নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – কোশ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জীবন সংগঠনের স্তর-কোশ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী
Contents Show

প্রোক্যারিওটিক কোশ ও ইউক্যারিওটিক কোশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

প্রোক্যারিওটিক কোশ ও ইউক্যারিওটিক কোশের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়প্রোক্যারিওটিক কোশইউক্যারিওটিক কোশ
নিউক্লিয়াসনিউক্লিয় পর্দা দিয়ে ঘেরা আদর্শ নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত। পরিবর্তে দ্বিতন্ত্রী DNA সমন্বিত পর্দাবিহীন অংশ নিউক্লিওয়েড উপস্থিত।নিউক্লিয় পর্দা দিয়ে ঘেরা আদর্শ নিউক্লিয়াস উপস্থিত।
কোশ অঙ্গাণুপর্দা দিয়ে ঘেরা কোশ অঙ্গাণু (যেমন – মাইটোকনড্রিয়া, লাইসোজোম, গলগি বডি, ক্লোরোপ্লাস্ট প্রভৃতি) থাকে না।পর্দা দিয়ে ঘেরা বিভিন্ন কোশ অঙ্গাণু (যেমন – মাইটোকনড্রিয়া, লাইসোজোম, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বডি) উপস্থিত।
রাইবোজোম70S প্রকৃতির এবং সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে।80S প্রকৃতির এবং এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে।
সেন্ট্রোজোমঅনুপস্থিত।উদ্ভিদকোশে অনুপস্থিত কিন্তু প্রাণীকোশে বর্তমান।
শ্বসনে সাহায্যকারী অঙ্গাণুমেসোজোম।মাইটোকনড্রিয়া।
বিভাজনঅ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়।মাইটোসিস ও মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়।
কোশপ্রাচীরকোশপ্রাচীরের মুখ্য উপাদান হল পেপটাইডোগ্লাইকান বা মিউরিন।কোশপ্রাচীরের মুখ্য উপাদান সেলুলোজ। প্রাণীকোশে কোশপ্রাচীর থাকে না।
উদাহরণব্যাকটেরিয়া, নীলাভ-সবুজ শৈবাল।উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশ।

উদ্ভিদকোশ (Plant cell) ও প্রাণীকোশের (Animal cell) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উদ্ভিদকোশ (Plant cell) ও প্রাণীকোশের (Animal cell) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়উদ্ভিদকোশপ্রাণীকোশ
কোশ আবরককোশ আবরকরূপে কোশপ্রাচীর ও কোশপর্দা বর্তমান।কোশ আবরকরূপে কেবলমাত্র কোশপর্দা বর্তমান।
প্লাস্টিডসাইটোপ্লাজমে প্লাস্টিড থাকে। (ব্যতিক্রম – ছত্রাক)।সাইটোপ্লাজম প্লাস্টিডবিহীন হয়। (ব্যতিক্রম – ইউপ্লিনা)।
নিউক্লিয়াসের অবস্থাননিউক্লিয়াস সাধারণত কোশের পরিধির দিকে অবস্থান করে।নিউক্লিয়াস কোশের কেন্দ্রে অবস্থান করে।
লাইসোজোমসাধারণত লাইসোজোম থাকে না।লাইসোজোম থাকে।
ভ্যাকুওলপরিণত কোশে কেন্দ্রীয় বড়ো আকারের ভ্যাকুওল থাকে, অপরিণত কোশে সংখ্যায় বেশি ও ছোটো আকারের ভ্যাকুওল থাকে।নিম্নশ্রেণির প্রাণী ছাড়া সাধারণত প্রাণীকোশে ভ্যাকুওল থাকে না, থাকলেও তা ছোটো আকারের ও কম সংখ্যক হয়।
মাইটোকনড্রিয়ার সংখ্যামাইটোকনড্রিয়া সংখ্যায় কম।মাইটোকনড্রিয়া সংখ্যায় বেশি।
সেন্ট্রোজোমসেন্ট্রোজোম থাকে না। (ব্যতিক্রম – নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোশ – শৈবাল, ক্ল্যামাইডোমোনাস)।সুস্পষ্ট ও সক্রিয় সেন্ট্রোজোম থাকে। (ব্যতিক্রম – স্নায়ুকোশ)।
সাইটোপ্লাজমীয় সংযোগপ্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে সন্নিহিত দুটি উদ্ভিদকোশের মধ্যে যোগসূত্র বজায় থাকে।সন্নিহিত দুটি প্রাণীকোশ ডেসমোজোমের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।

কোশপর্দা (Cell Membrane) ও কোশপ্রাচীরের (Cell wall) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

কোশপর্দা (Cell Membrane) ও কোশপ্রাচীরের (Cell wall) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়কোশপর্দাকোশপ্রাচীর
প্রাপ্তিস্থলপ্রোক্যারিওটিক কোশ, উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশ সবক্ষেত্রে বর্তমান।প্রাণীকোশে অনুপস্থিত। প্রোক্যারিওটিক কোশ ও উদ্ভিদকোশে বর্তমান।
অবস্থানসমস্ত সজীব কোশে প্রোটোপ্লাজমকে বেষ্টন করে থাকে।কোশপর্দাকে বেষ্টন করে থাকে।
সাংগঠনিক উপাদানপ্রোটিন ও লিপিড দ্বারা নির্মিত।সেলুলোজ (উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীর) ও পেপটাইডোগ্লাইকান (ব্যাকটেরিয়ার কোশপ্রাচীর) দ্বারা নির্মিত।
প্রকৃতিসজীব, পাতলা, অর্ধভেদ্য, স্থিতিস্থাপক পর্দা।জড়, দৃঢ়, পুরু, মৃত, ভেদ্য আবরণ।
ভেদ্যতাপ্রভেদক ভেদ্য বা পছন্দমাফিক ভেদ্য আবরণ।ভেদ্য আবরণ।
কোশ অঙ্গাণু গঠনবিভিন্ন কোশ অঙ্গাণু গঠনে সাহায্য করে।কোনো প্রকার কোশ অঙ্গাণু গঠনে সাহায্য করে না কিন্তু উদ্ভিদকোশ বিভাজনের সময় বিশেষ অংশ গঠন করে কোশ বিভাজনে সাহায্য করে।

নিউক্লিয়াস (Nucleus) ও নিউক্লিওয়েডের (Nucleoid) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

নিউক্লিয়াস (Nucleus) ও নিউক্লিওয়েডের (Nucleoid) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়নিউক্লিয়াসনিউক্লিওয়েড
অবস্থানইউক্যারিওটিক কোশে বর্তমান।প্রোক্যারিওটিক কোশে পরিলক্ষিত হয়।
আবরকদুটি একক পর্দা নির্মিত নিউক্লিয় পর্দা দ্বারা আবৃত।আবরণ অনুপস্থিত।
গঠনচারটি অংশ। যেমন – নিউক্লিয় জালিকা, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয় পর্দা।এটি কেবলমাত্র DNA তন্তু দ্বারা গঠিত।
বিভাজনমাইটোসিস বা মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এর বিভাজন ঘটে (দ্বি-বিভাজন)।
ক্রোমোজোম সংখ্যানির্দিষ্ট।নির্দিষ্ট নয়।

মাইটোকনড্রিয়া (Mitochondria) ও গলগি বস্তুর (Golgi body) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মাইটোকনড্রিয়া (Mitochondria) ও গলগি বস্তুর (Golgi body) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়মাইটোকনড্রিয়াগলগি বস্তু
আবরণীদ্বি-একক পর্দাবিশিষ্ট।একক পর্দাবিশিষ্ট।
গঠনদণ্ডাকার বা উপবৃত্তাকার অঙ্গাণু।চ্যাপটা, নলাকার ও ছোটো, বড়ো গোলাকার বা অনিয়তাকার থলিবিশিষ্ট অঙ্গাণু।
ক্রিস্টিঅন্তঃপর্দা ভিতরদিকে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো প্রবর্ধক বা ক্রিস্টি গঠন করে।ক্রিস্টি গঠন করে না।
কাজকোশীয় শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তুর জারণের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে (কোশের শক্তিঘর)।কোশের ক্ষরণকার্যে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে।

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (Endoplasmic Reticulum) ও গলগি বস্তুর (Golgi body) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (Endoplasmic Reticulum) ও গলগি বস্তুর (Golgi body) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকাগলগি বস্তু
অবস্থানকোশপর্দা থেকে নিউক্লিয় পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত।সাধারণত নিউক্লিয়াসের কাছে দলবদ্ধভাবে থাকে।
গঠনসিস্টারনি, টিউবিউল ও ভেসিক্স নিয়ে গঠিত।সিস্টারনি, ভ্যাকুওল ও মাইক্রোভেসিক্স নিয়ে গঠিত।
প্রকারভেদউপরিতলে রাইবোজোমের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে অমসৃণ বা মসৃণ প্রকৃতির হয়।কোনো প্রকারভেদ নেই।
কাজকোশের সাইটোপ্লাজমকে কয়েকটি অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলিকে পৃথক রাখে।কোশীয় ক্ষরণে অংশগ্রহণ করে।

মসৃণ (SER) ও অমসৃণ (RER) এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মসৃণ (SER) ও অমসৃণ (RER) এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়মসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকাঅমসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা
অবস্থানকোশপর্দার নিকটে বর্তমান।নিউক্লিয়াসের নিকটে পরিলক্ষিত হয়।
প্রকৃতিপ্রধানত টিউবিউল দ্বারা গঠিত ও রাইবোজোম থাকে না।প্রধানত সিস্টারনি দ্বারা গঠিত ও রাইবোজোমযুক্ত হয়।
প্রাপ্তিস্থলস্নেহপদার্থ ও স্টেরয়েড উৎপাদনকারী কোশ।প্রোটিন সংশ্লেষকারী কোশ।
কাজস্নেহপদার্থ ও স্টেরয়েড সংশ্লেষ করে।প্রোটিন উৎপাদন করে।

রাইবোজোম (Ribosome) ও লাইসোজোমের (Lysosome) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

রাইবোজোম (Ribosome) ও লাইসোজোমের (Lysosome) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়রাইবোজোমলাইসোজোম
উপস্থিতিএটি প্রোক্যারিওটিক, ইউক্যারিওটিক উভয় প্রকার কোশে পরিলক্ষিত হয়।এটি কেবলমাত্র ইউক্যারিওটিক কোশে পরিলক্ষিত হয়।
অবস্থানএটি কোশের সাইটোপ্লাজমে এককভাবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় বা এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে বা নিউক্লিয় পর্দার গায়ে যুক্ত থাকে।এটি কোশের সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে।
একক পর্দাএকক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে না।একটি একক পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে।
উপাদাননিউক্লিক অ্যাসিড (RNA) ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।প্রায় 40 প্রকার আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচক দ্বারা গঠিত।
অধঃএককদুটি অধঃএকক বর্তমান।কোনো অধঃএকক থাকে না।
কাজকোশের সমস্ত প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে।কোশীয় পাচনে অংশগ্রহণ করে।

মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ও বহিঃপর্দার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ও বহিঃপর্দার মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দামাইটোকনড্রিয়ার বহিঃপর্দা
ক্রিস্টিউপস্থিত।অনুপস্থিত।
ভেদ্যতাঅর্ধভেদ্য।ভেদ্য।
প্রোটিন80% প্রোটিনযুক্ত।50% প্রোটিনযুক্ত।
লিপিডের প্রকৃতিপ্রচুর পরিমাণে কার্ডিও লিপিড উপস্থিত থাকে।প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল উপস্থিত থাকে।
দানাঅক্সিজোম বা F0– F1 দানাযুক্ত হয়।পারসনের দানাযুক্ত হয়।

ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্টের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্টের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়ক্লোরোপ্লাস্টক্রোমোপ্লাস্টলিউকোপ্লাস্ট
অবস্থানউদ্ভিদের পাতা, কচি কান্ড, ফুলের বৃতি ও অন্যান্য সকল সবুজ অংশের কোশে উপস্থিত।উদ্ভিদের ফুলের দলাংশ, পাকা ফলের খোসা, মূলের রঙিন অংশের কোশে উপস্থিত।উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয়ী অঙ্গ (বীজের সস্য, মূল, কন্দ প্রভৃতি) অর্থাৎ, যেগুলি সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসে না, তাতে এই প্লাস্টিড থাকে।
বর্ণগত বৈশিষ্ট্যসবুজ বর্ণের হয়।সবুজ ছাড়া অন্য বর্ণের (কমলা, লাল, হলুদ) হয়।বর্ণহীন হয়।
রঞ্জক পদার্থক্লোরোফিল উপস্থিত।ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য রঞ্জক পদার্থ ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি উপস্থিত।কোনো প্রকার রঞ্জক পদার্থ থাকে না।
আকৃতিচ্যাপটা থলির মতো।লম্বা, গোলাকার বা তারকাকার।দণ্ডাকার, গোলাকার বা উপবৃত্তাকার।
কাজউদ্ভিদকোশে সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে।কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করে।শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহপদার্থ সঞ্চয় করে।

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) ও মাইটোকনড্রিয়ার (Mitochondria) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) ও মাইটোকনড্রিয়ার (Mitochondria) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়ক্লোরোপ্লাস্টমাইটোকনড্রিয়া
অবস্থানউদ্ভিদকোশে পরিলক্ষিত হয়।উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় প্রকার কোশে বর্তমান।
রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিক্লোরোফিল রঞ্জক উপস্থিত।কোনো প্রকার রঞ্জক থাকে না।
আবরণীর বৈশিষ্ট্যঅন্তঃপর্দা ও বহিঃপর্দায় দানা অনুপস্থিত।অন্তঃপর্দায় বৃন্তহীন দানা ও বহিঃপর্দায় বৃত্তযুক্ত দানা উপস্থিত।
অন্তঃপর্দাঅনুপস্থিত।অন্তঃপর্দা ভিতরদিকে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো প্রবর্ধক বা ক্রিস্টি গঠন করে।
কাজসালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহে শর্করাজাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।কোশীয় শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুর জারণ ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদন করে (কোশের শক্তিঘর)।

প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোম ও ইউক্যারিওটিক রাইবোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোম ও ইউক্যারিওটিক রাইবোজোমের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোমইউক্যারিওটিক রাইবোজোম
প্রকৃতি70S প্রকৃতির।80S প্রকৃতির।
অধঃএককবড়ো অধঃএকক 50S এবং ছোটো অধঃএকক 30S।বড়ো অধঃএকক 60S এবং ছোটো অধঃএকক 40S।
আয়তনদৈর্ঘ্য 200-290Å ও ব্যাস 170-210Å।দৈর্ঘ্য 300–340Å এবং ব্যাস 200-240Å।
আণবিক ওজন2.7-3.0 মিলিয়ন ডালটন।4.0–4.5 মিলিয়ন ডালটন।
rRNA : প্রোটিন40 : 6060 : 40
অবস্থানসাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে।সাইটোপ্লাজমে মুক্ত বা নিউক্লিয়পর্দা ও ER -এর গাত্রে যুক্ত অবস্থায় থাকে।

পিনোসাইটোসিস (Pinocytosis) ও ফ্যাগোসাইটোসিসের (Phagocytosis) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

পিনোসাইটোসিস (Pinocytosis) ও ফ্যাগোসাইটোসিসের (Phagocytosis) মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়পিনোসাইটোসিসফ্যাগোসাইটোসিস
পদ্ধতিএই পদ্ধতি দ্বারা কোশপর্দার মাধ্যমে জীব তরল পদার্থ গ্রহণ করে।এই পদ্ধতির দ্বারা কোশপর্দার মাধ্যমে জীব কঠিন পদার্থ গ্রহণ করে।
গহ্বরতরল পদার্থকে ঘিরে পিনোজোম গঠিত হয়।কঠিন পদার্থকে ঘিরে ফ্যাগোজোম গঠিত হয়।
কাজপাঁচন।পাচন ও আত্মরক্ষা।
সংঘটন স্থানঅ্যামিবা দ্বারা তরল পদার্থ গ্রহণ, অস্থিমজ্জার এরিথ্রোব্লাস্টে।অ্যামিবার খাদ্যগ্রহণ, WBC ও ম্যাক্রোফাজ দ্বারা রোগজীবাণু গ্রহণ ও ধ্বংস।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-নবম শ্রেণী-জীবনবিজ্ঞান

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর