নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

জৈব অণু বা বায়োমলিকিউল কাকে বলে?

কোশের প্রোটোপ্লাজম তথা জীবদেহে প্রাপ্ত সমস্ত প্রকার অণুকে জৈব অণু বা বায়োমলিকিউল (Biomolecule) বলে।

উদাহরণ – কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ATP প্রভৃতি।

জীবদেহে বায়োেমলিকিউল -এর দুটি কাজ লেখো।

জীবদেহে বায়োমলিকিউল -এর কাজ –

  1. কোশের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  2. জীবদেহে শক্তি উৎপাদনে অংশগ্রহণ করে।
  3. বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহকরূপে কাজ করে।

সজীবকোশে উপস্থিত চারটি ক্ষুদ্র অণুর বা মাইক্রোমলিকিউলস -এর নাম লেখো।

সজীবকোশে উপস্থিত চারটি ক্ষুদ্র অণু হল –

  1. গ্লুকোজ।
  2. অ্যামিনো অ্যাসিড।
  3. ফ্যাটি অ্যাসিড।
  4. নিউক্লিওটাইড।

সজীবকোশে অবস্থিত চারটি বৃহৎ অণু বা ম্যাক্রোমলিকিউলস -এর নাম লেখো।

সজীবকোশে অবস্থিত চারটি বৃহৎ অণু বা ম্যাক্রোমলিকিউলস হল –

  1. পলিস্যাকারাইড।
  2. প্রোটিন।
  3. লিপিড।
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড।

জীবদেহে জলের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।

জীবদেহে জলের দুটি গুরুত্ব হল –

  1. প্রতিটি জীবদেহের প্রায় 60-90% হল জল। জল প্রোটোপ্লাজমকে সজীব ও সক্রিয় রাখে।
  2. জল নিম্নশ্রেণির প্রাণীদেহে এবং সমস্ত উদ্ভিদদেহে সংবহনের মাধ্যমরূপে কাজ করে। উন্নত প্রাণীদেহে রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান হল জল।

কোশের অজৈব উপাদানগুলি কী কী?

কোশের অজৈব উপাদানগুলি হল – জল, অ্যাসিড, ক্ষার, খনিজ লবণ ও সাধারণ গ্যাসসমূহ।

জীবদেহে প্রয়োজনীয় প্রধান গ্যাসীয় উপাদানগুলির নাম লেখো।

জীবদেহে প্রয়োজনীয় প্রধান গ্যাসীয় উপাদানগুলি হল – অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) এবং নাইট্রোজেন (N2)।

জীবদেহে জলের দুটি অভাবজনিত প্রভাব উল্লেখ করো।

জলের অভাবজনিত প্রভাব –

  1. প্রতিটি জীবকোশে খাদ্য উপাদান, শ্বাসবায়ু, উৎসেচক, হরমোন প্রভৃতির পরিবহণ বাধাপ্রাপ্ত হবে।
  2. মূত্র ও ঘর্ম উৎপাদন ব্যাহত হবে, ফলে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন দূষিত রেচন পদার্থসমূহ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হবে না।

ক্ষারকের সঙ্গে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কী কী উৎপন্ন হয় তা সমীকরণের সাহায্যে দেখাও।

ক্ষারকের সঙ্গে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় –

NaOHক্ষারক+HClঅ্যাসিডNaClলবণ+H2Oজল

গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী কাকে বলে?

দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড), ত্রি-শর্করা (ট্রাইস্যাকারাইড) বা বহুশর্করার (পলিস্যাকারাইড) মধ্যেকার প্রতিটি একক শর্করা পরস্পরের সঙ্গে যে বিশেষ বন্ধনীর সাহায্যে যুক্ত থাকে, তাকে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী বলে।

কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যকে ‘প্রোটিন বাঁচোয়া খাদ্য’ (Protein sparing food) বলার কারণ কী?

কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন কোনো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য না গ্রহণ করেও কেবলমাত্র শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শ্বেতসার থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি হয় ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। এই কারণে কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসারকে ‘প্রোটিন বাঁচোয়া খাদ্য’ বলা হয়।

রাফেজ (Rouphage) কাকে বলে?

সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য যেগুলি পৌষ্টিকনালিতে পাচিত হয় না, সেগুলি খাদ্যের সঙ্গে গৃহীত হয়ে পরিপাকনালির বিচলন ঘটিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, তাদের রাফেজ বলে। যেমন – শাকসবজির সেলুলোজ।

বিজারণধর্মী শর্করা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল শর্করাতে অ্যালডিহাইড (-CHO) বা কিটোন গ্রুপ (-CO) মুক্ত অবস্থায় থাকার জন্য ক্ষারীয় মাধ্যমে তামা, রুপো প্রভৃতিকে বিজারিত করে, তাদের বিজারণধর্মী শর্করা (Reducing sugar) বলে।

উদাহরণ – গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ।

অবিজারণধর্মী শর্করা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল শর্করাতে অ্যালডিহাইড (-CHO) বা কিটোন গ্রুপ (-CO) মুক্ত অবস্থায় না থাকার জন্য ক্ষারীয় মাধ্যমে তামা, রুপো প্রভৃতিকে বিজারিত করে না, তাদের অবিজারণধর্মী শর্করা (Nonreducing sugar) বলে।

উদাহরণ – সুক্রাজ, শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন।

অ্যালডোজ কাকে বলে?

যে-সমস্ত কার্বোহাইড্রেটের কার্বন শৃঙ্খলের প্রান্তে কার্যকরী অ্যালডিহাইড মূলক (-CHO) বর্তমান, তাদের অ্যালডোজ বলে। যেমন – গ্লুকোজ, গ্যালাকটোজ, ম্যানোজ, জাইলোজ, রাইবোজ প্রভৃতি।

কিটোজ কাকে বলে?

যে-সমস্ত কার্বোহাইড্রেটের কার্বন শৃঙ্খলের অন্তর্বর্তী স্থানে কার্যকর কিটোন গ্রুপ (C = O) উপস্থিত থাকে, তাকে কিটোজ বলে। যেমন – ফ্রুকটোজ, ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন, এরিথুলোজ, রাইবিউলোজ প্রভৃতি।

অ্যামিনো অ্যাসিডকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

অ্যামিনো অ্যাসিডকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা –

  1. অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Essential Amino Acid)I
  2. অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Non-Essential Amino Acid)I

8টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের নাম লেখো।

8টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড হল – লিউসিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, মিথিওনিন, ফিনাইল অ্যালানিন, ট্রিপটোফ্যান, থ্রিওনিন, ভ্যালিন। হিস্টিডিন এবং আর্জিনিন হল আংশিক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড।

12টি অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের নাম লেখো।

12টি অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড হল – সিসটিন, প্রোলিন, গ্লাইসিন, সেরিন, অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, গ্লুটামিক অ্যাসিড, টাইরোসিন, অ্যাসপারজিন, গ্লুটামিন, আর্জিনিন, সেলেনোসিসটিন।

প্রথম শ্রেণির প্রোটিন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল প্রোটিনে সব কটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তাদের প্রথম শ্রেণির প্রোটিন বা সম্পূর্ণ প্রোটিন বলে।

উদাহরণ – প্রাণীজ প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম)।

দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল প্রোটিনের মধ্যে সবকটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে না, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন বা অসম্পূর্ণ প্রোটিন বলে।

উদাহরণ – উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (গমের গ্লিয়াডিন)।

মানবদেহের দুটি সংযুক্ত প্রোটিনের গুরুত্ব উল্লেখ করো।

মানবদেহের দুটি সংযুক্ত প্রোটিন হল –

  1. হিমোগ্লোবিন ও
  2. ইমিউনোগ্লোবিউলিন।
  • হিমোগ্লোবিন – মানবদেহে শ্বাসবায়ু অর্থাৎ O2 এবং CO2 পরিবহণ করে।
  • ইমিউনোগ্লোবিউলিন – রক্তরস বা প্লাজমায় উপস্থিত থেকে আমাদের দেহে রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি কীভাবে পলিপেপটাইড তৈরি করে?

অ্যামিনো অ্যাসিড অণুগুলি পেপটাইড বন্ড দ্বারা আবদ্ধ হয়ে রৈখিক সজ্জায় অবস্থান করে। একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের -COOH মূলক অপর অ্যামিনো অ্যাসিডের -NH2 মূলকের সঙ্গে আবদ্ধ হয় ও পলিপেপটাইড গঠন করে।

অ্যামিনো অ্যাসিড → পেপটাইডস → পলিপেপটাইডস

পেপটাইড বন্ধনী কাকে বলে?

একটি অ্যামিনো অ্যাসিড অণু প্রোটিন গঠন করার জন্য যখন আরও একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয় তখন একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্বক্সিল গ্রুপের (-COOH) সঙ্গে অপর অ্যামিনো অ্যাসিডের অ্যামিনো গ্রুপের (-NH2) মধ্যে যে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয়, তাকে পেপটাইড বন্ধনী বলে।

অ্যামিনো অ্যাসিড পুল কাকে বলে?

খাদ্যবস্তু থেকে প্রাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড এবং দেহের প্রোটিন বিশ্লিষ্ট হয়ে উৎপাদিত অ্যামিনো অ্যাসিড একত্রিত হয়ে রক্তে যে অ্যামিনো অ্যাসিড ভাণ্ডার গড়ে তোলে, তাকে অ্যামিনো অ্যাসিড পুল (Amino Acid Pool) বলে।

প্রোটিনের জৈবমূল্য বলতে কী বোঝো?

প্রোটিনের জৈবমূল্য – খাদ্য শোষণের পর দেহে প্রোটিনের যে পরিমাণ অংশের আত্তীকরণ ঘটে তাকে প্রোটিনের জৈবমূল্য বলে।

প্রোটিনের জৈবমূল্য=দেহে অঙ্গীভূত প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত নাইট্রোজেনের মাত্রাখাদ্য প্রোটিনের বিশোষিত নাইট্রোজেনের মাত্রা×100

কোন্ ধরনের প্রোটিন দেহে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং কেন?

প্রাণীজ প্রোটিন দেহে নাইট্রোজেন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কারণ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় প্রাণীজ প্রোটিনের জৈবিক মূল্য অনেক বেশি।

ক্ষারীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল অ্যামিনো অ্যাসিডে এক বা একাধিক অ্যামিনো বা ক্ষারীয় মূলক (-NH2) উপস্থিত, তাদের ক্ষারীয় অ্যামিনো অ্যাসিড বলে।

উদাহরণ – আর্জিনিন, লাইসিন, হিস্টিডিন।

আম্লিক অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল অ্যামিনো অ্যাসিডে এক বা একাধিক কার্বক্সিল বা আম্লিক মূলক (-COOH) উপস্থিত, তাদের আম্লিক অ্যামিনো অ্যাসিড বলে।

উদাহরণ – গ্লুটামিক অ্যাসিড, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড।

সরল প্রোটিন (Simple protein) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

কেবলমাত্র অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত প্রোটিনকে সরল প্রোটিন বলা হয়।

উদাহরণ – অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোটামিন ইত্যাদি।

সংযুক্ত প্রোটিন (Conjugated protein) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

কোনো প্রোটিনের সঙ্গে যখন কোনো অপ্রোটিন অংশ বা প্রস্থেটিক গ্রুপ যুক্ত থাকে, তখন সেই প্রোটিনকে সংযুক্ত প্রোটিন বলা হয়।

উদাহরণ – হিমোগ্লোবিন, গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি।

লব্ধ প্রোটিন (Derived protein) কী? উদাহরণ দাও।

কোনো প্রোটিনের পরিপাক বা আর্দ্রবিশ্লেষণের পর উৎপন্ন প্রোটিনজাত বস্তুকে লব্ধ প্রোটিন বলে।

উদাহরণ – পেপটোন, প্রোটিওজ।

ক্রোমোপ্রোটিন (Chromoprotein) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

কোনো সরল প্রোটিনের সঙ্গে যদি কোনো রঞ্জক পদার্থ অপ্রোটিন অংশ বা প্রস্থেটিক গ্রুপ রূপে যুক্ত থাকে, তবে সেই প্রোটিনকে ক্রোমোপ্রোটিন বলে।

উদাহরণ – হিমোগ্লোবিন নামক সংযুক্ত প্রোটিনে হিম নামক লৌহঘটিত রঞ্জক যুক্ত থাকে।

লাইপোপ্রোটিন (Lipoprotein) কী? উদাহরণ দাও।

প্রোটিন অণু যখন কোনো লিপিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংযুক্ত প্রোটিন গঠন করে, তখন তাকে লাইপোপ্রোটিন বলে।

উদাহরণ – ডিমের কুসুমে ও দুধে পাওয়া যায়।

গ্লাইকোপ্রোটিন (Glycoprotein) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

প্রোটিন অণুর সঙ্গে অপ্রোটিন অংশরূপে (প্রস্থেটিক গ্রুপ) যদি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা যুক্ত থাকে, তখন সেই প্রোটিনকে গ্লাইকোপ্রোটিন বলে।

উদাহরণ – ফাইব্রোনেকটিন, প্রোটিওগ্লাইক্যান ইত্যাদি।

মেটালোপ্রোটিন (Metalloprotein) কী?

অ্যামিনো অ্যাসিড ও ধাতব আয়নের সংযুক্ত যৌগকে মেটালোপ্রোটিন বলে। যেমন – কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ উৎসেচকে জিংক (Zn) আয়ন বর্তমান।

‘ডিম হল একটি রেফারেন্স প্রোটিন’ (Reference protein) – ব্যাখ্যা করো।

ডিমে উপস্থিত অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড সমূহ সুষম অবস্থায় থাকে। এছাড়াও ডিমের মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড দেহ গঠনের পক্ষে উপযুক্ত পরিমাণ ও অনুপাতে থাকে। এই কারণে ডিমে উপস্থিত প্রোটিনের মাত্রা দেখে অন্যান্য খাদ্যে প্রোটিনের পুষ্টিগুণ যাচাই করা হয়। এই কারণে ডিমকে রেফারেন্স প্রোটিন বলে।

একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত লেখো। এই সংকেতের কোন্ গ্রুপটির জন্য অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে বৈচিত্র্যতা তৈরি হয়?

একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত হল —

অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত

‘R’ গ্রুপটির জন্য অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে বৈচিত্র্যতা তৈরি হয়। যেমন — ‘R’ ‘H’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে এটি গ্লাইসিন, ‘CH3‘ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে এটি হবে অ্যালানিন প্রভৃতি।

প্রোটিনকে ‘দেহনির্মাণকারী খাদ্য’ বলা হয় কেন?

প্রোটিন দেহকোশ, মাংসপেশি, রক্ত ও অন্যান্য প্রাণরক্ষক জীবনদায়ী পদার্থ গঠনের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে প্রোটিনকে ‘দেহনির্মাণকারী খাদ্য’ (Body building food) বলে।

খাদ্যে প্রোটিনের আধিক্যের কারণে কী ঘটে?

খাদ্যের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন থাকলে শরীর সেই প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না। এমনকি দূষিত পদার্থও তৈরি হয়। এর ফলে মাথা ধরা, অবসাদ, ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির কারণে বাতের ব্যথা প্রভৃতি ঘটে।

একটি অ্যারোমেটিক এবং একটি সালফারযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের নাম লেখো।

একটি অ্যারোমেটিক অ্যামিনো অ্যাসিড হল টাইরোসিন এবং একটি সালফারযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড হল মিথিওনিন।

লিপিড বা ফ্যাট গঠনকারী জৈব একক অণু কী কী?

লিপিড বা ফ্যাট গঠনকারী জৈব একক অণুগুলি হল – কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

এস্টার কাকে বলে?

ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের পারস্পরিক বিক্রিয়ায় যে জৈব যৌগ গঠিত হয়, তাকে এস্টার বলে।

অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস কী?

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থেকে বৃদ্ধি পেলে ধমনির অন্তঃপ্রাচীরে তা সঞ্চিত হয়ে ধমনির গহ্বরকে ছোটো করে দেয়। এই অবস্থাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলে।

দৃশ্য স্নেহপদার্থ কী? উদাহরণ দাও।

আমরা যে-সকল স্নেহপদার্থকে খাদ্যের মধ্যে বাইরে থেকে যুক্ত করি, তাদের দৃশ্য স্নেহপদার্থ বলে।

উদাহরণ – ঘি, মাখন, রান্নায় ব্যবহৃত নানা প্রকার তেল (সরষের তেল, বাদাম তেল, সূর্যমুখীর তেল ইত্যাদি)।

অদৃশ্য স্নেহপদার্থ কী? উদাহরণ দাও।

আমাদের খাদ্যের মধ্যেই যে-সকল স্নেহপদার্থ মিশে থাকে, অর্থাৎ বাইরে থেকে খাদ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হয় না, তাদের অদৃশ্য স্নেহপদার্থ বলে।

উদাহরণ – মাছ, মাংস, ডিম, দুধের স্নেহপদার্থ।

লব্ধ লিপিড কাকে বলে? উদাহরণ লেখো।

সরল বা যৌগিক স্নেহপদার্থের আর্দ্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সৃষ্ট লিপিডকে লব্ধ লিপিড (Derived Lipid) বলা হয়।

উদাহরণ – স্টেরয়েড, টারপিন, ক্যারোটিনয়েড ইত্যাদি।

প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে লিপিড কীভাবে আমাদের সাহায্য করে?

দেহের অভ্যন্তরস্থ নানান আন্তরযন্ত্রের চারিধারে অ্যাডিপোজ কলার পুরু আস্তরণ থাকে যা আন্তরযন্ত্র সমূহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ ফ্যাটের মধ্যে তফাত কোথায়?

  1. সাধারণ উষ্ণতায় উদ্ভিজ্জ ফ্যাট তরল প্রকৃতির, কিন্তু প্রাণীজ ফ্যাট কঠিন।
  2. উদ্ভিজ্জ ফ্যাটে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি, কিন্তু প্রাণীজ ফ্যাটে সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি পরিমাণে থাকে।

র‍্যানসিডিটি কী?

প্রাকৃতিক স্নেহপদার্থকে আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় ফেলে রাখলে, তা দুর্গন্ধযুক্ত ও বিস্বাদযুক্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে র‍্যানসিডিটি বলে।

তেল (Oil) কাকে বলে?

কম গলনাঙ্ক বিশিষ্ট যে সকল গ্লিসারাইডগুলি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে, তাদের তেল বলে। যেমন – সরষের তেল, বাদাম তেল ইত্যাদি।

মোম কী? মোমের দুটি উদাহরণ দাও।

মোম (Wax) – দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল ও দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘনীভবন দ্বারা গঠিত উচ্চ আণবিক ভর ও উচ্চ গলনাঙ্কযুক্ত পদার্থকে মোম বলে।

উদাহরণ – মৌচাকের মোম ও ল্যানোলিন।

মানবদেহে উপস্থিত কয়েকটি সাধারণ অ্যাসিডের উদাহরণ দাও।

মানবদেহে উপস্থিত কয়েকটি সাধারণ অ্যাসিডের উদাহরণ –

  1. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCI) – পাকস্থলীতে উপস্থিত থাকে। খাদ্যকে আম্লিক করে এবং পাকরসে উপস্থিত উৎসেচকের ক্রিয়াশীলতা বাড়ায়।
  2. ল্যাকটিক অ্যাসিড – দুগ্ধ শর্করার (ল্যাকটোজ) অসম্পূর্ণ জারণের ফলে উৎপন্ন হয়।
  3. অ্যামিনো অ্যাসিড – দেহগঠনকারী উপাদান এবং প্রোটিনের গঠনগত একক।

pH স্কেল কী?

কোনো দ্রবণ কতটা আম্লিক বা কতটা ক্ষারীয় তা মাপা হয় pH স্কেলের সাহায্যে। যেমন – 25°C উষ্ণতায় জলের অর্থাৎ, প্রশম দ্রবণের pH -এর মান 7। এবার যে দ্রবণের pH -এর মান 7 -এর থেকে কম (শূন্য পর্যন্ত) সেটি হবে আম্লিক প্রকৃতির। আর যে দ্রবণের pH -এর মান 7 -এর থেকে বেশি (14 পর্যন্ত) সেটি হবে ক্ষারকীয়।

DNA -এর পিউরিন ও পিরিমিডিন ক্ষারকগুলি কী কী?

DNA -এর পিউরিন ক্ষারকগুলি হল –

  1. অ্যাডেনিন (A)।
  2. গুয়ানিন (G)।

পিরিমিডিন ক্ষারকগুলি হল –

  1. থাইমিন (T)।
  2. সাইটোসিন (C)।

RNA -এর পিউরিন ও পিরিমিডিন ক্ষারকগুলি কী কী?

RNA -এর পিউরিন ক্ষারকগুলি হল –

  1. অ্যাডেনিন (A)।
  2. গুয়ানিন (G)।

পিরিমিডিন ক্ষারকগুলি হল-

  1. ইউরাসিল (U)।
  2. সাইটোসিন (C)।

একটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণুতে থাইমিন 22% হলে সাইটোসিনের পরিমাণ কত?

DNA অণুতে থাইমিন = 22%

চারগাফের সূত্রানুযায়ী A = T হওয়ায়, অ্যাডেনিনের সংখ্যাও 22% হবে।

অর্থাৎ A + T = (22 + 22)% = 44%

আবার চারগাফের সূত্রানুযায়ী G = C

অর্থাৎ G + C = 100 – (A + T)%

∴ G + C = (100 – 44)%

বা, G + C = 56% যেহেতু G = C

সুতরাং, C (সাইটোসিনের) পরিমাণ = (562)%=28%

∴ সাইটোসিনের পরিমাণ = 28%

নিউক্লিওসাইড (Nucleoside) কাকে বলে?

নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA ও RNA) গঠনকারী যে জৈব একক এক অণু নাইট্রোজেনযুক্ত বেস ও এক অণু পেন্টোজ শর্করা (ডিঅক্সিরাইবোজ বা রাইবোজ) যুক্ত হয়ে গঠিত হয়, তাকে নিউক্লিওসাইড বলে। এর সঙ্গে ফসফেট গ্রুপ যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠিত হয়।

নিউক্লিওটাইড কী? এর কাজ কী?

পেন্টোজ শর্করা, ফসফোরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজেন ক্ষারক দ্বারা গঠিত নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনগত একক হল নিউক্লিওটাইড।

কাজ – নিউক্লিওটাইড জীবের বংশগত বস্তু হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ জিন গঠনে সাহায্য করে।

ভিটামিন (Vitamin) কী?

যে বিশেষ খাদ্য উপাদান সাধারণ খাদ্যে খুব কম পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।

নিউক্লিক অ্যাসিড কাকে বলে?

প্রত্যেকটি জীবের সজীব কোশের নিউক্লিয়াসে যে অম্লধর্মী পদার্থ নানাপ্রকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী ও জীবের বংশগত বস্তুরূপে কাজ করে, তাকে নিউক্লিক অ্যাসিড বলে।

প্রোভিটামিন (Pro-Vitamin) কাকে বলে?

যে-সমস্ত জৈবযৌগ থেকে প্রাণীদেহে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয়, তাদের প্রোভিটামিন বলে। যেমন – ভিটামিন A -এর প্রোভিটামিন হল β-ক্যারোটিন।

মানবদেহে সংশ্লেষিত হয় এমন দুটি ভিটামিনের নাম লেখো।

মানবদেহে সংশ্লেষিত দুটি ভিটামিন হল –

  1. ভিটামিন-A,
  2. ভিটামিন-D।

সিউডোভিটামিন (Pseudo-Vitamin) কাকে বলে?

যে-সমস্ত জৈবযৌগের গঠন ভিটামিনের মতো হলেও ভিটামিনের মতো কার্য বা গুণযুক্ত হয় না, তাদের সিউডোভিটামিন বলে। যেমন – ভিটামিন B12 (সায়ানোকোবালামিন) -এর ছদ্ম ভিটামিন বা সিউডোভিটামিন হল মিথাইলকোবালামিন।

অ্যান্টি-ভিটামিন (Anti-Vitamin) কাকে বলে?

যে-সমস্ত জৈব যৌগ ভিটামিনের কাজে বাধা দেয় বা ভিটামিনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে, তাদের অ্যান্টি-ভিটামিন বলে। যেমন – ভিটামিন B1 (থিয়ামিন) -এর অ্যান্টিভিটামিন হল পাইরিথিয়ামিন।

হাইপারভিটামিনোসিস (Hypervitaminosis) হাইপোভিটামিনোসিস (Hypovitaminosis) কাকে বলে?

দেহে ভিটামিনের আধিক্যজনিত অবস্থাকে বলে হাইপারভিটামিনোসিস। দেহে প্রয়োজনের তুলনায় কম ভিটামিন থাকলে, তাকে হাইপোভিটামিনোসিস বলে।

অ্যাসিড কাকে বলে? অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

অ্যাসিড – একটি বা একাধিক হাইড্রোজেন যুক্ত যৌগিক পদার্থ যা জলীয় দ্রবণে বিশ্লিষ্ট হয়ে ধনাত্মক আয়নরূপে শুধুমাত্র H+ আয়ন তৈরি করে এবং যার হাইড্রোজেন পরমাণু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধাতু বা ধাতুধর্মী যৌগের মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ তৈরি করে, তাকে অ্যাসিড বলে।

অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য –

  1. অ্যাসিড টক স্বাদযুক্ত।
  2. অ্যাসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে।
  3. ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড লবণ ও জল প্রস্তুত করে।

HClঅ্যাসিড+NaOHক্ষারNaClলবণ+H2Oজল

ক্ষার কাকে বলে? ক্ষারের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

ক্ষার (Bases) – জলে দ্রবীভূত ধাতব মূলকের অক্সাইড ও হাইড্রক্সাইডকে ক্ষার বলে।

ক্ষারের বৈশিষ্ট্য –

1. স্বাদে কষা।

2. জলীয় দ্রবণে হাইড্রক্সিল (OH) আয়ন উৎপন্ন করে। NaOHNa++OH

3. ক্ষারীয় দ্রবণ পিচ্ছিল [] হয়।

4. লাল লিটমাসকে নীল করে।

5. অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষার লবণ ও জল উৎপন্ন করে।

NaOHক্ষার+HNO3অ্যাসিডNaNO3লবণ+H2Oজল

ক্ষারের প্রকারভেদগুলি লেখো। জীবদেহে ক্ষারের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ক্ষারের প্রকারভেদ – শক্তির মাত্রার ওপর নির্ভর করে ক্ষার দু-প্রকার। যথা –

  1. মৃদু ক্ষার (Weak base) – যে-সমস্ত ক্ষার অল্পমাত্রায় আয়নিত হয় তাদের মৃদু ক্ষার বলে। যেমন – NH4OH, Ca(OH)2 প্রভৃতি।
  2. তীব্র ক্ষার (Strong base) – যে-সকল ক্ষার বেশিমাত্রায় আয়নিত হয় তাদের তীব্র ক্ষার বলে। যেমন – NaOH, KOH প্রভৃতি।

জীবদেহে ক্ষারের ভূমিকা –

  1. কোশের প্রোটোপ্লাজমের pH নিয়ন্ত্রণ করে।
  2. মানবদেহে মূত্র ও রক্তের pH -এর ভারসাম্য বজায় রাখে।
  3. দেহে অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ক্ষার দ্বারা প্রশমিত হয়।
  4. ট্রিপসিন, লাইপেজ প্রভৃতি উৎসেচক ক্ষারীয় মাধ্যমে সর্বাধিক ক্রিয়াশীলতা দেখায়।

আমাদের দেহে অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত জরুরি কেন?

আমাদের দেহের কোশগুলি ক্ষারীয় মাধ্যমে (pH 7-8) থাকলে ভালোভাবে কাজ করে। কোনো কারণে রক্ত তীব্র অ্যাসিডিক হয়ে গেলে রক্ত বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম প্রভৃতি ক্ষার সৃষ্টিকারী মৌলগুলিকে টেনে নেয়। এই প্রক্রিয়া প্রথমে চুল, ত্বক কিংবা নখ থেকে শুরু হয়। তারপর রক্তে এবং শেষ পর্যন্ত হাড়ে পৌঁছায়, ফলে দেহের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও তাড়াতাড়ি বার্ধক্য আসে।

লবণ কাকে বলে? লবণ কীভাবে গঠিত হয় তা বিক্রিয়ার মাধ্যমে দেখাও।

লবণ (Salt) – কোনো অ্যাসিডের প্রতিস্থাপনযোগ্য হাইড্রোজেন পরমাণু যদি কোনো ধাতব বা ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়, তবে যে যৌগ গঠিত হয়, তাকে লবণ (Salt) বলা হয়।

অ্যাসিড ও ক্ষারকের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ গঠিত হয় এবং এর সঙ্গে জলও উৎপন্ন হয়। যেমন –

HClঅ্যাসিড+NaOHক্ষারক=NaClলবণ+H2Oজল

লবণ সাধারণত কয় প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।

লবণ সাধারণত তিন প্রকার।

  1. আম্লিক লবণ – NaHSO4 যা H2SO4 থেকে সৃষ্টি হয়, একটি আম্লিক লবণ।
  2. ক্ষারীয় লবণ – ক্ষারীয় লেড নাইট্রেট বা লেড ক্লোরাইড হল ক্ষারীয় লবণ।
  3. প্রশম লবণ – NaCl বা সোডিয়াম-ক্লোরাইড (খাদ্য লবণ) যা HCI থেকে তৈরি হয়, এক প্রকার প্রশম লবণ।

খাদ্য লবণ কী? আমাদের দেহে খাদ্য লবণের উৎস কী?

খাদ্য লবণ হল একটি সাদা রঙের কেলাসাকার পদার্থ যা জলে দ্রাব্য। এর রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। আমাদের দেহে প্রয়োজনীয় নুনের উৎস হল –

  1. বিভিন্ন প্রাণীজ উৎস (যেমন – দুধ, মাখন ইত্যাদি) থেকে পাওয়া খাদ্য।
  2. পানীয় জল।
  3. উদ্ভিদ উৎস থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্য (যদিও এর পরিমাণ কম)।
  4. বাইরে থেকে রান্নার মাধ্যমে খাওয়া নুন।

জৈবনিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী তিনটি প্রধান অজৈব গ্যাসের নাম লেখো। জীবদেহে গ্যাসের ভূমিকা কী?

জৈবনিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত তিনটি প্রধান অজৈব গ্যাস হল – অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও নাইট্রোজেন (N2)।

জীবদেহে গ্যাসের ভূমিকা –

  1. জীবনের প্রথম উপাদান হল অক্সিজেন। অক্সিজেনের সাহায্যে জীব গ্লুকোজকে জারিত করে শক্তি ও তাপ উৎপন্ন করে। এই শক্তি জীবনক্রিয়া পরিচালনার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
  2. উদ্ভিদ CO2 ব্যবহার করে জৈব খাদ্য উৎপন্ন করে।
  3. N2 গ্যাস জীবদেহ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নাইট্রিক অক্সাইড বা NO রক্তবাহকে প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে।
  4. কার্বন মনোক্সাইড বা CO মানবদেহে বিষক্রিয়া ঘটায়।

জৈব অণু কাকে বলে? জৈব অণুর দুটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।

জীবের সজীব কোশে উপস্থিত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থগুলির মধ্যে যেসব পদার্থগুলিকে কোশ নিজে থেকেই তৈরি করতে সক্ষম থাকে, সেগুলিকে জৈব অণু বা বায়োেমলিকিউল (Biomolecule) বলে।

জৈব অণুর প্রয়োজনীয়তাগুলি হল –

  1. জৈব অণু কোশের গঠন কাঠামো তৈরি করে।
  2. কোশের শক্তি সঞ্চয়, শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি ও নানান জৈবনিক কার্য নির্বাহে জৈব অণু সাহায্য করে।

ক্ষুদ্র অণু বা মাইক্রোমলিকিউলস কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

যে-সমস্ত অজৈব ও জৈব অণু পলিমারাইজেশনের মাধ্যমে বৃহৎ, জটিল, দীর্ঘশৃঙ্খলযুক্ত ম্যাক্রোমলিকিউলস গঠন করে, তাদের ক্ষুদ্র অণু বা মাইক্রোমলিকিউলস বলে। যেমন – জল, খনিজ মৌল, অ্যামিনো অ্যাসিড, শর্করা, লিপিড এবং নিউক্লিওটাইড।

ক্ষুদ্র অণুর বৈশিষ্ট্য –

  1. সরল আণবিক গঠন।
  2. নিম্ন আণবিক ভরযুক্ত।
  3. উচ্চ দ্রাব্যতাযুক্ত।

বৃহৎ অণু বা ম্যাক্রোমলিকিউলস কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

যে-সমস্ত জৈব অণুগুলি উচ্চ আণবিক ভরযুক্ত ও জটিল, দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত হয় এবং কোশের মধ্যে সাধারণত কোলয়ডীয় গঠনে অবস্থান করে, তাদের বৃহৎ অণু বা ম্যাক্রোমলিকিউলস বলে। যেমন – পলিস্যাকারাইড, প্রোটিন এবং ফ্যাট।

বৃহৎ অণুর বৈশিষ্ট্য –

  1. বৃহৎ আকৃতি ও উচ্চ আণবিক ভরযুক্ত হয়।
  2. জটিল গঠনযুক্ত।
  3. সাধারণত অন্তঃকোশীয় তরলে অদ্রবণীয় থাকে।
  4. কোশের ওজনের প্রায় 90% অংশ বৃহৎ অণু গঠন করে।

মনোস্যাকারাইডের তিনটি গঠন বৈশিষ্ট্য লেখো।

মনোস্যাকারাইডের গঠন –

  1. মনোস্যাকারাইড হল সবথেকে সরল শর্করা, যার সাধারণ সমীকরণ CnH2nOnl
  2. এটি দ্রুত জলে দ্রবীভূত হয় এবং জলীয় দ্রবণ গঠন করে।
  3. মনোস্যাকারাইডের আর্দ্রবিশ্লেষণ ঘটে না এবং এরা সহজেই কোশপর্দার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে পারে।

অলিগোস্যাকারাইড কাকে বলে? অলিগোস্যাকারাইডের প্রকারভেদগুলি লেখো।

অলিগোস্যাকারাইড (Oligosaccharide; Oligo = a few) – দুই থেকে দশটি শর্করা অণু গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনীর মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে অপেক্ষাকৃত জটিল শর্করা অণু গঠন করে, তাকে অলিগোস্যাকারাইড বলে।

অলিগোস্যাকারাইডের প্রকারভেদ – শর্করার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অলিগোস্যাকারাইড বিভিন্ন প্রকার হয়। যেমন –

অলিগোস্যাকারাইডগঠনউদাহরণ
ডাইস্যাকারাইড2টি শর্করা অণুমলটোজ, সুক্রোজ, ল্যাকটোজ।
ট্রাইস্যাকারাইড3টি শর্করা অণুর‍্যাবিনোজ, র‍্যাফিনোজ।
টেট্রাস্যাকারাইড4টি শর্করা অণুস্কোরোডোজ, স্টকিওজ।
পেন্টাস্যাকারাইড5টি শর্করা অণুভারবাসকোজ।

ডাইস্যাকারাইড কাকে বলে? দুটি উদ্ভিদ ও একটি প্রাণীজ ডাইস্যাকারাইড এবং এদের আর্দ্রবিশ্লেষণজাত অন্তঃপদার্থের নাম লেখো।

ডাইস্যাকারাইড (Disaccharide; di two, saccharide = sugar) – যে-সমস্ত কার্বোহাইড্রেট 2টি শর্করা অণু দ্বারা গঠিত, তাদের ডাইস্যাকারাইড বলে।

উৎসডাইস্যাকারাইডঅন্তর্জাত পদার্থ
উদ্ভিজ্জ1. মলটোজ (অঙ্কুরিত বীজ ও মল্টে থাকে)।

2. সুক্রোজ (আখ, বিট, গাজর এবং ফলের রসে থাকে)।
1. দুই অণু গ্লুকোজ।

2. এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু ফ্রুকটোজ।
প্রাণীজল্যাকটোজ (দুগ্ধ শর্করা)।এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু গ্যালাকটোজ।

পলিস্যাকারাইড কাকে বলে? পলিস্যাকারাইডের প্রকারভেদগুলি লেখো।

পলিস্যাকারাইড (Polysaccharide; Poly = many) – দশটির বেশি শর্করা অণু একাধিক গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী (1-4 বন্ধনী) দ্বারা যুক্ত হয়ে যে জটিল শর্করা গঠন করে, তাকে পলিস্যাকারাইড বলে।

গঠনের ওপর নির্ভর করে পলিস্যাকারাইডকে দুভাগে ভাগ করা হয়। যথা –

  1. হোমোপলিস্যাকারাইড (যেমন – গ্লাইকোজেন)।
  2. হেটারোপলিস্যাকারাইড (যেমন – মিউকোপলিস্যাকারাইড)।

কাজের ওপর ভিত্তি করে পলিস্যাকারাইড দুই প্রকার। যথা –

  1. সঞ্চয়কারী পলিস্যাকারাইড (যেমন – শ্বেতসার)।
  2. সাংগঠনিক পলিস্যাকারাইড (যেমন – সেলুলোজ)।

প্রোটিনের তিনটি ভৌত ধর্ম লেখো।

প্রোটিনের ভৌত ধর্মগুলি হল –

  1. প্রোটিন জলে দ্রবণীয় কিন্তু অ্যালকোহলে অদ্রবণীয়।
  2. তাপ প্রয়োগ করলে প্রোটিন তঞ্চিত হয় এবং কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়।
  3. X-ray, UV-ray ও উচ্চচাপে প্রোটিনের আকার বিকৃত হয়।

প্রোটিনের তিনটি রাসায়নিক ধর্ম উল্লেখ করো।

প্রোটিনের রাসায়নিক ধর্মগুলি হল –

  1. প্রোটিন সাধারণত তড়িৎধর্মী ও বাফার দ্রবণ হিসেবে কাজ করে।
  2. ম্যাগনেশিয়াম সালফেট (MgSO4), সোডিয়াম সালফেট (Na2SO4) অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] দ্রবণে প্রোটিন অধঃক্ষিপ্ত হয়।
  3. ঘন খনিজ অ্যাসিড, অ্যাসিটোন, অ্যালকোহল, ইউরিয়া প্রভৃতির ক্রিয়ায় প্রোটিন ভেঙে যায় ও তার স্বাভাবিক ক্রিয়া নষ্ট হয়।

উৎস ও অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

উৎস অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস –

প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস

অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি অনুসারে –

অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি অনুসারে প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস

অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সমস্ত অ্যামিনো অ্যাসিড দেহে সংশ্লেষিত হয় না, বাইরে থেকে খাদ্যের মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং যেগুলি দেহের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য একান্ত প্রয়োজন, তাদের অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Essential Amino Acid) বলে।

উদাহরণ – ট্রিপটোফ্যান, ফিনাইল অ্যালানিন, লাইসিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, থ্রিওনিন, মিথিওনিন ও ভ্যালিন। শিশুদের ক্ষেত্রে আর দুটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, আর্জিনিন ও হিস্টিডিন।

অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে-সকল অ্যামিনো অ্যাসিড আমাদের দেহে সংশ্লেষিত হয়, তাই খাদ্যের মাধ্যমে সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয় না। সেই সকল অ্যামিনো অ্যাসিডকে অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Non-essential Amino Acid) বলে।

উদাহরণ – প্রোলিন, অ্যালানিন, গ্লুটামিক অ্যাসিড, গ্লুটামিন প্রভৃতি অ্যামিনো অ্যাসিড হল অ-অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড।

প্রোটিন ও ক্যালোরিজনিত অপুষ্টি বলতে কী বোঝো? এই রোগের দুটি উদাহরণ দাও। প্রতিটি রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

খাদ্যে প্রোটিন ও ক্যালোরি উভয়ের অভাব থাকলে যে স্বাস্থ্যহানিজনিত অবস্থা তৈরি হয়, তাকে প্রোটিন-ক্যালোরিজনিত অপুষ্টি বা PCM (Protein Calorie Malnutrition) বলে।

প্রোটিন-ক্যালোরি অপুষ্টির প্রধান দুটি উদাহরণ হল –

  1. কোয়াশিওরকর এবং
  2. ম্যারাসমাস।
রোগের নামরোগের লক্ষণ
কোয়াশিওরকর (প্রোটিন-ক্যালোরি অভাবজনিত রোগ)1. চুলের পরিবর্তন – মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়, চুল সামান্য টানলে উঠে আসে।
2. মাংসপেশির পরিবর্তন – পেশির অবক্ষয় ঘটে।
3. ত্বকের পরিবর্তন – ত্বকের স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয় এবং আঁশ ওঠে।
4. চাঁদমুখ বা ফুলমুন ফেস – শরীরে জল জমে, মুখখানি গোল, ভরাট ও পূর্ণচন্দ্রের মতো (full moon) দেখায়।
ম্যারাসমাস (প্রোটিন-ক্যালোরি অভাবজনিত রোগ)1. মাংসপেশির শীর্ণতা – পেশির মারাত্মক অবক্ষয় ঘটে ফলে হাড় জিরজিরে চেহারা হয়।
2. মুখের পরিবর্তন – মুখ শুকিয়ে যায়।
3. উদরাময় – ঘনঘন পেটের অসুখ হয়।
প্রোটিন ও ক্যালোরিজনিত অপুষ্টি

সরল লিপিড কী? সরল লিপিডের ভাগগুলি কী তা লেখো।

সরল লিপিড – বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল সমন্বিত ফ্যাটি অ্যাসিডের এস্টারকে সরল লিপিড বলা হয়।

সরল লিপিডের ভাগ – সরল লিপিডের দুটি প্রধান ভাগ হল –

  1. প্রাকৃতিক ফ্যাট।
  2. মোম।
  1. প্রাকৃতিক ফ্যাট – এটি ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের এস্টার। এটি দুটি অবস্থায় থাকতে পারে –
    • ট্রাইগ্লিসারাইড।
    • তেল।
  2. মোম – দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল ছাড়া উচ্চ আণবিক ভরের মনো-হাইড্রক্সি অ্যালকোহলের এস্টার হল মোম।

লিপিডের ধর্মগুলি আলোচনা করো।

লিপিডের ধর্ম –

ভৌতধর্ম –

  1. কোনো গন্ধ বা স্বাদ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ অনুভব করা যায়।
  2. লিপিড জলে অদ্রবণীয় কিন্তু ক্লোরোফর্ম, ইথারে দ্রবণীয়।
  3. তাপ প্রয়োগে কঠিন স্নেহবস্তু গলে যায়।

রাসায়নিক ধর্ম –

  1. উচ্চতাপমাত্রায় (220°C) স্নেহবস্তু আর্দ্র বিশ্লেষিত হয়। ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল উৎপন্ন হয়।
  2. স্নেহবস্তুকে আয়োডিন এবং ব্রোমিনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটালে এদের হ্যালোজিনেশন ঘটে।
  3. জারণ পদ্ধতিতে স্নেহপদার্থ জারিত হয়ে অ্যালডিহাইড প্রস্তুত করে।

অপরিহার্য এবং অ-অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

  1. অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড – যে-সকল ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের দেহে সংশ্লেষিত হয় না, ফলে খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয় ও যাদের অভাবে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি বিঘ্নিত হয়, তাকে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড (Essential fatty acid) বলে।
    • উদাহরণ – লিনোলেইক অ্যাসিড, লিনোলেনিক অ্যাসিড ও অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড।
  2. অ-অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড – যে-সকল ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের দেহে সংশ্লেষিত হয়, ফলে খাদ্যের মাধ্যমে সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তা থাকে না, তাদের অ-অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড (Non-essential fatty acid) বলে।
    • উদাহরণ – ওলেইক অ্যাসিড, বিউটারিক অ্যাসিড।

মানবদেহে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের কাজগুলি লেখো।

মানবাদাহ অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের কাজ –

  1. মানবদেহে লিনোলেনিক অ্যাসিড দৈহিক বিকাশ ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  2. লিনোলেইক অ্যাসিড ওমেগা 6-ফ্যাটি অ্যাসিড -এর সংশ্লেষ ঘটায় যা দেহে অ্যালার্জিক বিক্রিয়া, রক্ততঞ্চনের সময় থ্রম্বাস গঠনে, ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে, দেহে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করে।
  3. অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড রেচন, শ্বসন ও হৃদসংবহন তন্ত্রের সুস্থতা ও বিভিন্ন প্রকার শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড কী? উদাহরণ দাও।

  • সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড – যে ফ্যাটি অ্যাসিডে দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে কোনো দ্বি-যোজী বন্ধনী থাকে না, ফলে তারা কোনো হাইড্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না, তাদের সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (Saturated fatty acid) বলে।
    • উদাহরণ – পামিটিক অ্যাসিড, স্টিয়ারিক অ্যাসিড।
  • অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড – যে ফ্যাটি অ্যাসিডে কার্বন শৃঙ্খলের মধ্যে একটি বা দুটি বা তিনটি দ্বি-যোজী বন্ধনী থাকে, তাদের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (Unsaturated fatty acid) বলে।
    • উদাহরণ – লিনোলেনিক অ্যাসিড, লিনোলেইক অ্যাসিড, অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড।

নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনগত এককের সম্পর্কে যা জানো ছকের সাহায্যে বুঝিয়ে লেখো।

নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনগত একক হল নিউক্লিওটাইড। নীচে ছকের মাধ্যমে নিউক্লিওটাইডের গঠন দেখানো হল।

নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনগত একক

এনার্জি কারেন্সি কাকে ও কেন বলে?

ATP বা অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেটকে এনার্জি কারেন্সি বলে।

ATP -কে এনার্জি কারেন্সি বলার কারণ – কোশের এবং জীবদেহের জৈবনিক কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। ATP এই শক্তির জোগান দেয়। ATP অণুর মধ্যে প্রচুর রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে। ATP অণু যখন ADP ও ফসফেট মূলকে ভেঙে যায় তখন এই শক্তির মুক্তি ঘটে এবং কোশের শক্তির চাহিদা পূরণ হয়। কারেন্সি যেমন ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় ঠিক তেমনি ATP খরচ করে শক্তির সাহায্যে কোশের তথা জীবদেহের কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-নবম শ্রেণী-জীবনবিজ্ঞান

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর