এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত কবি মৃদুল দাশগুপ্তের লেখা ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

কবি যখন ছবি আঁকেন তখন কী কী ঘটনা ঘটে?
কবি যখন দিনেরবেলায় ছবি আঁকেন তখন তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়, অবাক হয়ে তা চড়ুই পাখি লক্ষ করে। মাছরাঙা মৎস্যশিকার ভুলে তার আঁকায় নীল রং ধার দিয়ে সাহায্য করতে চায়, প্রজাপতিরা ছবিতে তাদের রেখে ছবি রঙিন করে তোলার অনুরোধ জানায়। কোনো এক ইঁদুর গর্ত থেকে বেরিয়ে চোখ পিটপিট করে সব কিছুর উপর দৃষ্টি রাখে আর রং-তুলিরা আনন্দ সহকারে তাদের কাজে মেতে ওঠে।
‘তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়’ – কোন্ কবির কোন্ কবিতায় এমন তিন শালিকের প্রসঙ্গ অন্যভাবে আছে?
পাঠ্য কবিতাটিতে কবি তিনটি শালিকের ঝগড়া থামানোর কথা বলেছেন। এমন তিনটি শালিকের প্রসঙ্গ অন্যভাবে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়। তিনি তাঁর সহজপাঠ শিশুশিক্ষা বিষয়ক বইয়ের 2-য় ভাগের নবম পাঠে লিখেছেন – ‘তিনটি শালিক ঝগড়া করে/রান্নাঘরের চালে।’
মাছরাঙা পাখি কেমন দেখতে? সে মৎস্য ভুলে যায় কেন?
মাছরাঙা অত্যন্ত রঙিন পাখি। লাল-নীল-হলুদ রঙে পূর্ণ তার দেহ, তবে নীল রঙের প্রাচুর্যই অধিক।
সে কবির ছবিকে পূর্ণতা দিতে এবং রঙিন করতে তার নীল রং ধার দিতে গিয়ে মৎস্যশিকারে উদাসীন হয়ে পড়ে।
‘রং-তুলিরা বেজায় খুশি আজ দুপুরে আমায় পেয়ে।’ – কবির এমন বক্তব্যের কারণ কী?
রং-তুলিরা বেজায় খুশি তার কারণ সকালবেলায় প্রকৃতির মনোহর রূপে তারা আবিষ্ট হয়ে মনের আনন্দে রঙিন চিত্র অঙ্কনে মত্ত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির মধ্যে তারা যেন ছবির সমস্ত রসদ খুঁজে পায়। প্রকৃতি মা যেন রঙের সম্ভার নিয়ে হাজির হন।
ছবিতে প্রকৃতির মধ্য থেকে কোন্ পতঙ্গ কেন থাকতে চায়?
ছবি আঁকতে কবি যখন ব্যস্ত থাকেন প্রকৃতির বুক থেকে রঙিন প্রজাপতি তাঁর চিত্রে থাকতে চায়। প্রকৃতির চিত্রে তার ছবিও অন্য মাত্রা যোগ করে আরও রঙিন করে তুলতে পারে বলে কবির কাছে তার অনুরোধ সে যেন চিত্রে স্থান পায়।
কবির ছড়া লেখার সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন থাকে?
কবি যখন ছড়া লিখতে বসেন, তখন রাত্রিকাল। মাঠময় চাঁদের জ্যোৎস্না প্লাবিত হয়ে জমিয়ে তুলেছে পুরু দুধের সর। আর পরিবেশ তখন ছড়িয়ে দিয়েছে মৃদুমন্দ বাতাস ফলে কবির মন উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছে সৃষ্টিকর্মে।
বর্ণবিন্যাসে কারা ব্যস্ত থাকে? কোথায়?
বর্ণবিন্যাসে রাত্রে জোনাকিরা ব্যস্ত থাকে।
বকুল গাছে দশটি জোনাকি ‘অ-আ’ লিখে যেন তাদের বর্ণবিস্তারে ব্যস্ত থাকে।
‘সেই তো আমার পরম পুলক’ – আমার বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাঁর পুলকিত হওয়ার কারণ কী?
আমার বলতে কবি নিজেকেই বুঝিয়েছেন।
এক্ষেত্রে তাঁর পুলকিত হওয়ার কারণ হল, ছবি এঁকে ছড়া লিখে তিনি তাঁর দর্শক ও পাঠকের সঙ্গে সত্যিকারের যোগসূত্র গড়ে তুলতে পেরেছেন।
আঁকা, লেখা কবিতায় কবি কোন্ বিষয়কে পদক পাওয়া বলে মনে করেছেন?
পরমা প্রকৃতির রূপমুগ্ধ কবি ছবি ও ছড়ায় পাঠকের কাছে তাঁর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। কোনো বিষয়ে পদক দানের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে তার কৃতিত্বের স্বীকৃতি দান করা হয়। কবি মনে করেন, ছবি ও ছড়ার মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে তাঁর যে নিবিড় যোগসূত্র গড়ে উঠেছে, তা পদকপ্রাপ্তির থেকেও শ্রেষ্ঠ।
‘রং-তুলিরা বেজায় খুশি আজ দুপুরে আমায় পেয়ে’ – পংক্তিটির বক্তব্যে কোন্ বিশেষত্ব প্রকাশ পেয়েছে?
প্রখ্যাত কবি ও ছড়াকার মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর কিশোরমনস্ক কবিতা আঁকা, লেখা-তে যখন ঠিক দুপুরে খুশির খেয়ালকে সঙ্গী করেন, রত হন অঙ্কন প্রচেষ্টায়, তখন দেখা যায় তাঁর ছবি আঁকার প্রধান উপকরণ হয়েছে রং-তুলি। এই যে কবি-শিল্পী তাঁর ছবি আঁকার ক্ষেত্রে রং আর তুলিকে উপকরণ করেছেন, দেখা যায় এতে তারা ‘বেজায় খুশি’ হয়। এখানেই কবি বক্তব্যের বিশেষত্বটি জোরালোভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। রং-তুলি জীবন্ত পদার্থ নয়, তবুও কবির আঁকায় রং-তুলিরা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
‘অ’ লিখছে ‘আ’ লিখছে – কারা, কীভাবে এমন লিখছে? তাদের দেখে কী মনে হচ্ছে?
জোনাকিরা বকুল গাছে তাদের আলো দিয়ে ‘অ’ ‘আ’ লিখছে।
তাদের দেখে মনে হয় রাত্রিকালীন মধুর পরিবেশে তারাও মগ্ন, তাই পরিবেশকে আলোকময় করতে তারাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
‘বাতাস ঈষৎ কাঁপন দিতেই আমার ছড়া লেখার শুরু।’ – বাতাস কীভাবে কবিকে ছড়া লেখার কাজে উৎসাহিত করেছিল?
কবিরা নানাভাবে তাঁদের সৃষ্টিকর্মে উৎসাহিত হন। তার মধ্যে প্রকৃতির উৎসাহ প্রদান একটি বিশেষ ঘটনা। আধুনিক কবি ও ছড়াকার মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর আঁকা, লেখা কবিতাটিতে প্রকৃতির দ্বারা উৎসাহিত হয়ে, প্রকৃতির অনুষঙ্গে তাঁর কবিতার দেহগঠন করেছেন। অতএব বোঝা যায়, তাঁর এই সৃষ্টিকর্মের পিছনে প্রকৃতির একটা ভূমিকা আছে। কবি তাঁর প্রকৃতিমুগ্ধতা থেকেই উদ্ধৃত উক্তিটি কবিতায় উচ্চারণ করেছেন। তিনি যখন রাতেরবেলা মুগ্ধ চোখে দেখেন মাঠ জুড়ে চাঁদের-চন্দন দুধের সরের মতো পুরু হয়ে জমেছে, তখনই তিনি অনুভব করেন বাতাসের মৃদুমন্দ স্পর্শ। এই বাতাসের স্পর্শেই তিনি ছড়া লিখতে শুরু করেন।
‘সেই তো আমার পরম পুলক, সেই তো আমার পদক পাওয়া!’ – কোন্ বিষয়কে কবি পদক পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন?
প্রকৃতিসচেতন কবি মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর প্রকৃতির রূপমুগ্ধতাকে ছবি ও ছড়ার মাধ্যমে পাঠকমহলে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। এই সূক্ষ্ম অনুভূতিকে প্রকাশ করতেই তিনি পদক পাওয়ার প্রসঙ্গ এনেছেন। পদক হল সেই বস্তু, যা এক সম্মানজনক স্বীকৃতি বা প্রশংসাসূচক মেডেল। এ বস্তু দানের মাধ্যমে ব্যক্তিকে তার কৃতিত্বের স্বীকৃতি দান করা হয়। অতএব কবি মনে করেছেন, ছবি আঁকা বা ছড়া লেখার মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে তাঁর যে নিবিড় যোগসূত্র গড়ে উঠেছে, তা পদক পাওয়ার থেকেও অমূল্য। তাই তিনি এমন তুলনা করেছেন।
ছবি আঁকা, ছড়া/কবিতা লেখার মধ্যে তুমি নিজে কোনটা, কেন বেশি পছন্দ করো তা লেখো।
ছবি আঁকা, ছড়া/কবিতা লেখার মধ্যে আমার পছন্দ হল ছবি আঁকা। ছড়া বা কবিতা লিখতে গেলে চাই ছন্দ, অলংকার, উপমার যথাযোগ্য মিলন। তার সঙ্গে উপযুক্ত শব্দ প্রয়োগ ও সুন্দর ভাষা। তাই ছড়া বা কবিতা লেখা মোটেই সহজ বিষয় নয়। তুলনায় ছবি আঁকা অনেকটা যেন সহজসাধ্য।
ছোটোবেলা থেকেই আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে রং-তুলি দিয়ে ছবি আঁকা আমার বিশেষ পছন্দের। সাধারণত ছবির মধ্যে মনের ভাব ফুটে ওঠে। সুন্দরভাবে আঁকা ছবি যেন আমাদের মনের কথাই প্রকাশ করে দেয়।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত, মৃদুল দাশগুপ্ত রচিত ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন