সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত কবি মৃদুল দাশগুপ্তের লেখা ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Long Answer Questions) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নোত্তরগুলো অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের বড়ো প্রশ্ন নিয়মিত এসে থাকে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা আঁকা লেখা কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

“এই ছড়াতেই আজ আমাকে তোমার কাছে আনল হাওয়া” – কাকে উদ্দেশ করে কবি এ কথা বলেছেন? কবির আঁকা ও লেখার সঙ্গে এই মানুষটির উপস্থিতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব বিচার করো।

ছড়াকার মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার এই উদ্ধৃতাংশের কথাগুলি তাঁর প্রিয় পাঠক তথা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ করে বলেছেন।

কবি আঁকেন ও লেখেন। তিনি যখন রং ছড়িয়ে খুশির খেয়ালে ছবি আঁকেন, তখন প্রকৃতির কত পরিবর্তন ধরা পড়ে। আর ধরা পড়ে কবির আনন্দ। কবির আনন্দের তখন শরিক হতে চায় প্রকৃতির আপনজনেরা; শালিকরা ঝগড়া থামিয়ে দেয়, চড়ুই, মাছরাঙা, প্রজাপতির ঝাঁক, গর্তবাসী পিটপিটে চোখের ইঁদুর পর্যন্ত হয় কবির অঙ্কন প্রচেষ্টা দেখে, নয়তো আঁকার মধ্যে থাকতে চায়। আঁকার নিজস্ব উপকরণ রং-তুলিরা দুপুরবেলায় কবিকে পেয়ে খুশিতে উপচে পড়ে। একইভাবে রাতের মাঠে চাঁদের আলো যখন দুধের সরের মতো ঘন হয়ে ওঠে, বাতাস যখন একটু কাঁপিয়ে নাড়া দেয়, তখন কবি ছড়া লেখেন। দেখা যায়—গোপনতা বজায় রেখে আকাশের তারাগুলি যেন কবির কাছে ঘনিয়ে আসে। গাঢ় আঁধারে ঘনপাতার বকুল গাছে দশটি জোনাকি খুশিতে ‘অ’ ‘আ’ লেখে। প্রকৃতির নিপুণ ছোঁয়ায়, প্রাণের প্রাচুর্য এখানে কবিমনের হর্ষের সঙ্গে মিশে এক হয়ে যেতে দেখা যায়। এই তো সার্থক সৃষ্টির ক্ষণ। কবির মতে, পাঠকের উপস্থিতি না থাকলে কোনো সৃষ্টিই যেন সার্থক হয় না।

এই কবিতায় যে যে উপমা ও তুলনা ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলি ব্যবহারের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও।

কবিতায় উপমা-প্রয়োগ একটি চিরাচরিত রীতি। এই উপমা আসে তুলনাত্মকভাবে। প্রখ্যাত আধুনিক কবি ও ছড়াকার মৃদুল দাশগুপ্তের ‘আঁকা, লেখা’ কিশোর কবিতাটিতেও চমৎকার ও সার্থক কয়েকটি উপমা-প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। কবিতাটির দ্বিতীয় স্তবকে দেখা যায়—মাঠে ছড়ানো চাঁদের আলোর সঙ্গে কবি দুধের সরের তুলনা এনেছেন। আবার একই স্তবকে আকাশভরা তারাগুচ্ছকে বলেছেন ‘তারার মালা’। কবিতাশেষেও লক্ষ করা যায়—যাদের জন্য এই ছড়া লেখা, তাদের সঙ্গে একাত্মতার পরমানন্দকে তিনি তুলনা করে বলেছেন ‘পদক পাওয়া’। উপমাগুলির প্রয়োগনৈপুণ্য লক্ষ করার মতো, যাতে কবিতাটিতে একটা ভাবের শিল্পিত প্রকাশ যেমন এসেছে, তেমনি কবিতাটিতে ভাবরস গাঢ় হয়েছে। অতএব এ ব্যাপারে কবি যথেষ্ট সার্থক।

‘আঁকা, লেখা’ কবিতাটিতে প্রকৃতির ডাক কবি কীভাবে অনুভব করেছেন, তা আলোচনা করো।

প্রকৃতি এক বিপুল-বিশাল অনুভব কিংবা অস্তিত্ব, যার পাশে প্রাণীকুল নেহাতই তুচ্ছ। তবু মানুষ প্রকৃতির অঙ্গনেই থাকে, আর বুদ্ধিধর জীব বলে প্রকৃতির কোল থেকেই তাকে জীবনের খোরাক সংগ্রহ করে নিতে হয়। কবি স্বভাবতই প্রকৃতিপ্রেমিক। তিনি তাঁর ‘আঁকা, লেখা’ কবিতাটিতে প্রকৃতির সংস্পর্শ থেকেই নানা প্রসঙ্গে উপাদান সংগ্রহ করেছেন। দুপুরবেলা খুশ-খেয়ালে কবির চিত্রচর্চা শুরু হলে প্রকৃতির কুশীলব শালিক-চড়ুই-মাছরাঙা-প্রজাপতি ও ইঁদুর চিত্রমুগ্ধ দর্শক হয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

এই পক্ষীকুল বা পশু-পতঙ্গ তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য-সহ হাজির হয় কবিতায়। কিচিরমিচির করা শালিক, চড়ুই কবির অঙ্কন প্রচেষ্টায় হতবাক হয়ে যায়। আর যে মাছরাঙা মৎস্যশিকারি, সে মাছ ভুলে নিজের গায়ের রঙের নীলটুকু কবিকে আঁকার রং হিসেবে ধার দিতে চায়। প্রজাপতিও বর্ণময়, রঙে রঙে তার বর্ণময় প্রকাশ, তারাও চায় কবির ছবিতে নিজেদের রাখতে। আপন স্বভাববৈশিষ্ট্যে অতি উজ্জ্বল গর্তের ইঁদুরও পিটপিটে চোখ মেলে কবির ছবি দেখে। আবার দেখা যায় রাতের বেলা সারা মাঠ জুড়ে চাঁদের আলো দুধের সরের মতো জমে ওঠার ঘটনা কবিতায় ছায়া ফেলে, যখন কবি তাঁর ছড়া লেখার কাজে হাত দেন। কবি অনুভব করেন এমন জোছনার সঙ্গে মৃদুমন্দ বাতাসের প্রবাহ যেন যুগল গানের সুরের মিলন। এই সময় প্রকৃতির আর-এক প্রসঙ্গ ‘তারার দল’ যেন নীরবতার মধ্যে কবির খুব কাছে এসে পড়ে। কবি দেখেন রাতের জোনাকিদের। মনে হয় যেন দূরের গাছে জোনাকিরা আলো জ্বেলে নানা রঙের ব্যঞ্জনা ফুটিয়ে তুলেছে। কবি প্রকৃতির রাজ্যে হারিয়ে যান।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত, কবি মৃদুল দাশগুপ্ত রচিত ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী (বড়ো) প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন নিয়মিত এসে থাকে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। এই বিষয় সংক্রান্ত যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

খোকনের প্রথম ছবি গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ ও আলোচনা - সপ্তম শ্রেণি

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ