দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – সামগ্রিক বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

শ্রীপান্থের হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে তিনি একটি হারিয়ে যাওয়া কালি কলমের স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি কলমটিকে তার বন্ধু বলে মনে করেন এবং তার সাথে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে দুঃখিত হন। তিনি কলমটির সাথে তার বন্ধন এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে লিখেছেন।

Table of Contents

দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – সামগ্রিক বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

আধুনিক যন্ত্রযুগকে মেনে নিয়েও লেখকের মনের আবেগ ও শিল্পীসত্তা কীভাবে ফুটে উঠেছে?

  • কথামুখ – কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই গ্রন্থ থেকে নেওয়া ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে আমরা প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থর মনের আবেগ ও শিল্পীসত্তার এক অপূর্ব পরিচয় পেয়েছি।
  • কালের ধারায় কলমের বিবর্তন – শৈশবে বাঁশের কলম, লেখার জন্য কলাপাতা, বাড়িতে সহজ পদ্ধতিতে তৈরি কালি ছিল লেখকের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তিনি বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশের কলম, খাগের কলম, পালকের কলম, ফাউন্টেন পেন, বল-পেন-এভাবে কালের ধারায় পেনকে আধুনিক এবং উন্নত হতে দেখেছেন।
  • কম্পিউটারের আধিপত্য – তারপরে কম্পিউটার কলমের স্থান দখল করে নেওয়ায় কলম ক্রমশ অবলুপ্তির পথে চলে যেতে থাকে। লেখক এখানেই বিপন্ন বোধ করেছেন, কারণ লেখালেখির কাজের সুবাদে কলমের প্রতি তাঁর অদ্ভুত এক ভালোবাসা ছিল। অফিসে তাঁর সহকর্মীরা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও তিনি পেনকেই আঁকড়ে ছিলেন। অত্যন্ত দরদ দিয়ে কলমের পরিবর্তন এবং ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে শ্রীপান্থ মনের আবেগকে লুকিয়ে রাখতে পারেননি।
  • আধুনিকতার পথে – পুরোনো দিনের কালিকলমের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও একজন শিল্পী হিসেবে আধুনিকতার পথে পা রেখেই লেখার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
  • শেষের কথা – তাই বল-পেনের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই লেখক এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করেছেন।

কালিকলমের প্রতি ভালোবাসা ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে কীভাবে ফুটে উঠেছে?

  • কথামুখ – ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে কলম, দোয়াত, দোয়াতের কালি-এগুলি ঘিরে লেখকের স্মৃতিমেদুর ভালোবাসা এবং সভ্যতার কালপ্রবাহে এগুলির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা ফুটে উঠেছে।
  • লেখাপড়ার সঙ্গী – শৈশবে লেখকের লেখাপড়ার সঙ্গী ছিল বাঁশের কলম এবং কাগজাকৃতি কলাপাতা। বাড়ির কাঠের উনুনে কড়াইয়ের নীচে জমে যাওয়া কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে একটা পাথরের বাটিতে জলে গুলে নেওয়া হত। ক্রমশ বাঁশের কলম হারিয়ে খাগের কলম, পালকের কলম প্রচলিত হতে থাকে।
  • ফাউন্টেন পেনের আগমন – এরপর কলমের জগতে বিপ্লব নিয়ে আসে ফাউন্টেন পেন। পেন হয়ে ওঠে সস্তা আর সর্বভোগ্য। ফাউন্টেন পেনকে কেন্দ্র করে বিলাসিতাও বাড়ে। বাজারে কাজল কালি, সুলেখা কালি দোয়াত ও বোতলে বিক্রি হতে থাকে। এরপর বাজারে আসে বল-পেন।
  • কম্পিউটারের আধিপত্য – বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার এসে কলমের স্থান দখল করে। বাজার থেকে সব ধরনের পেন, কালি হারিয়ে যেতে থাকলে লেখকের মতো ‘কালি কলমের ভক্ত’ মানুষের মন কেঁদে ওঠে।
  • শেষের কথা – কম্পিউটারের আধিপত্যকে মেনে নিলেও কলমের সঙ্গে লেখকের শৈশবজীবনের স্মৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, যা তাঁর মনকে ভারাক্রান্ত করেছে।

প্রবন্ধ কী? বস্তুনিষ্ঠ বা Formal Essay হিসেবে ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটি কতদূর সার্থক?

প্রবন্ধ – প্রবন্ধ শব্দটির ইংরেজি অর্থ হল ‘Essay’। সংস্কৃতে বলা হয় ‘প্রকৃষ্টরূপে বন্ধন’। প্রবন্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,Any brief composition in prose that undertakes to discuss a matter, express a point of view, or persuade us to accept a thesis on any subject whatever. প্রবন্ধ দুইপ্রকার হয়- 1. বস্তুনিষ্ঠ বা Formal Essay, 2. ব্যক্তিনিষ্ঠ বা Informal Essay.

বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ হিসেবে সার্থকতা – শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনাটিতে বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধের বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তিনিষ্ঠার সঙ্গে ব্যক্তিনিষ্ঠ প্রবন্ধের ব্যক্তিগত আবেগ ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ ঘটেছে। আলোচ্য প্রবন্ধটির শুরুতেই রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছোঁয়া। লেখকের অফিসে কলমের ব্যবহার আর কেউ করেন না-এই অভিজ্ঞতা থেকেই লেখক ফিরে যান তাঁর শৈশবে। বাঁশের কঞ্চির কলম, লেখার পাতা হিসেবে কলাপাতা, কালি তৈরির কৌশল-এসব দিয়ে শুরু হয় কলমের ইতিহাস-পরিক্রমা। কথাপ্রসঙ্গে আসে মিশর বা রোমের কলমের প্রসঙ্গ। ক্রমে আসে লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান আর তাঁর ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের কথা। এই ফাউন্টেন পেন থেকে কম্পিউটার, লেখার ইতিহাসের এই বিবর্তনই তাঁর রচনার কেন্দ্রে থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত দীর্ঘশ্বাসও শোনা যায়, কলমের অবলুপ্তির কারণে। সমগ্র প্রবন্ধের মধ্যে তথ্যের জোগান যথেষ্ট কিন্তু প্রাবন্ধিকের ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভব এই প্রবন্ধটিকে যে অত্যন্ত সরস ও মনোগ্রাহী করে তুলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রাবন্ধিক যেভাবে কলমের বিবর্তনের কথা বলেছেন, তা প্রবন্ধ অনুসরণে লেখো।

অথবা, ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে লেখক কলমের যে অতীত ও বর্তমান রূপের কথা বলেছেন তার সম্পর্কে লেখো।

  • শুরুর কথা – ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ দেশে ও বিদেশে কলমের বিবর্তনের একটি হদিশ পাঠকের সামনে রেখেছেন।
  • বিদেশে কলমের ইতিহাস – জিশু খ্রিস্টের জন্মের আগে প্রাচীন মিশরে নলখাগড়া ভেঙে নিয়ে, সেটিকে ভোঁতা করে তুলি বানিয়ে লেখার কথা তিনি বলেছেন। ফিনিসীয় দেশে হাড় দিয়ে কলম তৈরি হত। ব্রোঞ্জের শলাকা দিয়ে কলম বানাত প্রাচীন রোমের লোকেরা। এর পোশাকি নাম স্টাইলাস। চিনের লোকেরা লিখত তুলিতে।
  • বাঁশের কঞ্চি, খাগ বা পালকের কলম – আমাদের এখানে বাঁশের কঞ্চির কলম, খাগের কলম, পাখির পালকের কলমের চল ছিল। রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে মুখটি চিরে বাঁশের কঞ্চির কলম বানাতে হত। এখন কোথাও এই ধরনের কলমের চল নেই। আজকাল খাগের কলম দেখা যায় শুধু সরস্বতী পুজোর সময়। ব্রিটিশ আমলে পাখির পালকের কলমের চল ছিল, যাকে ‘কুইল’ বলা হত।
  • ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কার – এর পরবর্তী ইতিহাস ফাউন্টেন পেনের। লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যানের আবিষ্কৃত ফাউন্টেন পেন সব রকমের কলমকে সরিয়ে জায়গা করে নেয়। নানা ধরনের ফাউন্টেন পেন বাজারে চলে আসে, যেমন পার্কার, শেফার্ড, সোয়ান ইত্যাদি। ফাউন্টেন পেনও একদিন জায়গা ছেড়ে দিল বল-পেন বা ডট-পেনকে।
  • শেষের কথা – সেই বল- পেন বা ডট-পেনও আজ কম্পিউটারের আগমনে অবলুপ্তির পথে।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক বেশ কয়েকটি প্রবাদের ব্যবহার করেছেন – প্রবাদের এই ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

  • কথামুখ – প্রবাদ হল সামাজিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। এই সামাজিক অভিজ্ঞতার মধ্যে লুকিয়ে আছে সামাজিক ইতিহাসের ধারাও। প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ কালিকলমের ইতিহাস বলতে গিয়ে কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে এবাদকে তাঁর লেখায় ব্যবহার করেছেন। ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে পাঁচটি প্রবাদের ব্যবহার চোখে পড়ে।
  • কালি-কলম মন, লেখে তিনজন – শুরুতেই রয়েছে কালি কলম মন, লেখে তিন জন। কিন্তু এর মধ্যে ‘কালি’, ‘কলম’ লুপ্তপ্রায়।
  • কালি নেই কলম নেই বলে তুমি মুনশি – উক্ত সূত্র ধরে এসেছে পরের প্রবাদটি কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি। যার অর্থ হল লেখালেখির কাজ কলম ছাড়া টাইপরাইটার অথবা কম্পিউটারের মাধ্যমেই হয়ে যাচ্ছে।
  • তিল ত্রিফলা সিমূল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি – কালি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যে প্রবাদটি ব্যবহার করেছেন, লোক- অভিজ্ঞতা ও লোকশিক্ষার ছাপ তাতে স্পষ্ট – তিল ত্রিফলা সিমূল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।
  • কলমে কায়স্থ চিনি, গোঁফেতে রাজপুত – সেকালে বিশেষ বিশেষ মানুষের অধিকার ছিল কলমের ওপর কলমে কায়স্থ চিনি, গোঁফেতে রাজপুত।
  • কালির অক্ষর নাইকো পেটে, চণ্ডী পড়েন কালীঘাটে – মাহাত্ম্য ছিল কালিরও, কালির অক্ষর নাইকো পেটে, চণ্ডী পড়েন কালীঘাটে।
  • শেষের কথা – এভাবেই প্রবাদ হয়ে উঠেছে কখনও ইতিহাসের উপাদান, অভিজ্ঞতার ফসল, কখনও-বা সমাজের দর্পণ।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

সাহিত্যের নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রচয়িতার অভিপ্রায় রচনাটির নামের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। নামকরণ সাধারণত চরিত্রধর্মী, বিষয়ভিত্তিক বা ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে। আমাদের পাঠ্য ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটির নামকরণ কতদূর সার্থক, তা আলোচনাযোগ্য।
কালি-কলম-মন, লেখে তিন জন-অর্থাৎ, প্রাচীন কাল থেকেই মনের সঙ্গে কালি এবং কলমের সম্পর্ক। সময় এগিয়ে চলেছে নদীর স্রোতের মতো। বহমানতার যুগে মানুষ ক্রমশ যন্ত্রকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর ফলেই মানুষ মনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ছোটো ছোটো সামগ্রী হারাতে বসেছে। লেখক তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বলেছেন যে, তাঁর অফিসে সবাই কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী। একমাত্র তিনিই কলম ব্যবহার ছাড়তে পারেননি। এর ফলে একদিন যদি কোনও কারণে কলম নিয়ে যেতে ভুলে যাই তবেই বিপদ। -কলম! কারও সঙ্গে কলম নেই। এই বিলাপ থেকেই স্পষ্ট যে কলম হারিয়ে যেতে বসেছে। শৈশবে লেখকরা যেভাবে বাঁশের কলম তৈরি করে ব্যবহার করেছেন এবং কড়াইয়ের নীচের কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে জলে গুলে যেভাবে কালি তৈরি করেছেন তা এখন স্মৃতির বিষয়। ফাউন্টেন পেন আসার পর কলম হয়ে ওঠে সস্তা এবং সবার প্রিয়। ক্রমশ ফাউন্টেন পেনের আধিপত্যকে হটিয়ে দিয়ে বাজার দখল করে বল-পেন। ইতিহাসের পাতায় চলে যায় বাঁশের পেন, খাগের পেন, পালকের পেন প্রভৃতি। হাতে তৈরি কালি, সুলেখা কালি, কালি শুকানোর ব্লটিং পেপার সব উধাও হয়ে যেতে থাকে। আক্ষেপের সুরে তাই লেখক বলেছেন, আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে। কম্পিউটার তাদের জাদুঘরে পাঠাবে বলে যেন প্রতিজ্ঞা করেছে। তাঁর আক্ষেপ বিষাদে পরিণত হয়েছে, কারণ তিনিও জানেন যে আধুনিকতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। তবুও শৈশবের সেই কালিকলম হারিয়ে যাওয়াকে তিনি মানতে পারেননি। তাই বিষয়ের সঙ্গে নামটি সাযুজ্যপূর্ণ এবং সংগতি লাভ করেছে। বিষয়ধর্মী নামকরণ হিসেবে রচনাংশটির নামটি তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক হয়েছে।

সব মিলিয়ে লেখালেখি রীতিমতো ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান। – লেখালেখি ব্যাপারটিকে ছোটোখাটো অনুষ্ঠান বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে দাও।

বাঁশের কঞ্চির কলম – একসময়ে রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করা হত। কালি যাতে গড়িয়ে না পড়ে তাই মুখটা চিরে দেওয়া হত। লেখা হত কলার পাতায়।

কালি তৈরি – কালিও নিজেদেরই তৈরি করতে হত। কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াই-এর তলার কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে তা পাথরের বাটিতে রেখে জলে গোলা হত। কখনো-কখনো হরীতকী, আতপ চাল ভাজা পুড়িয়ে বেটে মিশিয়ে দেওয়া হত তাতে তারপর খুন্তি পুড়িয়ে জলে। ছ্যাঁকা দিয়ে ফোটানো হত।

  • প্রথম লেখালেখি – বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত, ঘরে তৈরি কালি আর কলাপাতাতে লেখকের প্রথম লেখালেখি। শহরের হাই স্কুলে ভরতি হওয়ার পরে বাঁশের বা কঞ্চির কলমকে ছুটি দেওয়া হয়। কালি বানানোও বন্ধ হয়ে যায়।
  • কাচের দোয়াতে কালি তৈরি – কাচের দোয়াতে এই কালি বানানো হত কালি ট্যাবলেট বা বড়িগুলি দিয়ে। তৈরি কালি পাওয়া যেত দোয়াতে।
  • ফাউন্টেন পেনের জন্ম – ফাউন্টেন পেনের জন্য ছিল বিদেশি কালি। রকমারি নিব ও হ্যান্ডেল ছিল। ফাউন্টেন পেনকে প্ল্যাটিনাম, সোনা ইত্যাদি দিয়ে মুড়ে দেওয়া হত।
  • দোয়াত কলমের অবসান – এই পর্যায়ে দোয়াতকলম হয়ে গেল ঘর সাজানোর আসবাব। একসময় লেখা শুকানো হত বালিতে, পরে ব্লটিং পেপারে। প্রথম যুগে তার চেহারা ছিল একরকম, পরবর্তীকালে সেই রূপের বদল ঘটে গেল।
  • শেষের কথা – তারপর সবই অতীত হয়ে গেল। লেখালেখি এভাবে এক অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল।

এই প্রবন্ধটি থেকে আমরা অনেক শিক্ষা নিতে পারি। প্রথমত, আমরা শিখতে পারি যে বন্ধুত্বের গুরুত্ব কতটা। দ্বিতীয়ত, আমরা শিখতে পারি যে হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলি ভুলে যাওয়া কঠিন। তৃতীয়ত, আমরা শিখতে পারি যে আমাদের প্রিয়জনদের সাথে কাটানো সময়ের মূল্য কতটা।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

“দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – সামগ্রিক বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন