্রভৃতি) কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন প্রভৃতি সমৃদ্ধ হওয়ায় খাদ্যের বিকল্প উৎসরূপে ব্যবহৃত হয়।
- এককোশী প্রোটিন – এককোশী অণুজীব (যেমন – ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, শৈবাল প্রভৃতি) প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় খাদ্যের বিকল্প উৎসরূপে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য (GMO Crops) – জিন প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে উৎপাদিত খাদ্য বর্তমানে খাদ্যের বিকল্প উৎসরূপে ব্যবহৃত হয়।
বিকল্প খাদ্য হিসেবে স্পিরুলিনা ও ক্লোরেল্লার গুরুত্ব কী?
উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ হওয়ায় খাদ্যের বিকল্প উৎস হিসেবে স্পিরুলিনা ও ক্লোরেল্লার যথেষ্ট ভূমিকা আছে।
স্পিরুলিনা – স্পিরুলিনা হল একপ্রকার নীলাভ-সবুজ শৈবাল যার মধ্যে 70% প্রোটিন, ভিটামিন-B কমপ্লেক্স, ভিটামিন-E বিভিন্ন খনিজ মৌল, বিটা-ক্যারোটিন উপস্থিত। তাই বিকল্প উৎস হিসেবে স্পিরুলিনা ভবিষ্যতে জনপ্রিয় হবে।

ক্লোরেল্লা – ক্লোরেল্লা নামক শৈবালের মধ্যে ভিটামিন-B কমপ্লেক্স, ভিটামিন-C, ভিটামিন-E এবং 45% প্রোটিন, 20% ফ্যাট, 20% শর্করা, 5% তন্তু, 10% খনিজ লবণ থাকে। ভিটামিন ও ক্যালোরিসমৃদ্ধ বলে কৃত্রিম উপায়ে ক্লোরেল্লা চাষ করা হয়। 1940 -এর শেষ থেকে 1950 -এর প্রথমদিকে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে খাদ্যাভাব দূর করতে ক্লোরেল্লার ব্যবহার করা হয়েছিল।

উদ্যানবিদ্যা কাকে বলে? উদ্যানবিদ্যা কীভাবে খাদ্য উৎপাদনের উৎসরূপে কাজ করে?
উদ্যানবিদ্যা (Horticulture) –
যে উদ্ভিদবিদ্যা শাখায় বাগান সাজানোর উদ্ভিদ এবং ফল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে উদ্যানবিদ্যা বলে।
খাদ্যের উৎসরূপে উদ্যানবিদ্যার ভূমিকা –
- বিভিন্ন ফলের উৎস আম, লেবু, কাঁঠাল, আপেল, আঙুর, পেয়ারা প্রভৃতি ফল বিভিন্ন ফলের বাগানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়।
- শুকনো খাদ্যবীজের উৎস আখরোট, পেস্তা, আমন্ড, কাজুবাদাম প্রভৃতি ফল বিভিন্ন ফলের বাগানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়।
- বীজহীন ফল উৎপাদন বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা ও হরমোন প্রয়োগ দ্বারা বীজহীন ফল (যেমন – লেবু, আঙুর, কলা প্রভৃতি) উৎপন্ন হচ্ছে।
ফিশারি ও মাছচাষ কাকে বলে?
ফিশারি (Fishery) – যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এবং বাণিজ্যিক মূল্যযুক্ত জলজ প্রাণীদের প্রতিপালন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়, তাকে ফিশারি বলে।
মাছচাষ (Pisciculture) – যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বাণিজ্যিকমূল্যযুক্ত মাছের প্রতিপালন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়, তাকে মাছচাষ বা পিসিকালচার বলে।

মাছচাষের বিভিন্ন বিভাগগুলি ছকের মাধ্যমে দেখাও।
মাছচাষের বিভিন্ন বিভাগ –

কার্প জাতীয় মাছ কাকে বলে? কার্পের শ্রেণিবিভাগ করো।
কার্প (Carp) – মিষ্টি জলে বসবাসকারী অস্থিবিশিষ্ট যে-সমস্ত মাছের মাথা আঁশবিহীন হয় কিন্তু সারাদেহ সাইক্লয়েড আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে, চোয়াল দাঁতবিহীন, এবং দেহে পটকা থাকে কিন্তু অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গ থাকে না, তাদের কার্প বা পোনামাছ বলে।

পোনামাছ বা কার্পের শ্রেণিবিভাগ –

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কোন্ তিনপ্রকার দেশি মাছের সঙ্গে কোন্ কোন্ তিনপ্রকার বিদেশি মাছ চাষ করা হয়?
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পুকুর/জলাশয়ের স্তরভিত্তিক চাষোপযোগী তিন প্রকার দেশি পোনা ও তিন প্রকার বিদেশি পোনা একই সঙ্গে চাষ করা হয়। এই রকম মিশ্র চাষকে নিবিড় মিশ্র চাষ বলে। সাধারণত দেশি পোনা হিসেবে রুই, কাতলা, মৃগেল -এর সঙ্গে বিদেশি পোনা সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ও সাইপ্রিনাস কার্প একই সঙ্গে চাষ করে ভালো উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেছে। এই মিশ্র চাষে বিঘা প্রতি জলাশয়ে প্রতি হাজারে তিন প্রকার দেশি ও তিন প্রকার বিদেশি পোনার স্তরভিত্তিক অনুপাত নিম্নরূপ –
| স্তর | দেশি পোনা | বিদেশি পোনা |
| উপরের স্তর | কাতলা (Catla catla) – 100টি | সিলভার কার্প (Hypopthalmichthys molitrix) – 250টি |
| মাঝের স্তর | রুই (Labeo rohita) – 250টি | গ্রাস কার্প (Ctenopharyngodon idella) – 100টি |
| নীচের স্তর | মৃগেল (Cirrhinus mrigala) – 100টি | সাইপ্রিনাস কার্প (Cyprinus carpio) – 200টি |
খাদ্য সংকট মেটানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?
খাদ্য সংকট মেটাবার উপায় –
- রাসায়নিক ও জৈব সারের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার।
- একই কৃষিজমিতে একই অথবা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ।
- জমিতে উচ্চফলনশীল বীজ, কীটনাশক, ট্র্যাক্টর, পাওয়ার টিলার ও হারভেস্টারের ব্যবহার।
- জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন।
সৌরবিদ্যুৎ কী কী কাজে ব্যবহৃত করা যেতে পারে? সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধাগুলি কী কী?
আমাদের দেশে অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায় না সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাতি, টিভি, পাখা, পাম্প প্রভৃতি চালানো হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা –
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধাগুলি হল –
- সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশদূষণ ঘটায় না।
- যে সকল অঞ্চলে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পৌঁছায়নি সেই সকল অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
- সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একবার স্থাপন করলে বহু বছর এর সুবিধা পাওয়া যায়।
- সৌরবিদ্যুতের পরিষেবাজনিত অপচয় প্রচলিত বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের তুলনায় অনেক কম।
শক্তির অপচয় কীভাবে ঘটে তা কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে লেখো।
শক্তির অপচয়ের কয়েকটি দৃষ্টান্ত হল –
- কয়লা থেকে বিদ্যুৎ সৃষ্টির সময় প্রায় 40% কয়লার শক্তি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়, বাকি 60% অপচয় হয়।
- মোটর গাড়ির ক্ষেত্রে পেট্রোল বা ডিজেলের শক্তির প্রায় 20% যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়, বাকি 40% নষ্ট হয়।
- কোনো পরিবাহী তারের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণের সময় প্রায় 20% বিদ্যুৎশক্তি নষ্ট হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন