এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ টীকা নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

মেসোক্যারিওটিক কোশ (Mesokaryotic Cell) সম্পর্কে টীকা লেখো।
যেসব কোশের নিউক্লিয়াস সুসজ্জিত হয় অর্থাৎ, নিউক্লিয়াসের গঠনগত উপাদানগুলি উপস্থিত থাকে এবং কোশে পর্দাঘেরা কোশীয় অঙ্গাণু থাকে, ক্রোমোজোম আম্লিক প্রোটিন দিয়ে গঠিত হয় এবং নিউক্লিয় বিভাজন অ্যামাইটোটিক প্রকৃতির হয় ও বিভাজন কালে নিউক্লিয় পর্দা বিলুপ্ত হয় না, তাদের মেসোক্যারিওটিক কোশ বলে। যেমন – নটিব্লিউকা, পেরিডিনিয়াম, জিমনোডিনিয়াম ইত্যাদি।
মেসোক্যারিওটিক কোশের বৈশিষ্ট্য –
- নিউক্লিয়াস সংগঠিত ও পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ক্রোমোজোম আম্লিক প্রোটিন দ্বারা তৈরি হয়।
- কোশ বিভাজন অ্যামাইটোটিক প্রকৃতির হয় এবং বিভাজনকালে নিউক্লিয় পর্দা বিলুপ্ত হয় না।
- সেন্ট্রোজোম থাকে না। কোশে কোশপর্দা থাকে, কিন্তু কোশপ্রাচীর থাকে না।
গ্রাণা (Grana ) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সংজ্ঞা – ক্লোরোপ্লাস্টের ধাত্রে একক পর্দাবেষ্টিত ছোটো ছোটো চ্যাপটা থলি একটির ওপর আর একটি সজ্জিত হয়ে যে-সমস্ত থলির মতো স্তর গঠন করে, তাদের একত্রে গ্রাণা (বহুবচনে – গ্রাণা; একবচনে – গ্রাণাম) বলে।
গ্রাণার গঠন –
- গ্রাণার অন্তর্গত প্রতিটি থলির স্তরকে গ্রাণাম বলে। প্রতি ক্লোরোপ্লাস্টে এর সংখ্যা থাকে প্রায় 60-80টি।
- কাছাকাছি অবস্থিত গ্রাণাগুলি একে অপরের সঙ্গে একক পর্দাবৃত নালি দ্বারা যুক্ত থাকে। এদের স্ট্রোমা পট্ট বা স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে।
- গ্রাণামে উপস্থিত একক পর্দাবৃত চাকতির মতো চ্যাপটা থলিকে থাইলাকয়েড (ব্যাস 0.4-0.8 µm) বলে।
- প্রতিটি গ্রাণামে থাইলাকয়েডের সংখ্যা 20-80টি।
- থাইলাকয়েড হল ক্লোরোপ্লাস্টের গঠনগত ও কার্যগত একক।
- থাইলাকয়েডের আবরণীগাত্রে যুক্ত গোলাকার, চ্যাপটা দানাগুলিকে কোয়ান্টোজোম বলে। এদের মধ্যে ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকে।
গ্রাণার কাজ –
- সবুজ উদ্ভিদ দেহে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষের আলোকদশা বা আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি গ্রাণা অংশে সম্পন্ন হয়।
- গ্রাণাস্থিত ক্লোরোফিল সূর্যালোক আবদ্ধকরণে সক্ষম এবং সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে।
RER (Rough Endoplasmic Reticulum) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সংজ্ঞা – যে-সমস্ত এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আবরণী গাত্রে রাইবোফোরিন প্রোটিনের সাহায্যে রাইবোজোম দানা আবদ্ধ থাকে, তাদের RER বা দানাদার ER বলে।
অবস্থান – প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষকারী কোশে উপস্থিত থাকে, যেমন – অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসাইনাল কোশ, গবলেট কোশ, প্লাজমা কোশ, স্নায়ুকোশ ও বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকোশ।
RER -এর কাজ –
- প্রোটিন সংশ্লেষ – রাইবোজোমের সাহায্যে কোশে প্রোটিন সংশ্লেষ করে। যেমন – সিরাম প্রোটিন, মেমব্রেন প্রোটিন প্রভৃতি।
- পরিবহণ – RER পরিবহণ ভেসিকল সৃষ্টি করে সংশ্লেষিত প্রোটিনকে গলগি বস্তুর সিস্টারনিতে পরিবাহিত করে।
- উৎসেচক সংশ্লেষ – RER কোশে উৎসেচক সংশ্লেষে সাহায্য করে।
লাইসোজোমের অন্তঃকোশীয় পাচন সম্পর্কে টীকা লেখো।
যে পদ্ধতিতে লাইসোজোম উৎসেচকের সাহায্যে কোশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পদার্থকে বিশ্লিষ্ট করে, তাকে অন্তঃকোশীয় পাচন (Intracellular Digestion) বলে।
প্রকারভেদ –
- হেটারোফ্যাগি (Heterophagy) –
- উচ্চ আণবিক ওজনযুক্ত পদার্থ (যেমন – খাদ্য, জীবাণু, বিজাতীয় বস্তু প্রভৃতি) কোশে প্রবেশ করলে এন্ডোজোম বা খাদ্য গহ্বর সৃষ্টি হয়।
- এন্ডোজোম প্রাথমিক লাইসোজোমের সঙ্গে মিলিত হয়ে গৌণ লাইসোজোম বা হেটারোফ্যাগোজোম গঠন করে।
- উৎসেচকের সাহায্যে হেটারোফ্যাগোজোমের অভ্যন্তরে খাদ্য বা জীবাণু পাচিত হয়।
- অটোফ্যাগি (Autophagy) – ER -এর অংশ, মাইটোকনড্রিয়া বা অন্যান্য কোশীয় অঙ্গাণু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কর্মক্ষমতা হারালে তাদের যে পদ্ধতিতে লাইসোজোম বিশ্লিষ্ট করে, তাকে অটোফ্যাগি বলে।
- অটোলাইসিস (Autolysis) – কখনো-কখনো কোশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দুর্বল হলে লাইসোজোমাল উৎসেচক সমগ্র কোশটিকে পাচিত করে, একে অটোলাইসিস বলে।
ক্রিস্টি (Cristae) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সংজ্ঞা – মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে গিয়ে যে আঙুলের মতো প্রবর্ধক তৈরি করে তাকে ক্রিস্টি বলে।
ক্রিস্টির গঠন –
- উদ্ভিদকোশে নলাকার এবং প্রাণীকোশে চাকতি বা প্লেটের মতো অথবা থলির মতো (ইউগ্নিনা) গঠনযুক্ত হয়।
- যে কোশে শক্তি উৎপাদন হার যত বেশি, সেই কোশে ক্রিস্টির সংখ্যা তত বেশি থাকে।
- ক্রিস্টির গায়ে টেনিস র্যাকেটের মতো গঠন উপস্থিত থাকে। এদের F0–F1 বস্তু বা অক্সিজোম বলে।
ক্রিস্টির কাজ –
- মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দার পরিধিতল বৃদ্ধি করে।
- অক্সিজোমে অবস্থিত ATPase উৎসেচকের সাহায্যে কোশে ATP উৎপাদন ঘটে।
প্রোটিন ফ্যাক্টরি (Protein Factory) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সজীব কোশে যে কোশীয় অঙ্গাণুর মধ্যে প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে, তাকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলে। রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
প্রোটিন ফ্যাক্টরির গুরুত্ব –
- প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক উভয় কোশেই রাইবোজোম উপস্থিত থাকে।
- একটি ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া কোশে রাইবোজোমের সংখ্যা প্রায় 20,000-30,000। ইউক্যারিওটিক কোশে এর কয়েকগুণ বেশি রাইবোজোম উপস্থিত থাকে।
- রাইবোজোমে কোশের প্রয়োজনীয় গঠনগত ও কার্যগত প্রোটিন সংশ্লেষিত হয় যা জীবদেহের অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের টীকা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন