নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর উপবিভাগ জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি’ -এর অন্তর্গত ট্যাক্সোনমি এবং ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জীবন ও তার বৈচিত্র্য-জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস-ট্যাক্সোনমি-জীবনবিজ্ঞান-নবম
Contents Show

ট্যাক্সোনমি এবং ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি

ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) কাকে বলে? ট্যাক্সোনমি শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেন? ট্যাক্সোনমির প্রধান উপাদানগুলির নাম লেখো।

ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) – জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বিজ্ঞানসম্মত রীতিনীতি ও আইন অনুযায়ী জীবের শনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমি (Taxonomy; Taxis = বিন্যাস, nomos = রীতিনীতি) বলে।

সুইডিশ বিজ্ঞানী অগাস্তিন পি দ্য ক্যানডোল (Augastin P. de Candole) সর্বপ্রথম ‘ট্যাক্সোনমি’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

ট্যাক্সোনমির প্রধান উপাদানগুলি হল –

  1. বৈশিষ্ট্য নির্বাচন (Characterisation)।
  2. শনাক্তকরণ (Identification)।
  3. নামকরণ (Nomenclature)।
  4. শ্রেণিবিন্যাস (Classification)।
  5. প্রমাণ্য দলিল সংরক্ষণ (Documentation)।

লিনিয়াসের সময় পর্যন্ত আধুনিক ট্যাক্সোনমি বিজ্ঞানের বিকাশের ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।

লিনিয়াসের সময় পর্যন্ত আধুনিক ট্যাক্সোনমি বিজ্ঞানের বিকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – মানব সভ্যতার বিকাশের শুরু থেকেই জীবের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বা ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি সম্পর্কে চর্চা আরম্ভ হয়। যে-সমস্ত বিজ্ঞানীদের ট্যাক্সোনমি বিকাশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তাঁরা হলেন –

  1. লিনিয়াস পূর্ববর্তী – অ্যারিস্টট্ল, থিওফ্রাস্টাস, সিসালপিনো, জন রে প্রমুখ।
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস।
  3. লিনিয়াস পরবর্তী – কুভিয়ের, ল্যামার্ক, হেকেল প্রমুখ।
  4. আধুনিক কালে – স্যার জুলিয়ান হাক্সলে, সিম্পসন, মায়ার প্রমুখ।

ট্যাক্সোনমির বিজ্ঞানের বিকাশের ইতিহাসকে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যেমন –

গ্রিক যুগে বিকাশ –

  1. গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (322-384 BC) আলেকজান্ডারের রাজত্বকালে বিজ্ঞানের নতুন শাখা জীবনবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই সর্বপ্রথম জীবের শ্রেণিবিন্যাস করেন। তাঁকে ‘জীববিদ্যার জনক’ এবং ‘প্রাণীবিদ্যার জনক’ বলা হয়। তাঁর লেখা ‘হিস্টোরিয়া অ্যানিমেলিয়াম’ গ্রন্থ থেকে জীবজন্তুর আচার-আচরণ, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তিনি প্রাণীদের মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডীতে ভাগ করেছিলেন।
  2. অ্যারিস্টটলের সুযোগ্য ছাত্র গ্রিক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে (285-370 BC) উদ্ভিদবিদ্যার জনক বলা হয়। তিনি ‘হিস্টোরিয়া প্ল্যান্টেরাম’ নামক গ্রন্থে প্রায় 480টি উদ্ভিদ প্রজাতির উল্লেখ করেন।

রোমান যুগে বিকাশ –

  1. প্লিনি দ্য এল্ডার ‘ন্যাচারালিস হিস্টোরিয়া’ গ্রন্থে বহু উদ্ভিদের বর্ণনা করেন। এই সমস্ত উদ্ভিদের ল্যাটিন ভাষায় দ্বিপদ নামকরণও করা হয়।
  2. রোমের চিকিৎসক ডিসকরডিস আনুমানিক 100 খ্রিস্টাব্দে ‘দ্য মেটেরিয়া মেডিকা’ বইটিতে প্রায় 800 প্রকার উদ্ভিদের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে তাদের শ্রেণিবিভাগ করেন।

অন্তর্বর্তী যুগে বিকাশ –

  1. অ্যান্ড্রিউ সিসালপিনো তাঁর রচিত ‘ম্যাগনাম ওপুস ডি প্ল্যান্টি’ বইতে 1500 প্রজাতির উদ্ভিদের বর্ণনা দেন। তিনি সর্বপ্রথম Asteraceae ও Brassicaceae গোত্রদ্বয় ব্যবহার করেন, যা বর্তমানেও ব্যবহৃত হয়।
  2. ইংরেজ প্রকৃতিবিদ জন রে (1627-1705) প্রজাতির ধারণা ও প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে প্রথম প্রস্তাব করেন।

ভারতবর্ষে বৈদিক যুগে বিকাশ –

  1. ছান্দোগ্য উপনিষদে প্রায় 740টি উদ্ভিদ প্রজাতি ও 250টি প্রাণী প্রজাতির উল্লেখ করা হয়েছে।
  2. আয়ুর্বেদ চিকিৎসক চরক ‘চরক সংহিতা’ নামক গ্রন্থে প্রায় 340টি উদ্ভিদ প্রজাতি এবং 200টি প্রাণী প্রজাতির উল্লেখ করেন। চরককে ‘আয়ুর্বেদের জনক’ বলা হয়।
  3. বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক সুশ্রুত ‘সুশ্রুত সংহিতা’ প্রাণীজগতকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। যথা – কুলাকাবা, মৎস্য, জাঙ্গল ও গুহাশয়।

আধুনিক যুগের বিকাশ (ক্যারোলাস লিনিয়াস 1707-1778) – বিখ্যাত সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রতিটি জীবের নামকরণের জন্য দুটি পদ ব্যবহার করে ‘দ্বিপদ নামকরণ’ পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘স্পিসিস প্ল্যান্টেরাম’ (1753) -এ তিনি প্রায় 5,900 উদ্ভিদ প্রজাতি এবং ‘সিস্টেমা ন্যাচুরি’ (1758 দশম সংস্করণ) -তে প্রায় 4,200 প্রাণী প্রজাতির উল্লেখ করেন। এই অবদানের জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে ‘ট্যাক্সোনমির জনক’ এবং ‘দ্বিপদ নামকরণের জনক’ বলা হয়। লিনিয়াসের সময়কালেই ব্যোম এবং হুকার তাঁদের ‘জেনেরা প্ল্যান্টিরাম’ নামক গ্রন্থে উদ্ভিদ রাজ্যকে প্রায় 202টি বর্গে ভাগ করেন।

ট্যাক্সোনমির গুরুত্বগুলি আলোচনা করো।

ট্যাক্সোনমির গুরুত্ব (Importance of Taxonomy) –

ট্যাক্সোনমির গুরুত্বগুলি হল –

  • পৃথিবীর বিভিন্ন জীব সম্পর্কীয় জ্ঞানার্জন – পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত জীবগোষ্ঠীর সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের পথ সহজ করে ট্যাক্সোনমি। এর সাহায্যে পৃথিবীর বিভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত জীবদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়।
  • জীবের শনাক্তকরণ – বহু বৈচিত্র্যময় জীবদের মধ্যে থেকে একটি বিশেষ জীবকে শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া নতুন আবিষ্কৃত কোনো জীব বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোনো জীবের শনাক্তকরণও সম্ভব হয়।
  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ – ট্যাক্সোনমির সাহায্যে বিশেষ বিশেষ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির বাসস্থান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়। কোনো বিশেষ অঞ্চলে, বিশেষ কিছু গোষ্ঠীভুক্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির বসতি গড়ে উঠলে তা থেকে পরিবেশের উপাদান সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
  • অর্থকরী উদ্ভিদের সঙ্গে অন্যান্য জীবের সম্পর্ক নির্ণয় – বিভিন্ন অর্থকরী উদ্ভিদ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে ফলনহার কমে গিয়ে দেশের অর্থনৈতিক গঠন কাঠামোর অবনতি হয়। ট্যাক্সোনমির সাহায্যে এখন উদ্ভিদ রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া প্রভৃতির শনাক্তকরণ, স্বভাব, বাসস্থান সম্বন্ধে জ্ঞান ও তাদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়।
  • বিবর্তনের পথকে জানা – ট্যাক্সোনমির ধারণা থেকে জীবের উৎপত্তি অর্থাৎ, তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। অনুন্নত ও উন্নত জীব ও তার থেকে বিবর্তনের পথ জানা যায়। এ ছাড়া সিস্টেমেটিক্স, বাস্তুবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভ্রূণতত্ত্ববিদ্যা, জৈব-রসায়ন, বংশগতিবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ের অভিব্যক্তি বুঝতে সাহায্য করে ট্যাক্সোনমি।

ট্যাক্সোনমির উপাদানগুলির সম্পর্কে আলোচনা করো।

ট্যাক্সোনমির উপাদান (Components of taxonomy) –

ট্যাক্সোনমির প্রধান উপাদানগুলি হল –

  1. বৈশিষ্ট্য নির্বাচন।
  2. শনাক্তকরণ।
  3. নামকরণ।
  4. শ্রেণিবিন্যাস।
  5. প্রামান্য দলিলের সংরক্ষণ।
  • বৈশিষ্ট্য নির্বাচন (Characterization) – কোনো নমুনা (উদ্ভিদ বা প্রাণী) ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর, সেই নমুনার নানান বৈশিষ্ট্যগুলিকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াকে বৈশিষ্ট্য নির্বাচন বলে।
  • শনাক্তকরণ (Identification) – বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো জীবকে অন্যান্য জীবদের থেকে আলাদা করে চিনে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় শনাক্তকরণ (Identification)। এটি ট্যাক্সোনমির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর সঠিক বর্ণনা করা এবং বর্ণনার ভিত্তিতে জীবটিকে শনাক্ত করা ট্যাক্সোনমির প্রাথমিক কাজ।
  • নামকরণ (Nomenclature) – যে পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী জীবগোষ্ঠীর প্রতিটি জীবকে সঠিক নাম দেওয়ার মাধ্যমে জীবগুলিকে আলাদাভাবে চিনে নেওয়া হয়, তাকে নামকরণ (Nomenclature) বলে। জীবের শনাক্তকরণের পর তার নামকরণ করা হয়। তাই উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্থানবিশেষে সাধারণ নাম ও বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রচলিত আছে। 1753 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের দ্বিপদ নামকরণ প্রচলন করেন। এই দ্বিপদ নামে গণ ও প্রজাতি নামক দুটি পদ ব্যবহার করা হয়। যেমন – ধানের দ্বিপদ নাম হল Oryza sativa (এখানে Oryza হল গণ এবং sativa হল প্রজাতি)।
  • শ্রেণিবিন্যাস (Classfication) – জীবের বাহ্যিক গঠন, প্রকৃতি এবং বিভিন্ন পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে জীবদের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে (যেমন – বিভাগ, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি) স্থাপন করার পদ্ধতিকে বলা হয় শ্রেণিবিন্যাস (Classification)।
  • প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ (Documentation) – উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সংগ্রহ করে সেগুলির নির্দিষ্ট শ্রেণিবিন্যাস করার পর বৈজ্ঞানিক কার্যের জন্য তাদের সংগ্রহশালা বা জাদুঘরে বৈজ্ঞানিক মতে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ (Documentation) বলে।

লিনিয়াস প্রবর্তিত ট্যাক্সোনমির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

লিনিয়াস প্রবর্তিত ট্যাক্সোনমির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি –

  • ট্যাক্সোনমির কার্যকারিতা বিজ্ঞানসম্মত কতকগুলি রীতিনীতির ওপর নির্ভরশীল।
  • জীবের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জীবকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা।
  • প্রতিটি জীবের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
  • শনাক্তকরণের পর প্রতিটি জীবের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নামকরণ করা ও শ্রেণিবিন্যাসে সঠিক অবস্থানে স্থাপন করা।
  • প্রতিটি জীবের শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান অনুযায়ী বিবর্তনের ধারা নির্ণয় করা।

ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি কাকে বলে? এই পদ্ধতি কে প্রথম প্রবর্তন করেন? ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির এককগুলি লেখো।

ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি (Taxonomic Hierarchy) –

বিভিন্ন এককের সাহায্যে গঠিত যে শ্রেণিবিন্যাসের কাঠামোতে জীবগোষ্ঠীকে হায়ারার্কিয়াল রীতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি বলে।

  • বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (1758) প্রথম এই পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। লিনিয়াস এই হায়ারার্কি প্রথম প্রবর্তন করেন বলে একে লিনিয়ান হায়ারার্কিও (Linnaean Hierarchy) বলে।
  • লিনিয়ান হায়ারার্কিতে মোট সাতটি ধাপ বর্তমান। যথা –
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি কাকে বলে

ছকের মাধ্যমে আম গাছের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করো।

আম গাছের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস –

আম গাছের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস

আম গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম – ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা (Mangifera indica)।

আম গাছ

মানুষের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস লেখো।

অনুরূপ প্রশ্ন, লিনিয়াস হায়ারার্কি অনুসারে মানুষের শ্রেণিবিন্যাস দেখাও।

মানুষের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস হল –

মানুষের হায়ারার্কিয়াল শ্রেণিবিন্যাস

জীবজগতে মানুষের শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান ও বিভিন্ন ট্যাক্সনের বৈশিষ্ট্যগুলি একটি ছকের সাহায্যে দেখাও।

জীবজগতে মানুষের শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান ও বিভিন্ন ট্যাক্সনের বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

হায়ারার্কিয়াল ক্যাটেগরিট্যাক্সনবৈশিষ্ট্যাবলি
রাজ্য (Kindom)অ্যানিম্যালিয়া (Animalia)বহুকোশী, ইউক্যারিওটিক, কোশপ্রাচীর ও প্লাসটিডবিহীন কোশযুক্ত, গমনে সক্ষম, পরভোজী পুষ্টি সম্পন্নকারী।
পর্ব (Phylum)কর্ডাটা (Chordata)জীবনচক্রের কোনো না কোনো দশায় নোটোকর্ড উপস্থিত, পৃষ্ঠদেশীয় ফাঁপা নার্ভকর্ড, গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র এবং পায়ু পরবর্তী লেজ বর্তমান।
শ্রেণি (Class)ম্যামালিয়া (Mamalia)ত্বক লোম দ্বারা আবৃত, স্তনগ্রন্থি বর্তমান, বহিঃকর্ণ উপস্থিত।
বর্গ (Order)প্রাইমেটস (Primates)আঙুল নখযুক্ত, হাত ও পায়ের তালু প্রসারিত ও আঁকড়ে ধরার উপযুক্ত, দৃষ্টিশক্তি প্রখর।
গোত্র (Family)(Hominidae) হোমিনিডিপায়ের তুলনায় হাতের দৈর্ঘ্য কম, দেহ সোজা এবং দ্বিপদ গমনে সক্ষম।
গণ (Genus)হোমো (Homo)মস্তিষ্ক উন্নত ও জটিল গঠনযুক্ত, হাতের গঠন কাজ করার উপযুক্ত, মুখমণ্ডল অর্থোগন্যাথাস।
প্রজাতি (Species)স্যাপিয়েন্স (Sapiens)কথা বলতে সক্ষম, উন্নত কপাল, স্পষ্ট চিবুক বর্তমান।

দ্বিপদ নামকরণের নিয়মগুলি আলোচনা করো।

দ্বিপদ নামকরণের নিয়মকানুন তৈরি করেছেন International code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং International Code of Zoological Nomenclature (ICZN)। এদের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বজনগৃহীত দ্বিপদ নামকরণের নিয়মগুলি হল –

  1. দ্বিপদ নামকরণে প্রতিটি জীবের দুটি নাম থাকবে। এক্ষেত্রে প্রথম নামটি হবে গণ নাম (Generic name) ও দ্বিতীয়টি হবে প্রজাতি নাম (Species name)। যেমন – Panthera leo (সিংহের বিজ্ঞানসম্মত নাম)
  2. বিজ্ঞানসম্মত নাম (দ্বিপদ নাম) সবসময়ই ল্যাটিন ভাষায় লিখতে হবে। ছাপা হরফে লিখলে বাঁকা অক্ষরে (Italics) এবং হাতে লিখলে সবসময়ই দুটি নামের নীচে আলাদা আলাদা ভাবে (__) দিতে হবে।
  3. গণনামের প্রথম অক্ষর বড়ো হরফে এবং প্রজাতি নাম ছোটো হরফে লিখতে হবে। যেমন – Homo sapiens
  4. বিজ্ঞানসম্মত নামের শেষে আবিষ্কারক বিজ্ঞানীর নাম দিতে হবে। যেমন – Mangifera indica Linn
  5. যদি একটি জীবের বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন নাম দিয়ে থাকেন তাহলে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে যিনি প্রথম নামকরণ করেছেন তাঁর দেওয়া নামটি গৃহীত হবে। একে অগ্রাধিকার আইন বা Law of priority বলে।
  6. কোনো প্রজাতির উপপ্রজাতি থাকলে তা ত্রিপদ নামকরণের অন্তর্ভুক্ত হবে।
  7. কোনো উদ্ভিদের নামকরণ 1 মে 1753 সালের আগে এবং কোনো প্রাণীর নামকরণ 1 আগস্ট 1758 সালের আগে হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

জীবের পাঁচটি রাজ্য এবং উদ্ভিদরাজ্য ও প্রাণীরাজ্যের

জীবজগতের দুইরাজ্য, তিনরাজ্য ও চাররাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রবর্তক, সময়কাল, রাজ্যের নাম ও প্রধান অসুবিধার উল্লেখ করো।

জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসপ্রবর্তকসময়রাজ্যগুলির নামপ্রধান অসুবিধা
দুইরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস (Two Kingdom classification)অ্যারিস্টট্ল, লিনিয়াস প্রমুখপ্রায় 1752 পর্যন্তপ্ল্যানটি ও অ্যানিম্যালিয়াপ্রোক্যারিওট ও ইউক্যারিওট, এককোশী ও বহুকোশী, স্বভোজী ও পরভোজীদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি।
তিনরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস (Three Kingdom classification)আর্নস্ট হেকেল1866প্ল্যানটি, প্রোটিস্টা ও অ্যানিম্যালিয়াএই শ্রেণিবিন্যাসে প্রোটিস্টার মধ্যে এককোশী ও বহুকোশীদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে।
চাররাজ্য শ্রেণিবিন্যাস (Four Kingdom classification)হারবার্ট এবং কোপল্যান্ড1966মনেরা, প্ল্যান্টি, প্রোটিস্টা ও অ্যানিম্যালিয়াছত্রাকদের আলাদা করা হয়নি।

জীবের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস বলতে কী বোঝো? এই শ্রেণিবিন্যাসের প্রবর্তক কে? পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রাথমিক শর্তগুলি কী কী?

পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস (Five Kingdom Classification) –

যে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়, তাকে পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস বলে।

মার্কিন বাস্তুতন্ত্রবিদ (Taxonomist) রবার্ট হার্ডিং হোয়াইটেকার (Robert Harding Whittaker, 1969) পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন।

পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রাথমিক শর্ত বা মূলভিত্তি –

  1. কোশ গঠনের জটিলতা – কোশের জটিলতার ভিত্তিতে জীবকে দুভাগে ভাগ করা হয় – প্রোক্যারিওট ও ইউক্যারিওট।
  2. জীবের দেহগঠনের জটিলতা – জীব এককোশী বা বহুকোশী।
  3. জীবের খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি – জীব দুভাগে বিভক্ত – স্বভোজী ও পরভোজী।
  4. বাস্তুসংস্থানিক ভূমিকা – বাস্তুতন্ত্রে জীবের জীবনযাত্রা অনুযায়ী জীব তিনপ্রকার। যথা – উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।
  5. জাতিজনিগত সম্পর্ক – শ্রেণিবিন্যাসে জীবের একাধিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য জীবের বংশগতি এবং অভিব্যক্তিজনিত সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইটেকারের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের অন্তর্গত পাঁচটি রাজ্য বৈশিষ্ট্যসহ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করো।

হোয়াইটেকারের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস (1959) –

হোয়াইটেকারের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস

হোয়াইটেকার নির্দেশিত পাঁচটি রাজ্যের তিনটি করে শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ও দুটি করে সাধারণ উদাহরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করো।

জীবের বৈশিষ্ট্যরাজ্য মনেরারাজ্য প্রোটিস্টারাজ্য ফাংগিরাজ্য প্ল্যানটিরাজ্য অ্যানিম্যালিয়া
কোশ ও কোশীয় সংগঠনের প্রকৃতিপ্রোক্যারিওটিক ও এককোশীইউক্যারিওটিক ও এককোশীইউক্যারিওটিক, এককোশী বা বহুকোশীইউক্যারিওটিক ও বহুকোশীইউক্যারিওটিক, এককোশী ও বহুকোশী
বিপাকীয় পদ্ধতিস্বভোজী বা পরভোজীস্বভোজী বা পরভোজীপরভোজীস্বভোজীপরভোজী
বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকাউৎপাদক ও বিয়োজকউৎপাদক ও খাদকবিয়োজকউৎপাদকখাদক
উদাহরণব্যাকটেরিয়াইউগ্নিনা, অ্যামিবাইস্ট, পেনিসিলিয়ামধানগাছ, আমগাছকেঁচো, মানুষ
হোয়াইটেকার নির্দেশিত পাঁচটি রাজ্যের তিনটি করে শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য

রাজ্য মোনেরার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

রাজ্য মোনেরার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. প্রোক্যারিওটিক প্রকৃতি (Prokaryotic nature) – সুগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত। প্রোটিনবিহীন দ্বিতন্ত্রী DNA সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে, একে নিউক্লিওয়েড বলে।
  2. কোশীয় অঙ্গাণু (Cellular Organelles) – পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু, যেমন – মাইটোকনড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলগিবস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা প্রভৃতি থাকে না। রাইবোজোম উপস্থিত থাকে, যা 70S প্রকৃতির। মেসোজোম নামক প্যাঁচানো অংশে শ্বাস উৎসেচক বহন করে।
  3. এককোশী (Unicellular) – প্রধানত এককোশী ও আণুবীক্ষণিক। ফিলামেন্ট বা কলোনি গঠনকারীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি কোশ স্বতন্ত্র ও স্বাধীন থাকে।
  4. ফ্ল্যাজেলা (Flagella) – ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিননির্মিত এবং এককতন্ত্রীযুক্ত।
  5. কোশপ্রাচীর (Cell wall) – পেপটাইডোগ্লাইকান নির্মিত কোশপ্রাচীর বর্তমান (ব্যতিক্রম – মাইকোপ্লাজমা)।
  6. পুষ্টি (Nutrition) – স্বভোজী বা পরভোজী।
  7. বাস্তুতান্ত্রিক অবস্থান (Ecological Role) – প্রধানত বিয়োজক, তবে কিছু কিছু উৎপাদক।
  8. নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ (Nitrogen Metabolism) – সমস্ত নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী জীব মনেরা রাজ্যের অন্তর্গত। যেমন – রাইজোবিয়াম (মিথোজীবী); অ্যাজোটোব্যাকটর, ক্লসট্রিডিয়াম (স্বাধীনজীবী); অ্যানাবিনা, নস্টক (মিথোজীবী) প্রভৃতি।
ব্যাকটেরিয়া

উদাহরণ –

  1. ই.কোলাই – এশ্চেরেচিয়া কোলাই (Escherechia coli)।
  2. নস্টক – (Nostoc sp.)।

রাজ্য প্রোটিস্টার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

রাজ্য প্রোটিস্টার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. দেহ সংগঠন (Body Organization) – এককোশী, আণুবীক্ষণিক ইউক্যারিওটিক অর্থাৎ, কোশ সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণুযুক্ত হয়। রাইবোজোম 80S প্রকৃতির।
  2. গমন অঙ্গ (Locomotory Organ) – ফ্ল্যাজেলা (ইউগ্লিনা), সিলিয়া (প্যারামেসিয়াম), ক্ষণপদ (অ্যামিবা)।
  3. কোশপ্রাচীর (Cell Wall) – সালোকসংশ্লেষকারী প্রোটিস্টানদের কোশপ্রাচীর থাকে এবং তা সেলুলোজ নির্মিত হয়। প্রোটোজোয়ান প্রোটিস্টাদের কোশপ্রাচীর থাকে না।
  4. পুষ্টি (Nutrition) – সালোকসংশ্লেষকারী (ডায়াটম, ডাইনোফ্ল্যাজেলেট, ইউগ্লিনা), পরভোজী (অ্যামিবা), শোষণকারী (এন্টামিবা), মিক্সোট্রফিক (ইউগ্লিনা) প্রভৃতি পুষ্টি সম্পন্ন হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এদের হলোফাইটিক পুষ্টি ঘটে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃতজীবী পুষ্টি ঘটে।
  5. শ্বসন (Respiration) – অধিকাংশ জীব সবাত শ্বসন সম্পন্ন করে, তবে বেশ কিছু জীব অবাত শ্বসনকারী হয়।
  6. জনন (Reproduction) – এদের দেহে অযৌন ও যৌন উভয় প্রকার জনন সম্পন্ন হয়। অযৌন জনন দ্বিবিভাজন, কোরোকোদগম, বহুবিভাজন ও রেণু গঠনের মাধ্যমে ঘটে। সিনগ্যামি ও সংযুক্তির মাধ্যমে যৌন জনন ঘটে।

উদাহরণ –

  1. অ্যামিবা – অ্যামিবা প্রোটিয়াস (Amoeba proteus)।
  2. ডায়াটম – ন্যাভিকিউলা (Naviqula sp.)।
অ্যামিবা

রাজ্য ফাংগি (ছত্রাক) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

রাজ্য ফাংগি (ছত্রাক) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহগঠন (Body Organization) – ছত্রাকের দেহ সরল এককোশী (ইস্ট) বা বহুকোশী (পেনিসিলিয়াম) থ্যালাস প্রকৃতির। বহুকোশী ছত্রাকের নলাকার শাখা-প্রশাখাযুক্ত অনুসূত্রকে মাইসেলিয়াম বলে। মাইসেলিয়ামের এককগুলিকে হাইফি বলে।
  2. কোশীয় সংগঠন (Cellular Organisation) – ছত্রাকের কোশ ইউক্যারিওটিক প্রকৃতির এবং কোশপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত, সাইটোপ্লাজমে বিভিন্ন কোশ অঙ্গাণু উপস্থিত থাকলেও প্লাস্টিড অনুপস্থিত, ফলে ক্লোরোফিলও অনুপস্থিত।
  3. পুষ্টি পদ্ধতি (Nutrition Procedure) – এদের সালোকসংশ্লষ না ঘটায় এরা স্বভোজী (autotrophic) পুষ্টি সম্পন্ন করে না। এরা মূলত পরভোজী (heterotrophic) পুষ্টি সম্পন্ন করে। আবার কিছু ছত্রাক মিথোজীবী (symbiotic) পুষ্টি সম্পন্ন করে যেমন – লাইকেন, মাইকোরাইজা ইত্যাদি।
  4. জনন (Reproduction) – এদের খণ্ডীভবন, কোরকোদগমের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়। আবার ওইডিয়া, ক্ল্যামাইডোস্পোর, চলরেণু, কনিডিয়া প্রভৃতির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন হয়। আইসোগ্যামি, অ্যানাইসোগ্যামি ও উগ্যামির মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
  5. সঞ্চিত খাদ্য (Reserved food) – ছত্রাকের মধ্যে গ্লাইকোজেন ও তৈলবিন্দু সঞ্চিত থাকে।

উদাহরণ –

  1. পেনিসিলিয়াম – পেনিসিলিয়াম নোটেটাম (Penicillium notatum)।
  2. অ্যাগারিকাস – অ্যাগারিকাস বাইস্পোরাস (Agaricus bisporous)।
পেনিসিলিয়াম ও অ্যাগারিকাস

ছকের মাধ্যমে উদ্ভিদরাজ্যের শ্রেণিবিভাগ করো।

ছকের মাধ্যমে উদ্ভিদরাজ্যের শ্রেণিবিভাগ

শৈবাল গোষ্ঠীর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

শৈবাল (Algae) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. উদ্ভিদদেহ (Plant Body) – দেহ সরল এবং মূল কান্ড ও পাতায় বিভেদিত নয় অর্থাৎ, সমাঙ্গদেহী।
  2. দেহগঠন (Body structure) – শৈবাল এককোশী (ক্ল্যামাইডোমোনাস), বহুকোশী (স্পাইরোগাইরা), ফাঁপা নলের মতো উপনিবেশ গঠনকারী (ভলভক্স) হতে পারে। কিছু কিছু শৈবালে চুলের ন্যায় বিশেষ গঠন দেখা যায়, একে ট্রাইকোম (Trichome) বলে।
  3. কোশের প্রকৃতি (Cell Type) – শৈবাল প্রোক্যারিওটিক (নীলাভ-সবুজ শৈবাল) বা ইউক্যারিওটিক (স্পাইরোগাইরা) প্রকৃতির হতে পারে।
  4. কোশপ্রাচীর (Cell wall) – শৈবালের কোশপ্রাচীর দুই স্তরবিশিষ্ট। এই কোশপ্রাচীরে সেলুলোজ, পেকটিন, মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট জমা থাকে।
  5. রঞ্জক (Pigment) – শৈবালে প্রধানত সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল থাকে। এ ছাড়াও বাদামি বর্ণ, নীল বর্ণ, লাল বর্ণ, বাদামি হলুদ বর্ণের রঞ্জকও শৈবালে উপস্থিত থাকতে পারে।
  6. পুষ্টি (Nutrition) – এরা সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও পুষ্টি সম্পন্ন করে। তাই এদের পুষ্টি স্বভোজী প্রকৃতির।
  7. জনন (Reproduction) – এরা খণ্ডীভবনের দ্বারা অঙ্গজ জনন, রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অযৌন জনন এবং আইসোগ্যামি, অ্যানাইসোগ্যামি ও উগ্যামি পদ্ধতিতে যৌন জনন সম্পন্ন করে।

উদাহরণ –

  1. স্পাইরোগাইরা (অশাখ) – Spirogyra sp.
  2. কারা (শাখাযুক্ত) – Chara sp.
স্পাইরোগাইরা

ব্রায়োফাইটার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

ব্রায়োফাইটা (Bryophyta; bryos = moss, phyton = plant) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  • উদ্ভিদদেহ (Plant Body) – নিম্নশ্রেণির ব্রায়োফাইটা থ্যালাস প্রকৃতির (রিকসিয়া) এবং উচ্চশ্রেণির ব্রায়োফাইটার দেহে কাণ্ডসদৃশ কলয়েড, মূলসদৃশ রাইজয়েড এবং পাতাসদৃশ ফাইলয়েড থাকে (পোগোনেটাম)।
  • লিঙ্গধর ও রেণুধর (Gametophyte & sporophyte) – ব্রায়োফাইটার প্রধান উদ্ভিদদেহটি লিঙ্গধর প্রকৃতির এবং হ্যাপ্লয়েড (n)। নিষেকের ফলে উৎপন্ন জাইগোট রেণুধর উদ্ভিদ গঠন করে যা ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির। লিঙ্গধর উদ্ভিদের ওপর রেণুধর উদ্ভিদ পরজীবীরূপে সৃষ্টি হয়।
  • সংবহন কলা (Vascular tissue) – জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দ্বারা গঠিত সংবহন কলা অনুপস্থিত।
  • আকার ও আকৃতি (Size and shape) – ব্রায়োফাইটারা সাধারণত 3 cm থেকে 60 cm দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট হতে পারে। তবে সাধারণভাবে এদের উচ্চতা 15 cm -এর মধ্যেই থাকে।
  • জনুক্রম (Alternation of Generation) – ব্রায়োফাইটায় সুস্পষ্ট জনুক্রম লক্ষ করা যায়।
  • জনন অঙ্গ (Reproductive organ) – ব্রায়োফাইটায় বহুকোশী জনন অঙ্গ উপস্থিত, যা আবরণ দ্বারা আবৃত।

উদাহরণ –

  1. রিকসিয়া (থ্যালাস) – রিকসিয়া রোবাসটা (Riccia robusta)।
  2. ফিউনারিয়া – ফিউনারিয়া হাইগ্রোমেট্রিকা (Funaria hygrometrica)।
রিকসিয়া -এর থ্যালাসদেহ ও ফিউনারিয়া

টেরিডোফাইটার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

টেরিডোফাইটা (Pteridophyta; Pteris = পালক, phyton = উদ্ভিদ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. উদ্ভিদদেহ (Plant body) – উন্নত অপুষ্পক উদ্ভিদদেহ রেণুধর প্রকৃতির এবং প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভেদিত।
  2. কাণ্ড (Stem) – কাণ্ড রাইজোম বা গ্রন্থিকাণ্ড প্রকৃতির।
  3. মূল (Root) – মূল অস্থানিক প্রকৃতির।
  4. পাতা (Leaf) – দু-ধরনের, যথা – ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম পাতা – মাইক্রোফাইলাস এবং বড়ো ও প্রসারিত পাতা – মেগাফাইলাস।
  5. সংবহনকলা (Vascular Tissues) – অনুন্নত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলাযুক্ত সংবহন কলা উপস্থিত।
  6. জনন অঙ্গ (Sex Organ) – বহুকোশী এবং জ্যাকেটেড। পুংজনন অঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়া ও স্ত্রী জনন অঙ্গকে আর্কিগোনিয়া বলা হয়। পাতায় গঠিত স্পোরেঞ্জিয়ামে রেণু উৎপন্ন হয়।
  7. বীজ (Seed) – বীজ গঠিত হয় না।

উদাহরণ –

  1. মারসিলিয়া (শুশনি শাক) – মারসিলিয়া মাইনুটা (Marsilea minuta)।
  2. লাইকোপোডিয়াম – লাইকোপোডিয়াম ক্ল্যাভেটাম (Lycopodium clavatum)।
মারসিলিয়া ও লাইকোপোডিয়াম
মারসিলিয়া ও লাইকোপোডিয়াম

ব্যক্তবীজী বা জিমনোস্পার্ম -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

ব্যক্তবীজী বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperm; Gymnos = নগ্ন, Sparma = বীজ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. দেহগঠন (Plant body) – উদ্ভিদদেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে। ফুল ও বীজ হয়, ফল হয় না।
  2. পাতা (Leaf) – দু-প্রকার। যথা – শল্কপত্র ও পর্ণপত্র। পর্ণপত্রগুলি চিরহরিৎ ও পুরু কিউটিকলযুক্ত।
  3. সংবহন কলা (Vascular tissues) – উন্নত প্রকৃতির, জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলাযুক্ত। জাইলেম ট্র্যাকিয়া বা জাইলেমবাহিকা এবং ফ্লোয়েম সিভনল ও সঙ্গীকোশবিহীন হয়।
  4. পত্ররন্ধ্র (Stomata) – নিম্নীভূত (Sunken stomata)।
  5. রেণুপত্র (Sporophylls) – পুংপুষ্প পুংরেণুপত্র এবং স্ত্রীপুষ্প স্ত্রীরেণুপত্র দ্বারা গঠিত। স্ত্রীরেণুপত্র গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও গর্ভাশয়বিহীন হয়। ফলে, ডিম্বকগুলি সরাসরি রেণুপত্রের ওপর সাজানো থাকে।
  6. বীজ (Seed) – বহুুভ্রূণতা দেখা যায়। গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল গঠিত হয় না এবং বীজগুলি অনাবৃত বা নগ্ন থাকে। বীজে এক বা একাধিক বীজপত্র থাকে।
  7. ফুল – ফুল (Flower) একলিঙ্গ, সরল, নগ্ন এবং বৃতি ও দলমণ্ডলবিহীন।
  8. সস্য (Endosperm) – হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির এবং নিষেকের আগে সস্য গঠিত হয়।

উদাহরণ –

  1. সাইকাস – সাইকাস রেভোলিউটা (Cycas revoluta)।
  2. পাইন – পাইনাস ওয়ালিচিয়ানা (Pinus wallichiana)।
ব্যক্তবীজী বা জিমনোস্পার্ম

গুপ্তবীজী বা অ্যানজিওস্পার্ম -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

গুপ্তবীজী বা অ্যানজিওস্পার্ম (Angiosperm; Angeion = আবৃত, cover, sperma = বীজ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  1. উদ্ভিদদেহ (Plant body) – উদ্ভিদদেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে। পরিণতি লাভের পর ফুল, ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়। পরিণত উদ্ভিদদেহটি রেণুধর প্রকৃতির।
  2. মূল (Root) – মূল স্থানিক বা অস্থানিক প্রকৃতির।
  3. কান্ড (Stem) – বীরুৎ, গুল্ম বা বৃক্ষ প্রকৃতির হয়।
  4. পাতা (Leaf) – সরল বা যৌগিক, সমান্তরাল বা জালিকাকার শিরাবিন্যাসযুক্ত হয়। সমাঙ্কপৃষ্ঠ বা বিষমপৃষ্ঠ প্রকৃতির।
  5. সংবহনকলা (Vascular tissues) – জাইলেম ও ফ্লোয়েমযুক্ত এবং উন্নত প্রকৃতির।
  6. ফুল (Flower) – বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকযুক্ত হয়। ফুল একলিঙ্গ বা উভলিঙ্গ, সমাঙ্গ বা অসমাঙ্গ, সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণ প্রকৃতির হয়।
  7. স্ত্রীস্তবক (Gynoecium) – গর্ভপত্রযুক্ত এবং গর্ভপত্রে গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে। ডিম্বক গর্ভাশয়ের মধ্যে অবস্থান করে।
  8. নিষেক (Fertilization) – নিষেকের ফলে ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। বীজ ফলের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।
  9. বীজ (Seeds) – একটি বা দুটি বীজপত্রযুক্ত; সস্যল বা অসস্যল হয়।
  10. সস্য (Endosperm) – নিষেকের পর সস্য গঠিত হয়। সস্য নিউক্লিয়াস ট্রিপ্লয়েড (3n) ক্রোমোজোমযুক্ত হয়।

উদাহরণ –

  1. ধান (একবীজপত্রী) – ওরাইজা স্যাটিভা (Oryza sativa)।
  2. পেয়ারা (দ্বিবীজপত্রী) – সাইডিয়াম গুয়াজাভা (Psidium guajava)।
ধান গাছ ও পেয়ারা গাছ

একবীজপত্রী বা মনোকটিলিডোনি উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ও দুটি উদাহরণ দাও।

একবীজপত্রী বা মনোকটিলিডোনি (Monocotyledoneae; mono = এক, cotyledon = বীজপত্র) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. বীজপত্র (Cotyledon) – বীজে একটিমাত্র বীজপত্র উপস্থিত থাকে।
  2. মূল (Root) – অস্থানিক প্রকৃতির গুচ্ছমূল দেখা যায়।
  3. কাণ্ড (Stem) – কাণ্ড অশাখ, পর্ব এবং পর্বমধ্য উপস্থিত।
  4. পাতা (Leaf) – পাতা সাধারণত সমাঙ্কপৃষ্ঠ ও সমান্তরাল শিরাবিন্যাসযুক্ত।
  5. পুষ্প (Flower) – পুষ্পস্তবক তিন বা তিনের গুণিতক হারে থাকে।
  6. বীজ (Seed) – সস্যল প্রকৃতির বীজ। বীজের ফলত্বক ও বীজত্বক সংযুক্ত অবস্থায় থাকে।
  7. ভ্রূণ (Embryo) – ভ্রূণমূল কোলিওরাইজা (Coleorhiza) ও ভ্রূণমুকুল কোলিওপটাইল (Coleoptile) দ্বারা আবৃত থাকে।

উদাহরণ –

  1. ভুট্টা – জিয়া মেইজ (Zea mays)।
  2. গম – ট্রিটিকাম অ্যাসটিভাম (Triticum aestivum)।
ভুট্টা গাছ ও গম গাছ

কোন ধরনের উদ্ভিদের ভ্রূণমূল নষ্ট হয়ে গুচ্ছমূল সৃষ্টি হয়? উদাহরণ দাও।

একবীজপত্রী উদ্ভিদের ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন প্রাথমিক মূল কিছুদিন পরে নষ্ট হয়ে গিয়ে কাণ্ডের গোড়া থেকে সরু সুতোর মতো গুচ্ছমূল সৃষ্টি হয়। যেমন – ধান, গম ইত্যাদি।

দ্বিবীজপত্রী বা ডাইকটিলিডোনি উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

দ্বিবীজপত্রী বা ডাইকটিলিডোনি (Dicotyledoneae; Di = দুটি cotyledon = বীজপত্র) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. বীজপত্র (Cotyledon) – এদের বীজপত্রের সংখ্যা দুটি।
  2. মূল (Root) – প্রধানমূল সৃষ্টি হয় এবং তা শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়। মূলরোম উপস্থিত।
  3. কাণ্ড (Stem) – কান্ড শাখাপ্রশাখাযুক্ত। কাণ্ডে ক্যামবিয়ামের জন্য গৌণ বৃদ্ধি ঘটে। কখনও বর্ষবলয় দেখা যায়।
  4. পাতা (Leaf) – পাতা সাধারণত বিষমপৃষ্ঠ ও জালিকাকার শিরাবিন্যাসযুক্ত।
  5. ফুল (Flower) – ফুলে স্তবকের সংখ্যা পাঁচটি অথবা চারটি হয়।
  6. বীজ (Seed) – সস্যল ও অসস্যল উভয় প্রকার বীজ দেখা যায়। ফলত্বক ও বীজত্বক আলাদা থাকে।
  7. ভ্রূণ (Embryo) – ভ্রূণমূল ও ভ্রূণমুকুলে কোনো আবরণী থাকে না।

উদাহরণ –

  1. মটর গাছ – পাইসাম স্যাটিভাম (Pisum sativum)।
  2. আম গাছ – ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা (Mangifera indica)।
মটর গাছ ও আম গাছ
মটর গাছ ও আম গাছ

রাজ্য অ্যানিম্যালিয়া (প্রাণী) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

রাজ্য অ্যানিম্যালিয়া (প্রাণী) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. কোশীয় অবস্থা (Cellular nature) – ইউক্যারিওটিক, বহুকোশীয় এবং কোশপ্রাচীরবিহীন।
  2. বৃদ্ধি (Growth) – বৃদ্ধি নিয়ত এবং পরিণতি লাভের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়।
  3. নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও প্রতিসাম্যতা (Definite shape, size and symmetry) – প্রাণীদের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও প্রতিসাম্যতা আছে (ব্যতিক্রম – কয়েকটি নিম্নশ্রেণির প্রাণী)।
  4. গমন (Locomotion) – প্রতিটি প্রাণী নির্দিষ্ট গমন অঙ্গের সাহায্যে স্থানান্তরিত হতে পারে (ব্যতিক্রম – স্পঞ্জ, কোরাল প্রভৃতি)।
  5. পুষ্টি (Nutrition) – প্রাণীরা পরভোজী পুষ্টি সম্পন্ন করে।
  6. পেশিতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র (Muscular System and Nervous System) – গমন ও বিভিন্ন কাজে পেশিতন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যোগাযোগ স্থাপনে স্নায়ুতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ছকের সাহায্যে প্রাণীরাজ্যের শ্রেণিবিভাগ করো।

ছকের সাহায্যে প্রাণীরাজ্যের শ্রেণিবিভাগ

পর্ব পরিফেরা (Porifera) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব পরিফেরা (Porifera; porous = ছিদ্র, ferre = বহন করা) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী এবং ডিপ্লোব্লাস্টিক। দেহ অরীয়ভাবে প্রতিসম অথবা অপ্রতিসম।
  2. দেহত্বক (Body surface) – সারাদেহ অসংখ্য ছোটো ছোটো ছিদ্র – অস্টিয়া এবং একটি বড়ো প্রান্তছিদ্র – অসকিউলাম যুক্ত হয়।
  3. নালিকাতন্ত্র (Canal System) – স্পঞ্জের দেহে উপস্থিত ছিদ্র, নালিকা এবং সঞ্চয় স্থান একত্রে নালিকাতন্ত্র গঠন করে।
  4. পুষ্টি (Nutrition) – পরভোজী এবং ফিল্টারফিডার। অর্থাৎ, ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোয়ানোসাইট কোশের সাহায্যে এরা জল থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে।
  5. গমন অঙ্গ (Locomotory organ) – এরা গমন অঙ্গবিহীন প্রাণী।
  6. কঙ্কাল (Skeleton) – অন্তঃকঙ্কাল ক্যালশিয়াম বা সিলিকানির্মিত স্পিকিউল বা স্পঞ্জিন তত্ত্ব দ্বারা গঠিত।
  7. কোশসমূহ (Cells) – ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোয়ানোসাইট কোশ দেখা যায়। এ ছাড়াও অ্যামিবোসাইট, পিনাকোসাইট প্রভৃতি কোশ দেখা যায়।
  8. জনন (Reproduction) – যৌন এবং অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই জনন ঘটে।

উদাহরণ –

  1. স্পঞ্জিলা (মিষ্টি জলের স্পঞ্জ) – স্পঞ্জিলা ল্যাকাসট্রিস (Spongilla lacustris)।
  2. সাইকন – সাইকন জিলাটিনোসাম (Sycon gilatinosum)।
স্পঞ্জ
স্পঞ্জ

ছিদ্রাল প্রাণী কাদের বলে।

সারা দেহে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় পরিফেরা পর্বভুক্ত প্রাণীদের ছিদ্রাল প্রাণী বলে।

পর্ব নিডারিয়া (Cnidaria) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব নিডারিয়া (Cnidaria; knide = দংশন রোম) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, কলা সমন্বিত, ডিপ্লোব্লাস্টিক, সামুদ্রিক বা মিষ্টি জলের প্রাণী।
  2. গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি (Gastrovascular cavity) – দেহের অভ্যন্তরে দেহত্বক আবৃত কেন্দ্রীয় গহ্বর সিলেনটেরন বা গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি বর্তমান।
  3. মুখছিদ্র (Oral Pore) – দেহ একটিমাত্র ছিদ্রযুক্ত। একে মুখছিদ্র বলে। এই পথেই প্রাণীদেহে খাদ্য প্রবেশ করে এবং বর্জ্যপদার্থ নিক্ষিপ্ত হয়।
  4. কর্ষিকা ও নিমাটোসিস্ট (Tentacles and Nematocysts) – মুখছিদ্রকে ঘিরে অনেকগুলি কর্ষিকা (tentacles) থাকে। কর্ষিকাগুলিতে উপস্থিত দংশক কোশকে নিডোব্লাস্ট কোশ এবং নিডোব্লাস্টে অবস্থিত চাবুকের মতো অঙ্গকে নিমাটোসিস্ট বলে।
  5. পরিপাক (Digestion) – অন্তঃকোশীয় ও বহিঃকোশীয় পরিপাক দেখা যায়।
  6. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – আদি প্রকৃতির, মস্তিষ্ক অনুপস্থিত।
  7. শ্বসন ও রেচন (Respiration and Excretion) – শ্বসন ও রেচন দেহত্বক দ্বারা সম্পন্ন হয়।
  8. জনন (Reproduction) – অযৌন (কোরকোদগম বা বাডিং) ও যৌন জনন সম্পন্ন হয়।

উদাহরণ –

  1. হাইড্রা – হাইড্রা ভালগারিস (Hydra vulgaris)।
  2. জেলিফিশ – অরেলিয়া অরিটা (Aurelia aurita)।
হাইড্রা ভালগারিস

পর্ব টিনোফোরা (Ctenophora) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব টিনোফোরা (Ctenophora; ktenos = চিরুনি, phoros = বহন করা) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, মেটাজোয়ান, ডিপ্লোব্লাস্টিক, গোলাকার, উপবৃত্তাকার বা চ্যাপটা গঠনযুক্ত হয় এবং দ্বি-অরীয়ভাবে প্রতিসম।
  2. কর্ষিকা (Tentacles) – কর্ষিকা সাধারণত থাকে না, থাকলে কর্ষিকা সংখ্যায় দুটি, দীর্ঘ এবং ভিতরে গুটিয়ে যেতে সক্ষম।
  3. কোলোব্লাস্ট কোশ (Colloblast cells) – প্রতিটি কর্ষিকাতে আঠালো প্রকৃতির কোলোব্লাস্ট বা ল্যাসো কোশ বর্তমান যা শিকার ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
  4. গমন অঙ্গ (Locomotory organ) – দেহের দৈর্ঘ্য বরাবর আটটি (8টি) সমদূরত্বে অবস্থিত, সিলিয়া সমন্বিত চিরুনি প্লেট বা কোম্ব প্লেট (Comb-plate) উপস্থিত থাকে। সিলিয়া এদের গমনে সাহায্য করে।
  5. জ্ঞানেন্দ্রিয় (Sense organ) – অ্যাবোরাল তলে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ জ্ঞানেন্দ্রিয় স্ট্যাটোসিস্ট (Statocyst) বর্তমান।
  6. জনন (Reproduction) – অযৌন জনন অনুপস্থিত, কেবলমাত্র যৌন জনন ঘটে। এরা হার্মাফ্রোডাইট অর্থাৎ, উভলিঙ্গ।
  7. সিলেনটেরন (Coelenteron) – দেহে কেন্দ্রীয় গহ্বর সিলেনটেরন বা গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি বর্তমান।

উদাহরণ –

  1. বেরো – বেরো ফরসকালি (Beroe forskalii)।
  2. হর্মিফোরা – হর্মিফোরা প্লামোসা (Hormiphora plumosa)।
বেরো ও হর্মিফোরা

পর্ব প্ল্যাটিহেলমিনথিস -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব প্ল্যাটিহেলমিনথিস (Platyhelminthes; Platys = চ্যাপটা, helmins = কৃমি) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, মেটাজোয়ান, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী।
  2. দেহ আকৃতি (Body form) – নরম, উপর-নীচ চ্যাপটা বা পাতার মতো বা ফিতের মতো গঠন।
  3. রেচন (Excretion) – ফ্লেমসেল বা শিখাকোশ রেচন অঙ্গরূপে কাজ করে।
  4. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – উন্নত প্রকৃতির এবং আদি মস্তিষ্ক দেখা যায়। স্নায়ুতন্ত্র মইসদৃশ।
  5. জনন (Reproduction) – উভলিঙ্গ এবং অযৌন ও যৌন জনন ঘটে। পুনরুৎপাদনও দেখা যায়।
  6. প্রতিসাম্যতা (Symetry) – দেহ দ্বি-পার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসাম্য।
  7. সিলোম (Coelome) – সিলোম অনুপস্থিত।
  8. সংলগ্নতা (Adhesivity) – শোষক ও হুকের সাহায্যে পোষকদেহের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে।
  9. পৌষ্টিকতন্ত্র (Digestive System) – পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ প্রকৃতির বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (যেমন – ফিতাকৃমি)।

উদাহরণ –

  1. ফিতাকৃমি – টিনিয়া সোলিয়াম (Taenia solium)।
  2. যকৃৎ কৃমি – ফ্যাসিওলা হেপাটিকা (Fasciola hepatica)।
ফিতা কৃমি ও যকৃত কৃমি

পর্ব নিমাটহেলমিনথিস -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

অথবা, সিউডোসিলোমযুক্ত একটি প্রাণীর নাম লেখো এবং ওই প্রাণীটি যে পর্বের অন্তর্গত তার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

পর্ব নিমাটহেলমিনথিস (Nemathelminthes; nema = সুতো, helmins = কৃমি) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, অঙ্গতন্ত্র যুক্ত, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী।
  2. দেহ আকৃতি (Body form) – দেহ লম্বা, বেলনাকার (cylindrical), অখণ্ডিত। সুতোর মতো গঠনযুক্ত হয়।
  3. আবরণ (Covering) – শক্ত কিউটিকল, অনুদৈর্ঘ্য পেশিতত্ত্ব দ্বারা দেহ আবৃত থাকে।
  4. পৌষ্টিকনালি (Alimentary canal) – সম্পূর্ণ এবং সোজা পৌষ্টিকনালি উপস্থিত। পৌষ্টিকগ্রন্থি অনুপস্থিত।
  5. সিউডোসিল (Pseudocoel) – এদের দেহে ছদ্মসিলোম বর্তমান। একে সিউডোসিলোম বলে।
  6. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – মই আকৃতির (Ladder like) উন্নত স্নায়ুতন্ত্র বর্তমান।
  7. ইউটাইলি (Eutyly) – প্রতিটি অঙ্গতন্ত্রে কোশের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে।
  8. জনন (Reproduction) – একলিঙ্গ অর্থাৎ, পুরুষদেহ ও স্ত্রীদেহ পৃথক হয়। একে যৌনদ্বিরূপতা (Sexual dimorphism) বলে।
  9. রেচনতন্ত্র (Excretory System) – একজোড়া পার্শ্বীয় নালিদ্বারা গঠিত ‘H’ আকৃতিবিশিষ্ট রেচনতন্ত্র উপস্থিত।

উদাহরণ –

  1. গোলকৃমি – অ্যাসকারিস লুম্ব্রিকয়ডিস (Ascaris lumbricoides)।
  2. গোদকৃমি – উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি ((Wuchereria bancrofti)।
গোলকৃমি ও গোলকৃমি

পর্ব অ্যানিলিডা (Annelida) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব অ্যানিলিডা (Annelida; annellus = আংটি) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম।
  2. দেহ আকৃতি (Body form) – লম্বা, বেলনাকার (cylindrical) এবং মেটামেরিক অর্থাৎ, আংটির মতো খণ্ডযুক্ত। 
  3. আবরণ (Covering) – দেহ নরম, ভিজে কিউটিকল (Cuticle) এবং অনুদৈর্ঘ্য ও বৃত্তাকার পেশি দ্বারা আবৃত।
  4. সিলোম (Coelom) – প্রকৃত সিলোম উপস্থিত। জলীয় সিলোমিক তরল এদের হাইড্রোলিক কঙ্কাল (Hydraulic skeleton) তৈরি করে।
  5. সংবহন (Circulation) – বদ্ধ রক্ত সংবহনতন্ত্র উপস্থিত। রক্তরসে হিমোগ্লোবিন থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
  6. গমন অঙ্গ (Locomotory organs) – গমন অঙ্গ কাইটিনাস সিটা (কেঁচো) বা অখণ্ডিত প্যারাপোডিয়া (নেরিস) বা চোষক (জোঁক)।
  7. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – নেফ্রিডিয়া।
  8. জনন (Reproduction) – একলিঙ্গ বা উভলিঙ্গ। যৌন জনন ঘটে।
  9. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – ভিজে দেহত্বক (কেঁচো) বা ফুলকা (অ্যাম্ফিট্রাইট)।
  10. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – উন্নত মস্তিষ্ক, নার্ভ রিং ও অঙ্কীয় নার্ভরজ্জু দ্বারা স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

উদাহরণ –

  1. কেঁচো (earthworm) – ফেরেটিমা পসথুমা (Pheretima posthuma)।
  2. জোঁক (Leech) – হিরুডিনারিয়া গ্রানুলোসা (Hirudinaria granulosa)।
কেঁচো
কেঁচো

পর্ব আর্থ্রোপোডা -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

অথবা, আরশোলার আর্থ্রোপোডা পর্বে অন্তর্ভুক্তির সপক্ষে দুটি যুক্তি দাও।

পর্ব আর্থ্রোপোডা (Arthropoda; arthros = সন্ধিল, podos = পদ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম।
  2. দেহ গঠন (Body form) – দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা – মস্তক, বক্ষ ও উদর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মস্তক ও বক্ষ একত্রে শিরোবক্ষ (cephalothorax) গঠন করে।
  3. বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton) – হালকা, শক্ত, জল নিরোধক, কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা দেহ আবৃত থাকে।
  4. সন্ধিল উপাঙ্গ (Jointed Appendages) – সমস্ত উপাঙ্গ সন্ধিল প্রকৃতির হয়।
  5. সিলোম (Coelom) – দেহগহ্বর বা সিলোম রক্তপূর্ণ থাকায় একে হিমোসিল (Haemocoel) বলে।
  6. সংবহনতন্ত্র (Circulatory system) – সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির। রক্ত হিমোগ্লোবিনবিহীন বর্ণহীন, একে হিমোলিম্ফ (Haemolymph) বলে।
  7. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – বিভিন্ন প্রজাতিতে বিভিন্ন শ্বাসঅঙ্গ বর্তমান। যেমন – ফুলকা (চিংড়ি), শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া (আরশোলা), বুকগিল (লিমুলাস), বুকলাং (কাঁকড়াবিছে) প্রভৃতি।
  8. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – বিভিন্ন প্রকৃতির রেচন অঙ্গ বর্তমান। যেমন – সবুজ গ্রন্থি বা গ্রিনগ্ল্যান্ড (চিংড়ি), ম্যালপিজিয়ান নালিকা (আরশোলা), কক্সাল গ্রন্থি (কাঁকড়াবিছে) প্রভৃতি।
  9. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – স্নায়ুতন্ত্র উন্নত ধরনের মস্তিষ্ক, একজোড়া অঙ্কীয় নিরেট স্নায়ুরজ্জু, বক্ষ ও উদর গ্যাংলিয়া দ্বারা গঠিত। এদের সরলাক্ষি বা পুঞ্জাক্ষি থাকে।
  10. ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary muscle) – আর্থ্রোপোডা গোষ্ঠীর অন্তর্গত প্রাণীরা ঐচ্ছিক পেশি যুক্ত হয়।
  11. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) – আর্থ্রোপোডা গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি উৎপত্তি লাভ করে। এরা ফেরোমোন (বহিঃহরমোন) ক্ষরণে সক্ষম।
  12. জনন (Reproduction) – একলিঙ্গ, যৌনদ্বিরূপতা দেখা যায়।

উদাহরণ –

  1. আরশোলা – পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা (Periplaneta americana)।
  2. মাছি – মুসকা ডোমেস্টিকা (Musca domestica)।
আরশোলা

পর্ব মোলাস্কার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব মোলাস্কা (Mollusca; mollis = নরম) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম।
  2. দেহ গঠন (Body form) – দেহ নরম এবং মাংসলপদ ও ভিসেরাল মাস -এ বিভক্ত।
  3. বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton) – ক্যালশিয়াম কার্বনেট নির্মিত খোলক দ্বারা দেহ আবৃত থাকে। (ব্যতিক্রম – অন্তঃখোলক – সেপিয়া, খোলকবিহীন – অক্টোপাস।)
  4. ম্যান্টল পর্দা (Mantle membrane) – খোলকের ভিতরে সমগ্র ভিসেরালমাস বা অন্তরপিন্ড ম্যান্টল পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
  5. গমন অঙ্গ (লোকোমোটরি অঙ্গ) – অঙ্কীয় মাংসল পদ।
  6. শ্বাস অঙ্গ (Respiratory organ) – ফুলকা বা টিনিডিয়াম (জলজ প্রাণী) এবং ফুসফুসীয় থলি (স্থলজ প্রাণী)।
  7. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – বৃক্ক বা বজানাসের অঙ্গ।
  8. র‍্যাডুলা (Radula) – মুখগহ্বরে (buccal mass) দাঁতের মতো অসংখ্য গঠন উপস্থিত থাকে। এদের র‍্যাডুলা বলে। খাদ্য চিবোনোতে র‍্যাডুলা সাহায্য করে (ব্যতিক্রম – ঝিনুক)।
  9. সংবহনতন্ত্র (Circulatory system) – মুক্ত প্রকৃতির এবং হিমোসিল বর্তমান।
  10. জ্ঞানেন্দ্রিয় (Sense organ) – বিভিন্ন প্রাণীতে বিভিন্ন প্রকার অঙ্গ জ্ঞানেন্দ্রিয় রূপে কাজ করে। যেমন – ললিগোতে চোখ, সেপিয়াতে কর্ষিকা জ্ঞানেন্দ্রিয়রূপে কাজ করে। আবার কিছু প্রাণীতে অসফ্রাডিয়াম (Osphradium) নামক জ্ঞানেন্দ্রিয় থাকে।
  11. জনন (Reproduction) – বহিঃনিষেক বা অন্তঃনিষেক ঘটে। জীবনচক্রে ভেলিজার, ট্রোকোফোর লার্ভা দেখা যায়।

উদাহরণ –

  1. জল শামুক (আপেল শামুক) – পাইলা গ্লোবোসা (Pila globosa)।
  2. অক্টোপাস (ডেভিল ফিশ) – অক্টোপাস লেন্টাস (Octopus lentus)।
শামুক

পর্ব একাইনোডারমাটা -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ও দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব একাইনোডারমাটা (Echinodermata; echinos = কণ্টক, derma = ত্বক) -এর বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – বহুকোশী, ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, পঞ্চাংশক অরীয়ভাবে প্রতিসম, সামুদ্রিক প্রাণী। দেহত্বক কণ্টকময় (ক্যালকেরিয়াস অসিকলযুক্ত)।
  2. কঙ্কাল (Skeleton) – অন্তঃকঙ্কাল ক্যালশিয়ামনির্মিত অসিকল দ্বারা গঠিত যা ত্বকে গেঁথে থাকে। বহিঃকঙ্কাল গঠিত হয় শক্ত, চলনক্ষম কাঁটা দ্বারা। এগুলি ত্বকের বাইরের দিকে অবস্থান করে।
  3. বাহু (Arms) – দেহে পাঁচটি বা তারও বেশি সংখ্যায় বাহু বা অ্যাম্বুলাক্রা উপস্থিত থাকে।
  4. অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজ (Ambulacral groove) – দেহের ওরাল তলে প্রতিটি বাহুর মাঝখান দিয়ে অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজ বর্তমান।
  5. নালিপদ (Tube Feet) – অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজের দুদিকে সারিবদ্ধভাবে নালিপদ বা টিউবফিট থাকে। নালিপদ গমন অঙ্গরূপে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে গ্যাসীয় পদার্থ আদান-প্রদান হয়।
  6. জলসংবহনতন্ত্র (Water Vascular system) – দেহে বিভিন্ন প্রকার নালিকা (canal) -এর সাহায্যে গঠিত জলসংবহনতন্ত্র বর্তমান। এটি সিলোমের পরিবর্তিত রূপ।
  7. সংবহনতন্ত্র (Circulatory system) – দুর্বল, মুক্ত প্রকৃতির। একে হিমালতন্ত্র (Haemal system) বলা হয়। এই তন্ত্রে হৃৎপিণ্ড অনুপস্থিত এবং রক্ত বর্ণহীন হয়।
  8. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – ডার্মিস বা নালিপদ থেকে উদ্ভূত ফুলকা বা প্যাপুলি শ্বাসঅঙ্গরূপে কাজ করে।

উদাহরণ –

  1. তারামাছ – অ্যাস্টেরিয়াস রুবেন্স (Asterias rubens)।
  2. সি-লিলি – সিনোক্রিনাস অ্যাস্টেরিয়াস (Cenocrinus asterius)।
তারামাছ
তারামাছ

পর্ব হেমিকর্ডাটা -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

পর্ব হেমিকর্ডাটা (Hemichordata; Hemi = অর্ধ) -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহ সংগঠন (Body organization) – নরম, অনমনীয়, কঙ্কাল বর্জিত দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা –
    • প্রোবোসিস।
    • কলার বা গ্রীবা।
    • দেহকান্ড। দেহ ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, এন্টারোসিলোমেট প্রকৃতির, অঙ্গতন্ত্রযুক্ত, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম।
  2. গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র (Pharyngeal Gill slits) – শ্বাসকার্যের জন্য অনেক জোড়া গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র বর্তমান।
  3. স্টোমোকর্ড (Stomochord) – মুখ গহ্বরের মেঝে থেকে উৎপন্ন ফাঁপা উপবৃদ্ধিকে স্টোমাকর্ড বা ‘buccal diverticulum’ বলে।
  4. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – প্রোবোসিস গ্রন্থি।
  5. নোটোকর্ড ও লেজ – অনুপস্থিত।

উদাহরণ –

  1. ব্যালানোগ্লসাস (টাংওয়ার্ম) – ব্যালানোগ্লসাস গিগাস (Balanoglossus gigas)।
  2. স্যাক্কোগ্লসাস – স্যাক্কোগ্লসাস কোয়ালেভস্কি (Saccoglossus kowalevskii)।
ব্যালানোগ্লসাস

হেমিকর্ডাটা পূর্বে কোন পর্বের অন্তর্গত ছিল এবং বর্তমানে এটি কী হিসেবে বিবেচিত হয়?

পূর্বে কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত একটি উপপর্ব ছিল হেমিকর্ডাটা, বর্তমানে এটি একাইনোডারমাটার পরে একটি পর্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি কোন্ কোন্ পর্বকে নির্দেশ করে লেখো এবং প্রতিটি পর্বের একটি করে উদাহরণ দাও। 1. কোয়ানোসাইট কোশ, 2. মেটামেরিক খণ্ডীভবন, 3. সন্ধিল উপাঙ্গ, 4. পঞ্চাংশক অরীয় প্রতিসাম্যতাযুক্ত দেহ, 5. মাংসল পদ।

বৈশিষ্ট্যপর্বউদাহরণ
কোয়ানোসাইট কোশপরিফেরাস্পঞ্জ
মেটামেরিক খণ্ডীভবনঅ্যানিলিডাকেঁচো
সন্ধিল উপাঙ্গআর্থ্রোপোডাপ্রজাপতি
পঞ্চাংশক অরীয় প্রতিসাম্যতা যুক্ত দেহএকাইনোডারমাটাতারামাছ
মাংসল পদমোলাস্কাশামুক

নিম্নলিখিত পর্বের অন্তর্গত প্রাণীদের গমন অঙ্গের নাম লেখো। 1. নিডারিয়া, 2. অ্যানিলিডা, 3. আর্থ্রোপোডা, 4. মোলাস্কা, 5. একাইনোডারমাটা।

পর্বগমন অঙ্গ
নিডারিয়াকর্ষিকা
অ্যানিলিডাসিটা, প্যারাপোডিয়া বা চোষক
আর্থ্রোপোডাসন্ধিল উপাঙ্গ
মোলাস্কামাংসল পদ
একাইনোডারমাটানালিপদ

নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য কোন্ কোন্ পর্বের মধ্যে পড়ে? প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দাও (বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো) – 1. সিউডোসিলোম, 2. টিউবফিট, 3. কোয়ানোসাইট কোশ, 4. ম্যান্টল পর্দা, 5. শিখাকোশ।

বৈশিষ্ট্যপর্বউদাহরণ
সিউডোসিলোম বা ছদ্মগহ্বরনিমাটহেলমিনথিসগোলকৃমি (অ্যাসকারিস লুম্ব্রিকয়ডিস)
টিউবফিট বা নালিপদএকাইনোডারমাটাতারামাছ (অ্যাস্টেরিয়াস রুবেন্স)
কোয়ানোসাইট কোশপরিফেরাসাইকন (সাইকন জিলাটিনোসাম)
ম্যান্টল পর্দামোলাস্কাআপেল শামুক (পাইলা গ্লোবোসা)
সিলেনটেরননিডারিয়াজেলিফিশ (অরেলিয়া অরিটা)

নিম্নলিখিত জীবগুলির বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো। 1. সূর্যমুখী, 2. হাঙর, 3. যকৃৎকৃমি, 4. কেঁচো, 5. তারামাছ।

বৈশিষ্ট্যবিজ্ঞানসম্মত নাম
সূর্যমুখীহেলিঅ্যানথাস আনুস (Helianthus annus)
হাঙরস্কোলিওডন সোরাকোয়া (Scoliodon sorrakowah)
যকৃৎ কৃমিফ্যাসিওলা হেপাটিকা (Fasciola hepatica)
কেঁচোফেরেটিমা পসথুমা (Pheretima posthuma)
তারামাছঅ্যাস্টেরিয়াস রুবেন্স (Asterias rubens)

কর্ডাটা পর্বের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? এই পর্বকে কটি উপপর্বে ভাগ করা হয়েছে ও কী কী?

কর্ডাটা পর্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. নোটোকর্ড (Notochord; noton = পৃষ্ঠীয়, chorde = দণ্ড) – নিরেট, সরু দণ্ডের মতো, স্থিতিস্থাপক অঙ্গ যা নার্ভকর্ডের নীচে অবস্থান করে। নোটোকর্ড দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
  2. নার্ভকর্ড (Nerve cord) – নোটোকর্ডের ওপরে পৃষ্ঠদেশ বরাবর ফাঁপা, নলাকৃতি স্নায়ুরজ্জু বা নার্ভকর্ড বর্তমান।
  3. গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র (Pharyngeal Gill Slits) – জীবনের যে-কোনো দশায় গলবিল অঞ্চলে উপস্থিত যুগ্ম শ্বসনে সাহায্যকারী ফুলকাছিদ্র বর্তমান।
  4. পায়ু পশ্চাৎ লেজ (Post end tail) – ভারসাম্য রক্ষা ও জেনিটাল বা পায়ু অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পায়ু পরবর্তী অঞ্চলে উপস্থিত দেহ থেকে প্রবর্ধিত অংশটিই হল লেজ।

কর্ডাটা পর্বটি তিনটি (3টি) উপপর্বে বিভক্ত। যথা –

  1. ইউরোকর্ডাটা।
  2. সেফালোকর্ডাটা।
  3. ভার্টিব্রাটা।

উপপর্ব ইউরোকর্ডাটা -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

উপপর্ব ইউরোকর্ডাটা (Urochordata; Oura = লেজ, chordata = নোটোকর্ড) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. প্রকৃতি (Nature) – সামুদ্রিক, এককভাবে বা উপনিবেশ গঠন করে বাস করে, ব্যাগের মতো দেহ যা টিউনিক নামক আবরণ দ্বারা ঢাকা এবং উভয়লিঙ্গ প্রকৃতির।
  2. নোটোকর্ড (Notochord) – লার্ভা অবস্থায় দেহে নোটোকর্ড থাকে যা পূর্ণাঙ্গদশায় অবলুপ্ত হয়ে যায়।
  3. জীবনচক্র (Lifecycle) – জীবনচক্রে ট্যাডপোল দশা এবং রিট্রোগ্রেসিভ রূপান্তর দেখা যায়।
  4. গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র (Pharyngeal Gill Slits) – গলবিলে অসংখ্য ফুলকা ছিদ্র বা স্টিগমাটা উপস্থিত থাকে। স্টিগমাটা এট্রিয়ামে উন্মুক্ত হয়।

উদাহরণ –

  1. অ্যাসিডিয়া – অ্যাসিডিয়া মেনটুলা (Ascidia mentula)।
  2. স্যালপা – স্যালপা ম্যাক্সিমা (Salpa maxima)।
অ্যাসিডিয়া

উপপর্ব সেফালোকর্ডাটা -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

উপপর্ব সেফালোকর্ডাটা (Cephalochordata; kephale = মস্তক) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. নোটোকর্ড (Notochord) – দেহের সামনে তুণ্ড থেকে শুরু করে লেজের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
  2. গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র (Pharyngeal Gill slits) – গলবিল অঞ্চলে অসংখ্য ফুলকাছিদ্র বর্তমান। এদের ব্র্যাঙ্কিয়াল বাস্কেট বলে।
  3. ওরাল হুড (Oral Hood) – মুখছিদ্রকে ঘিরে ওরাল হুড বর্তমান। এতে সিরি উপস্থিত থাকে।
  4. মস্তক (Head) – কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বর্তমান কিন্তু সুস্পষ্ট মস্তক নেই। করোটি ও চোয়াল অনুপস্থিত। এজন্য এদের অ্যাক্রেনিয়াটা বলা হয়।
  5. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – প্রোটোনেফ্রিডিয়া। এতে সোলেনোসাইট নামক শিখাকোশ বর্তমান।
  6. মায়োটোম পেশি (Myotome muscles) – দেহকান্ড মায়োটোম পেশিযুক্ত হয়।

উদাহরণ –

  1. অ্যাম্ফিঅক্সাস – ব্র্যাঙ্কিওস্টোমা ল্যানসিওলেটাম (Branchiostoma lanceolatum)।
  2. অ্যাসিমেট্রন – অ্যাসিমেট্রন (Asymmetron sp.)।
অ্যাম্ফিঅক্সাস

উপপর্ব ভার্টিব্রাটা -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। উপপর্ব ভার্টিব্রাটাকে কটি অধিশ্রেণিতে ভাগ করা হয় ও কী কী?

উপপর্ব ভার্টিব্রাটা (Vertebrata) -এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. নোটোকর্ড ও ভার্টিব্রাল কলাম (Notochord and Vertebral Column) – ভ্রূণদশায় নোটোকর্ড থাকলেও পরবর্তী পরিস্ফুরণকালে নোটোকর্ড তরুণাস্থি বা অস্থিনির্মিত মেরুদণ্ড বা Vertebral column দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এজন্য এদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বা ভার্টিব্রাটা বলা হয়।
  2. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System) – সুস্পষ্ট মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে বিভক্ত। মস্তিষ্ক করোটি (Cranium or brain box) দ্বারা সুরক্ষিত থাকে বলে, এদের ক্রেনিয়াটা বলা হয়।
  3. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – বৃক্ক বা কিডনি রেচন ও অসমোরেগুলেশনে সাহায্য করে।
  4. সংবহনতন্ত্র (Circulatory system) – বদ্ধ প্রকৃতির। RBC হিমোগ্লোবিনযুক্ত হওয়ায় রক্তের রং লাল।
  5. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – ফুলকা, ত্বক বা ফুসফুস।
  6. উপাঙ্গ (Appendages) – যুগ্ম উপাঙ্গ বা গমন অঙ্গ (পাখনা বা পদ) উপস্থিত থাকে।
  7. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) – বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বর্তমান যা হরমোন ক্ষরণ করে।
  8. বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton) – আঁশ, পালক বা লমযুক্ত হয়।

উপপর্ব ভার্টিব্রাটা দুটি অধিশ্রেণিতে (Superclass) বিভক্ত। যথা –

  1. অ্যাগনাথা (Agnatha)।
  2. ন্যাথোস্টোমাটা (Gnathostomata)।

অধিশ্রেণি অ্যাগনাথা -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। এর অন্তর্গত শ্রেণিটির নাম লেখো।

অধিশ্রেণি অ্যাগনাথা -এর (Agnatha) মুখ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. চোয়াল – মুখে চোয়াল অনুপস্থিত তাই এদের অ্যাগনাথা (a = বিহীন, gnathos = চোয়াল) বলা হয়।
  2. বহিঃকঙ্কাল – বহিঃকঙ্কাল অনুপস্থিত।
  3. অন্তঃকঙ্কাল – তরুণাস্থিবিশিষ্ট অন্তঃকঙ্কাল উপস্থিত।
  4. শ্বাসঅঙ্গ – শ্বাসঅঙ্গ ফুলকা। নাসারন্ধ্রের সংখ্যা একটি। অধিশ্রেণি অ্যাগনাথা আবার শ্রেণি সাইক্লোস্টোমাটা নিয়ে গঠিত।

শ্রেণি সাইক্লোস্টোমাটা -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি সাইক্লোস্টোমাটা (Cyclostomata) -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. দেহগঠন – দেহ লম্বাকৃতি, লেজ চ্যাপটা প্রকৃতির হয়। অন্তঃকঙ্কাল তরুনাস্থিযুক্ত।
  2. করোটি ও মুখছিদ্র – করোটি তরুণাস্থিবিশিষ্ট ও গোলাকার মুখছিদ্র বর্তমান। মুখছিদ্রে কর্ষিকা, চোষক ইত্যাদি উপস্থিত থাকে।
  3. আঁশ – এদের দেহ আঁশবিহীন হয়। দেহে মিউকাস গ্রন্থি থাকে।
  4. দাঁত – এদের মুখের ভিতরে এবং জিহ্বার ওপরে দাঁত থাকে।
  5. পাখনা – দেহে অঙ্কীয় পৃষ্ঠীয় পুচ্ছ পাখনা উপস্থিত।
  6. স্পর্শেন্দ্রিয়রেখা – দেহে লম্বালম্বিভাবে স্পর্শেন্দ্রিয় রেখা বর্তমান।
  7. শ্বাসঅঙ্গ – 6-14 জোড়া ফুলকা, ফুলকাছিদ্র উপস্থিত।

উদাহরণ –

  1. ল্যামপ্রে – পেট্রোমাইজন মেরিনাস (Petromyzon marinus)।
  2. হ্যাগফিশ – মিক্সিন গ্লুটিনোসা (Myxine glutinosa)।
ল্যামপ্রে ও হ্যাগফিশ

অধিশ্রেণি ন্যাথোস্টোমাটা -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি ও শ্রেণি বিভাগগুলি লেখো।

অধিশ্রেণি ন্যাথোস্টোমাটা (gnathos = চোয়াল) -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –

  1. চোয়াল – মুখে চোয়াল উপস্থিত তাই এদের এরূপ নামকরণ করা হয়।
  2. বহিঃনাসারন্ধ্র – দুটি বহিঃনাসারন্ধ্র বর্তমান।
  3. অন্তঃকর্ণ – অন্তঃকর্ণে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি উপস্থিত। 

অধিশ্রেণি ন্যাথোস্টোমাটা 6টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা –

  1. কনড্রিকথিস। 
  2. অসটিকথিস। 
  3. অ্যাম্ফিবিয়া। 
  4. রেপ্টিলিয়া। 
  5. অ্যাভিস। 
  6. ম্যামালিয়া।

শ্রেণি কনড্রিকথিস -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

অথবা, হাঙর যে শ্রেণির অন্তর্গত সেই শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

শ্রেণি কনড্রিকথিস (Chondrichthyes; Chondros = তরুণাস্থি, ichthy = মাছ) -এর মুখ্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. দেহগঠন (Body form) – মাকু আকৃতির দেহ দুপাশে চ্যাপটা বা ডিস্ক গঠনযুক্ত হয়।
  2. অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton) – তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ নির্মিত।
  3. আঁশ (Scales) – আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড আঁশ দেহত্বককে আবৃত রাখে।
  4. মুখছিদ্র (মুখ) – অঙ্কীয়তলে অবস্থিত।
  5. ফুলকা (Gills) – কানকো (operculum) বিহীন। উন্মুক্ত 5-7 জোড়া ফুলকা ছিদ্র বর্তমান।
  6. পৌষ্টিকনালি (Alimentary canal) – অন্ত্র স্পাইরাল ভালভ্ যুক্ত হয় এবং পৌষ্টিকনালি অবসারণী ছিদ্রপথে দেহের বাইরে উন্মুক্ত হয়।
  7. পটকা (Air bladder) – পটকা থাকে না। এজন্য এদের সব সময় সাঁতার কাটতে হয়।
  8. লেজ (Caudal Fin) – হেটারোসারকাল প্রকৃতির হয়।

উদাহরণ –

  1. হাঙর (ডগফিশ) – স্কোলিওডন সোরাকোয়া (Scoliodon sorrakowah)।
  2. ইলেকট্রিক মাছ – টরপেডো টরপেডো (Torpedo torpedo)।
হাঙর

ডগ্‌ ফিশ ও ক্যাট ফিশ কাকে বলে?

হাঙরের মস্তক বা মুখের আকৃতি অনেকটা কুকুরের ন্যায় বলে হাঙরকে ডগ্‌ ফিশ বলে। আবার শিঙি, মাগুরের মুখের সামনে বারবেলগুলি বিড়ালের গোঁফের ন্যায় বলে এই জাতীয় মাছকে ক্যাট ফিশ বলে।

শ্রেণি অসটিকথিস -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি অসটিকথিস (Osteichthys; Osteon = অস্থি, ichthys = মাছ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য –

  1. দেহগঠন (Body form) – দেহ মাকু আকৃতির।
  2. অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton) – অস্থি দ্বারা নির্মিত।
  3. আঁশ (Scales) – সাইক্লয়েড (রুইমাছ), টিনয়েড (কইমাছ) বা গ্যানয়েড (পলিপ্টেরাস) আঁশযুক্ত বা আঁশবিহীন (শিঙিমাছ) হয়।
  4. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – কানকো দ্বারা আবৃত চার-জোড়া (4 জোড়া) ফুলকা বর্তমান। কয়েকটি জিওল মাছে (শিঙি, মাগুর প্রভৃতি) অতিরিক্ত শ্বাসঅঙ্গ উপস্থিত থাকে।
  5. পটকা (Air bladder) – উদরে পটকা উপস্থিত। এটি মাছকে জলের যে-কোনো তলে স্থির হয়ে ভাসতে সাহায্য করে।
  6. লেজ (Caudal Fin or Tail) – হোমোসারকাল বা ডাইফিসারকাল প্রকৃতির হয়।
  7. পায়ুছিদ্র (Anus) – পায়ুছিদ্র ও মূত্রজনন নালি পৃথকভাবে উপস্থিত থাকে।
  8. স্পর্শেন্দ্রিয় রেখা (Lateral line) – দেহের দুপাশে মস্তক থেকে দেহকাণ্ড পর্যন্ত পার্শ্বরেখা বর্তমান। এর সাহায্যে মাছ জলের কম্পন, চাপ, তাপ, প্রভৃতি (ইকোলোকেশনের মাধ্যমে) বুঝতে পারে।

উদাহরণ –

  1. রুইমাছ (সাইক্লয়েড আঁশযুক্ত) – লেবিও রোহিতা (Labeo rohita)।
  2. সি-হর্স (Sea horse) – হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus sp.)।
রুইমাছ

শ্রেণি অ্যাম্ফিবিয়া (উভচর) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি অ্যাম্ফিবিয়া (Amphibia; amphi = উভ, bios = জীবন) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহগঠন (Body form) – দেহ মস্তক ও দেহকাণ্ডে বিভক্ত থাকে। গ্রীবা থাকে না। কোনো কোনো প্রাণীতে লেজ থাকে।
  2. দেহত্বক (Skin) – নগ্ন ও গ্রন্থিময় এবং জালকময় ও সিক্ত।
  3. পদ (Limbs) – দু-জোড়া –
    • অগ্রপদ – নখরবিহীন চারটি আঙুলযুক্ত।
    • পশ্চাৎপদ – নখরবিহীন পাঁচটি আঙুলযুক্ত।
  4. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – ফুলকা (ব্যাঙাচি), ফুসফুস (পূর্ণাঙ্গ), দেহত্বক (শীতঘুম) ও গলবিলীয় মিউকাস পর্দা।
  5. উভচর প্রকৃতি (Amphibian Nature) – এদের লার্ভা দশা (ব্যাঙাচি) জলে এবং পূর্ণাঙ্গ দশা স্থলে অতিবাহিত হয়। এ ছাড়া নিষেককালে এদের জলের প্রয়োজন হয়। এজন্য এদের উভচর প্রাণী বলা হয়।
  6. হৃৎপিণ্ড (Heart) – হৃৎপিণ্ড তিনটি প্রকোষ্ঠযুক্ত। দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়।
  7. অক্সিপিটাল কনডাইল (Occipital condyle) – করোটি দুটি অক্সিপিটাল কনডাইলযুক্ত।
  8. অবসারণী ছিদ্র (Cloacal apperture) – এদের অবসারণী ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথেই জল, মূত্র এবং জননপদার্থ দেহের বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।

উদাহরণ –

  1. কুনোব্যাং – বুফো মেলানোসটিকটাস (Bufo melanostictus)।
  2. ইকথিওফিস – ইকথিওফিস গ্লুটিনোসা (Ichthyophis glutinosa)।
কুনোব্যাং

অ্যাম্ফিবিয়া শ্রেণির কুনো ব্যাং -এর বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম কী?

অ্যাম্ফিবিয়া শ্রেণির একটি অতিপরিচিত উদাহরণ হল কুনো ব্যাং। পূর্বে এর বিজ্ঞানসম্মত নাম ছিল Bufo melanostictus কিন্তু, বর্তমানে তা Duttaphrynus melanostictus নামে পরিচিত। তবে এক্ষেত্রে এখনও মতভেদ লক্ষ করা যায়।

শ্রেণি রেপটিলিয়া (সরীসৃপ) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি রেপটিলিয়া (Reptilia; reptilis = হামাগুড়ি দেওয়া) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহগঠন (Body form) – দেহ মস্তক, দেহকান্ড ও লেজে বিভক্ত।
  2. দেহত্বক (Skin) – ত্বক শুষ্ক ও জল নিরোধক এপিডারমাল আঁশ (সাপ) বা শক্ত প্লেট (কুমির) বা ক্যারাপেস (কচ্ছপ) দ্বারা আবৃত থাকে।
  3. পদ (Limbs) – দু-জোড়া নখরযুক্ত পাঁচটি আঙুলবিশিষ্ট হয় (ব্যতিক্রম – সাপ)।
  4. শ্বাসঅঙ্গ (Respiratory organ) – ফুসফুস।
  5. দাঁত (Teeth) – চোয়াল দাঁতযুক্ত (ব্যতিক্রম – কচ্ছপ)।
  6. হৃৎপিণ্ড (Heart) – তিনটি প্রকোষ্ঠযুক্ত। দুটি অলিন্দ ও একটি অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত নিলয় বর্তমান (ব্যতিক্রম – কুমির – হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত)।
  7. রেচন অঙ্গ (Excretory organ) – মেসোনেফ্রিক বৃক্ক বা কিডনি। এরা ইউরিকোটেলিক।
  8. অবসারণী ছিদ্র (Cloacal apperture) – অবসারণী তিনটি প্রকোষ্ঠযুক্ত এবং অবসারণী ছিদ্রটি আড়াআড়িভাবে অবস্থিত।

উদাহরণ –

  1. গোখরো সাপ – নাজা নাজা (Naja naja)।
  2. কুমির – ক্রোকোডাইলাস পোরোসাস (Crocodylus porosus)।
কুমির

শ্রেণি অ্যাভিস (পক্ষী) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি অ্যাভিস (Aves; avis = পাখি) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহগঠন (Body form) – মাকু আকৃতির দেহ মস্তক, গ্রীবা, দেহকান্ড ও লেজে বিভক্ত।
  2. পালক (Feather) – দেহ হালকা পালক দ্বারা আবৃত থাকে।
  3. ডানা (Wings) – অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
  4. দেহত্বক (Skin) – শুষ্ক এবং গ্রন্থিবিহীন। লেজের কাছে প্রিনগ্রন্থি (Preen gland বা uropygeal) বর্তমান।
  5. অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton) – হালকা, বায়ুপূর্ণ, স্পঞ্জি নিউম্যাটিক অস্থি দ্বারা গঠিত।
  6. চোয়াল (Jaw) – চোয়াল চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে এবং চক্ষু দাঁতবিহীন।
  7. স্টারনাম অস্থি (Sternum bone) – স্টারনাম কিল অস্থিতে (Keel bone) রূপান্তরিত হয়েছে এবং এখান থেকেই উন্নত ও শক্তিশালী পেকটোরাল পেশির (উড্ডয়ন পেশি) উৎপত্তি হয়েছে।
  8. হৃৎপিণ্ড (Heart) – চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
  9. পৌষ্টিকনালি (Alimentary canal) – গিজার্ডযুক্ত এবং অবসারণী ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত হয়।
  10. সিরিংক্স (Syrinx) – ল্যারিংক্স থাকে না। পরিবর্তে ট্র্যাকিয়া ও ব্রংকাসের সংযোগস্থলে শব্দসৃষ্টিকারী সিরিংক্স বর্তমান।

উদাহরণ –

  1. পায়রা – কলম্বা লিভিয়া (Columba livia)।
  2. মুরগি – গ্যালাস গ্যালাস (Gallus gallus)।
পায়রা

শ্রেণি ম্যামালিয়া (স্তন্যপায়ী) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ও দুটি উদাহরণ দাও।

শ্রেণি ম্যামালিয়া (Mammalia; mamma = স্তন) -এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ –

  1. দেহগঠন (Body form) – দেহ দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম। মস্তক, গ্রীবা, দেহকান্ড ও লেজে বিভক্ত।
  2. দেহত্বক (Skin) – লোম দ্বারা আবৃত (ব্যতিক্রম – তিমি), ত্বকে ঘর্মগ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি উপস্থিত।
  3. স্তনগ্রন্থি (Mammary gland) – স্ত্রীদেহে অবস্থিত স্তনগ্রন্থি থেকে ক্ষরিত দুগ্ধ পান করে শাবক বড়ো হয়।
  4. বহিঃকর্ণ (Pinna) – মাথার দুপাশে বহিঃকর্ণ উপস্থিত।
  5. মধ্যচ্ছদা (Diaphram) – বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে মধ্যচ্ছদা বর্তমান।
  6. হৃৎপিণ্ড (Heart) – চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
  7. দাঁত (Teeth) – দাঁত হেটারোেডন্ট, থিকোডন্ট ও ডাইফিওডন্ট প্রকৃতির হয়।
  8. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) – উন্নত প্রকৃতির। করোটিয় স্নায়ুর সংখ্যা 12 জোড়া।

উদাহরণ –

  1. বাঘ – প্যানথেরা টাইগ্রিস (Panthera tigris)।
  2. মানুষ – হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo sapiens)।

নিম্নলিখিত প্রাণীগুলির শ্রেণি ও একটি করে শ্রেণি বৈশিষ্ট্য লেখো – 1. ইলেকট্রিক মাছ, 2. সি-হর্স, 3. ইকথিওফিস, 4. কচ্ছপ, 5. বাদুড়।

প্রাণীশ্রেণিবৈশিষ্ট্য
ইলেকট্রিক মাছকনড্রিকথিসঅন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থি দ্বারা নির্মিত।
সি-হর্সঅসটিকথিসঅন্তঃকঙ্কাল অস্থি দ্বারা নির্মিত।
ইকথিওফিসঅ্যাম্ফিবিয়াদেহত্বক নগ্ন, ভিজে ও গ্রন্থিময়।
কচ্ছপরেপ্টিলিয়াদেহত্বক শুষ্ক এপিডারমাল আঁশ দ্বারা আবৃত।
বাদুড়ম্যামালিয়াদেহত্বক লোম দ্বারা আবৃত।

নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি কোন্ শ্রেণির এবং প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দাও।
1. দেহত্বক প্ল্যাকয়েড আঁশ দ্বারা আবৃত। 
2. পা নখরবিহীন আঙুলযুক্ত। 
3. অবসারণী ছিদ্র দেহে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত। 
4. অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত। 
5. শাবক মাতৃদুগ্ধ পান করে বড়ো হয়।

বৈশিষ্ট্যশ্রেণির নামউদাহরণ
দেহত্বক প্ল্যাকয়েড আঁশ দ্বারা আবৃতকনড্রিকথিসহাঙর, শংকর মাছ
পা নখরবিহীন আঙুলযুক্তঅ্যাম্ফিবিয়াকুনোব্যাং, স্যালাম্যানডার
অবসারণী ছিদ্র দেহে আড়াআড়িভাবে অবস্থিতরেপটিলিয়াগিরগিটি, কুমির
অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিতঅ্যাভিসপায়রা, মুরগি
শাবক মাতৃদুগ্ধ পান করে বড়ো হয়।ম্যামালিয়াকাঠবেড়ালি, মানুষ

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর উপবিভাগ জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি’ -এর রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-নবম শ্রেণী-জীবনবিজ্ঞান

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর