সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত স্বনামধন্য সাহিত্যিক বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) রচিত ‘খোকনের প্রথম ছবি’ গল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে লেখক পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই আলোচনাটি আপনাদের ‘খোকনের প্রথম ছবি’ গল্পটি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

লেখক পরিচিতি

বনফুল বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্টতম সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার শিয়াখালা। পিতা ডা. সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়ের কর্মক্ষেত্র ও স্থায়ী বাসস্থান ছিল বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারীতে। সেখানেই 1899 খ্রিস্টাব্দের 19 জুলাই তাঁর জন্ম হয়। মাতা মৃণালিনী দেবী। মণিহারী গ্রামেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয়। সাহেবগঞ্জ রেলওয়ে স্কুল থেকে 1918 খ্রিস্টাব্দে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেন। হাজারিবাগ সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তে এলেও পরে পাটনা মেডিকেল কলেজ থেকে 1927 খ্রিস্টাব্দে ডাক্তারি পাস করেন এবং ভাগলপুরে 40 বছর প্যাথলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন। সাহেবগঞ্জ হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কবিতা 1915 খ্রিস্টাব্দে মাত্র 16 বছর বয়সে ছাপা হয় ‘মালঞ্চ’ পত্রিকায়। পরে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভারতী’-র মতো নামী পত্রিকাতে তাঁর আরও কবিতা প্রকাশিত হয় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে। ডাক্তারি জীবনের গোড়ার দিকে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘তৃণখণ্ড’ লেখা হয়। তিনি পাকাপাকিভাবে কলকাতার বাসিন্দা হন 1968 খ্রিস্টাব্দ থেকে। কলেজ জীবনে সহপাঠী ছিলেন কবি অমিয় চক্রবর্তী ও ঔপন্যাসিক সরোজকুমার রায়চৌধুরী, এঁদের সান্নিধ্য তো ছিলই, উপরন্তু কলকাতা মেডিকেল কলেজে এসে প্রেরণা লাভ করেছিলেন বনবিহারী মুখোপাধ্যায়ের। এ ছাড়া ছিল পরিমল গোস্বামীর প্রেরণা। বনবিহারী মুখোপাধ্যায়ের জীবন অবলম্বনেই রচিত হয় তাঁর ‘অগ্নীশ্বর’ উপন্যাস। তাঁর সাহিত্যে উঠে এসেছিল প্রবাসজীবন ও জীবিকা। বাংলা সাহিত্যে তিনি ক্ষুদ্রতম ছোটোগল্পের সার্থক রচয়িতা, ছোটোগল্প, উপন্যাস, কাব্য, নাটক-সব রচনাতেই তিনি সার্থক। তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। তিনি অজস্র ছোটোগল্প লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল – ‘ডানা’ (তিন খণ্ড), ‘স্থাবর’, ‘জঙ্গম’, ‘মন্ত্রমুগ্ধ’, ‘হাটেবাজারে’, ‘কিছুক্ষণ’, ‘বিন্দুবিসর্গ’, ‘দ্বৈরথ’, ‘শ্রীমধুসূদন’, ‘বিদ্যাসাগর’ প্রভৃতি। তাঁর আত্মজীবনীর নাম ‘পশ্চাৎপট’। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘জগত্তারিণী’ ও ‘শরৎচন্দ্র’ স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। বিহারের ভাগলপুর ও পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রদান করে ডি-লিট উপাধি। ‘হাটেবাজারে’ উপন্যাস তাঁকে এনে দেয় ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’। ভারত সরকার তাঁকে দেন ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি। 1979 খ্রিস্টাব্দের 9 ফেব্রুয়ারি এই মহান সাহিত্যিকের জীবনাবসান হয়।

পাঠপ্রসঙ্গ

ছবি আঁকা হল আসলে নকল করা। বাস্তবে যা আছে, তার হুবহু নকল করে ছবি আঁকার চেষ্টাই বেশি করে থাকে ছোটোরা। তবে এমন ধরনের ছবিকে ‘চিত্রাঙ্কন’ বলা যায় না। চিত্রে সৃজনশীলতা আনতে হলে কেবল চোখ দিয়ে দেখা কোনো ছবিকে ফুটিয়ে তুললে হয় না, তার সঙ্গে অনিবার্য মিশেল দিতে হয় মনের চোখে দেখার। বহিঃপ্রকৃতি ও অন্তঃপ্রকৃতির সংমিশ্রণে যে শিল্পনির্মাণ, তাই হয় যথাযথ। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের যথার্থ মিশ্রণ যদি না ঘটে তাহলে শিল্প তার বিমূর্ত রূপ পায় না। তাই শিল্পী বাহ্যবস্তুর সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশিয়ে দেন কল্পনার রং। শিল্পী হওয়ার পথে তাই অতি শৈশব থেকেই এই রং ও মন, বাস্তব ও মনের খেলাটি যথার্থভাবে অনুভব করাও শিখতে হয়। ‘খোকনের প্রথম ছবি’ রচনাটিতেও দেখা যায়, যে খোকন কেবল বাস্তব থেকে শুধুই কাজ করতে অভ্যস্ত ছিল। কিন্তু একজন সৎ ও সত্যিকারের শিল্পীর পরামর্শলাভ তাকে আমূল বদলে দেয়। নিজের সঙ্গে অনেক সংঘর্ষ করে খোকন যে ছবি আঁকে, তা হয়তো খুব দর্শনীয় হয় না, কিন্তু তা কপি করা নয়, সম্পূর্ণ তার নিজের আঁকা ছবি।

বিষয়সংক্ষেপ

খোকনের প্রথম ছবি গল্পের কিশোর-নায়ক খোকন দশম শ্রেণির ছাত্র। শৈশব থেকেই সে ছবি আঁকতে ভালোবাসত। স্কুল জীবনে সে টুল, টেবিল, চেয়ার, কলসি, কাপ, গোরু প্রভৃতির ছবি আঁকতে শিখেছিল ড্রইংয়ের মাস্টারমশায়ের প্রেরণাতে। সে প্রকৃতির ছবি আঁকতে বসে বাড়ির পাশের ইউক্যালিপটাস, পুল, সূর্য, গোলাপ, মেঘ ইত্যাদির ছবি এঁকে ফেলে। কিন্তু প্রকৃতির ছবি আঁকা তার নিজেরই পছন্দ হল না। কারণ, সূর্যের দীপ্তি ছবিতে তেমন ফোটে না। গোলাপের সৌন্দর্য ছবিতে প্রকাশ পায় না। আকাশে দৃশ্যমান মেঘের ছবি পরক্ষণেই বদলে যায়। একদিন খোকনের বাবার এক বিখ্যাত চিত্রকর বন্ধু খোকনের আঁকা ছবি দেখে খুশি হয়ে বলেন – সে অনেক ছবি এঁকেছে কিন্তু সবই নকল করা ছবি, তার নিজের আঁকা ছবি কোথায়? খোকন অবাক হয় এবং জানতে চায় তা কেমন করে সম্ভব? চিত্রকর পরামর্শ দেন, চোখ বুজে কল্পনায় যা দেখবে সেটাই এঁকে ফেলতে। তার পরামর্শ মতো খোকন একদিন নিজের ঘরে চোখ বুজে বসে কেবলই অন্ধকার দেখতে পায় চারদিকে। তারপর সে রং আর তুলি নিয়ে তার ড্রইং খাতার একটি পাতা জুড়ে সেই অন্ধকারের ছবি আঁকে কালো রঙে ভরিয়ে দিয়ে। সেই ছবির মধ্যে সে চোখ, মুখ এবং সেই মুখের এক অদ্ভুত হাসি দেখতে পায় এবং ওটাই হয় তার জীবনের প্রথম সৃষ্টির আনন্দ।

নামকরণ

নাম হল পরিচয়। কোনো গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-যাই হোক না কেন, তার নামকরণের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই রচয়িতারা বিষয়বস্তু অনুযায়ী কখনও চরিত্রকেন্দ্রিক বা কখনও ঘটনাকেন্দ্রিক বা ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণ করেন। লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় পাঠ্যাংশটির নামকরণ করেছেন – ‘খোকনের প্রথম ছবি’। এখানে দেখা যায়-একটি ছেলে যার ছবি আঁকার অত্যন্ত ইচ্ছে, সে স্কুলজীবন থেকেই নানারকম ছবি আঁকত। কিন্তু, কিছুদিন পরে সে নিজেই বুঝতে পারে নিজের ছবি নিজেরই পছন্দ হচ্ছে না। অবশেষে তার বাবার একজন বিখ্যাত চিত্রকর বন্ধু তাদের বাড়িতে আসেন, তিনি খোকনকে তার মন থেকে ছবি আঁকতে শেখান। চিত্রকরের পরামর্শ মতো খোকন একদিন চোখ বুজে নিজের ঘরে বসে থাকে। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না সে। অবশেষে সে স্থির করে ওই অন্ধকারেরই ছবি আঁকবে। কালো রং আর তুলি নিয়ে সে শুরু করে দেয় আঁকতে। ড্রইং খাতার একটা পাতা কালো রঙে ভরে যায়। তারপর সেটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে দেখতে পায় ওই কালোর ভিতরেই একটা মুখ রয়েছে, চোখ রয়েছে এবং অদ্ভুত হাসি সেই চোখে। আর এটাই হল খোকনের প্রথম সৃষ্টি-প্রথম আঁকা ছবি। তাই বিষয়ভিত্তিক তাৎপর্য অনুযায়ী ‘খোকনের প্রথম ছবি’ নামকরণ সার্থক ও যুক্তিসংগত।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘খোকনের প্রথম ছবি’ গল্পের বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই চমৎকার গল্পটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং এর অন্তর্নিহিত মূলভাবটি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি এবং গল্পের সারসংক্ষেপ বা তাৎপর্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

মৃদুল দাশগুপ্তের আঁকা লেখা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – খোকনের প্রথম ছবি – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ