এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কলা’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

কলা কাকে বলে?
কলা (Tissue, tissue = woven) – উৎপত্তিগতভাবে এক সম বা বিষম আকৃতির কোশসমষ্টি মিলিতভাবে একই কাজ করলে, তাদের একত্রে কলা বলে।
কলা বা Tissue শব্দটি প্রথম প্রবর্তন করেন বিজ্ঞানী বিচাট (Bichat) I
উদ্ভিদ কলা কয় প্রকার ও কী কী?
উদ্ভিদ কলা প্রধানত দুই প্রকার, যথা –
- ভাজক কলা (Meristematic Tissue)।
- স্থায়ী কলা (Permanent Tissue)।
প্রাণী কলা কত রকমের ও কী কী?
প্রাণীকলা প্রধানত চার রকমের, যথা –
- আবরণী বা এপিথেলীয় কলা (Epithelial Tissue)।
- যোগকলা বা যোজক কলা (Connective Tissue)।
- পেশি কলা (Muscular Tissue)।
- স্নায়ুকলা (Nervous Tissue)।
প্রাথমিক ভাজক কলা কাকে বলে? এর কাজ কী?
যে ভাজক কলা আদি ভাজক কলা থেকে উৎপত্তি লাভ করে, তাকে প্রাথমিক ভাজক কলা বলে। যেমন – অগ্রস্থ ভাজক কলা।
কাজ – উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি বা মুখ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
গৌণ ভাজক কলা কাকে বলে? এর কাজ কী?
যে ভাজক কলা সরল স্থায়ী কলা থেকে উৎপত্তি লাভ করে, তাকে গৌণ ভাজক কলা বলে। যেমন – কর্ক ক্যাম্বিয়াম।
কাজ – উদ্ভিদের প্রস্থ বৃদ্ধি বা গৌণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ক্লোরেনকাইমা বলতে কী বোঝায়?
উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে বর্তমান ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমা কলাকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
অবস্থান – পাতার মেসোফিল কলা ও কচি কাণ্ডের বহিঃস্তরে ক্লোরেনকাইমা থাকে।
কাজ – সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করা।

এরেনকাইমা কাকে বলে?
জলজ উদ্ভিদের পত্রবৃন্তে ও অন্যান্য অংশে বর্তমান কোশান্তর রন্ধ্র ও বায়ুগহ্বরযুক্ত বড়ো আকারের প্যারেনকাইমাকে এরেনকাইমা বলে।
কাজ – উদ্ভিদকে জলে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
ইডিওব্লাস্ট কী?
কিছু কিছু উদ্ভিদের (যেমন – বট, রবার পাতার ফলক, কচুবৃত্ত প্রভৃতি) বর্জ্যপদার্থ সঞ্চয়কারী প্যারেনকাইমাকে ইডিওব্লাস্ট বলে।
কাজ – বিপাকজাত পদার্থ যেমন – খনিজ কেলাস, ট্যানিন, তেল প্রভৃতি কোশে সঞ্চিত রাখে।
বাস্টতন্তু কী?
ফ্লোয়েম কলায় উপস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুকে বাস্টতন্তু বলে। যেমন – পাট তন্তু।
কাষ্ঠল তন্তু কাকে বলে?
জাইলেম কলায় উপস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুকে কাষ্ঠল তন্তু বা উড ফাইবার বলে।
যোজক কলা কাকে বলে?
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার সংযোগস্থলে অবস্থিত কোশান্তর রন্ধ্রবিহীন সজীব প্যারেনকাইমা কলাকে যোজক কলা বলে।
এপিডারমিস (Epidermis) কী? এর কাজ লেখো।
উদ্ভিদ অঙ্গের বাইরে প্যারেনকাইমা কলা দ্বারা গঠিত ত্বককে এপিডারমিস বলে।
কাজ – এপিডারমিস উদ্ভিদ অঙ্গকে বাহ্যিক আঘাত ও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।
প্রস্তর কোশ কাকে বলে?
লিগনিন, সুবেরিন ও কিউটিন সঞ্চয়ের ফলে পুরু, শক্ত কোশপ্রাচীরযুক্ত স্ক্লেরাইড কোশকে প্রস্তর কোশ বা স্টোন সেল (Stone cell) বলে।
অবস্থান – পেয়ারা, আপেল, ন্যাসপাতি প্রভৃতি ফলে, মুগ, মটর প্রভৃতি ডালশস্যের বীজত্বকে, পদ্ম, শালুক, চা প্রভৃতি গাছের কান্ড ও পাতায় প্রস্তর কোশ উপস্থিত থাকে।
কোলেনকাইমা কোথায় দেখা যায় না?
কোলেনকাইমা দেখা যায় না –
- একবীজপত্রী উদ্ভিদে।
- মূলে।
যান্ত্রিক কলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব কলা দেহের ভার বহন করে এবং দেহে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে, তাকে যান্ত্রিক কলা (Mechanical Tissue) বলে।
যান্ত্রিক কলা দুপ্রকার। যথা –
- উদ্ভিদের ক্ষেত্রে – কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা ও স্থায়ী কলা (জাইলেম, ফ্লোয়েম)।
- প্রাণীদের ক্ষেত্রে – অস্থি, তরুণাস্থি হল যান্ত্রিক কলার উদাহরণ।
নালিকা বান্ডিল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উদ্ভিদদেহে যে জটিল স্থায়ীকলা এককভাবে বা মিলিতভাবে সংবহনে সাহায্য করে, তাকে নালিকা বান্ডিল (Vascular Tissue) বলে।
নালিকা বান্ডিল দুপ্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। যথা – জাইলেম ও ফ্লোয়েম।
জাইলেমের মৃত উপাদানগুলির নাম লেখো।
জাইলেমের মৃত উপাদানগুলি হল – ট্র্যাকিড, ট্র্যাকিয়া ও জাইলেম তন্তু।
ফ্লোয়েমের সজীব উপাদানগুলির নাম লেখো।
ফ্লোয়েমের সজীব উপাদানগুলি হল – সীভনল, সঙ্গীকোশ ও ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা।
ফ্লোয়েমকে সজীব কলা বলা হয় কেন?
ফ্লোয়েম কলার উপাদান কোশগুলি চার প্রকারের। যথা – সীভনল, সীভকোশ বা সঙ্গীকোশ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম তন্তু। এদের মধ্যে কেবলমাত্র ফ্লোয়েম তন্তু মৃত কোশী বাকি তিনটি কোশ সজীব এবং প্রধান। তাই ফ্লোয়েম কলাকে সজীব কলা বলা হয়।
ক্যামবিয়াম কাকে বলে?
কোনো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে জাইলেম কলা ও ফ্লোয়েম কলার মাঝে যে বিশেষ ভাজক কলার স্তর দেখতে পাওয়া যায়, তাকে ক্যামবিয়াম বলে।
কর্ক কীভাবে উদ্ভিদে রক্ষণাত্মক কলা হিসেবে কাজ করে?
কর্ক উদ্ভিদে রক্ষণাত্মক কলা হিসেবে কাজ করে।
কারণ –
- কর্কস্থিত কোশগুলি মৃত ও কোশান্তর রন্ধ্রবিহীন হয়।
- কোশপ্রাচীরের বাইরে মোমজাতীয় পদার্থ সুবেরিন -এর আস্তরণ থাকে। এই বৈশিষ্ট্য দুটি থাকার জন্য কর্ক তার নীচের কোশগুলিকে বাহ্যিক আঘাত, কীটপতঙ্গের সংক্রমণ প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে।
গবলেট কোশ কাকে বলে? এর কাজ কী?
শ্বাসনালীর অন্তঃপ্রাচীর এবং পৌষ্টিক নালির পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রে অন্তঃআবরণীর স্তম্ভাকার কোশ পরিবর্তিত হয়ে যে কলস বা হাতলবিহীন জগ -এর মতো গঠন তৈরি করে, তাকে গবলেট কোশ (Goblet cell) বলে।
কাজ – শ্লেষ্মা বা মিউকাস ক্ষরণ করে।
কঙ্কাল যোগকলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে যোগকলা প্রাণীদেহে ভারবহনকারী ও যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদানকারী কঙ্কালতন্ত্র গঠন করে, তাদের কঙ্কাল যোগকলা বলে।
উদাহরণ – তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ ও অস্থি বা বোনস্।
দুটি শিথিল যোগকলার নাম লেখো।
অ্যারিওলার যোগকলা ও অ্যাডিপোজ যোগকলা।
যোগকলায় উপস্থিত কোশগুলির নাম লেখো।
যোগকলায় উপস্থিত কোশগুলি হল –
- ফাইব্রোব্লাস্ট।
- হিস্টিওসাইট।
- মাস্টকোশ।
- চর্বি কোশ।
- প্লাজমা কোশ।
- রঞ্জক কোশ।
অনৈচ্ছিক পেশিতে অনুপ্রস্থ রেখা দেখা যায় না কেন?
অনৈচ্ছিক পেশিতে মায়োফিলামেন্টগুলি (অ্যাকটিন ও মায়োসিন) নির্দিষ্ট নিয়মে একান্তরভাবে সারকোপ্লাজমে সজ্জিত থাকে না, ফলে অনুপ্রস্থ রেখাগুলি দেখা যায় না।
একটি অস্থিপেশিতন্তুতে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে কেন?
প্রতিটি পেশিতন্তু পরিস্ফুরণের সময় একাধিক অপরিণত পেশিকোশের মিলনের ফলে গঠিত হয়। তাই একটি পেশিতন্তুতে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
হায়ালিন তরুণাস্থি (Hyaline Cartilage) বলতে কী বোঝো?
হালকা নীল বর্ণের এবং সমসত্ত্ব ধাত্রযুক্ত তরুণাস্থিকে হায়ালিন তরুণাস্থি বলা হয়। যেমন – দুটি অস্থির সন্ধিস্থলে বর্তমান তরুণাস্থি।
হ্যাভারসিয়ান নালিকা (Haversian Canal) বলতে কী বোঝো?
দৃঢ় অস্থিতে উল্লম্ব দৈর্ঘ্য বরাবর কতগুলি নালিকা অবস্থিত থাকে, যাদের হ্যাভারসিয়ান নালিকা বলা হয়। এর মধ্যে রক্তবাহ, লসিকাবাহ, স্নায়ুরজ্জু, অস্থিকোশ থাকে।
একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত ও একটি নিউক্লিয়াসযুক্ত পেশিকোশের নাম লেখো।
একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত পেশি কোশ – সরেখ পেশি বা কঙ্কাল পেশি এবং একটি নিউক্লিয়াসযুক্ত পেশি কোশ – অরেখ পেশি।
পেশি সংকোচনের জন্য দায়ী দুটি প্রোটিন মায়োফিলামেন্টের নাম লেখো।
অ্যাকটিন ও মায়োসিন।
ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক কী?
হৃৎপেশি শাখান্বিত হয় এবং পাশাপাশি অবস্থিত কোশগুলির কোশপর্দা সংযোগস্থলে আড়াআড়িভাবে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে যে চাকতি বা প্লেটের মতো গঠন তৈরি করে, তাকে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে।
স্নায়ুকলার কাজগুলি লেখো।
স্নায়ুকলার কাজ –
- জীবদেহে মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং স্নায়ু গঠনে স্নায়ুকলা সাহায্য করে।
- উদ্দীপনা গ্রহণকারী অংশ বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করে।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উপযুক্ত সাড়া পেশি ও গ্রন্থির ন্যায় সাড়া প্রদানকারী অঙ্গে পৌঁছে দেয়।
- জীবদেহের বিভিন্ন কলা, অঙ্গ ও যন্ত্রের মধ্যে সংযোগ সাধন করে।
র্যানভিয়ারের পর্ব কাকে বলে? এর কাজ লেখো।
মায়েলিন সিদযুক্ত নিউরোনে প্রায় 1mm দূরত্বে নিয়মিতভাবে মায়েলিন সিদ্ বিচ্ছিন্ন থাকে। এই স্থানে নিউরোলেমা আবরণটি অ্যাক্সন স্তম্ভের কাছে চলে আসে ফলে একটি খাঁজের সৃষ্টি হয়। একে র্যানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier) বলে।
কাজ – মায়োলিন সিদযুক্ত স্নায়ুতে স্নায়ু উদ্দীপনা র্যানভিয়ারের একটি পর্ব থেকে অন্য পর্বে লাফিয়ে লাফিয়ে দ্রুত পরিবাহিত হয়।
নিউরোগ্লিয়া কোশ কী? এর কাজ লেখো।
স্নায়ুকলায় যে বিশেষ পরিবর্তিত যোগকলা উপস্থিত থাকে তাকে নিউরোগ্লিয়া কোশ (Neuroglia) বলে।
কাজ – স্নায়ুকলার গঠনগত উপাদানরূপে এবং নিউরোনের ধারককোশ রূপে কাজ করে।
স্তরীভূত আবরণী কলা কাকে বলে?
যে ধরনের আবরণী কলা ভিত্তিপর্দাযুক্ত এবং একটি স্তরবিশিষ্ট কিন্তু আবরণী কলার কোশগুলি বিভিন্ন উচ্চতাবিশিষ্ট হওয়ার কারণে এই কলাকে একাধিক স্তরবিশিষ্ট বলে মনে হয় সেই ধরনের আবরণী কলাকে ছদ্ম স্তরীভূত আবরণী কলা বলে। মানুষের স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালীর অন্তঃআবরণীতে এই প্রকার কলা দেখা যায়।
তরল যোগকলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
ভ্রুণজ মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন যে কলায় কোনো তন্তু বা স্থিরকোশ অথবা ভিত্তিপর্দা থাকে না, যেখানে কোশ অপেক্ষা ধাত্রের পরিমাণ বেশি থাকে, ধাত্রে মুক্ত কোশগুলি ভ্রাম্যমান বা ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং যে প্রাণীকলা মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অঙ্গ-তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে, সেই বিশেষ ধরনের পরিবর্তিত কলাকে তরল যোগকলা বলে। যেমন – রক্ত, লসিকা।
ভারবাহী যোগকলা বলতে কী বোঝায়?
যে প্রকার যোগকলা দেহের অন্তঃকঙ্কাল গঠন করে, দেহের ভারবহন করে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন প্রভৃতি কাজে অংশগ্রহণ করে, তাকে ভারবাহী যোগকলা বলে। যেমন – অস্থি ও তরুণাস্থি।
সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ কী? এর কাজ কী?
সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ – একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্তীয় নক্ এবং অপর নিউরোনের ডেনড্রন বা কোশদেহের মধ্যবর্তী যে আণুবীক্ষণিক স্থানের মধ্য দিয়ে স্নায়বিক উদ্দীপনা নিউরোট্রান্সমিটারের সাহায্যে পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে প্রেরিত হয়, তাকে সাইন্যাপস্ বলে।
কাজ – স্নায়বিক উত্তেজনা পরিবহণ করা।
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক কলা কয় প্রকার ও কী কী? প্রতি প্রকার ভাজক কলা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক কলা দুপ্রকার। যথা –
- প্রাথমিক ভাজক কলা।
- গৌণ ভাজক কলা।
- প্রাথমিক ভাজক কলা – যে ভাজক কলা আদি ভাজক কলা থেকে উৎপত্তি লাভ করে, তাকে প্রাথমিক ভাজক কলা বলে। যেমন – অগ্রস্থ ভাজক কলা, নিবেশিত ভাজক কলা।
- গৌণ ভাজক কলা – যে ভাজক কলা স্থায়ী কলা থেকে উৎপত্তি লাভ করে, তাকে গৌণ ভাজক কলা বলে। যেমন – পার্শ্বস্থ ভাজক কলা, কর্ক ক্যাম্বিয়াম প্রভৃতি।
অবস্থান অনুযায়ী ভাজক কলার শ্রেণিবিভাগ করো। প্রতি প্রকার ভাজক কলার কাজ উল্লেখ করো।
অবস্থান অনুযায়ী ভাজক কলা তিনপ্রকার। যথা –
- অগ্রস্থ ভাজক কলা।
- নিবেশিত ভাজক কলা।
- পার্শ্বস্থ ভাজক কলা।
| ভাজক কলা | কাজ |
| অগ্রস্থ ভাজক কলা | উদ্ভিদের অগ্রভাগের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। |
| নিবেশিত ভাজক কলা | উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়। |
| পার্শ্বস্থ ভাজক কলা | উদ্ভিদের প্রস্থ বা পরিধির বৃদ্ধি ঘটায়। |
কাজ অনুযায়ী ভাজক কলাকে কয়ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী?
বিজ্ঞানী হ্যাবারল্যান্ড (Haberland, 1890) কাজ অনুযায়ী ভাজক কলাকে তিনভাগে ভাগ করেন। যথা –
- প্রোটোডার্ম – ত্বক গঠন করে।
- প্রোক্যাম্বিয়াম – সংবহন কলা গঠন করে।
- গ্রাউন্ড মেরিস্টেম – আদি কলা (বহিঃস্তর ও মজ্জা) গঠন করে।

স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুর বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও কাজ লেখো।
স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুর বৈশিষ্ট্য –
- কোশগুলি লম্বা, সরু ও দুই প্রান্ত ছুঁচোলো হয়।
- কোশ মৃত, নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমবিহীন হয়।
- কোশপ্রাচীর পুরু, লিগনিন সমৃদ্ধ এবং সরল ও সপাড় কূপযুক্ত।
- জাইলেম কলায় অবস্থানকারী স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুকে কাষ্ঠল তন্তু এবং ফ্লোয়েম কলায় অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুকে ফ্লোয়েম বা বাস্ট তন্তু বলে।
অবস্থান – একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের বহিত্বকে, অধত্ত্বকে, পরিচক্রে, জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলায় এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বান্ডিল টুপিতে অবস্থান করে।
কাজ – উদ্ভিদ অঙ্গকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
স্ক্লেরাইড কী? স্ক্লেরাইড কত প্রকারের ও কী কী?
স্ক্লেরাইড (Schleride) – কিছু বিশেষ উদ্ভিদ যেমন – পেয়ারা, ন্যাসপাতি ইত্যাদি ফলের শাঁস, মটর, মুগ ইত্যাদি বীজত্বকে অবস্থিত স্থূল, পুরু কোশপ্রাচীরযুক্ত গোলাকার, ডিম্বাকার বা তারকাকার স্ক্লেরেনকাইমা কোশগুচ্ছকে স্ক্লেরাইড বলে।
স্ক্লেরাইডের প্রকারভেদ – স্ক্লেরাইড পাঁচ প্রকারের হয়, যেমন –
- ব্র্যাকিস্ক্লেরাইড – আপেলের শাঁসে।
- অ্যাসট্রোস্ক্লেরাইড – শালুকের পাতায়।
- ম্যাক্রোস্ক্লেরাইড – মটরের বীজত্বকে।
- অসটিওস্ক্লেরাইড – মটরের বীজত্বকে।
- ট্রাইকোস্ক্লেরাইড – জলপাই -এর পাতায় থাকে।
স্ক্লেরাইড বা স্ক্লেরোটিক কোশের বৈশিষ্ট্য ও কাজ লেখো।
স্ক্লেরাইড বা স্ক্লেরোটিক কোশের বৈশিষ্ট্য –
- স্ক্লেরাইড কোশগুলি মৃত ও প্রোটোপ্লাজমবিহীন।
- কোশপ্রাচীর অত্যন্ত পুরু এবং শক্ত। এজন্য এদের প্রস্তর কোশ (Stone Cell) বলে।
স্ক্লেরাইড বা স্ক্লেরোটিক কোশের কাজ – সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ অঙ্গকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও শক্তিপ্রদান করে।

আঁইশাকার আবরণী কলার (Squamous Epithelium) বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও কাজ লেখো।
আঁইশাকার আবরণী কলার (Squamous Epithelium) বৈশিষ্ট্য –
- কোশগুলি চ্যাপটা, পাতলা, বহুভুজাকার।
- ভিত্তিপর্দার ওপর একস্তরে সজ্জিত কোশগুলি বড়ো নিউক্লিয়াস ও ঘন সাইটোপ্লাজমযুক্ত হয়।
আঁইশাকার আবরণী কলার (Squamous Epithelium) অবস্থান –
- মুখগহ্বর ও গ্রাসনালিতে,
- ফুসফুসের বায়ুথলি,
- বৃক্কের ব্যাওম্যানস ক্যাপসুল ও হেনলির লুপে।
আঁইশাকার আবরণী কলার (Squamous Epithelium) কাজ –
- সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে বাহ্যিক আঘাত ও জীবাণু সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা।
- গ্যাসীয় ও তরল পদার্থ আদানপ্রদানে সাহায্য করা।

ঘনকাকার আবরণী কলার (Cuboidal Epithelium) বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও কাজ লেখো।
ঘনকাকার আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য –
- কোশগুলির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় সমান অর্থাৎ, ঘনকাকার।
- ভিত্তিপর্দার ওপর একস্তরে সজ্জিত কোশগুলি বড়ো নিউক্লিয়াস ও ঘন সাইটোপ্লাজমযুক্ত হয়।
ঘনকাকার আবরণী কলার অবস্থান –
- থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি।
- বৃক্কীয় নালিকাতে, ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয়ে।
ঘনকাকার আবরণী কলার কাজ –
- সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে রক্ষা করা।
- ক্ষরণে অংশগ্রহণ করা।

স্তম্ভাকার আবরণী কলার (Columnar Epithelium) দুটি বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও কাজ লেখো।
স্তম্ভাকার আবরণী কলার দুটি বৈশিষ্ট্য –
- কোশগুলির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের তুলনায় উচ্চতা অনেক বেশি থাকে অর্থাৎ, স্তম্ভাকার।
- ভিত্তিপর্দার ওপর কোশগুলি একস্তরে সজ্জিত এবং বৃহৎ নিউক্লিয়াসটি কোশের নীচের দিকে অবস্থান করে।
স্তম্ভাকার আবরণী কলার দুটি অবস্থান –
- গ্রাসনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রে।
- বৃক্কীয় নালিকায়।
স্তম্ভাকার আবরণী কলার দুটি কাজ –
- সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে ঢেকে রাখা।
- গবলেট কোশ ও অন্যান্য গ্রন্থি থেকে মিউকাস ও উৎসেচক ক্ষরণ করা।
- ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃক্কীয় নালিকাতে শোষণ কাজে সাহায্য করা।

রোমশ আবরণী কলা (Ciliated epithelium) -এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও কাজ লেখো।
রোমশ সরল আবরণী কলার গঠনগত বৈশিষ্ট্য –
- রোমযুক্ত সরল আবরণী কলা একস্তর ঘনকাকার বা স্তম্ভাকার কোশ দ্বারা গঠিত।
- কোশগুলির বহির্গাত্রে অসংখ্য সচল প্রকৃতির সিলিয়া থাকে। প্রতি কোশে সিলিয়ার সংখ্যা 20–30।
- কোশের প্রান্তের বেসাল কণিকা থেকে সিলিয়াগুলি উৎপন্ন হয়।

রোমশ সরল আবরণী কলার অবস্থান –
- শ্বাসনালী, ক্লোমশাখা, সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় গহ্বর, জরায়ু, ডিম্বনালি, শুক্রনালি প্রভৃতি অংশে রোমশ আবরণী কলা দেখতে পাওয়া যায়।
- এই কলার কোশগুলি গবলেট কোশ প্রকৃতির এবং মিউকাস ক্ষরণ করে।
রোমশ সরল আবরণী কলার কাজ –
- সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে রক্ষা করে।
- সিলিয়ার সাহায্যে বিভিন্ন বস্তু বা তরলকে মিউকাস ক্ষরণের মাধ্যমে ওই পথে চলাচলে সাহায্য করে।
অ্যারিওলার যোগকলার বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান লেখো।
অ্যারিওলার যোগকলার বৈশিষ্ট্য –
- আন্তঃকোশীয় পদার্থ বা ধাত্র অনেক বেশি থাকে।
- ধাত্রে কোশ ও তন্তুগুলি শিথিলভাবে বিন্যস্ত থাকে। এজন্য একে শিথিল যোগকলা বলে।
- বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশির মধ্যেকার ফাঁকাস্থান এক প্রকার সাদা, সান্দ্র ও চটচটে পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে।

অ্যারিওলার যোগকলার অবস্থান –
- দেহত্বকের নীচে, পেশির অন্তর্বর্তী স্থানে।
- রক্তবাহের প্রাচীরে ও স্নায়ুর আচ্ছাদনে।
অ্যারিওলার যোগকলার কার্যাবলি উল্লেখ করো।
অ্যারিওলার যোগকলার কার্যাবলি –
- অ্যারিওলার যোগকলা দেহে প্রধানত সহায়ক কলা (Supporting tissue) রূপে কাজ করে এবং দেহের বিভিন্ন অংশকে স্বস্থানে আবদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।
- দেহে জীবাণু সংক্রমণে বাধা দেয় এবং দেহের এক অংশের সংক্রমণকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দান করে।
- অ্যারিওলার যোগকলার বিভিন্ন কোশ পৃথক পৃথক কার্য সম্পন্ন করে। যেমন – ফাইব্রোব্লাস্ট শ্বেততন্তু উৎপাদন করে, মাস্ট কোশ হেপারিন ও হিস্টামিন উৎপন্ন করে, প্লাজমাকোশ অ্যান্টিবডি সংশ্লেষ করে প্রভৃতি।
মেদকলা বা অ্যাডিপোজ কলা (Adipose tissue) -এর গঠন ও কাজ লেখো।
মেদকলার গঠন বৈশিষ্ট্য –
- এটি একপ্রকার রূপান্তরিত অ্যারিওলার কলা, যাতে কোশগুলির ভ্যাকুওলে অতিরিক্ত ফ্যাট গ্লোবিউল সঞ্চিত থাকে।
- কোশের সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস কোশে সঞ্চিত ফ্যাটের চাপে কোশপর্দা বরাবর পাতলা স্তরে অবস্থান করে (signet ring)।
- শিথিল ধাত্র উপস্থিত যা রক্তবাহ সমন্বিত।

মেদকলার কাজ –
- মেদকলা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকৃতি দান ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে বাহ্যিক আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখে মেদকলা।
- মেদকলাকোশে সঞ্চিত স্নেহপদার্থ ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।
ওবেসিটিকে ‘Silent Killer’ বলা হয়। 1. ওবেসিটি দেহের কোন্ কলার সঙ্গে যুক্ত? 2. ওবেসিটির জন্য তোমার দেহে আর কোন্ কলাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়? 3. ওবেসিটি কমানোর জন্য তুমি কোন্ কলার সাহায্য নেবে?
- অ্যাডিপোজ যোগকলার সঙ্গে যুক্ত।
- ওবেসিটির জন্য হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- পেশিকলার সাহায্য নিতে হবে।
লিগামেন্ট ও টেনডন বলতে কী বোঝো?
লিগামেন্ট (Ligament) – অল্প ধাত্র, কোশ ও বেশি পরিমাণে তন্তুযুক্ত যে স্থিতিস্থাপক তন্তুময় যোগকলা অস্থিকে অস্থির সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে লিগামেন্ট বা সন্ধিবন্ধনী বলে।

- বৈশিষ্ট্য – শক্ত, দৃঢ় এবং পীতবর্ণের স্থিতিস্থাপক কলা দ্বারা গঠিত।
- কাজ – একটি অস্থিকে অপর অস্থির সঙ্গে যুক্ত করে।
টেনডন (Tendon; tendere = to stretch) – ঘন শ্বেত তন্তুময় যোগকলা দ্বারা গঠিত যে কম স্থিতিস্থাপক দড়ির মতো শক্ত অংশ পেশিকে অস্থির সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে টেনডন বা কন্ডরা বলে।
- বৈশিষ্ট্য – শক্ত, দৃঢ় শ্বেতবর্ণের কম স্থিতিস্থাপক যোগকলা দ্বারা গঠিত।
- কাজ – পেশিকে অস্থির সঙ্গে যুক্ত রাখে।

তরুণাস্থি কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
তরুণাস্থি (Cartilage) – বেশি পরিমাণে ধাত্র, অল্প কোশ ও তন্তু দ্বারা গঠিত দৃঢ়, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক কঙ্কাল যোগকলাকে তরুণাস্থি বলে।
তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য –
- তরুণাস্থির ধাত্র নিরেট, দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক। একে কনড্রিন বলে।
- ধাত্রে কোলাজেন তন্তু উপস্থিত থাকে।
- কনড্রোসাইট কোশগুলি একক বা দলবদ্ধভাবে ল্যাকুনাতে (গহ্বর) অবস্থান করে।
- পরিণত তরুণাস্থির চারপাশে উপস্থিত ঘন ফাইব্রাস সিকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- পেরিকনড্রিয়ামে ফাইব্রোব্লাস্ট, শিথিল তন্তু ও রক্তবাহ উপস্থিত থাকে।

তরুণাস্থি কয় প্রকার ও কী কী? এদের অবস্থানগুলি উল্লেখ করো।
তরুণাস্থি তিন প্রকার। যথা –
- হায়ালিন তরুণাস্থি।
- ফাইব্রাস তরুণাস্থি।
- ক্যালসিফায়েড তরুণাস্থি।
অবস্থান –
- হায়ালিন তরুণাস্থি – অস্থির সন্ধিস্থল, বর্ধনশীল এপিফাইসিস ও ডায়াফাইসিসের অন্তর্বর্তী স্থানে, নাসিকা ব্যবধায়ক, স্বরযন্ত্র এবং শ্বাসনালীর তরুণাস্থি বলয়ে উপস্থিত থাকে।
- তন্তুময় বা ফাইব্রাস তরুণাস্থি – ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, পিউবিক সিমফাইসিস, জানু (Knee) সন্ধি, চোয়ালের সন্ধিতে বর্তমান।
- ক্যালশিয়ামযুক্ত বা ক্যালসিফায়েড তরুণাস্থি – ব্যাঙের পেকটোরাল গার্ডেলের সুপ্রাস্ক্যাপুলা, হাঙরের ভার্টিব্রাতে উপস্থিত থাকে।
তরুণাস্থির কাজগুলি লেখো।
তরুণাস্থির কাজ –
- যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান – তরুণাস্থি প্রাণীঅঙ্গকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে এবং নমনীয় রাখে।
- ঘর্ষণজনিত ক্ষয়রোধ – অস্থির মাঝখানে উপস্থিত থেকে অস্থিপ্রান্তগুলিকে ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
- ঝাঁকুনি প্রতিরোধ – ইন্টারভার্টিব্রাল তরুণাস্থি ঝাঁকুনিজনিত আঘাত থেকে মেরুদণ্ডের কশেরুকা বা ভার্টিব্রাগুলিকে রক্ষা করে।
কঠিনতম যোগকলা কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
কঠিনতম যোগকলা হল অস্থি (Bone)।
অস্থির বৈশিষ্ট্য –
- ধাত্র নিরেট। ক্যালশিয়াম লবণ (যেমন – ক্যালশিয়াম ফসফেট – 85%, ক্যালশিয়াম কার্বনেট – 9%, ক্যালশিয়াম ফ্লুওরাইড – 6% প্রভৃতি) ও কোলাজেন কমপ্লেক্স ওসেইন (Ossein, 30-40%) সমৃদ্ধ।
- অস্থির দৈর্ঘ্য বরাবর সূক্ষ্ম হ্যাভারসিয়ান নালি, তির্যক ভল্কম্যানের নালি উপস্থিত থাকে। এই নালিগুলির মধ্যে রক্তবাহ, লসিকাবাহ, স্নায়ুতন্তু বর্তমান।
- হ্যাভারসিয়ান নালিকে ঘিরে থাকে ল্যামেলা।
- দুটি ল্যামেলার মাঝখানে উপস্থিত গহ্বর ল্যাকুনার মধ্যে অস্টিওসাইট কোশগুলি বর্তমান।
- অস্থি পেরিঅস্টিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

অস্থির কাজগুলি লেখো।
অস্থির কাজ –
- প্রাণীদেহের কাঠামো গঠন করে।
- অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- অস্থিতে দেহের প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ মৌল, যেমন – ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস সঞ্চিত থাকে।
- অস্থিমজ্জার বিভিন্ন কোশ থেকে নানা প্রকার রক্তকণিকা সৃষ্টি হয়।
- পেশির সঙ্গে অস্থি সংযুক্ত থাকায় অস্থির সঞ্চালন ঘটে ও প্রাণীরা চলন-গমন করতে পারে।
রক্ত কী? রক্তকে তরল যোগকলা বলা হয় কেন?
রক্ত (Blood) – রক্তরস ও রক্তকণিকা দ্বারা গঠিত অস্বচ্ছ, ক্ষারধর্মী, ঈষৎ লবণাক্ত তরল যোগকলাকে রক্ত বলে।
রক্তকে তরল যোগকলা বলার কারণ –
- রক্ত ভ্রুণের মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্টি হয়।
- এতে কোশের তুলনায় অন্তঃকোশীয় ধাত্র বেশি থাকে।
- রক্ত তার তরল ধাত্র রক্তরসের সাহায্যে প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং কলাকোশের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, তাই একে তরল যোগকলা বলে।
ঐচ্ছিক পেশির অবস্থান, গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো।
ঐচ্ছিক পেশির অবস্থান – অস্থির সঙ্গে সংলগ্ন অবস্থায় থাকে।
ঐচ্ছিক পেশির গঠন বৈশিষ্ট্য –
- সারকোলেমা স্পষ্ট এবং সম্পূর্ণ।
- পেশিতন্তু বেলনাকার শাখাপ্রশাখাহীন এবং দীর্ঘ এবং এন্ডোমাইসিয়াম দ্বারা আবৃত।
- নিউক্লিয়াসের সংখ্যা একাধিক।
- অনুপ্রস্থে রেখাঙ্কিত কিন্তু অনুদৈর্ঘ্যে রেখাঙ্কিত নয়।
- নিঃসাড়কাল স্বল্পস্থায়ী।
ঐচ্ছিক পেশির কাজ –
- ঐচ্ছিক পেশি ব্যক্তি/প্রাণীর ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে ও গমনে সহায়তা করে।
- উত্তেজনায় উদ্দীপিত হয়ে প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় সহায়তা করে।

অনৈচ্ছিক পেশির অবস্থান, গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো।
অনৈচ্ছিক পেশির অবস্থান – বিভিন্ন আন্তরযন্ত্রের প্রাচীরে অবস্থিত।
অনৈচ্ছিক পেশির গঠন বৈশিষ্ট্য –
- সারকোলেমা অস্পষ্ট এবং অসম্পূর্ণ।
- পেশিতন্তু মাকু আকৃতিবিশিষ্ট এবং শাখাপ্রশাখাহীন।
- নিউক্লিয়াসের সংখ্যা একটি, আকৃতিতে ডিম্বাকার বা দণ্ডাকার।
- অনুপ্রস্থে রেখাঙ্কিত নয়, কিন্তু অনুদৈর্ঘ্যে রেখাঙ্কিত। অনুদৈর্ঘ্য রীতিতে মায়োফাইব্রিল সজ্জিত থাকে।
- নিঃসাড়কাল দীর্ঘস্থায়ী।
অনৈচ্ছিক পেশির কাজ – এই পেশি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে সংকুচিত করতে সহায়তা করে।

হৃৎপেশির গঠনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
হৃৎপেশির গঠনগত বৈশিষ্ট্য –
- হৃৎপিণ্ডের প্রাকারে অনুপ্রস্থে রেখাঙ্কিত হৃৎপেশি থাকে। একে মায়োকার্ডিয়াম বলা হয়।
- হৃৎপেশি একপ্রকার স্বতন্ত্র প্রকৃতির অনৈচ্ছিক পেশি এবং গঠনগতভাবে সরেখ পেশি ও মসৃণ পেশির সঙ্গে এর সম্পর্ক বর্তমান। পেশিতন্তুগুলি শাখাপ্রশাখাযুক্ত এবং এই শাখাপ্রশাখার মাধ্যমে তত্ত্বগুলি পরস্পরের সঙ্গে প্রোটোপ্লাজমীয় যোগসূত্র রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক পেশির ন্যায় হৃৎপেশিতে অনুপ্রস্থ রেখা দেখা যায়। হৃৎপেশিতে উল্লম্ব রেখাও থাকে।
- হৃৎপেশি শাখান্বিত হয় এবং পাশাপাশি অবস্থিত কোশসমূহের সংযোগস্থলের কোশপর্দা ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে অনুপ্রস্থ চাকতি গঠন করে, যাকে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলা হয়।
- প্রতিটি কোশে একটি করে ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস বর্তমান।
- হৃৎপেশি কোশের সারকোলেমা অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কলা’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন