অষ্টম শ্রেণি বাংলা – আদাব – বিষয়সংক্ষেপ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘আদাব’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘আদাব’ গল্প সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আদাব - লেখক পরিচিতি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা

লেখক পরিচিতি

সমরেশ বসু আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথা-সাহিত্যিক। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল সুরথ বসু। পিতা মোহিনীমোহন, মা শৈবলিনী। 1924 খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে ঢাকা জেলার রাজনগর গ্রামে তাঁর জন্ম। প্রথাগত শিক্ষালাভের উচ্চতম সুযোগ তাঁর জীবনে তেমনভাবে আসেনি। কিন্তু জীবনযাপনের পর্বে পর্বে তিনি যেমন পেশা পরিবর্তন করেছিলেন, তেমনি সঞ্চয় করেছিলেন অভিজ্ঞতার মণিমুক্তা; ফেরি করেছেন, চটকল শ্রমিকের কাজ নিয়েছেন, বস্তিতে থেকে ভগ্নগৃহে জীবনযাপন করেছেন। সর্বত্রই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। এককথায় অল্পবয়সেই চরম জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয় তাঁকে। প্রথম জীবনে কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিয়ে উক্ত পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। 1950 খ্রিস্টাব্দে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আটক হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন সাহিত্যই হবে তাঁর উপলব্ধি বিকাশের প্রধান হাতিয়ার। এ সময়েই তিনি শ্যালকের দেওয়া সমরেশ নামটি গ্রহণ করেন। যারা থাকে মাটির কাছাকাছি, সব অর্থে যারা মাটিঘেঁষা, তারাই তাঁর সাহিত্যের কুশীলব। সাহিত্যকে তিনি কোনোদিন ফাঁকির দৃষ্টিতে দেখেননি। বলেছিলেন, ‘সাহিত্যের যা কিছু দায়, সে তো জীবনেরই কাছে।’ তাই তাঁর সাহিত্য সত্যিকারের জীবনময়। ‘নয়নপুরের মাটি’ তাঁর প্রথম উপন্যাস, যদিও প্রথম ছাপা হয় তাঁর ‘উত্তরবঙ্গ’ উপন্যাসটি। সমরেশ বসুর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘কালকূট’। এই ছদ্মনামে তিনি অজস্র যুগান্তকারী উপন্যাস রচনা করেছেন। ছদ্মনামে লেখা ‘শাম্ব’ উপন্যাসের জন্য তিনি ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। সমরেশ বসু নামে তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস হলো- ‘যুগ যুগ জীয়ে’, ‘ছিন্ন বাধা’, ‘গঙ্গা’, ‘বি টি রোডের ধারে’, ‘মহাকালের রথের ঘোড়া’ ইত্যাদি। ‘কালকূট’ ছদ্মনামে তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো – ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’, ‘কোথায় পাব তারে’, ‘আরব সাগরের জল নোনা’, ‘তুষার সিংহের পদতলে’ ইত্যাদি। ছোটোগল্পে লেখকের দক্ষতা ছিল প্রবাদপ্রতিম। ‘আদাব’ তাঁর প্রথম ছোটোগল্প। সমরেশ বসুর মৃত্যু ঘটে 1988 খ্রিস্টাব্দে।

পাঠপ্রসঙ্গ

প্রায় পৌনে দুশো বছর উপনিবেশবাদী ব্রিটিশবাহিনী ভারত শাসন করেছিল, আর তার বহু আগে থেকে এদেশে মুসলমান শাসনতন্ত্রের ফলে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছিল হিন্দু-মুসলমান সম্মিলিত জীবনযাপন প্রণালী। ভারতে স্বাধীনতাবোধ জাগ্রত হলে এবং ক্রমে ক্রমে তা পুষ্ট হলে সুচতুর ইংরেজ লক্ষ করল এই হিন্দু-মুসলমান সম্মিলনকে দুর্বল না করলে ভারতে ইংরেজ উপনিবেশ টলমল করবে। জন্ম নিল দ্বিজাতিতত্ত্ব। লর্ড কার্জনের আমলে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবের মধ্যেও এই দ্বিজাতিতত্ত্বের উসকানিমূলক ভেদনীতি প্রবল ছিল। কিন্তু আত্মপ্রকাশ করে তখনকার মতো তা চাপা পড়ে যায়। এরপর রাজনীতির সমুদ্রে অনেক উথালপাথাল ঘটে যায় এবং ক্রমে ইংরেজের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এই দ্বিজাতিতত্ত্ব ভারতের রাজনীতিকে তোলপাড় করে তোলে। প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বে সমগ্র ভারতে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা এত প্রবল হয়ে ওঠে যে, প্রথমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পরে দেশভাগের দুঃসহ বেদনা বহন করতে হয় দেশবাসীকে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসুর সাহিত্যে এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বারবার জোরালো ছাপ ফেলেছিল। ‘আদাব’ গল্পে তিনি যেন প্রত্যক্ষ দাঙ্গাবিরোধিতার কথাই বলেছেন। দুই অতিসাধারণ মানুষের আলাপনে দাঙ্গার প্রতি সাধারণ মেহনতি মানুষের বিরূপ মনোভাবের কথা যেন এ গল্পে এক দাঙ্গাবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছে। গল্পটি চরম মানবিক। কারণ যারা দাঙ্গা বাধায়, এ গল্পে পরোক্ষে যেন লেখক তাদের প্রতি ঘৃণাই জানিয়েছেন।

বিষয়সংক্ষেপ

রাত্রির নিস্তব্ধতা কেঁপে উঠছে টহলদারি মিলিটারি গাড়ির গর্জনে। হিন্দু-মুসলমানে দাঙ্গা বাধার কারণে শহরে 144 ধারা। মতলববাজ মানুষের হাতে নানা অস্ত্র, গুপ্তঘাতই তাদের উদ্দেশ্য। বস্তিতে আগুন, ক্ষণে ক্ষণে মৃত্যুমুখী মানুষের চিৎকার, তার মধ্যে সৈন্যবাহিনীর অতর্কিত হামলা।

দুটো গলি যেখানে এসে এক হয়েছে, তার একপাশে ডাস্টবিন; সেখানে হঠাৎ একটা লোক যেন প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল। প্রায় নির্জীবের মতো পড়ে থেকে চাপা ধ্বনিতে শুনতে থাকল – ‘আল্লাহু-আকবর’ ও ‘বন্দেমাতরম্’। হঠাৎ নিস্তব্ধতার মধ্যে ডাস্টবিনটা নড়ে ওঠার পর দেখা গেল, দাঙ্গাভীত আর-একটা মানুষ তার মধ্য থেকে মাথা তুলছে। ডাস্টবিনটার দু-পাশে আতঙ্কিত দুটি মানুষ। চোখের দৃষ্টিতে ভয় ও উত্তেজনার ছাপ। দুজনে দুজনকে খুনি বলে ভাবছে। অনেকক্ষণ এমন স্থিতাবস্থার পর তাদের মনে একটাই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিল – ‘হিন্দু, না মুসলমান?’ একজন জিজ্ঞাসা করে-বাড়ি কোথায়? অন্যজন উত্তর দেয়-বুড়িগঙ্গার পরপারে, সুবইডায়। অন্যজনও নিজের ঠিকানা জানায় নারায়ণগঞ্জের কাছে। ক্রমে জানা যায় এদের একজন নৌকোর মাঝি, অন্যজন সুতাকলের কর্মী।

আবার চুপচাপ। হঠাৎ কাছে কোথাও শোরগোল ওঠে। উন্মত্ত কণ্ঠের ধ্বনির প্রকাশ, দুজনেই সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সুতামজুর আতঙ্কিত কণ্ঠে বলে ‘ধারে-কাছেই য্যান লাগছে।’ মাঝি সমকণ্ঠে বলে, ‘চল, এইখান থেইক্যা উইঠা যাই।’ সুতামজুর তাকে বাধা দেয়, বলে ‘উইঠো না। জানটারে দিবা নাকি?’ কথার আন্তরিকতা না বুঝে মাঝির মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সুতামজুর শেষপর্যন্ত তাকে উঠতে দেয় না। মাঝি সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসা করে, ‘ক্যান?’ সুতামজুর তাকে দাঙ্গা পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কথার উত্তেজনা, সন্দেহের ভাব-কথা বলতে বলতে খানিকটা চলে যায় বলে, দুজনে যেন দুজনকে বুঝতে পারে অনেকটা। জমে ওঠা শোরগোল একসময় মিলিয়ে যায়। আবার মৃত্যুর প্রতীক্ষা। দুই বিপন্ন প্রাণীর মনে মৃত্যুভয় সরে গিয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসে পরিবার-পরিজনদের কথা। তারা ভাবে-আর কি ঘরে ফিরতে পারবে? হঠাৎ ধেয়ে আসা দাঙ্গার কথাও ভাবে তারা। রক্তগঙ্গার দুঃসহ স্মৃতিতে তাদের বুক খালি করে দীর্ঘশ্বাস হয়ে বের হয়।

দেশলাই জ্বালতে গিয়ে আচম্বিতে প্রকাশ হয়ে পড়ে-মাঝি মুসলমান। দুজনের মধ্যে আবার জেগে ওঠে আতঙ্ক। অবিশ্বাসের দোলায় কয়েকটা নিস্তব্ধ পল কেটে যায়। আতঙ্কিত সুতামজুর মাঝির পুঁটলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে মাঝি জানায় তার মধ্যে আছে ছেলেমেয়ের দুটো জামা আর বিবির একটা শাড়ি। কাল ইদ। কথায় কথায় দুজনের উপর দুজনের বিশ্বাস স্থির হয়, কথায় কথায় দুজনের বক্তব্যেই দাঙ্গার প্রতি ঘৃণা ঝরে পড়ে। দাঙ্গা কীভাবে তাদের মতো মেহনতি মানুষকে ধূলিলুণ্ঠিত করে তারই ইতিকথা যেন রচিত হয়। তাদের ক্ষোভ যেন ধীরে ধীরে উঠে আকাশ-বাতাসকে স্পর্শ করতে চায়, তারা পালাতে চায়। বাঁচতে চায় দাঙ্গাবাজদের হিংসার আগুন থেকে।

মোড় পেরিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে তারা ছোটে। দৃষ্টি তাদের ঘুরছে। কেউ কোথাও আততায়ীর মতো আত্মগোপন করে নেই তো? হঠাৎ অশ্বক্ষুরধ্বনি ধেয়ে এল। রিভলবার হাতে এক অশ্বারোহী দূরে মিলিয়ে গেল। আতঙ্কিত সুতামজুর হাত ধরে মাঝিকে নিয়ে গেল একটা পান-বিড়ির দোকানের আড়ালে। দেখল সামান্য দূরত্বে একটা ঘরে সেনাদের উত্তেজিত জটলা। মাঝি সুতামজুরকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে অনতিদূরের বাদামতলির ঘাটে চলে যেতে চাইল। মুহূর্তে হিন্দু-মুসলমান এলাকা ভাগ করে মাঝি জানাল-সেটা হিন্দু এলাকা। সে থাকুক, তাকে যেতেই হবে। কারণ আটদিন ঘরছাড়া সে আর বাড়ি না ফিরে থাকতে পারছে না। নৌকো না পেলে সে সাঁতরেই নদী পার হবে। সুতামজুর তাকে যেতে দিতে চায় না। আন্তরিকতায় তার গলা করুণ ও উত্তেজনায় কম্পমান। মাঝি ‘আদাব’ জানিয়ে চলে যায়। সুতামজুর প্রত্যুত্তরে বলে – ‘আদাব’।

হঠাৎ আওয়াজ ওঠে – ‘হল্ট…’। সুতামজুর চমকে ওঠে। সে লক্ষ করে-মাঝিকে দেখে ‘ডাকু ভাগতা হ্যায়’ বলে পুলিশ অফিসার রাস্তায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজ। শোনা যায় ‘মরণ আর্তনাদ’। সুতামজুর দেখল পুলিশের গুলিতে মাঝির রক্তে তার বগলের পুঁটলির জামাকাপড় ভেসে যাচ্ছে। এহেন পরিণতিতেই গল্পের সমাপ্তি।

নামকরণ

পাঠকমনে সঠিক তথা যথাযথ প্রাথমিক ধারণা জাগানোর জন্য সাহিত্যের নামকরণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিষয়বস্তু তথা মুখ্য কাহিনি কিংবা প্রধান চরিত্র অথবা ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণ সাহিত্যক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

‘কালকূট’ ছদ্মনামে সুপরিচিত বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসুর ছোটোগল্পগুলির মধ্যে প্রতিনিধিত্বমূলক ছোটোগল্প ‘আদাব’। ‘আদাব’ কথাটির অর্থ মুসলমান সম্প্রদায়ের অভিবাদন প্রকাশরীতি বা সেলাম। প্রাক্-স্বাধীনতালগ্নে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সমগ্র ভারতে যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, শহর কলকাতা তা থেকে বাদ যায়নি। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পটি মানবিক আবেদনে চিরভাস্বর।

গল্পটির সূচনাংশেই গল্পকার উল্লেখ করেছেন ‘দাঙ্গা বেধেছে হিন্দু আর মুসলমানে’। সেই কারণেই দাঙ্গার মর্মান্তিক ছবি ফুটে উঠেছে গল্পটিতে। মৃত্যু-মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের অরাজকতার ভয়াবহ ছবি প্রকাশিত হয়েছে গল্পটিতে। লুট, হত্যা, আগুন, অসহায় শিশুর ক্রন্দন, লাঞ্ছিতা নারীর আর্তনাদ এসবের মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অস্থিরতার কথা লেখক প্রকাশ করেছেন। অবিশ্বাসের এই বাতাবরণের মধ্যেই অন্ধকার গলির এক ডাস্টবিনকে অবলম্বন করে অসহায় দুটি মানুষের আত্মগোপনের প্রয়াস গল্পটির মধ্যে উত্তেজনা সঞ্চার করে। সন্দেহ আর ভয়ে চারটে চোখই যেন বিস্ফারিত হয়ে ওঠে। কেউই নিজের পরিচয় আগে প্রকাশ করতে নারাজ। এমন অবস্থার মধ্যেই দুটি মানুষ পরস্পরকে অবলম্বন করে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করে, এভাবেই পরস্পর কাছাকাছি আসে। কিন্তু ভিজে বা সেঁতলে যাওয়া দেশলাই কাঠি জ্বালানোর প্রয়াসে উন্মোচিত হয় মুসলিম ব্যক্তির পরিচয়। আসন্ন মৃত্যুভয় অচেনা, অজানা মানুষ দুটিকে এক করেছিল-এখন পরিচয় প্রকাশের পরেও তাদের একতা ভাঙে না। তারা তখন জাতিধর্মের অনেক উপরে মানবতার ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। তাইতো ইদের আগে মুসলমান মাঝির বাড়ি পৌঁছোনোর আপ্রাণ চেষ্টা মন ছুঁয়ে যায় হিন্দু সুতামজুরের। তারা সাধারণ, তারা দিন আনে দিন খায়-এমন সমাজের মানুষ। তাদের সাধারণ মন যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না তা হলো – এই রায়োটে ‘দ্যাশের কী উপকারটা হইব?’ রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ এই মানুষগুলির অচেনা, কিন্তু প্রকৃত দেশবাসী যারা, ক্ষমতার হস্তান্তর কিংবা ভাগবাঁটোয়ারায় তাদের সত্যিই কতটুকু লাভ হয়? যে অপূরণীয় ক্ষতি হয় তার ক্ষতিপূরণ দেয় কোন্ সরকার? গল্পটি শেষ হয়েছে বিয়োগান্ত পরিণতির মধ্য দিয়ে। আদাব জানিয়ে মুসলিম মাঝি বাড়ির পথে পা বাড়ালে তার নিরাপদে পৌঁছোনোর প্রার্থনা জানানোর মাঝেই হিন্দু সুতামজুরের কানে আসে গুলির শব্দ, ‘মরণ আর্তনাদ’।

এই সাধারণ মানুষরা কোনোদিন ক্ষমতায় যায় না, ক্ষমতাশালীদের কাছাকাছিও পৌঁছোয় না, কিন্তু তাদের মধ্যে মানবিকতার যে সহজাত বোধ আছে তা যদি গুরুত্ব পেত তাহলে হয়তো ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। সাহিত্যিক সমরেশ বসুর লেখা বক্তব্য বিষয়কেন্দ্রিক ‘আদাব’ গল্পটির নামকরণ যথাযথ।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘আদাব’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান