সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত প্রখ্যাত কবি মৃদুল দাশগুপ্ত রচিত ‘আঁকা, লেখা’ কবিতাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে কবি পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই আলোচনাটি আপনাদের ‘আঁকা, লেখা’ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ

কবি পরিচিতি

সাংবাদিক-কবি মৃদুল দাশগুপ্ত হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে 1955 খ্রিস্টাব্দের 3 এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জ্যোৎস্নাকুমার দাশগুপ্ত, মাতা সান্ত্বনা দাশগুপ্ত। উত্তরপাড়া কলেজে তিনি জীববিদ্যায় স্নাতক হন। কিছুদিন শ্রীরামপুরেরই ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পর 1978 খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি পাকাপাকিভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জলপাই কাঠের এসরাজ’। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ ‘এভাবে কাঁদে না’, ‘গোপনে হিংসার কথা বলি’, ‘ধানখেত থেকে’, ‘সূর্যাস্তে নির্মিত গৃহ’, ‘সোনার বুদ্বুদ’ ইত্যাদি। ছোটোদের ছড়ার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ঝিকিমিকি ঝিরিঝিরি’, ‘ছড়া 50’, ‘আমপাতা জামপাতা’। প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতা সহায়ক’। কবি বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি 1975 খ্রিস্টাব্দে ‘ন্যাশনাল রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড’, 2000 খ্রিস্টাব্দে ‘সূর্যাস্তে নির্মিত গৃহ’ কাব্যের জন্য ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমি পুরস্কার’ এবং 2012 খ্রিস্টাব্দে ‘সোনার বুদ্বুদ’ কাব্যের জন্য ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ প্রাপ্ত হন।

পাঠপ্রসঙ্গ

বিশ্বপ্রকৃতির স্রষ্টা স্বয়ং ঈশ্বর। তিনি এর মহান শিল্পী; তাঁরই তুলিতে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে বর্ণময়। এই রঙিন প্রকৃতি কবিমনকে আবিষ্ট করে রাখে, তাঁকে ছবি-ছড়ায় রসদ জোগায়। কবির অঙ্কিত চিত্র ও ছড়ায় প্রকৃতির রঙের সম্ভারের সন্ধান মেলে।

বিষয়সংক্ষেপ

কবির শিল্পী মনকে রঙিন করে তোলে পরম প্রকৃতি। চিত্রাঙ্কনে ব্যস্ত কবি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে প্রকৃতিকে উপভোগ করেন, রূপ-রস-গন্ধে সিঞ্চিত হয়ে ওঠে তাঁর মন। তাঁর এই ভাবনা প্রকাশিত হয় ছবি ও ছড়ায়। প্রকৃতির বুক থেকেই তিনি সংগ্রহ করে নেন আঁকার রসদ। একদৃষ্টে তিনি লক্ষ করেন তিনটি শালিক যখন কলহ থামায় তখন, অবাক হয়ে ছোটো চড়াই সেদিকেই তাকিয়ে থাকে। মাছরাঙা সেই ছোটো শিশুকে তার নীল রং ধার দিয়ে চিত্রাঙ্কনে সাহায্য করতে গিয়ে মৎস্য শিকারে উদাসীন হয়ে পড়ে। প্রকৃতির বুকে রঙিন প্রজাপতি যেন কবিকে তাঁর ছবিতে তাকে তুলে ধরার অনুরোধ জানায়। গর্ত থেকে ইঁদুর ছানাটিও তাঁর ছবিতে স্থান পেতে চায়। এইভাবেই দ্বিপ্রহরে কবিমনকে প্রকৃতিদেবী আপ্লুত করে রাখেন। রং-তুলির মধ্যে কবি যেন এক সজীব সত্তা আরোপ করে তাদের আনন্দময় ক্রিয়াকলাপের মনোমুগ্ধকর চিত্রটি তুলে ধরেন।

ধীরে ধীরে রাত্রি নামে আকাশের বুকে, চন্দ্র প্রকাশিত হয়। ধরণি চাঁদের স্নিগ্ধ আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। চন্দ্রালোকিত হরিৎক্ষেত্র কবির দৃষ্টিতে দুধের পুরু সরের মতো প্রতিভাসিত হয়ে ওঠে। মৃদুমন্দ বাতাসে কবিমন অপূর্ব অনুভূতিতে আবিষ্ট হয়ে ওঠে, ছড়ার ভাষায় তার সে ভাবনা খাতার পাতায় প্রকাশিত হয়। জোনাকির দল বকুল গাছে বর্ণবিন্যাসে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই অনুভূতি পাঠককুলের সঙ্গে কবির যোগসূত্র গড়ে দেয়, যা তাঁর পরম প্রাপ্তি অর্থাৎ পদক পাওয়ার সমতুল্য।

নামকরণ

নামকরণ একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় সম্পদ যে-কোনো সাহিত্যশৈলীর ক্ষেত্রে, কেন-না যেমনই সাহিত্যরচনা হোক না কেন, নামকরণেই তার প্রথম পরিচয় রেখাটি উঠে আসে; পাঠক বুঝে নেন রচনাটির সম্ভাব্য বিষয় কী হতে পারে। অতএব সাহিত্যিক ও সাহিত্যপ্রকাশ উভয় ক্ষেত্রেই নামকরণ একটি জরুরি বিষয়। কবি-সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্তের ‘আঁকা, লেখা’ কবিতাটি কবি-মনস্তত্ত্বের অনন্য প্রকাশে অসাধারণ হয়ে উঠেছে। কবি এখানে যেন নিজেই শিশু হয়ে উঠেছেন। তাই ছবি আঁকার উপকরণগুলি গুছিয়ে নিয়ে ঠিক দুপুরে তিনি যখন ছবি আঁকতে বসেন, তখন দেখা যায়, প্রকৃতির প্রাণসঞ্চারের প্রতীক হয়ে যেন আসে শালিক-চড়ুই-মাছরাঙা-প্রজাপতি এবং গর্তের ইঁদুররাও তাঁর ছবির বিষয় হয়ে উঠতে চায়। কবি যেন তাদের রং নিয়ে তাঁর চিত্রে ব্যবহার করেন, এই তাদের আবদার। এমনকি রং-তুলিরাও কবির ব্যবহারে তাদের খুশি জ্ঞাপন করতে ভোলে না।

আবার দেখা যায়, রাত আসে। জ্যোৎস্নার চন্দনে প্রকৃতি হয়ে ওঠে নিজেই এক চিত্রবিষয়, মৃদুমন্দ বাতাস বয়। আর তখনই কবি বসেন ছড়ার মজা ঘনিয়ে তোলার কাজে। কবি অনুভব করেন আকাশের তারাগুলি যেন অতি সন্তর্পণে তাঁর ঘনিষ্ঠতায় এসে হাজির হয়েছে। জোনাকির দলও রাত্রির অন্ধকার পটভূমিতে বকুল গাছের উপর উড়ে লিখে চলেছে ‘অ’-‘আ’। এই অসাধারণ সময়ে কবির মনও পরম পুলকিত হয়ে ওঠে। এ যেন তাঁর পরম পুলক, পদক-প্রাপ্তি। অতএব দেখা যায় এক সৃজন-কুশলতায় মগ্ন কবি প্রকৃতির আশ্চর্য অনুষঙ্গে হয়ে ওঠেন সৃষ্টিশীল, আঁকেন ছবি, লেখেন কবিতা। তাই কবি প্রদত্ত ‘আঁকা, লেখা’ নামকরণটি কাব্যবিষয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত বলেই নিবিড় সার্থকতা লাভ করেছে তা বলাই যায়।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আঁকা লেখা’ কবিতার বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই পাঠ্যাংশটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

রামকিঙ্কর বেইজের লেখা ‘আত্মকথা

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আঁকা, লেখা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর