সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত রামকিঙ্কর বেইজের লেখা ‘আত্মকথা’ গদ্যাংশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

‘ভিসুয়াল আর্টে আমার প্রথম বর্ণপরিচয়’ – শিল্পী রামকিঙ্করের ছবির সঙ্গে প্রথম বর্ণপরিচয় হয়েছিল কীভাবে?

শৈশব থেকেই শিল্পী রামকিঙ্করের ছবি আঁকার প্রতি একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল। বাড়িঘরের চারদিকের দেয়ালে নানান দেবদেবীর ছবি টাঙানো থাকত, সেগুলি দেখে তিনি খুব আনন্দ পেতেন এবং সেগুলি দেখে দেখে আঁকতে চেষ্টা করতেন। এভাবেই ভিসুয়াল আর্টের (বা ভিজ্যুয়াল আর্টের) সঙ্গে বা ছবির সঙ্গে চিত্রশিল্পী রামকিঙ্করের প্রথম বর্ণপরিচয় হয়েছিল।

‘জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় কলাভবনে নিয়ে গেলেন’ – কে, কাকে নিয়ে গিয়েছিলেন? তারপর কী ঘটেছিল?

প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় লেখক রামকিঙ্কর বেইজকে জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় নিয়ে গিয়েছিলেন। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে কলাভবনে নিয়ে গিয়ে আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

‘যতদূর মনে হচ্ছে-গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ – কার উক্তি? ‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ কীসের নাম? তিনি কীভাবে এ ধরনের কাজ শিখলেন?

উদ্ধৃত উক্তিটি লেখক রামকিঙ্কর বেইজ নিজে করেছিলেন। ‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ একটি চিত্রের নাম। লেখক রামকিঙ্কর যখন শান্তিনিকেতনে আসেন তখন এখানকার কোনো শিল্পী অয়েল পেন্টিংয়ের কাজ করতেন না। লেখক দোকানদারের কাছ থেকে টিউবের রং নিয়ে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে তুলি ডুবিয়ে কী করে কাজ করতে হয়, তা শিখেছিলেন।

‘এই সাদামাটা সুরটা আমাকে ভীষণভাবে টানে’ – কাকে টানে? ‘সাদামাটা সুর’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? তাঁকে এই সুর টানে কেন?

লেখক রামকিঙ্কর বেইজকে এই সাদামাটা সুর টানে। নন্দলাল বসুর আঁকা ছবির মধ্যে একটা অতি সাধারণ গ্রামীণ সুর খুঁজে পাওয়া যেত। তাঁর সব আঁকাই সাধারণ চরিত্র, কমন ল্যান্ডস্কেপ, একেবারে গ্রামের কমপ্লিট ক্যারেক্টার নিয়ে সৃষ্ট। একেই লেখক সাদামাটা সুর বলেছেন। শান্তিনিকেতনে পৌঁছে আচার্য নন্দলাল বসুর আচরণে মুগ্ধ হন লেখক রামকিঙ্কর। তাঁর প্রতি ছিল লেখকের অসীম শ্রদ্ধা। এত বড়ো শিল্পীর সান্নিধ্যলাভ তাঁর অতিরিক্ত পাওনা এবং সৌভাগ্য বলে তিনি মনে করতেন। নন্দলাল বসুর সব ছবির বিষয় ছিল অতি সাধারণ। এই সাদামাটা সুরটাই লেখককে বিশেষভাবে আকর্ষণ করত।

‘মূর্তিগড়ার ইতিহাসও খুব মজার।’ – কোন ব্যাপারটি কেন মজার?

ছেলেবেলা থেকেই মূর্তি গড়ার প্রতি রামকিঙ্করের বেশ টান ছিল। এ ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ জেগেছিল বাড়ির পাশের কুমোরপাড়া থেকে। এ প্রসঙ্গে নিজের মূর্তিগড়ার যে মজার কথা তিনি জানিয়েছেন, তা হলো – তাঁদের বাড়ির সামনের রাস্তা লাল মোরামে ঢাকা থাকত। একদিন তিনি দেখলেন, হঠাৎ বৃষ্টির পরে উপরের মোরাম ধুয়ে রাস্তায় নীল রঙের মাটি বেরিয়ে এসেছে। সেই মাটি খাবলে তুলে তিনি নানারকম পুতুল তৈরি করেছিলেন।

‘এই-সবের মধ্যে কখন নন্-কোঅপারেশন আন্দোলন এসে গেল।’ – সে-সময়ের কথা পাঠ্য রচনায় কীভাবে এসেছে?

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সেকালে যে অসহযোগ আন্দোলন হয়েছিল, তাই ‘নন্-কোঅপারেশন আন্দোলন।’ পাঠ্য ‘আত্মকথা’ রচনায় তারই একটু ছবি এঁকেছেন লেখক – “স্কুল-কলেজ বন্ধ। ন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হলাম আর কংগ্রেসের কাজে যোগ দিলাম।” লেখকের উপর ভার ছিল, মহাপুরুষদের বাণী থেকে উদ্ধৃতি লিখে ঝুলিয়ে দেওয়ার। তা ছাড়া প্রসেশনের সময় তাঁকে তেলরঙে লিডারদের পোর্ট্রেট এঁকে দিতে হতো।

‘এটাই ছিল মূল ধারণা।’ – ধারণাটি কী? এর ফলে কী হয়েছিল?

চিত্রশিল্পেরও কিছু নিজস্ব ধারণা থাকে। এক্ষেত্রে তেমন ধারণাটি হলো – বাস্তবতার ভিতর দিয়ে না গেলে চিত্ররচনা সার্থক হয় বিদ্যা। এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে প্রাকৃতিক বাস্তবতার সূচনা হয় যা এখনও চলছে। এরই ফলশ্রুতিতে ছাত্রদের অ্যানাটমি ও মাসল সম্বন্ধেও শিক্ষা দেওয়া হয়।

‘আমিই প্রথম শুরু করি।’ – কে, কী শুরু করেন? কীভাবে শুরু করেন?

প্রখ্যাত চিত্রকর ও ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ শান্তিনিকেতনের শিক্ষণরীতিতে প্রথম অয়েল-পেন্টিং বা তেলরঙে কাজ করা শুরু করেন। যেহেতু তখনও শান্তিনিকেতনের কলাবিভাগে অয়েল-পেন্টিং চিত্রমাধ্যমটির সূচনাই হয়নি, তাই রামকিঙ্করের এ ব্যাপারে চরম কৌতূহল ছিল। তাই তিনি চিত্রসামগ্রীর দোকানে গিয়ে বলেন – “অয়েল-পেন্টিং করব, কী রং আছে? কীভাবে করতে হয়, দেখান?” তারা অয়েল-পেন্টিংয়ের সরল পদ্ধতি তাঁকে বলে দেন। এরপর তিনি ‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ নামের একটা ভালো তেলরঙের কাজ করেন।

‘তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?’ – কে, কাকে এ কথা বলেছেন? এ কথা বলার পর আর কী বলেছেন?

বিখ্যাত শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু শিল্পী রামকিঙ্করকে এ কথা বলেছেন। এ কথা বলার পর একটু ভেবে বলেছিলেন, “আচ্ছা দু-তিন বছর থাকো তো।”


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত, রামকিঙ্কর বেইজ রচিত ‘আত্মকথা’ পাঠের কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা আত্মকথা

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর